• মীনা মুখার্জী

ছড়াক্কা - টুনটুনি আর রাজার গল্প




বাসা বাঁধে টুনটুনি রাজবাড়ী বাগানে।

রাজকোষে টাকাগুলো

ছাতা পড়ে পচছিল।

রোদে দিয়ে ভৃত্যেরা

তুলে ফের রাখে তারা।

একখানা টাকা ভুলে ফেলে গেল সেখানে।


রাজার টাকা আনলো তুলে নিজের ঘরে টুনটুনি।

গরবে ওঠে বুকটা ফুলে

গান ধরে সে পরান খুলে

"রাজার ঘরে যে ধন আছে,

টুনির ঘরে সে ধন আছে"

গানের কথা শুনেই রাজা সেপাই ডাকে তক্ষুনি।


টুনির বাসা ঘেঁটে সেপাই আনল টাকা রাজ সমুখে।

"আমার টাকা নিয়ে বড়াই?

রাখতো তুলে, সাজা এটাই।"

"রাজা বড়ই ধনে কাতর,

টুনির ধন নিল ভিতর"

কাণ্ড দেখে গাইল টুনি সজল চোখে মনের দুখে।


নিজের টাকা নিয়েও জ্বালা!ফিরিয়ে রাজা দেন সেটাকে।

লেজ দুলিয়ে গুনগুনিয়ে

পাখি উঠল টুনটুনিয়ে,

"রাজা বড়ই ভয় যে পেল

টুনির ধন ফিরিয়ে দিল"।

রেগে আগুন রাজা বলেন "আন তো ধরে খাব ব্যাটাকে "।


টুনিকে ধরে পাঠান রাজা ভাজার তরে রান্না ঘরে।

সাত রাণীতে টুনিকে ধরে

দেখতে থাকে একেক করে

হঠাৎ হাত ফসকে গিয়ে

ফুরুৎ টুনি যায় পালিয়ে।

সাত রাণীতে ভেবে আকুল রাজাকে দেবে কি ভাজা করে?


ব্যাং একখানি দেখে সাতরাণী ধরে ভাজা করে দেয় খেতে।

রাজা খেয়ে ভাবে "কেমন জব্দ"?

এমন সময় কিসের শব্দ?

"কি মজা,কি মজা,

রাজা খায় ব্যাং ভাজা",

গায় টুনটুনি।রাজা তাহা শুনি রাগে জ্বলে পুড়ে যায় তেতে।


রাজ-আদেশে সেপাই এসে নাক কাটলো সাত রাণীর।

"এক টুনিতে টুনটুনালো

সাত রাণীর নাক কাটালো"

শুনে টুনির খুশির ধুন,

রাজা হলেন রেগে আগুন,

বলেন," ধরে আন এবারে গিলেই দফা সারব টুনির"।


জল দিয়ে গিলে টুনিকে পাঠালে পেটের ভেতরে রাজামশাই।

টুনি পেটে গিয়ে ছটফট করে,

রাজাও বিশাল উদ্গার তোলে,

ঢেঁকুরের সাথে টুনিও বেরোলে

"ধর্ ধর্" বলে পিছে তাড়া করে

টুনির বদলে নাকটা রাজার তরোয়াল দিয়ে কাটে সেপাই।


নাকটা চেপে ধরে রাজা করে ছটফট।

এদেশে থাকা আর

হবে না সুবিধার --

"নাক কাটা রাজা রে,

দেখ কেমন সাজা রে"

বলে টুনি দেশটি ছেড়ে পালায় চটপট ।।




নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮