• সুজাতা দে

কবিতা - যদিও এবাড়িতে করোনা ঢোকেনি তবুও..



এক শিশি নেলপালিশ কেনাটাও আজ বিলাসিতা;

বাড়তি খরচটাকে বাঁচাতে শিখে নিয়েছে কিশোরী টাপু।

করোনা যে কতো কিছু শিখিয়ে দিয়েছে

চোখে আঙুল দিয়ে...

ঠিক যেমন ভাবে সব ছেড়ে ছুড়ে

শিখে নিয়েছেন শ্যমল...

তাঁর শ্বশুর মশাইয়ের ক্যাটারিং বিজনেস..

সামলাচ্ছেন অনন্যোপায়; অপটু হাতেই।

আরে বুঝলে না উনি আমাদের টাপুর বাপ গো।

উনি আর ওনার স্ত্রী

ওই যে হায়ার সেকেন্ডারিতে

ব্যাচ পড়ানো বিজ্ঞান বিভাগের মাষ্টারমশাই ছিলেন গো!

আজ ক্যাটারার!

করোনাতে বাধানো এরকম কতো যে রোগে ধুঁকছে মানুষজন..

যত্তোসব কারসাজি সবটাই করোণার!

আবার দ্যাখো ট্রাভেলিং ট্যুর কোম্পানির মোটা মাইনের চাকরিটা খুইয়ে আমাদের নাপুর বাপ এখন বাড়ি কেনা বেচার দালিলি ধরেছে।

দাদাগিরি আর ফুটুনি সব শেষ হয়ে গেছে মাধববাবুর। জানো, সেদিন চুপিচুপি বকুলের মায়ের কাছে চাল ধার চাইতে এসেছিল মাধব গিন্নি।

বকুল হাসপাতালে নার্সিং করে বলে ওই মাধববাবুই দুদিন আগে মেয়েটাকে আমার বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। পাড়ায় নাকি করোনা ছড়িয়ে যাবে! মেয়েটা কতোদিন হলো বাড়িতেই আসতে পারেনি। মেয়ের সরকারি চাকরিটা ছিল তাই দুবেলা অন্ন জুটছে। আমার তো টেলারিং শপ সেই আটমাস ইস্তক বন্ধ রাখতে হয়েছে।

ওদিকে দেখো তিনবছরের বাচ্চা নাতিকে নিয়ে হয়রাণ পদার মা। বাচ্চা ফেলে বৌমাকে অরগ্যানিক খাবার কোম্পানিতে সেলসে ঢুকতে হয়েছে। এই করোনাকালেও অনলাইনে তেমন সাড়া না পেয়ে পরিচিতদের বাড়িতে নক করতে হচ্ছে। বুঝলে ভায়া, অরগ্যানিক স্নো পাউডার ছেড়ে মানুষ এখন ইমিউনিটি বাড়িয়ে সুস্থ থাকার জন্য এইসব খাবার জিনিষ কিনছে। সদ্য প্রাইভেট কোম্পানির চাকরিটা হারিয়ে কিই বা করবে আর বেচারা পদ্মনাভ! মেনে নিয়ে হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজে চলেছে।

আবার দেখো আমাদের বলাইকে।

লালে লাল এখন।

গুটখা আর পান পরাগের পাতা গলায় ঝুলিয়ে ট্রেনে ফেরি করা ছেড়ে; স্যানেটাইজার তৈরি করছে আজকাল।

রাস্তার মোড়ে বেঞ্চ পেতে বসে গেছে কেমন!

ওই বেচেই বড়োলোক।

সাথে বেচছে, বিধবা মা আর দিদির হাতে তৈরি জরির কারুকাজ করা-রংবেরং এর মাস্ক। কি চাহিদা তার!

একেই বলে কারো সব্বোনাশ, তো কারো পৌষ মাস।

করোনা নিজে না ঢুকেও কতো পরিবারকে কর্ম পরিবর্তন করতে বাধ্য করল! দেখেছো কান্ডখানা একবার!

আর করোনাতে যে গেল, সে তো গেলো-ই।

আর জ্বালাসনে করোনা ।

তুই এবার মানে মানে বিদেয় হ দেখি বাছা।

ছিনে জোঁক হয়ে আর থাকিস না এখানে।

পালা, পালা যাঃ যাঃ দূর হ, পালা।




নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮