• ব্রততী চক্রবর্তী

কালের সন্দর্ভ




পুকুর ধারের ঢোলকল্মির ফুলগুলো বর্ষায় ফুলে ফেঁপে ওঠে । লকলকে পাতার ডগায় ডগায় বেগুনী রঙের গাঢ়ত্ব সেজে ওঠে থরে থরে। হাড়হাভাতে গৃহস্থের শুকনো বৌগুলোও ওমনি ফোলে পোয়াতিকালে । খিদের খাতায় ফুল আর পেট সমান সমান হলে, ঢোলকল্মির ডাল-ফুল-পাতা শুদ্ধু গিলে নেয় পোয়াতি-পেট। হয়তো' বা একটা আয়েশের ঢেঁকুরও তোলে । নিরিখ করে কান পাতলে, শোনা যায় ভাতের গন্ধেগা শিরশিরানির শব্দ । সে সব দিনে জলের নিচের মীন মা' টিও তার ছানাপোনাদের নিয়ে পাড়ি দেয় আরও আরও গভীরে । পোয়াতি পেটের ফুলোভাব বজায়ের দায়ভার নিতে সে ভেসে ওঠে না জলের ওপরতলিতে । বোকার হদ্দ একটা কামড়ও বসায় না কোনোও চাতুরির আঁকশিতে । চালাকি আর বোকামি আড়াআড়ি ফাঁদ পাতে যদিও; ফাঁদে পা গলায় না দুতরফের কেউই ! অধরা মীন আশমানিই থাকে পোয়াতির পেটে। কখনো জংলা কচুর কুটকুটুনি অনেকাংশে কমে আসে উষ্ণ জলমগ্নতা আর লবণের সখ্যে । তারপর একসময় আলো কমে এলে, অলৌকিক ঘটে কখনোও'বা ।রূপকধর্মী কোনো বাস্তবতায় ভাতের মাড়ে জোৎস্না ঢলে পড়ে । তবে জাদু বাস্তব মাড়ের স্রোতে গলে কর্ণেলের চিঠি আনে কি ? সে প্রশ্ন আজন্ম অমীমাংসিত ! তবে সেসব রাতে নদীর চড়ে জাগানিয়া গানের সুরে জীবন ধীরে বয় মনে হয়। মরা গাঙে চিলতে জল চিকচিক করে ওঠে হঠাৎ । শুষুপ্তির প্রহর গাঢ় হলে, স্বরের তারতম্যে বোঝা যায় কুশিরাজকুমার নির্গত হলেন এইমাত্র । পথের খোঁজে । কোথায় বা রইল তখন কল্মির ফুল কোথায় বা খিদে ! কুলুঙ্গির ভেতর শুধু শুক-সারি ভরা কোটালের মত্ততা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে ভোরের অপেক্ষায়।


নীড়বাসনা  বৈশাখ ১৪২৯