• শুভাশিস  ভট্টাচার্য

কবিতা - অরুন্ধতী-জরায়ু



শুধুমাত্র তুমি জন্মাবে বলে --

অপাপবিদ্ধ চরণ

কালিমালিপ্ত হয়ে

শুয়ে থাকে বিছানায়

জ্যোৎস্না গায়ে

এলোমেলো আকাঙ্ক্ষায়

ঝরে পড়ে নক্ষত্র রেণু

অনেক আলোকবর্ষ পেরিয়ে



শুধুমাত্র তুমি জন্মাবে বলে--

কত তারা মরে যায়

প্রসব বেদনায়



শুধুমাত্র তুমি জন্মাবে বলে--

মৃত তারাদের মিছিলে

দাউ দাউ অরুন্ধতী-জরায়ু

কবেকার-বাসি আলোর সাথে

শুয়ে থাকে অনন্ত অগ্নিশয্যায়



অনেক আলোকবর্ষ পেরিয়ে

ঝরে পড়ে

চিতাভষ্ম

নক্ষত্র-রেণু জড়িয়ে

চুপিসারে

মেঘের ডানায়

লোহা রং মাটিতে

প্রাণের আশায়

পদ্ম-নাভি করে আয়োজন

গর্ভবতী-অন্ধকারে

লাঙ্গলের ফলায়

ইতস্তত জীবন

সন্ধানী আলোর ঘাগরায়

অগ্নিদগ্ধ মাটি চিরে

মাথা তোলে

কিছু সরু সরু হাত

একটা কান,

অনেক চোখ, নাক,

জিভ, ত্বক

আর একটু এগোলেই --

অসম্বন্ধ কিছু পাছা, কোমর,

পেট, বুক,

একটা স্তন,

উরু-বদ্ধ অন্ধকারে

মোলায়েম কিছু চুল -

চরিত্রে খয়েরি,

একটা নেপেন্থেস কলসপত্রী যোনি –

পেটের ভেতর গোলাপি-অন্ধকার জারক রস –

অসংখ্য রোঁয়া ওঠা পুরুষাঙ্গ -

একশোটা পা নিয়ে –

বেমালুম ডুব দিয়ে

মরে গেলে –-




তৎক্ষণাৎ শুরু হয় তদন্ত

আমাদের হাতের স্কাল্পেল্

শানিত হয় লাশকাটা ঘরে

ময়না টেবিলে

আমাদের শায়িত শবদেহ -

ফুলে ওঠা পেট,

ফুসফুস ফাঁক করে

কাটা ছেঁড়া -

শেওলার খোঁজে

ডুবুরি নামে

জীবাশ্মের জঠরে

উল্লাসিত আমাদের

নখ-দাঁত-স্কাল্পেল্

অনন্ত সময়ের

ব্যস্ত-ব্যবচ্ছেদে।


বসে বিচারসভা –

বিচারকদের সতত সম্প্রসারণশীল মহা-বৃত্তে

আমরা ঘোষণা করি মৃত্যুদণ্ড -

নিস্তব্ধে নেমে আসে অসংখ্য ফাঁস –

ফাঁসি-কাঠে

আমাদের ঝুলন্ত শরীর,

বকের মতো ঘাড়,

বড় বড় চোখের তারা,

অল্প খোলা ঠোঁট,

উঁকি মারে ফুলে ওঠা জিভ,

গড়িয়ে পড়া লালার দাগ

আমাদের মুষ্টিবদ্ধ হাত,

মাঙ্গলিক পায়ের পাতা

মাটি ছুঁয়ে ফেলে

সরল সুরেলা দোলনে।




আর সাথে সাথে

জ্বলে ওঠে আগুন

পুড়তে থাকে

মাটি, জল, আগুন, বাতাস ও আকাশ -

পুড়তে থাকে

রূপ, রস, শব্দ, গন্ধ ও স্পর্শ –

সন্ধানী আগুনের বৃত্তে

দাউ দাউ জীবন,

জ্বলন্ত কয়েকটা হাত,

সরু সরু পা,

কিছু আঙ্গুল

খানিক দুরে –

অগ্নিদগ্ধ একটা কান,

অনেক চোখ, নাক,

জিভ, ত্বক

আর একটু এগোলেই -

ঝলসে ওঠা কিছু পাছা, কোমর,

পেট, বুক,

একটা স্তন

বিষম পুড়তে থাকে

উরু-বদ্ধ অন্ধকার -

খয়েরি চুল,

একটা নেপেন্থেস কলসপত্রী যোনি,

অসংখ্য রোঁয়া ওঠা পুরুষাঙ্গ

পুড়তে থাকে কমলিকা ও অরুণেশ্বর

পুড়তে থাকে উলঙ্গ কঙ্কাল




সর্বগ্রাসী আগুনের বৃত্তে

পুড়তে থাকে আণবিক জীবন

ইতস্তত জীবনের ধোঁয়ায়

গর্ভবতী অরুন্ধতী-জরায়ু

অহল্যা প্রতীক্ষায়

আলোক-সম্ভবা

ঝরে পড়ে

অনেক আলোকবর্ষ পেরিয়ে

প্রাণের আশায়

লোহা রং মাটিতে

অনন্ত-গর্ভবতী-অন্ধকারে-


শুধুমাত্র তুমি জন্মাবে বলে।




নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮