• ব্রততী বসু

প্রবন্ধ - প্রণয়ের পাঠ








এক জায়গায় পড়েছিলাম-


 "প্রেম কি যাচিলে মেলে?

আপনি উদয় হয় 

শুভ যোগ পেলে। " ঠিক বলেছেন  যিনি  বলেছেন। 


এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়।


 এ একসময় এল প্রেম করার জন্য অনুশীলন বা পাঠ নিতে হয় অমুক-তমুক দার কাছে !! প্রেম বা ভালোবাসা তো নিজের অন্তরের অনুভূতি ,যার যার আলাদা । যেটা চিরন্তন সেটা হলো আনন্দ-বেদনা কষ্ট আঘাত এই অনুভূতিগুলো। কিন্তু দুজনের মধ্যে একান্ত নিভৃত অনুভূতি এগুলো কি অমুক-তমুক দার শিক্ষায় এগোনো যায়? মনে পড়ে যাচ্ছে সুকুমার রায় এর "নোট বই "কবিতাটি নোটবইয়ে দাঁতের মাজন সাবান তৈরি থেকে সমস্ত জ্ঞান পাওয়া গেলেও পাগলা ষাঁড়ে করলে তাড়া - কেমন করে ঠেকাবে সেটা সে কিছুতেই খুঁজে পায়নি ।অর্থাৎ এমন একটা সময় আসে যখন নিজের অনুভূতি চাই নিজের বিবেক বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হয়, না হলে ওই দাদার পরামর্শ রক্ষায় থাকলে বা তার অনুভূতিতে চললে সব হারাতে হয় ।


এসব দেখে আমার খুব হাসি পায় বর্তমানে মনে হয় সত্যি প্রেম ভালোবাসা হারিয়ে গেছে । (ব্যতিক্রমী নিশ্চয়ই আছে।) না-এখনকার ভাষাগুলো কেমন যেন ভালো লাগেনা শুনতে।( পটানো)। জীবনের লক্ষ্য কি না দশ বিশটা পটানো কারো ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো বাড়তে পারে ।অমুক করলে কি করব তখন ওটা বললে কি বলবো, এটা জিজ্ঞাসার জিনিসই নয় ! এটা হৃদয়ের নিজস্ব অনুভূতি ।


মিস্টার বিন দেখেছেন ? আশা করি সবাই জানেন, সবকিছুই নকল করে করতে গেলে কি অবস্থা হয় ! ধরুন আপনি দীর্ঘ একটা লাইনে ১ থেকে ২০ পর্যন্ত পছন্দের সংখ্যার তালিকা রেখেছেন । কাউকে সেই তালিকায় প্রথম জন ই ধরছি, আপনার কথা মত পটে গেল এবং সেইটা আপনার যেমন পছন্দের লক্ষ্য, হয় বিয়ে বা অন্যকিছু , আপনি যেতে চাইছেন যেই পর্যন্ত সেই পর্যন্ত গেল ,আমার প্রশ্ন তারপর ধরুন কোন একটা কিছু নিয়ে সমস্যা তৈরি হলো ,আপনি কি করবেন? ধরুন বৌভাতের রাতে ফুলশয্যার দিন বা বেড়াতে গিয়ে বেডরুমে ঢুকে আপনি তখন কোন একটা সমস্যায় পড়লেন, তখন কি অমুকদার পরবর্তী ভিডিওর জন্য অপেক্ষা করবেন ?


অথচ কিছু বছর আগে পর্যন্ত প্রতিটা মানুষকে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হতো ।তখন স্মার্টফোন ছিলই না এগুলো কি জিজ্ঞাসার জিনিস? এগুলো শিখে হয় ? সুন্দর হৃদয় চাই নিজের। আমরা মান্না দের গান শুনে বড় হয়েছি "হৃদয় আছে যার সেই তো ভালোবাসে প্রতিটি মানুষেরই জীবনে প্রেম আসে "এগুলো আসবে জীবনে প্রকৃতির নিয়মে।


 প্রেমের মানুষকে না পেলে অনেকে মদ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন আমি এটার প্রতিবাদ করছি - কেননা মদ যদি সমাধান হত তাহলে শরৎচন্দ্রের দেবদাস মদ খেয়েও পার্বতী কে ভুলতে নি।  মদ খাওয়াটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যেতে পারে বা অনেকের মদ খাবার পয়সা নাও থাকতে পারে। আজকাল ভালো মদের অনেক দাম ।


তাই বলি কি শরৎচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ , বঙ্কিমচন্দ্র পড়ুন এনাদের প্রেমের উপন্যাস পড়লে  অনেক কিছু শিখবেন ,সবকিছু যে পেতেই হবে তা নয় কিছু ছাড়তেও হয় ,কিছু ত্যাগ করতে হয় আর কিছু হৃদয়ে ব্যাথাও জমাও রাখতে হয়। সেটার স্মৃতিচারণে ও অনেক  কিছু পাওয়ার থাকে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় -----


আমি রাখবো গেঁথে তারে 

রক্ত মনির হারে, 

বক্ষে দুলিবে গোপনে  নিভৃত বেদনাতে।


বা অন্য একটি গানে তিনি বলেছেন 

চিরজন্ম সঙ্গোপনে পূজিব একাকী- না

কেহ জানিবে না মোর গভীর প্রণয় 

কেহ দেখিবে না মোর অশ্রুবারিচয় । 


স্বামীজী পড়ুন  মনে  জোর  পাবেন। 

আপনার দুঃখটা আঘাতটা, যিনি আপনাকে স্নেহ করেন বা আপনার বাড়ির লোকজন দেরকেই বলতে হবে ।দুঃসময়ে বাবা-মা-ভাই-বোন ছাড়া তো পাশে কাউকে পাবেন না । তাদের খুলে বলুন দুঃখের কথা । কাউকে শেয়ার করলে  দুঃখ অনেকটা কমে ,আর  যত সময় যাবে আস্তে আস্তে সহ্য হয়ে যাবে।  যদি আপনার ক্ষমতা থাকে আপনার ক্ষমতা অনুযায়ী কোন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যুক্ত স্থানে বেড়িয়ে আসতে পারলে মনটা অন্যরকম হবে ।এতেও কষ্ট  না  কমলে   কোন  ডাক্তার  বাবুর কাছে  গিয়ে  ওষুধ  খেতে  হবে।  আপনি  সুস্থ  থাকবেন।

নীড়বাসনা  বৈশাখ ১৪২৯