• সুমন্ত চক্রবর্তী

গদ্য কবিতা - ভিখারি




কোনো সিগন্যালে দাঁড়াতে হলেই বরিষ্ঠ অফিসার সচকিত হয়ে থাকেন, কোথা দিয়ে ভিখারির বাচ্চাগুলো নতুন গাড়িটার কাঁচে না ময়লা হাতগুলো নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে 'ফুল নেবেন ফুল'!


আরে, তোদের ওই আসল ফুলে কি হবে, আমার 'হীরের ফুল' দরকার উপরওয়ালার বৌ এর কানে ঝোলাবার, অনেক দিন ধরে প্রাইজ পোস্টিংটা ঝুলে রয়েছে!


একটা ভারিগোছের সুটকেস গোছা নোটে ভর্তি করে তমুক বাবুর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিলে তবে বড় ছেলেটার মেডিক্যালে এন্ট্রান্সটা হয়তো শিওর করা যাবে...ওটার ঘটে তো শুধুই গোবর...শুকিয়ে ঘুঁটে হচ্ছে...ঢুকিয়ে দিলে 'যো হোগা দেখা যায়েগা' !


বিপিন কন্ট্রাক্টর হাত তো কচলাচ্ছে সেই কবে থেকে ...'স্যার আমায় দেখলে আমিও দেখবো' !


পাপগুলো পাতলা করার জন্য গিন্নির অনুরোধটাও তো ফ্যালনা নয়...মন্দিরের দেবীর সোনার নাকছাবিটাও তো কতোদিনের পেন্ডিং হয়ে আছে !


মেয়ে জামাই অনেক দিনের আবদার করছে একটা ফরেন ট্রিপের। 'অন্ধকারের' দু একটা সই সেটারও সুরাহা করতে পারে অনায়াসে !


'সুদূরের পিয়াসী' ঘাঘু চোখদুটো একটু কি বুজে এসেছিলো...হঠাৎ 'ফুল লাগবে ফুল'।


একগুচ্ছ কচি হাত আছড়ে পড়ছে তাঁর ঝকঝকে গাড়ির কালো কুচকুচে কাঁচে!

নাকি তাঁর গালেও কয়েকটা...

আসল 'ভিখারি' চোখ রাখেন সামনের আয়নায়।

দেখেন উদগ্রীব ছায়া এক লোলুপ শ্বাপদের...

যে ভৌ ভৌ করে কাদের দিকে যেন হিংস্রভাবে তাকিয়ে রয়েছে !





নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮