• সৌরভ ব্যানার্জী

বড় গল্প - হরিপদর পালা গান







পর্ব : ১ ...

- নমস্কার আমি কি বিজয় চক্রবর্তীর সাথে কথা বলছি ।

- আজ্ঞে ... আপনি কে কথা বলছেন ?

-ভবানী ভবন থেকে সি. আই . ডি. ইন্সপেক্টর তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জী ।

- আজ্ঞে ... মানে ... ইয়ে

- ভয় পাবেন না । আপনার সাথে আমাদের কিছু দরকার আছে ... কোথায় গেলে আপনাকে মিট করতে পারব ?

- আপনি বলুন ম্যাডাম কোথায় যেতে হবে ?

- আগামী সোমবার বিকেলে চারটে ... আকাশবাণী ভবনের সামনে ... আমি ঠিক চিনে নেব আপনাকে । চিন্তা করবেন না আপনি কোন ফাঁদে পড়ছেন না । আপনার সাহায্য পুলিশের দরকার । পুলিশকে সাহায্য করলে আপনার লাভই হবে ।

- চিন্তা আর লাভ ক্ষতির হিসাব করা আমি বহুকাল ছেড়ে দিয়েছি ম্যাডাম ওতে শুধু রাত্রের ঘুম নষ্ট হয় ।

- বাহ খুব ভাল... আর একটা কথা

- জানি পালাবার চেষ্টা করে কোন লাভ নেই । আপনাদের জাল চারিদিকে পাতা আছে ।

- আপনি খুব বুদ্ধিমান লোক ... সোমবার বিকেল চারটে ।

- মনে থাকবে ম্যাডাম ... রাখছি ।

পর্ব :: ২ ...

সেই কোন সন্ধ্যে বেলায় লাইন গেছে এখনো এলো না ! অবিশ্যি তাতে করে হরিপদ বেরার ভারী বয়েই গেছে । পিদিমের বা লণ্ঠনের আলোতে বেশ কষে ভাবা যায় । ওস্তাদ বলে ... " ওরে হরে মানুষের দুঃখের দিন গুলোই আসল দিন ... দুঃখে থাক হরে দুঃখে থাক । দুঃখ কথা যোগায় ভাবতে শেখায়।"

তা বাপ ঠাকুর্দার আশীর্বাদে হরিপদর জীবনে দুঃখের যোগান নেহাৎ কম নেই । সেই কোন ছোটবেলা থেকে আজ অব্দি দিন মোটেই বদলালো না । ছেলে বেলায় বাপ টা কলেরায় মরে গেল । মা টা আজ আছি কাল নেই করতে করতে হরিপদ কে বছর পনেরোর করে দিয়ে কাশতে কাশতে একদিন দুম করে চোখ বুজল । হরিপদর থাকার মধ্যে ছিল গ্রামের ইস্কুলে ক্লাস নাইন অব্দি লেখাপড়া আরএকটা ছোট্ট কুঁড়ে ঘর । মা বেঁচে থাকতে বিজয় দাদা বাবুদের ঘরে ঠিকে ঝি এর কাজ করত ।মা চলে যাবার পরে কর্তামার কথায় হরিপদ দাদাবাবুদের ঘরেই উঠে এল একদিন।দিনে দিনে সে হয়ে উঠল বিজয় দাদা বাবুর ছায়াসঙ্গী । দাদাবাবু মাছ ধরতে যাবে ...ছিপ কাঁধে করে বয়ে নিয়ে যাবে কে ... না হরিপদ , মাছের চার ,টোপ তৈরী করবে কে ? কে আবার সবেতেই ... হরিপদ । দাদাবাবুর বন্ধুরা মাঝে মধ্যে বোতলের নেশায় হরিপদকে দিয়ে গা হাত পা মালিশ করিয়ে নেয় বটে এমনকি বেমক্কা চাপ দিয়ে ফেললে ... উপরি চড় থাপ্পড় টাও পাওনা হয় তার। তা হরিপদ দের মত গরিবদের অত ধরলে চলে না । হরিপদ কে ওস্তাদ বারবার বলে দিয়েছে দুঃখে থাকতে ... দুঃখে থাকলে ভাব আসে ভাব এলে হাতে লেখা আসে । দুঃখে থাকতেই হরিপদ ভারী ভালবাসে ।

ক্লাস সিক্সে পড়ার সময় হরিপদ প্রথমবার ওস্তাদের লেখা পালা দেখেছিল ।আহা ... নিত্যানন্দ গোঁসাই এর সেকি লেখা আর বিবেকের ভূমিকায় অভিনয় চোখে জল চলে এসেছিল হরিপদর ! দিন দুই কেমন একটা ঘোরের মধ্যে থেকে সে সটান গিয়ে গোঁসাই এর বাড়িতে হাজির । বলা কওয়া আলাপ পরিচয় কিছুই নেই তবু হরিপদর মনে খুব বিশ্বাস ছিল যে তেমন করে বুঝিয়ে বললে ওস্তাদ কি দলে নেবে না ? অবিশ্যি নিত্যানন্দ গোঁসাই লোক ভালো ... হরিপদকে বেশ খাতির করেই জিজ্ঞেস করলে ।

- বলি বাপু তোমার আসা হচ্ছে কোত্থেকে ?

- আজ্ঞে সেই হিরাপুর থেকে ।

- বল কি হে হিরাপূর তো অনেক দূর !

- আজ্ঞে গরীবের কি অত দূর দেখলে চলে ?

- হুমম তাও বটে । তা এইখানে কি মনে করে ...হে ?

- আজ্ঞে গত পরশু দিন আমাদের গাঁয়ে আপনার দলের পালা হয়েছিল । আপনার লেখা পালা আর আপনার অভিনয় দেখে আমি আপনাকে আমার ওস্তাদ বলে মেনেছি । এখন দয়া করে গরীবকে যদি শ্রীচরনে ঠাঁই দেন ।আপনার কাছে আমি পালা লেখা শিখব ।

- হাহা হাহা হাহা .. ওরে পাগল অমন করে কি কিছু হয় রে !! যা দুটি খেয়ে দেয়ে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে যা ।

গোঁসাই এর পরিবার হরিপদ কে খুব যত্ন করে খাইয়েছিল । গরম ভাত , বিউলির ডাল , কুমড়োর ছক্কা আর মাছের ঝাল আহা যেন অমৃত ! বড় মানুষের মনও বড়ো হয় ।।

সেদিন ফিরে গেলেও হরিপদ হাল ছেড়ে দেয় নি । গরীবের হাল ছাড়লে চলবে কেন ? বছর দুই ঘোরাঘুরির পরে গোঁসাই একটু আধটু তাকে পালা নিয়ে গল্প করতে শুরু করল । হরিপদ ওতেই খুশি তার কোন তাড়া নেই । বিজয় দাদা বাবু তাকে বলেছে তার হবে ... লেগে থাকলেই হবে । হ্যাঁ লেগে হরিপদ থাকবেই তাকে একটা জমজমাট পালা লিখতে হবে । পালা দেখে লোকে যেন চোখের জল মুছতে মুছতে বাড়ি ফেরে । তবে হ্যাঁ হরিপদ লিখলে একটা পৌরাণিক পালা লিখবে আধুনিক পালা তার দু চক্ষের বিষ । প্রথম পালায় সে গোঁসাই কে বলবে পালার গান গুলো লিখে দিতে একসাথে সব হবে না। ধীরে ধীরে এগুতে হবে হড়বড় করলে সব জলাঞ্জলি । সে বেশ বুঝছে পালা লেখা অত সোজা কাজ না । বাগদেবীর অনেক কৃপা থাকলে তবে পালাকার পালা ফাঁদতে পারে । এই যেমন এক্ষুনি তার একটা জব্বর ভাব আসছে । খেরোর খাতা টা বের করবে ভাবছে হরিপদ এমন সময় ...

- বিজে ওরে ও বিজয়

পা থেকে মাথা অব্দি জ্বলে গেল হরিপদর । সুতনু দাদা বাবু। দাদা বাবুর সব বন্ধুদের মধ্যে সব চাইতে বদ ।কথায় কথায় হাত চালায় হরিপদর গায়ে । দাদা বাবুর মত ভাল ছেলে কেন যে এদের সাথে মেশে ?আসলে বিয়ের পরেই দাদা বাবু কেমন যেন হয়ে গেল ! কি করে যে এমন হলো? যাকগে তার কি ? মা বলত গরীবদের সব ব্যাপারে মাথা ঘামাতে নেই । শুধু বিজয় দাদা বাবুর শুকনো মুখ টা দেখলে হরিপদর বড়ো কষ্ট হয় । অমন একটা কাঁচা কার্তিকের মত চেহারাটা কেমন শোকে তাপে পুড়ে কালোপারা হয়ে গেলো গা ...


পর্ব : ৩....

বিনিকে দিব্যি লাগে হরিপদর ঢলঢলে মুখ কোমর ছাপানো চুল, রং টা অবিশ্যি একটু চাপার দিকে তা গরীবের কি সবকিছু দেখলে চলে নাকি ? বিনির মা মোক্ষদা মাসীকে মা সই ডাকত । জাতপাতের দিকটাও ঠিক আছে একেবারে হরিপদদের পাল্টি ঘর । গোলমাল টা হচ্ছে লোকে বলে বিনির নাকি বোধবুদ্ধি এখনো একেবারেই কম আর হরিপদ পালা লেখাটাও তেমন করে শুরু করতে পারে নি ।এখন কথা হচ্ছে লোকের বলা কথা হরিপদ অত ভাবে না , বুদ্ধিশুদ্ধি ভগবান কি সবাই কে সমান দেন । যার যতটুকু দরকার ততটুকু মাপ করেই দেন ... আচ্ছা কথার কথা ধরাই যাক এই বিনি ই যদি বেশ করে পড়াশুনো করে দু চারটে পাস দিয়ে জিন্স টিন্স পরে চোখে রোদ চশমা লাগিয়ে কায়দা কানুন করে নেকিয়ে টেকিয়ে হরিপদর সাথে কথা কইত তা হলে গল্প টা কেমন হত শুনি ? হরিপদ এঁটে উঠতে পারত সেই বিনির সাথে ? তার কেমন সব তালগোল পাকিয়ে যেত না ? তার থেকে এই ভালো বাবা যেমন ঢাক তার তো তেমনই কাঁসি হবে নাকি ? আর পালা তো হরিপদ লিখবেই ... একটা জম্পেশ পালা লেখা শুধু সময়ের অপেক্ষা । পালা লেখা হলে সে একবার সবাইকে ... নাহ মনে অহং আনবে না হরিপদ । ওস্তাদ তাকে বলেছে মনে অহং এলে বিদ্যার দেবী কূপিত হন । তবে হরিপদ ইদানিং এইটে বেশ বুঝতে পারছে যে বিনির সাথে তার একটা সম্পর্ক ঠেকিয়ে রাখে কে ? এই তো গত বোশেখে বিনিকে দেখতে এয়েছিল পাত্রপক্ষ ... তা কেউ পারলে ঘরের দোর খুলে সে মেয়েকে ঘরের বার করতে ! জেদ বলিহারি বাপু মেয়ের ! দিন দুই পরে মোক্ষদা মাসী চক্রবর্তী দের পদ্মপুকুরে বাসন মাজার সময় কার কাছে যেন আক্ষেপ করে বলছিল " আমার মেয়েটার আর বিয়েথা হবেনি গা !! " সেই সময় হরিপদর কি ইচ্ছে করেনি বলতে যে ... " অমন ভাবছ কেন গা মাসী ! আমি কি মরে গেলুম নাকি ? " নাহ আজকাল হরিপদ হসফস করে কিছু একটা বলে দিচ্ছে না । ইচ্ছে হলেই কথা না বলে চেপেচুপে থাকছে । ওস্তাদ তাকে কম কথা কইতে আদেশ করেছে । কথা কম কইলে নাকি ভাবটা বেশ চেপে আসে ।

আজকে অবিশ্যি হরিপদর কোন কিছুতেই তেমন গা নেই বিজয় দাদা বাবু বেলা বারোটার দিকে দুটি মুড়ি খেয়ে কলকাতা গেছে বলে গেছে ফিরতে দেরি হবে ।রান্না বসাই বসাই করতে করতে বেলা গড়িয়ে গেল ঢের । পদ্ম পুকুরের কালো জলের দিকে তাকিয়ে বেশ একটা জুতসই সিন ভাবছিল হরিপদ ।খিদের পেট হলেও ভাবনাটা কিন্তু আসছিল বেশ খেলিয়ে হঠাৎ পিছন থেকে ...

- ঘাট জোড়া করে বসে আছো যে বড় ... তোমার কি কাজকম্ম নেই নাকি গা ?

আহা হরিপদর বুকে যেন যাত্রাদলের ফ্লুট বেজে উঠল ।

- কাজকম্ম নেই কিরে ? রান্না করব ... ভাত বাড়ব ... খাব অনেক কাজ ।

- হায় পোড়া কপাল আমার ! এই অবেলায় রান্না করবে কি গা ? এত বেলা অব্দি কি রাজকার্য করছিলে শুনি ?

- পালা ভাবছিলাম রে বিনি একটা জব্বর সিন ভেবেছি শুনবি ।

- থাক বাপু আমার এখন আর পালা শুনে কাজ নেই ...টপ করে পুকুরে দুটো ডুব দিয়ে আমাদের ঘর দিয়ে এস দেখি । দেখি তোমার জন্যে কি ব্যবস্থা করতে পারি ....

এইভাবে বিনিদের ঘরে যেতে প্রথমটায় কেমন একটা ঠেকছিল হরিপদর । চান করার পরে গায়ে ফতুয়া আর লুঙ্গি টা চাপাতে চাপাতে সে বেশ ভেবে দেখলে... নাহ অত ভাবলে তার চলে না । গরীবদের অত ভাবতে নেই ।

অভাবের সংসার হলেও খাওয়া টা মন্দ হল না । ভাতটা ঠান্ডা হয়ে গেলেও রসুন, শুকনো লঙ্কা দিয়ে পাট শাক ভাজা আর তেঁতুল দিয়ে চুনো মাছের গরগরে টকের সাথে দিব্যি হড়হড় করে নেমে গেল । খিদেটাও পেয়েছিল জোর । ভরপেট খেয়ে একটা বেশ জুত করে ঢেঁকুর তুলবে কি তুলবে না ভাবছে হরিপদ

- আমার বিয়ে থা হয়ে গেলে তোমাকে কে নজর করবে গা ?

উঠে আসা ঢেঁকুর টা অমনি বুকে আটকে গেল হরিপদর ।

- তুই মানে তোর আবার কবে... কার সাথে বিয়ে রে বিনি ?

- ওমা ছেলের কতা দ্যাখো দিকি ! হেঁসে বাঁচিনি বাপু ! চিরকাল কি আমি বাপ মায়ের সংসারে থাকব গা ? লোকে কি বলবে বল দিকিনি ? যাই বাপু পুকুরে বাসন গুলো পড়ে আছে মা এসে যদি দ্যাখে এখনও বাসন মাজা হয় নে তাইলেই হলো । আমায় বিরাট মুখ করবে ।।

বুকের কাছটায় কেমন জ্বালা জ্বালা করছে হরিপদর । অবেলায় খাওয়াতে অম্বল করল ? নাহ এই বেশ হয়েছে । বিনির বিয়ের কথাটা ভাবলেই তার বেড়ে রকমের দুঃখ আসছে মনে । ব্যাস এইবারে পালা লিখতে বসবে সে । বেশ একটা অশ্রুসজল পালা লিখে ফেলবে সে আজ ।

পর্ব : ৪ ...



কলকাতায় বিজয়ের দুটো ঠেক আছে । এই দুটোর কোনটাতেই আজকাল থাকে না সে । প্রথম ঠেকটা আমহার্স্ট স্ট্রিটের বড় রাস্তা ছেড়ে গলির ভিতরে একটা মেস বাড়ির একেবারে উপরের তলায় আর দ্বিতীয়টা রুবি হসপিটালের পিছন দিকে একটা তিন কামরার আধুনিক ফ্ল্যাট ।তার বিয়ের পরে জেঠুমনি তাকে গিফ্ট করেছিল । আর বিয়ে ! অমন করে বিয়ে যেন কাউকে না করতে হয় । নিশা তার জীবন টা শেষ করে দিয়েছে । নাহ শেষের আর কি আছে এই বেশ ভাল আছে সে দিব্যি আছে খাচ্ছে দাচ্ছে ঘুরছে আবার কি চাই ? চারটে বাজার মিনিট তিনেক আগেই বিজয় আকাশবাণী ভবনের মেন গেটের সামনে এসে দাঁড়াল । ঠিক চারটে বাজতেই চোখে রে ব্যানের কালো চশমা, ফেডেড জিন্স ও শার্ট পরিহিত পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চির যে মহিলাটি সাদা স্করপিও থেকে নেমে তার সামনে এসে দাঁড়াল তাকে কলেজ পড়ুয়া বলে অনায়াসে চালিয়ে দেওয়া যায় ।

- আসুন বিজয় বাবু । আমিই তন্নিষ্ঠা ... এই আমার আই কার্ড ।

- না না ঠিক আছে ম্যাডাম ?কোথায় যেতে হবে বলুন ...

- আসুন গঙ্গার দিকটায় যাই । আপনাকে ভবানী ভবনে ডাকাই যেত কিন্তু খোচড়রা খবর পেয়ে যাবে !আমি সেইটা চাইছি না ।

- আমি না কিছুই ...

- বুঝতে পারছেন না তো ! বুঝিয়ে বলি আমরা একটা খুনের তদন্তে নেমেছি আর এই তদন্তে আপনার জানা কিছু তথ্য আমাদের অনেক সাহায্য করতে পারে ।

- কে খুন হলো কার খুনের তদন্ত ম্যাডাম ।

- খোকন ভট্টাচার্য ... চেনেন ? শেয়ার কেনাবেচার মাস্টার খোকন ভট্টাচার্য ... চেনেন ?

- সে কি ! কবে কখন কোথায় ?

পর্ব : :৫ ...



- খোকন ভট্টাচার্য আজ থেকে প্রায় দশ দিন আগে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান বিজয় বাবু । লোকের চোখে মৃত্যু টা সাধারণ হার্ট অ্যাটাক মনে হলেও আমাদের কেমন মনে হচ্ছে ... এর মধ্যে কোন রহস্য আছে । আচ্ছা খোকন বাবুকে আপনি ঠিক কিভাবে চিনতেন?

বিজয়ের সামলাতে একটু সময় লাগলো । খোকন ভট্টাচার্য কলকাতা শহরে তার প্রথম বন্ধু যদিও খোকনের সূত্রেই তার কালি রায়ের সাথে আলাপ আর সেই সূত্র থেকেই নিশা তার জীবনে ... উফফ আবার সেই জ্বালা আর ভাবতে পারে না বিজয়।

- আপনি সামলে নিন ...তারপরে যতটা সম্ভব ডিটেলে বলুন।

বিজয় আরও কিছুটা সময় নিয়ে বলতে শুরু করে

- উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পরে আমি পড়াশুনো করতে কলকাতায় আসি সেই সময় থেকেই আমার সাথে খোকনের আলাপ ।খোকন মেসে আমার পাশের বেডে থাকত । সেই ছিল এই ইট , কাঠ , পাথরের শহরে আমার প্রথম বন্ধু ।।

- তারপর

- খোকন আমার অনেক উপকার করে... এমনকি টাকা পয়সা রোজগারের ও উপায় দেখিয়ে দেয় সে আমায় । যদিও পয়সা কড়ির অভাব আমার কোনকালেই ছিল না তবুও আমাকে একরকম জোর করেই শেয়ার বাজারে ফাটকা খেলা শিখিয়ে সে প্রচুর টাকা রোজগার করিয়ে দিয়েছিল খোকন ।

- বলে যান ।

- খোকন শেয়ারের ওঠা পড়ার গন্ধ পেত ওর স্পেকুলেশন কখনো ভুল হতে দেখিনি । এই কারণে তার প্রচুর বন্ধু ও শত্রু দুটোই তৈরী হয় । শেষ দিকটায় আমারও কেমন নেশা ধরে গেছিল ।টাকার নেশা তো ... এড়ানো বড় মুশকিল ।

- এত পয়সার আপনার দরকার কেন পড়ত বিজয় বাবু ? আমাদের তদন্ত বলছে কেরিয়ার নষ্ট করে যখন আপনি টাকার পিছনে ছুটে চলেছেন সেইসময় আপনার হাতে যথেষ্ট টাকা পয়সা থাকার কথা ।

- কিভাবে ? বুঝলাম না ম্যাডাম ।

- আপনাদের বাড়ির থেকে প্রতিমাসে আপনার একাউন্টে একটা মোটা অঙ্কের টাকা আসত এছাড়াও আপনি তখন গবেষণা করতেন সেইখানেও আপনার প্রাপ্য স্টাইপেন্ড টা মন্দ ছিল না ।

- গবেষণা আমি নামেই করতুম ম্যাডাম ... পয়সা কড়িও সেখানে দিত না বললেই চলে ।

- এটা এটা বোধহয় আপনি সঠিক তথ্য দিলেন না বিজয় বাবু । আমাদের তদন্ত বলছে আপনি যথেষ্ট মুন্সিয়ানার সাথেই গবেষণা করছিলেন শুধু তাই নয় সেই সময়ের আপনার দুজন সহ গবেষক আমাদের এই তথ্য দিয়েছেন যে গবেষক হিসেবে আপনার ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল ছিল । তাঁরা এও বলেছেন যে আপনি একদিন হঠাৎ দুম করে সমস্ত কিছু ছেড়ে ছুড়ে আপনার গ্রামের বাড়ি হিরাপুরে কেন যে ফিরে গেলেন সেই কথা আজো তাঁদের বোধগম্য হয়নি । তথ্য গোপন করবেন না বিজয় বাবু তাতে আমাদের অসুবিধা এবং আপনার ক্ষতি ।

-আমি ঠিক গুছিয়ে কথা বলতে কোন কালেই পারি না ম্যাডাম । আর কি জানেন আমার বন্ধুদের কথার কোন ভিত্তি নেই । আমার বন্ধুরা চিরকালই আমার সম্পর্কে বাড়িয়ে বলে ... এইসব তাদের মহানতার এবং বন্ধুপ্রীতির উদাহরণ ।আমি নেহাতই অতি সাধারণ ।

- অতিরিক্ত বিনয় কিন্তু অহংকারের প্রমাণ দেয় বিজয় বাবু।অহংকার ব্যাপার টা ঠিক আপনার ক্যারেকটারের সাথে যায় না... তাই না ?

- আপনি ঠিক কি চাইছেন বলুন তো ম্যাডাম ?

- খোকন ভট্টাচার্য্য সম্পর্কে যা যা জানেন সমস্ত টা আপনার মুখ থেকে শুনতে চাইছি বিজয় বাবু ।

- এতে কি কোন লাভ হবে ম্যাডাম ? আবার সেই পুরোনো ঘা কে খুঁচিয়ে কষ্ট পাওয়া হবে আমার ।

- একটু আগে আপনি বললেন না ... খোকন এই শহরে আপনার প্রথম বন্ধু । মনে করুন না বন্ধুর জন্যে আরো একটু কষ্ট না হয় সহ্য করলেন । কে বলতে পারে আপনার কথা থেকে যদি কোন সূত্র খুঁজে পাওয়া যায়। আপনি আপনি চান না খোকনের হত্যাকারী ধরা পড়ুক ?

- না তা কেন চাইব না ?

- তাহলে ??

- অনেক সময় লাগবে যে ম্যাডাম ।

- লাগুক আমার কোন তাড়া নেই । আপনি বলে যান ।

অস্তগামী সূর্যের আলোতে হাওড়া ব্রিজ টা দারুন দেখাচ্ছে সেইদিকে তাকিয়ে বিজয় বলতে শুরু করল ...

পর্ব :: ৬



বিজয় দাদাবাবুদের বাগানটা বিরাট বড় । মা মারা যাবার পরে হরিপদ কে যখন দাদা বাবুর জ্যেঠু মনি তাদের মালির ঘরটায় উঠে আসতে বলল তখন সে একটা কারনেই রাজি হয়েছিল ...ঘরটার চারপাশে সবুজ । জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালেই মনের মধ্যে দিব্বি কচি কচি ভাব আসে । এই যেমন এক্ষুনি হরিপদ বেশ খানিক ভেবে বার করল ...নিত্যানন্দ ওস্তাদের দলের নাম দুর্গা অপেরা । সে বেশ কথা অমন নাম তো হামেশাই হয় । উঁহু ব্যাপার টা অত সরল নয় । ওস্তাদের পরিবারের নাম যে দুর্গা সেই কথা কি আর হরিপদ জানে না ? দিব্যি জানে । তবে হ্যাঁ ...এইটে বলতেই হবে পরিবারের সাথে ওস্তাদের সম্পর্ক টা বড় মিষ্টি ।দুজনেই কত আদর করে কথা কয় একে অপরের সাথে । আহা ... দেখলে শুনলে মনের ভিতরে কেমন একটা ভালোলাগা বেশ পাকিয়ে পাকিয়ে ওঠে হরিপদর । আহা এক্কেবারে যেন শিব পার্বতী জুড়ি গা । ওস্তাদ তাকে বলে দুঃখে থাকতে কিন্তু নিজে আনন্দে ঝলমল করে ... এ কেমন ধারা বিচার হরিপদর মাথায় ঢোকে না । যাকগে... ওইসব কথা , গরীবদের সব ব্যাপারে মাথা ঘামাতে নেই । এখন গোলমালটা হলো হরিপদ যদি কোনদিন সত্যিই যাত্রার দল খোলে তাহলে সেই দলের কি নাম দেবে ? বীণাপানি অপেরা ? হুমম বিনির নামে তার দল হলে ব্যাপার টা মন্দ হতো না কিন্তু মুশকিল হলো বিনি নিজেই যে কেমনতরো কথা কইছে ? এই এক্ষুনি একেবারে ঝলমলে আবার কিছু পরেই একদম গম্ভীর ...একবার ঝর্না তো পরক্ষণেই পাথর । এত বয়েস হল বেশ কটা মাথার চুল তার সাদা হয়ে গেল ... তারপরেও বিনির মনের তল কেন যে পায় না হরিপদ !

আচ্ছা এইখানে একটা কথা একটু ভেবে দেখা দরকার । এই যে হরিপদ বিনিকে বেশ পছন্দ করে সেই কথা কি সে বিনিকে বোঝাতে পেরেছে ? না মোটেই পারেনিকো ... তাহলে ! বিনির ই বা কি দোষ ?বিনিই বা কি করে বুঝবে বাপু? নাহ এইবারে পুজোর আগে বিনিকে বলে ফেলতেই হবে ভালো মন্দ যাইহোক কিছু একটা।এই ... এইখেনেই হইছে হরিপদর যাবতীয় মুশকিল । বিনিকে কিভাবে কি বলবে এইটে ভাবতে গেলেই সে ঘেমে নেয়ে অস্থির হয় ।

আসল কথাটা হলো হরিপদর আঁকড়ে ধরাটা বড়ো আলগা ধরনের ... এই জন্যেই তার হাত থেকে ছেলেবেলা থেকেই সব কেমন দুম দাম করে ফস্কে পালিয়ে যায়। তবে অনেক হলো আর না । বিনি বা পালা লেখা কোনোটাই হরিপদর ফসকানো চলবে না ... কোনভাবেই না ।এইবারে একটা এসপার ওসপার করেই ছাড়বে সে ...

- এই মেঘলা দিনে দুপুরে ঘরের মধ্যে ঢুকে কি করছ গা ?

হরিপদর ঘরের মাঝে হঠাৎ করে হাজার সুয্যির আলো !

- নাহ তেমন করে আর কিছু করে উঠতে পারলুম কই বল ?তবে বেশ করে ভাবছি বুঝলি ... দিনকয়েকের মধ্যেই করে ফেলব মনে হচ্ছে ।

-এই হলো কতার মত কতা ... করব মনে করলে করে কোন কাজ ফেলতে কতক্ষন গা ? সর দিকিনি একটু , যাও না একটু ফাঁক দিয়ে ঘুরে এস দিকি , ঘরটা একটু বাগিয়ে দি তোমার ...দুর দুর ঘর খানা কি করে রেখেছ বাপু !! আমার কি মরেও শান্তি নাই গা !! ব্যাটাছেলে অগোছালো হয় জানতুম তাই বলে এত !! তোমাকে নিয়ে আমি কি করি বল দিকি ?

বেশ খানিকটা সময় নিয়ে দু চার বার গলা ঝেড়ে টেড়ে হরিপদ বললে

- আমার এই ভাঙা ঘরটা সারাজীবন গোছানোর দায়িত্ব নিবি বিনি ?

- হাই দেকো ... তোমার কেমন পারা কতা বাপু ! সারাজীবন কি আমি এই হিরাপুরেই পড়ে থাকব নাকি গা ? শ্বশুর বাড়ি যাব নি আমি ? তবে হ্যাঁ অবরে সবরে বাপের বাড়ি এলে তোমার সাথে একবার দেখা করব বৈকি ... সেইখেনে আমার কোন ফাঁক পাবেনি বাপু ...

দুর দুর... তাড়াতাড়ি ঘরের বাইরে পালিয়ে আসে হরিপদ । হবে না এইভাবে কিচ্ছু হবে না । বিনি যে কেন তাকে বুঝতে পারে না!খালি অবুঝের মত কথা বার্তা ! ভাল্লাগে না কিছু তার ... তবে বুঝবে যেদিন মনের দুঃখে হরিপদ বিবাগী হয়ে সাধু সন্ন্যাসী গোছের কিছু একটা হয়ে যাবে ... সেইদিন বুঝবে বিনি ।গোছাবি সেদিন যত পারিস তোর নিজের ঘর সংসার গোছাবি... হরিপদর কি ??


পর্ব ৭

- আচ্ছা ম্যাডাম আপনারা কি আমায় সন্দেহ করছেন ? তাহলে আমাকে গ্রেপ্তার করে নিলেই তো ঝামেলা চুকে যায় । এত কথার দরকারই হয় না সেক্ষেত্রে ।

- অপরাধীর অপরাধ প্রমাণ হলে তবেই তাকে গ্রেপ্তার করা যায় বিজয় বাবু । আমাদের তদন্তে আপনার বিরুদ্ধে কোনরকম অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় নি ।প্রমাণ পাওয়া গেলে নিশ্চয় গ্রেপ্তার করতাম আপনাকে , কোন অ্যালিবাই দেখিয়ে আপনি ছাড় পেতেন না । আজকাল অবশ্য অপরাধী কে সাজা দেবার বদলে সরকার বাহাদুর তাদের সংশোধন করতে বেশি উদ্যোগী হচ্ছেন ।অপরাধের উদ্দেশ্য বিচার করা হচ্ছে ... অপরাধীর মনস্তত্ব নিয়ে চিন্তা ভাবনা হচ্ছে ... ব্যাপারটা অত সহজ নয় বিজয় বাবু ,অত সহজে ঝামেলা চোকাতে চাইলেই তা চুকে যাবে না। আচ্ছা দাঁড়ান আমি আপনার একটু সুবিধা করে দিচ্ছি ।এই খোকনের সূত্র ধরেই আপনার প্রোমোটার কালি রায় ও তার একমাত্র মেয়ে নিশা রায়ের সাথে আলাপ ...ঠিক ?

- হুমম ...

- গুড ...নিশা দেবীর সাথে আপনার সম্পর্ক তৈরী হয় ঠিক কবে ? আপনি মাস্টার্স পাস করার আগে না পরে ?

আবার সেই প্রসঙ্গ !বিজয় জানত ওই প্রসঙ্গ আসবেই তবু হতাশায় একবার চোখ বন্ধ করে নেয় সে।

- পরে ... আমি তখন সবে রিসার্চ করতে শুরু করেছি ।

- আর বিয়ে ...

-মাস ছয়েকের মধ্যেই ।

- এত তাড়া ছিল আপনার ।

- মোটেই ছিল না আমি একটা অদ্ভুত অবস্থায় পড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হই ।

- কেন ... থাক ওইটা আমরা কিছুটা জেনেছি বাকিটুকু পরে জানা যাবে।আচ্ছা খোকনের সাথে কালি রায়ের পরিবারের কেমন সম্পর্ক ছিল ?

-খুবই ভালো খোকনকে কালি রায় মানে আমার শ্বশুর মশাই খুবই বিশ্বাস করতেন ।খোকন ওদের পারিবারিক বন্ধু ছিল।

- আর আপনাকে ...

- আমার সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠার আগেই তা শেষ হয়ে যায়।

-তার কারণ কি ... অষ্টমঙ্গলার পর থেকেই আপনার প্রতি নিশা দেবীর নিষ্ঠুরতা ও আপনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ?

- আপনি তো সবই জানেন ম্যাডাম কেন তাহলে আমাকে দিয়ে বলাতে চাইছেন ?

- সব না বিজয় বাবু কিছু কিছু জানি । পুলিশ তার তদন্তের জন্যে যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকুই তথ্য জোগাড় করে এবং ব্যবহার করে।তাহলে মোটের উপর যা দেখা যাচ্ছে নিশা দেবীর সাথে যাই হোক খোকনের সাথে আপনার সম্পর্ক আগাগোড়া ভালই ছিল ।

- আজ্ঞে তা ছিল তবে ... আমার বিয়ের পর থেকেই ও একটু অপরাধবোধে ভুগত । নিশাদের পরিবারের সাথে আমার আলাপ তো ওর সূত্র ধরেই ।কেবল বলত ওর দোষেই সব গোলমাল হলো ।

- আচ্ছা খোকনের চরিত্রের কোন দোষ ত্রুটি যেটা আপনি নজর করেছিলেন ... আছে কিছু ? মনে পড়ে ?

- নাহ দোষ ত্রুটি কিছু আমার নজরে আসে নি ও নেশা ভাং ও করত না তবে এটা দোষ কিনা জানি না ... হয়ত অস্বাভাবিকতা বলা চলে ... খোকন সাপ একদম সহ্য করতে পারত না ... বিষধর বা নির্বিষ যাই হোক না কেন ... সাপ দেখলেই চিৎকার চেঁচামেচি করে ঘেমে নেয়ে একসা হত ।

- গুড অবজারভেশন । পয়েন্ট টা মনে থাকবে আমার । আচ্ছা বিজয় বাবু একটা প্রশ্ন আপনার মাথায় আসে নি কখনো ... এই যে নিশা রায় আপনাকে হঠাৎ বিয়ে করতে চাইলেন এবং করেও ফেললেন এই ব্যাপার টা খোকনের সাথে ঘটল না কেন ?

- মানে ?

- মানে খোকন তো ওদের ...পূর্বপরিচিত সেই দিক থেকে দেখতে গেলে ...

- একজেক্টলি আমি ঐ কথা খোকন কে জিজ্ঞেস করেছিলাম ।

- উনি কি উত্তর দিয়েছিলেন ?

- বলেছিলেন এটা সম্ভব না , কোনমতেই না ।

- হুমম ইন্টারেস্টিং ভেরি ... ইন্টারেস্টিং !!

- আচ্ছা বিজয় বাবু আজকের শেষ প্রশ্ন বৌ ভাতের রাত্রেই কি আপনি বুঝতে পেরেছিলেন যে নিশা দেবী একজন মানসিক রুগী ।

- নিশার পাগলামি আমাদের সম্পর্কের সময়েই নজরে আসে । কিন্তু ও যে সাংঘাতিক ভাবে মানসিক অবসাদ গ্রস্ত তা প্রথম দিকে না হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই বুঝতে পারি । তারপরেও আমি এগিয়েছিলাম কেন বলতে পারব না ।

- বলে যান ...

- অনেক চেষ্টা করেছিলাম ওকে সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে নিয়ে যেতে ... দু একবার গিয়েও ছিল আমার সাথে কিন্তু ওষুধ খেত না নিয়মিত ... ফলে লুনাটিক এটিটিউড বেড়ে গেছিল খুব ।

- হুমম তারপরে

- বছর খানেক আমি সব কিছু দিয়ে ওকে সুস্থ করার চেষ্টা করি কিন্তু কোন লাভ হয় নি । পাগলের মত খরচ করত সেই সময়। কারুর কোন কথা শুনত না । জলের মত টাকা শেষ করে দিচ্ছিল আমার ... আবার আমার সাথে সংসার ও করতে চাইত না । শেষটায় একদিন আমাকে ছুরি দিয়ে মেরে মারাত্মক আহত করে । সেইদিন এর পরেই আমি হাল ছেড়ে দিয়ে ... ফিরে যাই আমাদের গ্রাম হিরাপুরে ।

- সেটা কত দিন আগে ?

- ন দশ মাস হবে নাহ প্রায় বছর গড়াতে চলল ।

- এই এক বছরে আপনার বিবাহিত স্ত্রীর কি হয়েছে জানার ইচ্ছে করেনি ?

- করেছিল হয়ত কিন্তু এত হতাশা আমাকে গ্রাস করেছিল আমার কিছুই ভালো লাগত না মোবাইল টাও ব্যাবহার করতাম না । এখনো কিছুই ভালো লাগে না ।

-এটা বোধহয় একজন এসকেপিস্টের মত কথা হলো বিজয় বাবু । তাই না ? আমাদের কাছে খবর আছে আপনি একজন রেস্পন্সিবল পার্সন । মোবাইল বন্ধ রেখে বা যোগাযোগ বন্ধ করে কি কিছু প্রমাণ হয় ? এমনও তো হতে পারে সেই মুহুর্তে আপনাকে নিশা দেবীর প্রচণ্ড দরকার ছিল ।

-আমার তা মনে হয় না ম্যাডাম ...নিশার আমার প্রতি কোন ফিলিংস নেই । সত্যি কথা কি জানেন আমি আর নিতে পারছিলাম না ।

- খুবই স্বাভাবিক ...তবে নিশা দেবীর বর্তমান অবস্থান জানলে হয়ত আপনার অবস্থান বদলাতে পারে ।ওক্কে ঠিক আছে আজ এই অব্দি থাক । পরে আবার দরকার মত আপনাকে বিরক্ত করব ।। সাবধানে বাড়ি ফিরবেন । নিশা দেবীর ... আচ্ছা থাক ওইসব কথা পরে হবে ।।

- হুমম ।।

ক্লান্ত অবসন্ন বিজয় বাড়ির দিকে পা বাড়ায় । ট্রেনে এখন ঘণ্টা খানেকের পথ তারপরে সেই বিশাল বাড়ি আজকাল বাড়িটা তাকে গিলে খেতে আসে । এত বড় বাড়ি একগাদা কাজের লোক অথচ থাকার মধ্যে একটাই মানুষ ! সে নিজে । বাবা মা সেই কবে তাকে ছেড়ে চলে গেছে পৃথিবী ছেড়ে । যে জেঠুমনি আর জেম্মার কাছে বিজয় বড় হলো তারাও আজ মাস দুয়েক দেশ ছাড়া আমেরিকায় মিঠি দিদির কাছে গিয়ে পড়ে আছে । মিঠি দিদির মেয়ে ছোট ... এখন আর ওদের দেশে ফেরার কোন সুযোগ নেই । বিজয়ের মাঝে মাঝে মনে হয় এত বড় পৃথিবীতে তার একমাত্র বন্ধু ওই হরিপদ । লোকে হরিপদ কে তার চ্যালা বলে বটে কিন্তু বিজয় চাল চুলো হীন বাপ মা মরা ওই হরিপদ কে খুব ভালোবাসে । এই যুগেও একটা মানুষের যে এত কম চাহিদা হতে পারে , এত খুশিতে থাকতে পারে , বিজয়ের এত ভালো চাইতে পারে সবসময় ...সত্যি না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না ।

পর্ব ৮

পড়াশুনো ব্যাপার টা একদম পছন্দ নয় হরিপদর । পরীক্ষা তো আবার তার দু চক্ষের বিষ । ইস্কুল ছাড়ার আগে অবিশ্যি হরিপদ পরীক্ষাকে থোড়াই কেয়ার করত । হোক না তাতে করে এক এক ক্লাসে দু এক বছর অতিরিক্ত থাকতে হয়েছে তাকে । ওতে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধি হয়েছে শুনি ? পাঁচ জনে পাঁচ কথা বললে কি হবে হরিপদ জানে ওতে করে তার গোড়াটা বেশ শক্ত হয়েছে । এই যে সে চোখ বুজলেই ইতিহাসের পুরাণের গল্প ভাবতে পারে ... দু চার কলম লিখে ফেলতে পারে একি মুখের কথা নাকি ? গোড়া শক্ত না হলে কেউ অমনটি লিখে দেখাক দেখি । আসল কথা হলো ইস্কুলে পড়তে গেলে তাকে সব বিষয় জানতে হবে এইটেই মেনে নিতে পারেনি হরিপদ । সব বিষয় কি সবাই জানতে পারে গা ? না কি জানা সম্ভব ? তবে আজকাল নাকি ফেল টেল করা দেশ থেকে উঠে গেছে ... ছ্যা ছ্যা এইসব সিদ্ধান্ত কে নিলে গা ? ছেলে ছোকরা ফেল করা কাকে বলে এইটেই জানতে পারবে না ... একি একটা কথার মত কথা হলো ! নাহ দিনকাল তো খুব খারাপ পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে হরিপদর ।।

ফাঁকা স্টেশনে বসে এইসবই হাতি ঘোড়া ভাবছিল হরিপদ । কোন ফাঁকে যে লাস্ট লোকাল টা এসে দাঁড়ালো আবার ছেড়েও দিল সে বুঝতেই পারে নি । ওই তো দাদাবাবু ... আহা মানুষটা একদম ধসে গেছে গো । তাড়াতাড়ি এগিয়ে যায় হরিপদ

- দাদাবাবু

- একিরে তুই ! এত রাত্রে স্টেশনে বসে আছিস ... কোন মানে হয় !

- আজ্ঞে মানে তো হইই না মোটেই হয় না । আসল কথা হলো ঘুম আসছিল নি তাই ভাবলুম একটু পাচারি করে দেখি আপনি আবার টর্চ লাইট টা ভুলে যান কিনা !

- ওহ তোর গার্জেন গিরি তে আমার ... বাঁচাই দায় হয়েছে। চ চ পা চালিয়ে চ দেখি । খুব খিদে পেয়েছে ।

- চলেন আজ্ঞে ।

স্টেশন থেকে বিজয়দের বাড়ি মিনিট পাঁচেকের হাঁটা পথ । রাত্রে বেলায় দূরত্ব টা জোরে পা ফেলার জন্যে আরো কম লাগল । গেট ঠেলে ঢোকার সময় হরিপদ একরকম জোর করেই জিজ্ঞেস করল ...

- বলছি দাদা বাবু বৌদি মনির কোন খবর পেলেন নাকি ?

বিজয় রাগ করল না । বিরক্তও হলো না আবার ওই প্রশ্নের কোন উত্তরও দিল না ।

- হরে খাবার গরম কর দেখি আমি চট করে গায়ে দু মগ জল ঢেলে আসি ।।

মোক্ষদা মাসীর সন্ধ্যেবেলায় রান্না করা মাছের ঝোল আর পটলের তরকারি গরম করতে করতে হরিপদ ভাবছিল বড় লোকদের রাগটা ও পরিমিত । সাধে কি আর লোকে এদের মান্যি গন্যি করে গা ।গোলমাল টা হলো তার দাদাবাবু যে কত বড় মানুষ এই সরল সত্যিটা বৌদি মনি বুঝল না ... নাহ দেশে ভালো মানুষের মোটেই দাম নেই এই বিশ্বাস টা হরিপদ র দিন দিন ধৃঢ় হচ্ছে ।।

পর্ব ... ৯

সন্ধ্যে বেলায় নিজের ফ্ল্যাটে একটা কড়া কফি নিয়ে একমনে একটা মোটা ডাইরির পাতা ওল্টাচ্ছিল তন্নিষ্ঠা ...অন্যমনস্ক থাকায় মাঝে মাঝে পেন টা কামড়ে ফেলছে সে । কেসটা এত সোজা দেখাচ্ছে কিন্তু মন বলেছে কোথাও একটা প্যাঁচ আছে সাংঘাতিক প্যাঁচ । একটু দূরে তার সহকারী সুব্রত বক্সী বসে বসে নোট করছে । কেসটার এবার জাল গোটাতে হবে ... কিন্তু কি ভাবে কিছুতেই কোন হদিশ মিলছে না !!

- সুব্রত খোকনের একদম ক্লোস সার্কেলের লোকজন দের নিয়ে তোমার করা পয়েন্ট গুলো একবার বলে যাও তো।

- ইয়েস ম্যাডাম ...নিশা রায় : অসুস্থ হওয়ার আগে ইনি ছিলেন অসম্ভব মেজাজি ও দুর্মুখ অহংকারী একজন মহিলা ।এতটাই স্বার্থপর যে মাঝে মাঝে তা নিষ্ঠুরতার নামান্তর । এই মুহুর্তে মারাত্মক মানসিক রোগী এবং একটি মেন্টাল হেল্থ হোমে এডমিটেড । চেনা মানুষদেরও সে এই মুহুর্তে চিনতে পারছেন না ।বিজয়ের বিবাহিত স্ত্রী কিন্তু তার সাথে মাস খানেকের বেশি ঘর করেনি । ভিকটিম খোকনের সাথে নিশার সম্পর্ক টা ঠিক কি ? বন্ধুত্ব নাকি অন্য কিছু ?

- গুড নেক্সট

- কালি রায় : নিশার বাবা ছোট বেলা খুব দারিদ্রের মধ্যে কাটালেও যৌবন থেকে নানা ব্যাবসায় প্রচুর টাকা রোজগার করতে শুরু করেন । প্রায় চল্লিশ বছর বয়সে ইনি হঠাৎ করে প্রমোটারির ব্যবসায় নামেন এবং তাতেও প্রচণ্ড সফল । নেশা বলতে দামী মদ খাওয়া তাও মেপে দু পেগ। অন্য কোন বদ নেশার কোন প্রমাণ নেই । রহস্য হলো মেয়ের বেয়াড়া পনা নিয়ে কালি রায়ের কোন বক্তব্য নেই কেন ।। কেন তিনি সব মুখ বুজে সহ্য করেছিলেন ? শুধু মাত্র সন্তান স্নেহ ? কালি রায়ের বাড়িতে নিশার মা এর কোন ছবি নেই কেন ?কালি রায়ের সায় না থাকলে নিশা কোথায় এতটা উদ্ধত হবার ইন্ধন কোথায় পেয়েছিল ??ভিকটিম এর সাথে কালি রায়ের সম্পর্ক টা কি শুধুই ব্যবসায়িক । কালি রায়ের পক্ষাঘাতের কারণ কি ? নিশার অসুস্থতা নাকি অন্য কিছু ?

- নেক্সট

- বিজয় চক্রবর্তী -ভিকটিম খোকনের খুব ভালো বন্ধু । বিজয়ের সাথে নিশার সম্পর্কের পিছনে যদিও খোকন তবুও কি এমন হয়েছিল যে নিশা বিজয়কে সহ্য করতেই পারত না । বিজয় বিবাহ সূত্রে বিশাল সম্পত্তির অধিকারী এই জন্যেই কি এখনো বিবাহ বিচ্ছেদ নেয় নি ??

- বিজয় সম্পর্কে কি এই পয়েন্ট টা যায় সুব্রত ? নিজেই সে বনেদি পরিবারের উত্তরাধিকারী । টাকা পয়সা প্রচুর রোজগার করেছে । জীবনের প্রতি তার খুব একটা আগ্রহ আছে কি ??

- সরি ম্যাডাম এটা বোধহয় আমি ঠিক লিখনি । এইবারে আমাদের প্ল্যান অফ একশন কি হবে??

- ভাবতে হবে সুব্রত আরো ভাবতে হবে বিজয়কে আরো ইন্টারোগেট করতে হবে ... আমাদের একমাত্র আলো বিজয়ই দেখাতে পারে কারণ এই তিনজনের মধ্যে সে সুস্থ। বিজয়কে একবার ফোনে ধর তো সুব্রত ।

পর্ব ...১০

অনেক দিন পরে বিজয় দাদাবাবুর সাথে মাছ ধরতে গিয়েছিল হরিপদ । মাছধরা কিন্তু মোটেই ছেলে মানুষের কাজ না ,তার চার মাখো রে , সেই চারের কি বদখত গন্ধ বাবা ! তা গরীবের অত গন্ধ টন্ধ দেখলে চলে না বাপু ।চার ছাড়ার পরে টোপ ফেল রে ,ধৈর্য ধরে বসে থাক রে ।কখন মাছ খাবে টোপ ...সে ভগবান ই জানে । আবার মাছ টোপ টা খেয়ে ফেললেই কথা ফুরিয়ে গেল না ।তাকে খেলিয়ে ডাঙ্গায় তোলা কি চাট্টি খানি কথা নাকি ? সেই ভোর থেকে বসে থেকে দুপুর দুটোতে একটা কেজি আটেকের কাতলা টোপ গিলল । সেই মাছকে খেলিয়ে খেলিয়ে ক্লান্ত করে হাত জালে করে ডাঙ্গায় তোলা ... আহা সে একটা দেখার মত ব্যাপার বটে বাপু। বহুদিন পরে মনটা একটু সমে ফিরেছিল হরিপদর আর তার বিজয় দাদা বাবুর । গোলমালটা হল মাছটা বয়ে এনে মোক্ষদা মাসীর উঠোনে রেখে এসে নিজের ঘরে এসে একটু জিরিয়ে নেবে মনে করছে হরিপদ এমন সময় ।

- বেশ গো বেশ .. খুব ভালো বাপু যা হোক ।

- আয় আয় বিনি ... তা কিসের কি বেশ রে ? ভালোটাই বা কেমন করে হলো বল দিকি ?

- বলি এই অবেলায় এত বড় মাছটা এনে যে দুম করে ফেলে দিলে কে রাঁধবে শুনি ? আচ্ছা সে না হয় বুঝলুম রাঁধবে মা ... তা কাটাকুটি তো আমাকেই করতে হবে নাকি ? তোমার কি বুদ্ধি দিন দিন বাড়ছে নাকি গা ? আশ্বিনের এই অবেলায় মাছ কেটে নাইলে জ্বর জ্বালা হতে কতক্ষন ? তখন আমায় কে দেখবে শুনি ? তুমি ?? তোমার তো চাল চুলো নেই নিধিরাম সর্দার ।

শশব্যস্ত হয়ে ওঠে হরিপদ ...

- তাই তো রে বিনি ! মাছটা ধরা তো খুব অন্যায় হলো দেখছি ... আচ্ছা মাছটারও বুদ্ধি বলিহারি বল ! শেষ বেলায় ধরা দিলি কেন বাপু ? আর যদি দিলিই যদি তাহলে একটু তাড়াতাড়ি ডাঙ্গায় উঠতে পারলিনি এ তোর কেমন তরো অন্যায় অবিচার ? সত্যি তো এই অবেলায় ... না না একদম ঠিক কাজ হয় নি রে বিনি ।

- থাক অনেক হয়েছে ... ন্যাকামি রাখ । পুরুষ মানুষের ন্যাকামি আমার অসহ্য লাগে ।

বুকটা ভরে যায় হরিপদর । বিনির বকুনিও তার কেন যে এত ভালো লাগে ? কি যে আছে মেয়েটার মধ্যে ?

- আমার আর কি কি অসহ্য লাগে তোর বিনি ?

- সবকিছু ? তুমি একটা বিচ্ছিরি লোক !!

- একদম ঠিক বলেছিস । বলছি বিনি ...

- কি

- ওই বিনি ?

- কি হলো কি ? বিনি বিনি করে মরে দেক !!

- একটা কথা বলি তোকে ?

বিনি এইবারে এক পা এগিয়ে আসে হরিপদর দিকে ।

- কোন কথা শুনব নি এখন । পালাটা শেষ করে কথাটা বলো আমায় । এই অঘ্রানে তোমার লেখা পালা টা দেখতে চাই ... আমি । গাঁয়ের ইস্কুল মাঠে । পারবে নি ? কি গা বল ... লিখতে পারবেনি ?

হরিপদর মনে হলো সে এক্ষুনি সব পারবে । বিনি বললে সে পাথরের মধ্যেও ফুল ফোটাতে পারবে ... আচ্ছা এমন কেন হচ্ছে তার ?? তাহলে এইটেকেই কি প্রেম বলে ?? ব্যাপার টা এত মিষ্টি জানা ছিল না তো হরিপদর !! ওস্তাদ কে বেশ করে জিজ্ঞেস করে দেখতে হবে তো ...

পর্ব ...১০



- বিজয়বাবু বলেছেন ?

- হ্যাঁ ম্যাডাম বলুন ।

- আপনি ফ্রি আছেন ?

- ফ্রি না থাকলেও নিজেকে ফ্রি করে নিচ্ছি ম্যাডাম ।

-প্রথম দিনেই বলেছি আপনি বুদ্ধিমান ,এনি ওয়ে কয়েকটা প্রশ্ন ছিল ... করি ?

- করুন ।

-বিজয় বাবু যদিও জানি নিশা দেবীর প্রসঙ্গ আপনার কাছে অত্যন্ত বেদনা দায়ক তবু জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হচ্ছি আপনাদের বিয়ের আগে একবার নিশা দেবী বাড়ি থেকে পালিয়েছিলেন ... ঘটনা টা জানেন আপনি ।

- জানি ইনফ্যাক্ট নিশাকে উদ্ধার করার যে অভিযান করেছিলেন ওর বাবা তাতে আমি সামিল হয়েছিলাম ।

- ঘটনা টা পুলিশে রিপোর্ট হয়েছিল ?

- সম্ভবত না ।

- বলেন কি ঘটনা ঘটেছিল তা কি শোনা যায় ?

একটা বড়ো দীর্ঘ শ্বাস পড়ে বিজয়ের মুক্তি নেই । আজীবন বইতে হবে এই জ্বালাপোড়া কে ।

- নিশা তখন ক্লাস টুয়েলভে পড়ে । বাড়িতে চিঠি লিখে পাড়ার এক উঠতি রোমিওর সাথে সে হঠাৎ একদিন পালায় । খোকন তখন কলকাতায় ছিল না ।কালি রায় আমাদের ডেকে পাঠান ... আমি একাই ওনার বাড়িতে আসি । উনি আমায় একা দেখে একটু বিরক্ত হন কিন্তু অল্প কথায় পুরো গল্পটা জানিয়ে উনি আমায় নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ।

- কোথায় ?

- চন্দননগরের কাছাকাছি একটা হোটেলে ।

- এই খবরটা উনি জানলেন কি করে ?

- ওনার আন্ডার ওয়ার্ল্ড এর লোকজনের সাথে বেশ যোগাযোগ ছিল । তারাই ওনাকে খবরটা বার করে দেয় ।

- তারপরে ...

- সেই টিমটা আমাদের সাথে শহরের বাইরে মিট করে । তারপরে আমরা সবাই হোটেলে উপস্থিত হই । কালি রায় এবং ওই টিমের নেতা গোছের একটা লোক দুজনে মিলে গিয়ে নিশাকে ৫ মিনিটের মধ্যে ধরে এনে গাড়িতে বসায় ।

- আর সেই রোমিওর কি হলো ?

- সম্ভবত মারধোর করে ছেড়ে দিয়েছিল ওই ... কি নাম ছিল যেন হ্যাঁ মনে পড়েছে সুরজ সিং ।

- কি নাম বললেন ?

- সুরজ সিং ...

-সুরজের সাথে কালি বাবুর যোগাযোগ ছিল ?

- সাংঘাতিক ...আমি খোকনকে বলতাম সুরজ ... বাবার আই মিন আমার ফাদার ইন ল এর বড়ো ছেলে ।

- মাই গড এতবড় তথ্য টা ... আপনি আগের দিন বলতে ভুলে গেলেন ?

-আমার মাথায় আজকাল কিছুই আসে না ম্যাডাম । আমি প্রচন্ড ডিস্টার্বড ।

- ওকে... থ্যাংক ইউ ফর দি ইনফরমেশন । বিজয় বাবু আপনাকে একটা খবর এইবারে আমি দি ... আপনার স্ত্রী এই মুহুর্তে একটি মেন্টাল হোমে ভর্তি আছেন । তাঁর সম্পূর্ণ মেমোরি লস হয়েছে । আমার মনে হয় আপনার একবার নরেন্দ্রপুরের ওই মেন্টাল হোমে যোগাযোগ করা উচিৎ ।

- অসম্ভব ।

- অসুস্থ মানুষের উপরে রাগ পুষে রাখতে নেই বিজয় বাবু । আপনার মত একজন মানুষের হয়ত নিশা দেবীর এই মুহুর্তে প্রচণ্ড দরকার ।

- আমি পারব না ম্যাডাম ।

-নিশ্চয় পারবেন । হয়ত দেখবেন ওনাকে দেখার পরে আপনার অন্যরকম কিছু মনে হল । এনি ওয়ে আপনাকে ওই হোমের ঠিকানা আমার সহকারী সুব্রত পাঠিয়ে দেবে ।

-- ম্যাডাম আপনি সত্যি কি পুলিশে চাকরি করেন ।

- কোন সন্দেহ আছে বিজয় বাবু ? পুলিশ হলেই তার ভিতরের মানুষটাকে মেরে ফেলতে হবে ... এমন কোন কথা আছে কি ?? আপনি নিশা দেবীর একবার খোঁজ নিয়ে আসুন । ঐখানে ডক্টর অশোক চ্যাটার্জি কে পাবেন ওনাকে আমার নাম বলবেন আর আপনার পরিচয় দেবেন ... আশাকরি কোন অসুবিধা হবে না ?

- এই যন্ত্রনা থেকে আমি কবে মুক্তি পাব ম্যাডাম ?

- উত্তর পেতে যত দেরি ততদিন । আশা করছি খুব শীঘ্র। আবার এটাও ভুলে যাবেন না যে আপনিও সন্দেহের তালিকার বাইরে নন ।

- ম্যাডাম আপনি ঠিক কি চান বলুন তো ?

- পুলিশ কি চায় সেইটা কি একবারে জানা যায় বিজয় বাবু ... ?? ওইটা ক্রমশ প্রকাশ্য হয়, রাখি ।।

পর্ব : ১২ ...

ভগবান ভদ্রলোকের অস্তিত্বের উপরে খুব একটা ভরসা নেই হরিপদর । আসলে ভদ্রলোক আছেন না নেই এই নিয়েই সে বড্ড দোলা চালায় থাকে । তবে একেবারেই ভগবান নেই একথা বলাটা বোধ হয় তার মতো গরিবের মুখে মানায় না ।উনি অল্প হলেও আছেন এবং সম্ভবত বড় লোকদের জন্যই আছেন অবিশ্যি এই কথাটাও যে পুরোপুরি ঠিক সেইটাও বা সে বুকে হাত রেখে বলে কি করে ? মোটের উপরে কথাটা হলো এই যে তার মত গরীবের ছোটখাটো চাহিদাগুলো ভগবানের বোধহয় নজরে আসে না আর এলেও সেগুলো পূরণ করার কথা বোধকরি তেনার তেমন মনে থাকে না । সে যাগ্গে যাক ভগবানের কাজকম্ম নিয়ে গরীবকে অত মনে করতে নেই... এই কথা কি আর হরিপদ জানেনা ? গোলমালটা হচ্ছে তার দাদা বাবুর মত বড়লোক কেউ ভগবান মোটেই সুনজরে দেখলে না ।

- বলি পালা লেখাটা চলছে নাকি কেবলই মক্সো করচ বলবে ?

আবার বিনি উফফ মেয়েটা যেন একটা ছোটখাটো ঝড় !

- নারে বেশ জোরতার চলছে কিন্তু মুশকিল হলো ...

- হাই দেক আবার কি মুশকিল গা ??

- একটা বেশ দুঃখের সিন লিখব ভাবছিলুম ...

- তা লিখে ফেললেই হয় বাপু অমন ভাবনা ভেবেই বা কি হবে শুনি ??

হরিপদ বলতে পারেনা ..." দুঃখের কথা লিখতে গেলে তো নিজেকে বেশ দুঃখে বাস করাতে হবে ... এদিকে বিনি কাছে থাকলে তো হরিপদর সব মনখারাপ কেমন ... দুম করে পালিয়ে যায় যে !! "

- লেখালেখি বাদ দিয়ে একবার দাদা বাবুর সাথে দেখা কর দেখি বাপু... তোমাকে দাদাবাবু ডেকে দিতে বললে ...

- এই দ্যাখ দিকি ... এই কথাটা আগে বলবি তো ক্ষেপি ! উফফ তোকে নিয়ে আমি করি বল দেখি ?

ক্ষেপি ডাকটা বোধ হয় বিনির খুব একটা পছন্দ হলো না আবার বেশ অপছন্দ হল এমন কথাও বলা যায় কি ? গোলমালটা হলো বিনি ঘর থেকে যাবার আগে হরিপদকে বেশ করে জিভ ভেংচে দিল । আহা সেই সময় বিনিকে যা সুন্দর লাগছিল না! হোক না বিনি একটা পাগলি তাতে আর যাই হোক হরিপদর তেমন কোন অসুবিধা নেই। বেশ একটা বড়সড় ফুলকো লুচির মত ফুলে যাওয়া মন নিয়ে হরিপদ তড়িঘড়ি দোতলার দিকে পা বাড়ায় । দাদাবাবু একতলায় খাবার টেবিলেই ছিল ।

- চান করেছিস ? খেয়েছিস কিছু সকাল থেকে ?

- না মানে ইয়ে কেন বলুন দিকি ?

- একবার কোলকাতা যাব ... তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে ।তুই যাবি আমার সাথে ।

কলকাতা শহরটা খুব একটা খারাপ লাগে না হরিপদর। বেশ অনেক কিসিমের লোক দেখতে পাওয়া যায় । শুধু এই ভীড় ভাট্টাটা খুব বেশি এই যা একটু অসুবিধার কথা। তবে গরীবদের অত ভীড় দেখলে চলে কি ??

- বলছি ইয়ে দাদাবাবু কলকাতার কোথায় যাব আমরা ?

মুখের ভিতরে আনমনে খাবার তুলতে তুলতে বিজয় বলল

- তোর বৌদি মনির খুব শরীর খারাপ চল একবার গিয়ে দেখে আসি দুজনে ।

একই সাথে দুটো খবর ! একটা খুব ভালো আর একটা খুব খারাপ । নাহ ভগবান ভদ্রলোককে এখনো চেনা হলো না হরিপদর ।

পর্ব :: ১৩

হিসেব টা মিলছে না তন্নিষ্ঠা র । একটা হিসেব কিছুতেই মিলছে না ! খোকন আর বিজয় দুজনেরই সব পলিসির নমিনি নিশা । বিজয়েরটা এক্সপেকটেড মানুষ নিজের স্ত্রীকেই তো নমিনি করবে কিন্তু খোকন ? খোকন কেন নিশাকে নমিনি করল ?? কি লাভ ছিল এতে তার ? তাহলে কি ত্রিকোণ প্রেম ? তবে কি খোকনের হত্যার পিছনে বিজয়ের হাত ? প্রতিহিংসা ??এই সব ভাবনার মধ্যে মোবাইল টা বেজে উঠল ।

- বল সুব্রত ।

- ম্যাডাম সুরজ সিং এর ট্রেস পাওয়া গেছে ।

- ইস ইট ... এক্সেলেন্ট কোথায় এখন সুরজ ।

- অন্ডালের কাছে একটা গ্রামে । গ্রাম টা আসলে একটা পরিত্যক্ত খনির কুলিদের বস্তি । সুরজের বাড়িটা আমাদের ইনফরমার নজরে রেখেছে ।

- সুব্রত কুইক আমাদের হাতে আর সময় নেই । লোকাল থানা কে কনট্যাক্ট করেছ ?

- না ম্যাডাম সব সুরজের কাছে টাকা নেওয়া লোক । আপনি আমায় বলেছিলেন খবরটা চেপে রাখতে ।

- বাট সুব্রত আমাদের ফোর্স লাগলে কোথায় পাব যদি সুরজ কাউন্টার করে ?

- চান্স কম ম্যাডাম । সুরজ প্রচণ্ড অসুস্থ ... সম্ভবত সিরোসিস অফ লিভারের সমস্যায় ভুগছে , ওর দল ভেঙে গেছে ।সুরজ দু তিন মাস হলো মেশিন নামিয়ে রেখেছে ।

- আর ইউ সিওর ?

- হান্ড্রেড পারসেন্ট ম্যাডাম ।

- গুড নিউজ । তাহলে আমি এখুনি জয়েন্ট সি. পি. র সাথে কথা বলছি ...একদম সময় নেই হাতে ,এই অবস্থায় অপোনেন্ট পার্টির হাতে যে কোন মুহুর্তে মার্ডার হয়ে যেতে পারে সুরজ । সুরজের কিছু হবার আগেই ওকে ইন্টারোগেট করা দরকার ।সুব্রত গেট রেডি আজকেই রওনা হব আমরা ... আই মিন তুমি আমি আর ড্রাইভার সেলিম ।

- ওকে ম্যাম । সার্ভিস রিভলবার টা নিচ্ছি সঙ্গে ।

- নিতে পার কিন্তু ওটা ব্যবহার না করার চেষ্টা করবে ... বেটার হয় ওটা শো না করলে... ইস ইট ক্লিয়ার ?

- ম্যাম রিস্ক টা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না ?

- হুঁ ... রিস্ক ?সে হলে হচ্ছে । মাঝে মাঝে পরিচিত ছকের বাইরেও কিছু ভাবতে হয় ... সুব্রত ।।

পর্ব :: ১৪ ...


- মানুষের মন নিয়ে কোন ধারণা আছে ... বিজয় বাবু ?

- আজ্ঞে না ডক্টর কিছু মাত্র নেই ।

- না থাকাই ভালো । ব্যাপার টা বড্ড জটিল ।এনি ওয়ে আপনার স্ত্রী আজ থেকে মাস খানেক আগে যখন এখানে আসেন তখন অনেক গুলো মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন । সেগুলোর খুব ভারী ভারী নাম আছে এবং নামের থেকেও ভারী ভারী ওষুধ আছে ।যাই হোক এই মুহুর্তে সেগুলোর প্রায় সবগুলোই সারার মুখে ... শুধুমাত্র

- শুধু মাত্র কি ডক্টর ?

- উনি পুরনো কাউকে চিনতে পারছেন না । নিজের নামটা অবশ্য মনে করতে পেরেছেন ।

- সে কি ... কি হবে তাহলে ?

- আপনি একবার নিশার সাথে দেখা করুন কিন্তু মনে রাখবেন উত্তেজিত হবেন না ।

- দেখা করলে কি ওর কোন উপকার হবে ডক্টর ?

- হতেও পারে আবার নাও হতে পারে ধরে নিন হবে না । তবু দেখা করুন ।

- আমাকে দেখে ও আগের মত ভায়োলেন্ট হয়ে গেলে ?

- আমাদের লেডি গার্ড সঙ্গে থাকবে চিন্তা নেই আপনার ।

- স্যার নিশা কি কোনদিন আর ভালো হবে না ?

- নিশা এখন অনেকটাই সুস্থ মিস্টার চক্রবর্তী । শুধু কয়েক বছরের মেমোরি ওর সম্পুর্ন ডিলিট হয়ে গেছে । আপনি যান দেখা করে আসুন ।বেস্ট অফ লাক ।আবারো মনে করিয়ে দি নো এক্সাইটমেন্ট ।

----------------------------------------

জায়গাটা ভারী সুন্দর । চারিদিকে সবুজ বাগানে কেয়ারি করা ফুল ফলের গাছ । একটা বেশ বড় পুকুরও আছে তাতে প্যাঁক প্যাঁক করে হাঁস গুলো হুটোপুটি করছে । এমন জায়গায় আসা হবে জানলে তো হরিপদ তার খেরোর খাতাটাই নিয়ে আসত । এইখানকার দিদিমনি গুলো খুব ভালো সে যদি একটা গাছের ছায়ায় বসে কয়েক লাইন লিখে ফেলত তাতে কি কেউ তেমন করে আপত্তি করত ? মনে হয় করত না । এই যে হরিপদ আজকে এতক্ষণ ঘুরে বেড়াচ্ছে নিজের মনে কেউ কি তাকে বিরক্ত করেছে ? নাহ এরা লোক বেশ ভালই বাপু । শুধু বৌদি মনি তার পাশ দিয়ে দুবার হেঁটে চলে গেল কিন্তু তাকে একদম চিনতে পারলে না । সে কথা থাক অসুস্থ মানুষের পারা না পারা নিয়ে কথা বলতে নেই । আজকাল সুস্থ মানুষেরাই কত কিছু পারে না আর তার বৌদি মনি তো না জানি কতই অসুস্থ! অমন সোনার মত রঙ কেমন যেন কালচে মেরে গেছে । চোখ গুলোতে কেমন প্রাণ নেই । আহা কেন যে অমন কেন হলো ?

- কি রে তুই এখানে বসে আছিস ? আচ্ছা বস বস ।

দাদা বাবু তার দিকে একবার তাকিয়েই পশ্চিম দিকে চলে গেলো । আচ্ছা দাদা বাবু কি একটু অস্থির আজকে ? সে হোক গে যাক অস্থির হওয়াই তো ভাল । দাদা বাবু আর বৌদি মনির মিল হলে হরিপদ হয়ত আনন্দে কেঁদেই ফেলবে!

দূরে একটা গাছের ডাল ধরে চুপ করে একটা কাঠ বিড়ালি দেখছিল নিশা ।কাঠবিড়ালিটা নিজের মনে কুট কুট করে বাদাম খাচ্ছিল । বিজয় ধীর পায়ে পিছন থেকে গিয়ে ...

- নিশা

নিশা চুপ ।

- নিশা আমি বিজয় ।

আস্তে আস্তে মুখ ঘোরাচ্ছে নিশা । বিজয় ভাঙছে ভিতরে ভিতরে সেই মুখ সেই চুল সেই চোখ ... না চোখ দুটো কি এক জন ভয় পাওয়া ... মানুষের ?

- নিশা আমায় চিনতে পারছ ?

ঘাড় নেড়ে না বলে নিশা । তারপরে খুব আস্তে আস্তে বলে

- তুমি কে গো ?? একটা ভালো মানুষ ??

- না নিশা আমি বিজয় ।

- না গো ... তুমি একটা ভালো মানুষ ...এই এস তো দেখি আমার কাঠবিড়ালি টা কোথায় গেল ?

বিজয়ের একদম কাছে নিশা । বিজয় উত্তেজনায় কাঁপছে সেই একই মানুষ সেই এক বছর আগের নিশা শুধু এই নিশা তাকে চিনতে পারছে না আর এত ভালো করে সেই নিশা তাকে কখনও ডাকত না ।।

পর্ব ১৫ ...

এখানে জীবন বন্দুকের নলের উপরে চলে । কথা কম কাজ বেশি এই নীতির উপরেই চলে এই কয়লা খাদান।সরকার বহুদিন আগেই এই খনিগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দিয়েছে । তাও বে আইনি কয়লা তোলা বন্ধ করা যায় নি । কয়লা মাফিয়ারা এই খনি গুলোকে আর আশপাশের দরিদ্র মানুষ গুলোকে নিশানা করে । খরচ নামমাত্র মুনাফা প্রচুর নিরাপত্তার কোন গ্যারান্টি নেই । ছোট থেকেই এই অঞ্চলের মানুষদের প্রকৃতি আর বিপক্ষ গ্যাং এর সমাজ বিরোধীদের সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়। মানুষের বেঁচে থাকাটা এখানে নিশ্চিৎ নয় বরং অকাল মৃত্যুটা এখানে নিশ্চিৎ এবং বোধহয় অনিবার্য্য ও । অনিয়ম টাই এইখানে নিয়ম এবং আইন ভঙ্গের এখানে উদযাপন হয় । কালো পাথুরে মাটিতে পা দিয়েই তন্নিষ্ঠা বুঝেছিল এইখানে তাদেরকে কেউ খুন করে দিলেও লাশ পাওয়া যাবে না। চারিদিকে ঝোপ জঙ্গল, জলা জমি আর কয়লার পাহাড় এর মধ্যে কোথায় গুম হয়ে যাবে তারা । ইনফরমার রফিকের নির্দেশ মত একটা দোতলা বাড়ির কাছে আসে তন্নিষ্ঠা ও সুব্রত । বাড়িটায় বেশ একটা বড়লোকি জৌলুস আছে তবে এই কালো রং এর পৃথিবীতে এই বাড়িটা বড় বেমানান ।

সুরজ বাড়ির বাইরে একটা দড়ির তাকিয়ায় আধ শোয়া অবস্থায় ছিল । খুব শান্ত ভাবেই সে দুজনকে তার কাছে আসতে দিল । তন্নিষ্ঠা দেখছে একটা বিদ্ধস্ত ক্লান্ত মানুষ কিন্তু আজকেও তার চোখের দিকে তাকালে বুকে কাঁপুনি ধরে ।

- আইয়ে ম্যাডাম । আবে এ দুখনয়া ম্যাডাম লোগো কে লিয়ে কুর্সি লা । বহুত রাস্তা গাড়িতে এসেছেন ম্যাডাম লোগ । টায়ার্ড আছেন । বসেন ম্যাডাম রেস্ট লিন কুছু ঠান্ডা লিন ফির বাতচিত হোবে ।।

তন্নিষ্ঠা অবাক এদের কি নিখুঁত নেট ওয়ার্ক !

- আপনি জানেন আমরা কেন এসেছি ?

- ম্যাডাম আমি এক টাইম আপনার শহরে রাজ করেছি ... ই বাত আপনি ভুলে যাবেন না । আমার থোড়া বহুৎ কানিকশন আজ ভি আছে । আমি না চাইলে আপনি এই ইলাকায় ঘুষতে ভি পারতেন না ম্যাডাম ।

- তাহলে সেটাই করলেন না কেন ?

চুপ করে থাকে সুরজ সিং ... তারপর একটা হাত আকাশের দিকে তুলে বলে

- উপর মে যো বৈঠে হ্যায় না ম্যাডাম উনি তো আমার টাইম লিমিট করিয়ে দিলেন । আমি তো তিন চার মাহিনা আছি ইস দুনিয়া মে । ব্যাস আর ভাগতে ভালো লাগে না । বহুত ভাগ চুকে হ্যায় মে । এখন একদম থকে গেছি ম্যাডাম । সরবত টা লিয়ে লিন । আপনি আজকে হামার মেহমান আছেন । মেহমান কে সাথ আমরা কুছু গলত কাম করি না ।

তন্নিষ্ঠা চুপ । কি জিজ্ঞেস করবে একে ? সময় নেয় সে হাতের সরবতের গ্লাসে চুমুক দিতে থাকে । নিজেকে গুছিয়ে নেয়।

- কালি রায় কে আপনি ঠিক কিভাবে চেনেন সুরজ বাবু ?

সুরজের ঝিমিয়ে যাওয়া চোখ দুটো ঝলসে উঠল ।

- ও হারামী আমার বাপ আছে ম্যাডাম । আপনি কি আমার বাত বিসোয়াস করবেন ? শালা কে খতম করতে পারলে হামি শান্তিতে মরতে পারতাম ।

নড়েচড়ে বসে তন্নিষ্ঠা । একদম ঠিক জায়গায় এসেছে সে ।

পর্ব :: ১৬ ...

- বাবা হরি ঘরে আছিস ?

মোক্ষদা মাসীর গলা শুনে হরিপদ ঘরের বাইরে আসে ।

- বুঝলি বাবা সে গাঁয়ের হরেন খুড়োর ছেলের সাথে বিনির সম্মন্ধ এয়েচে , ছেলের বয়স বিনির থেকে খানিক বেশি । তা হোক গে যাক সোনার আংটি আবার বাঁকা !! কি বলিস বাপু ?হরেন খুড়োর জমি জিরেত ভালই আছে বিনি আমার খেয়ে পরে দিব্যি থাকবে ... কি বলিস ? তুই বাপু আগামী রোববার ঘরে থাকিস তারা সব দিন করতে আসবে । ভগবান এত দিনে মুখ তুলে চেয়েছে রে বাবা । আহা এত সুখ আমার সইবে তো !!

চোখের কোন মোছে মোক্ষদা মাসী । হরিপদর বুকে ঝড় বইছে তবু মুখে হাসি ফুটিয়ে সে জিজ্ঞেস করে ...

- একবারে দিন করবে তারা মাসী ? বিনিকে একবারটি দেখতে আসবে নি ?

- বিনিকে তাদের দেখা আছে রে বাপ , বিনিকে তাদের মনে ধরেছে খুব ... খুড়ো বলেছে এক কাপড়ে নিয়ে যাবে আমার বিনিকে । আহা ঠাকুর বিনির কপালে এইটুকু সুখ রেখে দিও আজন্ম কাল ।

হরিপদ আর পারছে না । তার নৌকা ডুবে যাচ্ছে । বুকের ভিতর কামার শালের হাতুড়ি পড়ছে ... দুম দাম করে। মোক্ষদা মাসী চলে যেতেই তড়িঘডি গিয়ে নিজের খেরোর খাতা খুলে বসেছে সে । তার বুক পুড়ে যাচ্ছে ... যাক । সমস্ত জ্বালা সে উগরে দিচ্ছে তার নায়কের মুখে ... শেষ সিন টা সে এত দিন লিখতে পারে নি ।নিজেকে নিংড়ে দিয়ে শেষ কটা শব্দ লিখল হরিপদ । এই বেশ হয়েছে তার । ওস্তাদ তাকে দুঃখে থাকতে বলে । এই তো কেমন একটা পাকাপাকি দুঃখে থাকার বন্দোবস্ত হয়েই গেল তার । যাক তার বিনি তো সুখে থাকবে ... হোক না হরিপদর বুকে হাজার সাপের কামড়ের জ্বলন । বিনির সুখের জন্যে সে সব হাসি মুখে সইতে পারে । গোলমাল টা করল বিনি নিজেই । হঠাৎ করে কোথা থেকে উদয় হলো একদম ধূমকেতুর মত !

- হ্যাঁ গা তুমি পুরুষ মানুষ ?

হরিপদ প্রাণপণে নিজের চোখের জল মুছছে ? বিনি যেন না দেখতে পায় তার চোখের জল ।।

- কেন রে আমি আবার কি দোষ করলাম রে বিনি ?

- মেরে ফেল আমাকে ... কেন বাঁচিয়ে রেখেছ আমাকে ? আমার বিয়ের দিন ঠিক হচ্ছে আর তুমি ঘরে বসে পালা লিখে যাচ্ছ !!

হাউ হাউ করে কাঁদতে কাঁদতে হরিপদর দাওয়ায় উপরেই বসে পড়ল বিনি । আর হরিপদ... তার কেমন মনে হল ডুবতে ডুবতে হঠাৎ একটা শক্ত দড়ি পেয়ে গেল সে । এইবারে তাকে বাঁচতে হবেই । বিনির জন্যেই তাকে বাঁচতে হবে ।। এতদিনে বিনিকে ঠিক বুঝতে পেরেছে সে ।।


পর্ব ১৭ ...



- কালি রায়ের সাথে আপনার কি সম্পর্ক একটু ডিটেলে বলুন তো সুরজ বাবু । আপনি দাবী করছেন উনি আপনার বাবা অথচ আপনি নিজে অপরাধ জগতের সাথে জড়িয়ে আছেন ব্যাপার টা তো ঠিক হজম হচ্ছে না আমার ।

- আমি যদি বোলি কি উনি আমাকে... ই লাইনে লিয়ে এসেছেন আপনি কি বিসোয়াস করবেন ম্যাডাম ??

- আপনি বলে যান সুরজ বাবু ।

- কালি রায় এর মতলব আমার বাবার তিন ছেলে মেয়ে ..

আমি .. নিশা অউর খোকন ।

সামনে বোমা ফাটলেও এতটা চমকাত না তন্নিষ্ঠা। পুলিশের ট্রেনিং বলে সে অবাক হলেও সেটা প্রকাশ করে না । সুরজ কে বলতে দেয় ।

-আমাদের তিন জনের বাবা এক হলেও মা আলাদা । কালি রায়ের এক এক মঞ্জিলে মস্তির ফসল ছিলাম আমরা ।

- কি বলছেন আপনি ?

- একঠো বাত ভি এখানে ঝুঠা নেই ম্যাডাম । আমার ঠিকানা উপর ওয়ালা লাগিয়ে দিল ব্যাস আউর কিছু দিন কি বাত ... এহি সিচুয়েশনে আমি ঝুঠা কেন বলব ম্যাডাম ?

- বলে যান ।

-আমার মা ছিল নীল কমলের এক কোঠি ওয়ালি । ছোট থেকে ঘুঙুরের বোল আর বাবু লোক কি বাওয়ালি দেখে বড়ো হতে লাগলম , ফির ভি বাচপন থেকে পড়া লিখাতে থোড়া বহুত তেজ ছিলাম আমি ম্যাডাম ।এক দিন বাতো বাতো মে বের হল কি কালি রায় আমার বাবা ... তো আমি ওকে টারগেট করলম , একদিন ওর ফুর্তি খতম হলে ওকে পাকড়ে বললাম আমি... কি আমি পড়া লিখা করতে চাই ।

- তারপর

- কালি রায় মায়ের উপরে বহুত গুসসা করল কেন মা উনার নাম বলল এইসব বোলে গালি দিল ... ফির আমায় বলল কি পড়বি যদি তো এই কোঠি ছেড়ে দিয়ে হামার সাথে চল । তোকে হস্টিলে রেখে পড়াব ।

- আপনি রাজি হলেন ...

- হলাম কিন্তু অহি মেরা সবসে বড়া গলতি থা ম্যাডাম।

- কেন ?

- হস্টিলে আমাকে কালি রায় নেশা ধরিয়ে দিল । ফালতু ছেলের পাল্লায় ঢুকিয়ে দিল সব কিছু ওর প্ল্যান মতো হলো ...ইস্কুল থিকে রাস্টিকেট হলাম নেশা করতে গিয়ে । আমার গ্যাং স্টার হবার এক এক স্টেপ ওই শালা কালি রায় কন্ট্রোল করল । ওর বিজনেস এর লাফরা হলে আমার খোঁজ পড়ত । কত বেগুনাহ ইন্সান এর ক্ষতি করলাম এই জিন্দেগীতে কি বলব ম্যাডাম । শালা নরক সে সরগ কি খোঁজ মে এলাম লেকিন ওহি মেরে লিয়ে নরক নিকলা ...ছোড়িয়ে ম্যাডাম ।। কালি রায়ের মত হারামী দের আপলোক কভি পকড় নেহি পায়েঙ্গে । এরা কোন দিন ধরা পড়ে না ম্যাডাম । আপলোক সারে গুসসা হাম য্যায়সে আদমিও পর উতার দেতে হ্যায় ।।

- নিশা আর খোকনের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন ছিল সুরজ বাবু ?

- নিশা হামার সচমুছ বহিন ছিল ম্যাডাম ... বহুৎ পেয়ারি লেড়কি ছিল নিশা ,আমাকে ফোঁটা লাগাত হর শাল , হারামী খোকন শালা ওর লাইফ টা হেল করে দিল । বাপকা বেটা তো ম্যাডাম । পাপ শালা কিসিকো ছোড়তা নেহি । মাঝখান থেকে বেচারা বিজয় এর মত নেক ইনসানের লাইফ খতম । পড়ালিখা গেল ... সব খতম ।

- খোকন কি করে মারা গেল সুরজ বাবু ?

- ও শুয়ার কি ওলাদ মরে তো নি ম্যাডাম ...

- তাহলে ...

- ওকে খুন করা হলো ... বহুত প্ল্যান মাফিক আউর হিসাব কিতাব করে ... যাতে খুন টা বিলকুল বোঝা না যায় । লেকিন দেখুন কিসমত কা কেয়া খেল ! আপনার তো কুছু মালুম জরুর হলো... না তো আপনি কেনো ইধার আসবেন ম্যাডাম ।

গাঢ় অন্ধকারে একটু হলেও আলোর দেখা মিলছে তন্নিষ্ঠা র এখন প্রশ্ন একটাই সুরজ খুনির নাম টা বলবে তো ??জীবনের যে জায়গায় মানুষ টা আছে তাতে সে কিছু বলতে না চাইলে স্বয়ং ভগবান ও তার কাছ থেকে কিছু বার করতে পারবেন না ।

পর্ব : ১৮ ...

পালাটা শেষ অব্দি লেখার মতোই লেখা হলো বটে ...এমন লেখা হরিপদ আগে কোনদিন লিখতে পারেনি আর ভবিষ্যতেও কোনদিন লিখতে পারবে বলেও মনে হয় না তার নিজেরই । ওস্তাদ তো ভারি খুশি হয়ে তাকে শ খানেক টাকা বখশিস করেই ফেলল । তবে ওতে হরিপদর ভারী বয়েই গেছে । বিনির বিয়েই যখন দিয়ে দিচ্ছে মোক্ষদা মাসী তখন তার আর পয়সা কড়ি নিয়ে কি কাজ ? ওস্তাদ অবিশ্যি তাকে খুব করে বলছে মোক্ষদা মাসীর কাছে গিয়ে বিয়ের কথাটা পাড়তে কিন্তু হরিপদ এখনো বলে উঠতে পারে নি ।কোন মুখেই বলবে সে ? কি আছে তার ? ব্যাটা ছেলের পয়সা না থাকলে কেউ তাকে মান্যিগন্যি করে না । বিনিও সেইদিনের পরে আজকাল আর হরিপদ র সাথে তেমন করে কথা কইছে না । তা ভাল খুব ভাল বিনি কি আর তার নিজের যে হরিপদ কে বেশ একটু ওই ইয়ে মত করে চলবে !!

পালাটা যেমন হয়েছিল বলে মনে করেছিল হরিপদ তার থেকে নামল অনেক গুণ ভালো । ওস্তাদের একটিং দেখে হরিপদ র খুব মনে হচ্ছিল এটা সে নিজে লিখেছে ? এত কথা সে পেল কোত্থেকে । পালা শেষ হবার পরে ওস্তাদ নিজেই পাঁচজন কে পালাকারের নাম টা বলে দিলে । তাতে কি সুবিধে হলো না কি অসুবিধা সে আর হরিপদ ভাবে না তার কাজ শেষ । যতই পালা শেষ হবার পরে বিনি তার দিকে অপার বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকুক না ... হরিপদর আর কিছুতেই কিছু আসে যায় না । জীবনে আর কোনদিন কলম ধরবে না সে ...বিজয় দাদা বাবুর ফাই ফরমাশ খেটে আর দাদাবাবুর মাতাল বন্ধু গুলোর হাতে কেলানি খেয়ে তার দিব্যি কেটে যাবে । যা রে বিনি তুই সুখে ঘর করগে যা।

কথায় বলে যার কেউ নেই তার স্বয়ং ভগবান আছেন । কথাটা তার জীবনেই যে ঘটে যাবে এটা হরিপদ মোটেই ভাবে নি । বিনির বিয়ে ঠিক হয়েছিল মাঘের প্রথম দিকটায় ... অঘ্রানের শেষ নাগাদ খবর এলো পাত্র কলকাতা পালিয়েছে সেইখানে নাকি মেস বাড়ির পাশে একটি মেয়ের সাথেই তার বহুদিন ধরে ভাব ভালোবাসা ইত্যাদি । পাড়া গাঁ তে এইসব খবর চেপে রাখা যায় না । বরপক্ষ অবিশ্যি চেপে রাখার চেষ্টাও করে নি । মোক্ষদা মাসী নিজের কপালের দোষ দিয়ে ... কদিন খুব কেঁদে বেড়াল তারপরে আবার যে কে সেই । অভাব শুধু খিদে বোঝে ভাব ভালোবাসা দুঃখ সুখ বোঝে না । মজার কথাটা হলো এত কিছু ঘটে গেলো অথচ এইসবের কোন কিছুই হরিপদ জানতে পারল না হয়ত চাইলোও না । আরো মজার কথা হলো বিয়ে ভেঙে গেলো অথচ বিনির কোন তাপ উত্তাপ দেখা গেলো না ।

কদিন ধরে শীত টা বেশ জাঁকিয়ে পড়েছে । শরীরটাও বেশ জুত নেই হরিপদর । এই অব্দি কোন অসুবিধা ছিল না কিন্তু বরাবরের মত এইবারও ঝামেলা করল সেই বিনি।

- বলি হ্যাঁ গা ... তোমার খবর কি গা ? আমার সাথে কথা কওয়া বারণ বুঝি ??

ভেজানো দরজা ঠেলে বিনি ঢুকতেই হতচকিত হরিপদ ব্যাস্ত হয়ে ওঠে ...

- না না তা কেন রে বিনি ... কথা কইতে বারণ কেন হবে বল দিকি !!

- তাই তো দেখছি বাপু ... মোটেও রা কাটছ নি । বলি হ্যাঁ গা নতুন কি পালা লিখছ গা ...

হরিপদ একটু সময় নিয়ে কেটে কেটে বলে ...

- আমি আর কোনদিন কোন পালা লিখব নি বিনি । আর কোনদিন না ।

এইবারে বিনি থমকেছে তার চোখ দুটো রাগে বিস্ময়ে নাকি কষ্টে বড়ো বড়ো হয়ে গেছে ।

- বল দেখি আর একবার যেটা বললে সাহস থাকে তো ।

হরিপদ চুপ ।

- কি হলো বলো ?

হরিপদ তবুও চুপ ।

বিনি এইবারে এসে হরিপদর হাত টা ধরে নিজের মাথায় রাখে

- পিতিজ্ঞে কর আমার মাথার দিব্যি করে বল যে ...যাই হোক না কেন তুমি ঠিক লিখবে ।

- আমি পারব নি বিনি আমার দ্বারা আর এক কলম লেখাও হবে নি কো ।

- কেন ?

- তুই কাছে না থাকলে ... আমার দ্বারা লেখা হবেনিকো।

বিনি এইবারে শান্ত হয়ে যায় । কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে ... তারপরে হরিপদ কে খুব মায়া ভরে বলে ...

- আমার মা কে কালকে সকালে এই কথা গুলো বলতে পারবে ?? নাকি লজ্জার মাথা খেয়ে আমাকেই বলতে হবে ??

পর্ব ::১৯

- সুরজ বাবু আপনি আমাকে অনেক সাহায্য করলেন ...শুধু যদি বলেন খোকনের সাথে নিশার সম্পর্কে কি জটিলতা ছিল ?

- বহুৎ কিছু ছিল ম্যাডাম । হারামী কালি রায় শালা ওদের কোনদিন জানাল না কি ওরা ভাই বোন আছে ।

- হুমম ... এটা আমিও আইডিয়া করেছিলাম ।

- বয়েস হবার সাথে সাথে খোকনের প্রেমে পড়ল নিশা ...

- সর্বনাশ ... তারপরে

- খোকনের নজরে কোনদিন কোন লড়কি ছিল না ম্যাডাম ওর নজরে ছিল পোয়সা আর পোয়সা । ও সবকিছু জানত ফির ভি ... নিশাকে নিজের হাতিয়ার করল । পোয়সা ওয়ালা ছেলেদের ও টার্গেট করত ... আর নিশাকে তাদের সামনে ফাঁদ করে ... পেশ করত ।

- এর আগে কেউ শিকার ছিল খোকনের ?

- বহুত কেউ । বেচারা বোন টা আমার মেন্টাল পেশেন্ট হয়ে গেলো ওই হারামির পাল্লায় পড়ে ।

- আর বিজয় বাবু ?

- বিজয় কে পুরা চুষে নিবার মতলব ছিল খোকনের ... কিন্তু ও নিশাকে সাদি করে নিওয়াতে পুরা প্ল্যান ভেস্তে গেল ওর । এই জন্যে ও নিশাকে ব্ল্যাক মেল করতে শুরু করল । কালি রায় শালা হারামী এত কিছু জানল ফির ভি কিছু করল না ।

আমি একদিন নিজেই খোকন কে মানা করলাম তো আমাকে হারামী বলল কি কালি রায় কে ও সোলো পোয়জন করছে ... ওর কে জান পয়চান ডাক্তার আছে ওই ওকে হেল্প করছে, কালি রায় মরবে না লেকিন মরার মত বেঁচে থাকবে । আমি বললাম ... ঠিক আছে তোমার কালি রায়ের উপরে গুসসা তো ওর ক্ষতি করো , বিজয় আর নিশা কে ছোড়ে দাও ... তখুন হারামী নিশাকে নিয়ে গন্ধা বাত বলল আর আমাকে বলল আনপড় গাঁওয়ার ... আরো বলল কি ওর সাথ দিব তো আমার ক্রোড়ো কি মুনাফা হবে বিজয় আর কালি রায়ের সব দৌলত ও গাপ করে নিবে ।। ওই দিনই আমি ডিসাইড করলাম কি ?

- কি ডিসাইড করলেন সুরজ বাবু ...?

- ছোড়িয়ে ম্যাডাম জি ... আপনি কি আমায় গ্রিফতার করবেন তো করুন লেকিন হামাকে এই এলাকার বাইরে কি নিয়ে যেতে পারবেন ....কি ? দেখুন ।।

- আমি আপনাকে গ্রেফতার করতে চাইলে ফোর্স নিয়ে আসতাম সুরজ বাবু । আমি শুধু কয়েকটা তথ্য বা বলতে পারেন খটকা যাচাই করতে এসেছি ।

- আর বলুন কিভাবে আপনাকে হেল্প করব আমি ?

- খোকনকে কে খুন করল সুরজ বাবু ?

- খোকন কে কোন আদমি খুন করে নি ম্যাডাম ওর ডর থিকে হার্ট এ্যাটাক হলো ।

বিদ্যুৎ চমকের মত তন্নিষ্ঠার মনে পড়ল বিজয় তাকে একবার বলেছিল খোকন যে কোন সাপকে সাংঘাতিক ভয় পেত । আধা অন্ধকারে শেষ ঢিলটা ছোঁড়ে সে ।

- কিসের ভয় সুরজ বাবু সাপের ? সাপটা বোধ হয় আপনি নিয়ে গেছিলেন তাই তো ?

এইবারে সুরজ সিং এর অবাক হবার পালা ...?

- আপনি কি করে জানলেন ম্যাডাম ? আর এত যোখন জানেন তো ছোড়ে কেনো দিচ্ছেন আমাকে ??

- পুলিশ কে অনেক কিছু জানতে হয় সুরজ বাবু ...আমার প্রশ্নের উত্তর আমি পেয়ে গেছি ... চলি ।

সুরজ সিং এর ডেরা থেকে বেরিয়ে এলো তন্নিষ্ঠা ও সুব্রত।

- ম্যাডাম সুরজকে এরেস্ট করব না আমরা ?

- পৃথিবীর সব অপরাধীর সাজা হয় না সুব্রত বিশেষ করে যাদের উপরওয়ালা ইতিমধ্যেই শাস্তি দিয়ে দিয়েছেন ।তুমি একবার বিজয় কে ফোন কর তো ।

****************************************************

- বলুন ম্যাডাম ।

- বিজয় বাবু আপনি কোথায় ?

- নরেন্দ্রপুরে ম্যাডাম ।

খবরটা তন্নিষ্ঠার খুশি হবার মত মনে হলেও নিজের খুশি প্রকাশ করে না সে ।

- হঠাৎ নরেন্দ্রপুরে কি মন