• দীনেশ

কবিতা - আবহ



আবহ এক


সুস্থ-অসুস্থ তালাচাবির মিছিলে হাতের তালু লবণাক্ত হয়ে ওঠে

মানত-নারীর প্রত্যেক অঙ্গে ড্যালা ড্যালা স্বপ্নের ঝুলন

তবু বুকে হেঁটে খুদ-কুঁড়ো খাবার স্বাদ মেটে কই

অগুনতি নক্ষত্রের নীচে অন্ধকার পথে ফেটে যাওয়া পায়ের রক্তে আলপনার গন্ধ বাতাসে মম করে


এ কার পৃথিবী, কারজন্য কে মাথা নেড়াকরে, হবিষ্যি কে রাঁধে বাড়ে

কাকের দলে আমি রোজ চেঁচামিচি করি।



দ্বিতীয় আবহ


বুকের ভিতর শিবনেত্য

তার রান্নাবান্না, চিতেয় আগুন, নৌকোর গলুইয়ে কবে থেকে সিঁদুরলেপে বসে রয়েছি

জোয়ারতো আর স্বপ্নদোষে মেলেনা

মোড়ে মোড়ে পুঁতে রেখেছি গোখরো দানা

এক গলা গঙ্গাচানেও পাপ-পুণ্য হিসেবে গরমিল

জীবন কি আর সাধে শুরু হয়!


তিল তিল করে গড়ে তুলছি সেই নাভিপদ্ম

গলায় গরল ঢেলে নতুনকরে সৃষ্টি করব

বুকজোড়া কালনাগিনী।



তৃতীয়ত, আবহ


আকন্দ বা নীল হরকচ কোনওআড়ালে আর যাবো না

আত্মপক্ষ সমর্থনওনয়

বিড়ালের নখ দিয়ে চিরে চিরে দেখেছি-

কতটা ব্যথার নাটক ছলাত্ছলাত্ করে কোমর নাচায়

দুর্বো ঘাসের জঙ্গলে বিড়ালবাস করে সত্যিই যেএকদিন বাঘ হতে হবে, সেস্বপ্নেও ভেবে রেখেছি।


তাবলে

এই রোদ গড়ানো বিকেলে মোহনার জলে ডুবে

সারাগায়ে ময়ূরের গন্ধ ছুটবে, তাকে জানবে, তুমি ছাড়া।







নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮