• কৌশিক মণ্ডল

কবিতা - ঘরবন্দী খেলা






ঘরবন্দী

চারদেওয়ালে বাঁচা

শুধু বাঁচোয়া

একচিলতে বারান্দাটা

একটু বিরাম

চোখ ভরে

আকাশে আরাম

তাজা হাওয়া

ফুসফুসে

ভরে নেওয়া

একঘর

কাজের ফাঁকে

মনের পাখি ডাকে

গাছে গাছে

কত পাখি

এত গাছ এত পাখি

এখনও আছে নাকি!


আজকাল

চারিদিকে চেয়ে

লাগে অবাকই

কোন অবাক নিয়মে

সবাই কেমন বেবাক

গেল কই এত হইচই

ধুলো-ধোঁয়া?

প্রতিদানে -

ঝকঝকে রোদ্দূর

তরতাজা হাওয়া

যেন বেশিই তাজা

কতযুগ পরে

এই শহরে


কয়েকটাদিন

মানুষ ঘরবন্দী তাই

প্রকৃতি যেন

হাঁফ ছেড়ে

স্বমহিমায় ফিরেছে

ডলফিনে ছেয়ে গেছে সমুদ্র

সৈকতে লক্ষ কচ্ছপে

ডিম পেড়ে গেছে

আরেক প্রজন্মের আশায়

গাছের ফুল ঝরে ঝরে

ভরে গেছে

পৃথিবী


পাখিরা.

ফুলের মধু নিংড়ে

পাপড়ি ছিঁড়ে

ফালাফালা করে

ছুঁড়ে দিচ্ছে দূরে

অনাদরে

যেন প্রকৃতি

বুক বাজিয়ে বলছে -

আমি নৃশংস

কাজ ফুরালে

কারও ধার ধারি না।

যা সুন্দর

তোমাদের চোখে

'মানুষ কিম্বা ফুল'

আমার কাছে দৈনন্দিন।

একঘেয়ে সৌন্দর্য্যে

নেই আমার আসক্তি

আমি উদাসীন

সন্ন্যাসী রাজা

আমার আগাগোড়া

শুধু ভাঙা আর গড়া


ভগ্ন বিচ্ছিন্ন মানুষ

তবু হাল ছাড়েনা

প্রকৃতিকে মাৎ দেবে বলে

ঘাপটি মেরে

গা ঢাকা দেয় আপন আপন ঘরে

ঝড় থেমে যাবার অপেক্ষা করে


কিন্তু সব মানুষ কি পারে

হাজার ঝড়েও

ঘরবন্দী খেলা খেলে?

সবার কি সে ফুরসৎ মেলে?

যারা আমাদের বিবেচনায়

এত বছরের সভ্যতায়

মনুষ্য প্রায় -

যাদের অভাব ঘোচেনা

কপাল ফেরেনা

তিয়াত্তর বছরের স্বাধীনতায়

আজও দিন আনে দিন খায়

দিনমজুরী পেলে

তারা ঘরে আটক হলে

কি খাবে তাদের ছেলেপুলে?


ঘরছাড়া যারা

পেটের দায়ে

ঘর যাদের সাতশ কিমি দূরে

একুশ দিনের দেশবন্ধে

তারা ফিরবে কেমন করে!

নিরুপায়

বৌ-বাচ্চা-বোঁচকা নিয়ে

হাঁটতে শুরু করে

অবিরাম হাঁটবে

তারা পথে

পথের মানুষ

কেমন করে ঘরবন্দী হবে?





নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮