• মহুয়া ব‍্যানার্জী

অনুবাদ কবিতা





মূল কবিতা - অমৃতা প্রীতম

পাকিস্তানে জন্মে ছিলেন ভারতের প্রথম সাহিত্য অ্যাকাডেমি বিজয়ীনি অমৃতা প্রীতম। কাঁটাতারের এপারে ওপারে ভাষার সাথে সাথে ভাব, বোধ এবং এক নারীর যাপনচিত্র ঠিক কতখানা তার নিদর্শন এক প্রীতমের লেখায় চিরন্তন হয়ে থাকবে। একদিকে সাহসী মানুষটা যেমন কখনো শাসকের দম্ভের কাছে মাথা নোয়ান নি তেমনি কখনো ভয় পান নি সমাজের স্বঘোষিত কারারক্ষীদের। কিন্তু অমৃতা প্রীতম বোধহয় অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন প্রেমের শব্দ উচ্চারণের অমোঘ দক্ষতার দরুণ। [১]

mein tumhe fir miloongi kahan ? kis tarah ? nahin jaanti shayad tumhari kalpana ki chingari bankar tumhare cainvas par utroongi ya shayad tumhare cainvas ke oopar ek rahasyamay rekha bankar khamosh tumhe dekhti rahoongi ya shayad suraj ki kiran bankar tumhare rangon mein ghuloongi ya rangon ki baahon mein baithkar tumhare cainvas ko pata nahin kaise kahan ? par tumhe zaroor miloongi দেখা হবে—তোমার আমার আমাদের আবার দেখা হবে, সাহেব আবার দেখা হবে জানি না কোথায় কীভাবে হয়তো বা রহস্যরেখা তোমার ক্যানভাসে জানবে না কেউ, কীভাবে যেন আঁকা হয়ে গেল... হয়তো অনন্তধারা ঝর্ণার মতো কিংবা রঙে আর জলে যেই মিলমিশ হয় পরতে পরতে তার মিশে রব গভীরে নামবে তুলি—ছুঁয়ে দিয়ে যাবে তুমি বুঝবে কি! আচমকা অজানিত শিহরণ হয়তো বা আনমনে রঙে নেমেছিলে তরলরেখায় কার হঠাৎ কাঁপন তুমি বুঝবে কি! জানি না এখনও—তবে এটুকু জানি, ধরা রবে তোমার আমার এই না-বলা কথন ধরা রবে আমাদের আবার দেখা হবে... ### [২]

Main chup, shant aur adol khadi thi. Sirf paas behte samundra mein toofan tha, Phir samundra ko khuda jaane, Kya khyaal aaya? Usne toofan ki ek potli-si baandhi. Mere haathon mein thamaayi, Aur hans kar kuch door ho gaya” হঠাৎ দেখা সমুদ্রটা এই তো আমি, চুপই ছিলাম দাঁড়িয়ে ছিলাম শান্ত, ভীষণ একলা হয়ে আমার পাশে সমুদ্র, যে বইছিল তার নিজের মতো হঠাৎ সেথা এমন তুফান! এমনতর তাল-বেতালের ওঠা পড়া! এল যেমন আচমকা তার কী যে হল, কে-ই বা জানে ছোট্ট সে এক জীবনদায়ী থলির মাঝে সেই তুফানের সবটা বেঁধে রেখে গেল আমার হাতে হাসল শুধু—চোখের পরে চোখের ভাষায় হাসল শুধু চলে গেল তারপর বেশ অনেক দূরে দু’ হাত ভরে তুফান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি— সমুদ্র তার মতন গেল

অনেক দূরে... ### [৩] The Annunciation .... "Remember the January night I slipped my foot into the stream? Freezing cold it was but the water warm What could not be come to pass I touched the water, it turned to milk It was a miracle. I bathed in milk Near talawandi, is there such a stream? Or is it all my fancy, all a dream? The moon floated on the bosom of the water I cupped my hands, scooped it up and drank it down Water of the stream coursed in my veins The moon quickened within my womb.. অমৃতা সন্ধানে “মনে পড়ে, জানুয়ারির সেই রাত? পায়ের পিছলে আমি ঝর্ণাতলায় পড়ে অসহ্য শীত, তবু জলে কি উষ্ণ ছায়াপাত! ছুঁয়ে দেখি জল সে জল দুধ হয়ে যায় অতি লৌকিকের মায়ায় দুধে ডুবে স্নান করি তালওয়ান্ডির কাছে সে ঝর্ণা জলে আছে না এমন জলধারা? লোকে তাই বলে নাকি শুধু আমারই কল্পনা আমারই স্বপ্নে দেখা ছবি তবে যে চাঁদ ভাসে জলে জলের বুদ্বুদ—দেখি সবই দু হাতে সে জলধোয়া চাঁদ ধরে আকণ্ঠ পান শিরায় শিরায় ছুটে যায় ঝর্ণাতলার জল, সাথে এক চাঁদ অবিরাম হঠাৎ শরীর জুড়ে—এ কি! গর্ভে মিশেছে চাঁদ আমারই গর্ভখানি আমি হতবাক হয়ে দেখি...”

নীড়বাসনা  বৈশাখ ১৪২৯