• শুভাশিস ভট্টাচার্য

সম্পাদকের কলমে









”কোথাও ফোটে না ফুল, কোথাও শুনি না আর

হৃদয়ের ভাষা,

কেবল তাকিয়ে দেখি মার্চপাস্ট, কুচকাওয়াজ, লেফট রাইট

এই রক্তাক্ত মাটিতে আর ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস।”

(মহাদেব সাহা - ফুল কই, শুধু অস্ত্রের উল্লাস)



মানুষের আজ গভীর অসুখ, এবং তা যেন কিছুতেই সারতে চাইছে না। গত দুই বছরের বেশি সময় জুড়ে করোনা মহামারীর আক্রমণে এবং তজ্জনিত লক-ডাউনে ভারতবর্ষ সহ বহু দেশেরই আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামো মুখ থুবড়ে পড়েছিলো এবং লাখ লাখ মানুষ রুজি রোজগার হারিয়ে, না খেতে পেয়ে, মারা গিয়েছিল। সেই অসুখ সারিয়ে মানুষ যখন সবে আবার উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তখনই আবার দেশে বিদেশে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে আর একটা বহু পুরনো অসুখ যার নাম ক্ষমতার রাজনীতি।



ক্ষমতার লড়াইয়ে রাজনৈতিক দলের মুখোশ পরা গুণ্ডারা কখনো খুন করছে বিরোধী দলের লোকজনকে কখনো বা পুড়িয়ে মারছে নিজেরই দলের অন্য গোষ্ঠীর মানুষকে। ক্ষমতার লড়াইয়ে একটা দেশ আক্রমণ করছে আরেকটা দেশকে।

সম্প্রতি রামপুরহাটের ঘটনায় ফিরে এলো ক্ষমতার লড়াইয়ে গণহত্যার স্মৃতি। ফিরে এলো ৪৬ এর কলকাতা, ৭১ এর কাশীপুর-বরানগর, ৭৯ এর মরিচঝাঁপি, ২০০২ এর গুজরাট, ২০০৭ এর নন্দী-গ্রাম। যেমন রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণে ফিরে এলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াল স্মৃতি।



কথায় বলে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলু-খাগড়ার প্রাণ যায়। যুদ্ধ ঘোষণাকারী নেতারা সাধারণত মারা যায় না, মারা যায় সাধারণ মানুষ। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণে এবং তজ্জনিত গোলা-গুলি-হত্যা-লীলার কারণে এখনও পর্যন্ত বহু মানুষ মারা গেছেন এবং বহু মানুষ বাস্তু-চ্যুত হয়েছেন। এই যুদ্ধের ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটের সূত্রপাত হয়েছে। এই যুদ্ধে আমারা সরাসরি জড়িয়ে না পরলেও, এর প্রভাব পড়েছে পেট্রল, ডিজেলের দাম থেকে শুরু করে অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে। এই যুদ্ধ যদি অবিলম্বে বন্ধ না হয় তা হলে আরও বহু মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।



আমরা সব রকম ক্ষমতার রাজনীতির তীব্র নিন্দা করছি। এবং আশা করছি শীঘ্র শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং যুদ্ধ বন্ধ হয়ে শান্তি ফিরে আসবে।



বিগত কয়েক মাসে আমরা অনেক প্রিয়জনকে হারিয়েছি। আমরা সেইসব প্রিয়জনের আত্মার শান্তি কামনা করি। পণ্ডিত বিরজু মহারাজ, লতা মঙ্গেশকর, বাপ্পী লাহিড়ী, গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এর মত মানুষদের অভাব পূর্ণ হবার নয় এবং এঁরা চিরদিন আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।



নানা অনিবার্য কারণে আমরা নীড়-বাসনার শীত সংখ্যা প্রকাশ করতে পারি নি। তার জন্য আমরা ক্ষমা-প্রার্থী এবং সেই সব সমস্যা সামলে আমরা বৈশাখ সংখ্যা নিয়ে আপনাদের সামনে আসতে পেরে আনন্দিত।



প্রতিবারের মতই আমাদের এবারের সংখ্যাও সেজে উঠেছে গল্পে এবং কবিতায়। সাথে আছে অণু-গল্প, অণু-কবিতা এবং অনুবাদ সাহিত্য নিয়ে আমাদের বিশেষ আকর্ষণ 'অনুস্বর্গ' বিভাগ। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।



নীড়বাসনার সঙ্গে থাকার জন্য আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।



আপনাদের বাংলা নতুন বছরের শুভ কামনা জানাই। নতুন বছর সকলের ভালো কাটুক। সমস্ত গ্লানি, হিংসা, দ্বেষ, হানাহানি ভুলে, নতুন বছর নিয়ে আসুক সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি।






নীড়বাসনা  বৈশাখ ১৪২৯