• অপরাজিতা

নীড় বাসনা [নাটিকা গুচ্ছ]


১।

নীড়ের স্বপ্ন

চরিত্র – রুলি, রকি

-প্রথম দৃশ্য-

রু-[ব্যস্ত হয়ে ঢুকলো] উঃ, কি গরম রে বাবা। এই সময় কেউ এই জায়গায় দেখা করার কথা বলে?

রকিটার কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই। [ঘড়ির দিকে তাকিয়ে] উঃ, দশ মিনিট হয়ে গেল – এখনো এসে পৌঁছল না। ধুর, phone করি। দুররর- phone ও receive করে না। দেখা হলে হাজারটা বাহানা শোনাবে। [বিরক্ত হয়ে পায়চারি, আবার phone করার চেষ্টা] Hello, Rocky? When are you turning up? আমি কতক্ষণ থেকে দাঁড়িয়ে আছি। তোর এতটুকু সময় জ্ঞান নেই। অ্যাঁ- সেই আধঘণ্টা থেকে শুনছি আর দশ মিনিট- এবার আমি আর wait করতে পারব না- দশ মিনিট দেখে আমি ভো কাট্টা (বিরক্তি সহকারে phone disconnect)।

[হাঁপাতে হাঁপাতে রকির প্রবেশ]

র-এই দেখ Ruling queen- আমি এসে গেছি। Sorry, extremely sorry for keeping you waiting.

রু- আর ন্যাকামি করিস না, and please বাহানা বানাস না।

র- এই নে, তোর favourite pulse candy মুখে পোর- chill yaar. একটা ভাল news আছে তোর জন্য।

রু- তোর ভাল news আমার জানা আছে।সেই ছোটবেলা থেকে তোকে দেখছি তো- তোর ওই চ্যাংড়ামি মার্কা good news আর শুনতে চাই না।

র- আহা, শোনই না।

রু- বল- বলেই ফেল। উঁহু- let me guess- তোর পাড়ার football team tournament জিতেছে? নাকি তুই বাজি ফেলে গঙ্গা দুবার এপার ওপার করেছিস?

র- হল না-

রু- I give up. ঝেড়ে কাশ তো এবার।

র- But আমার good news-এর বদলে তুই আমায় কি দিবি?

রু- হু, হু...আমার তরফেও আছে good news।

র- উরিব্বাস- বলিস নি তো? অবশ্য তোর তো every news-ই good news। লেখাপড়া and co-curricular activities–এ তুখড় তুই; teacher and সব বাবা মায়েদের ideal girl তুই---

রু- উঃ, থাম তো। জলদি তোর খবর বল তো, আমার আবার বাড়িতে কয়েকজন আসবে, মা তাড়াতাড়ি ফিরতে বলেছে।

র- না:, তোর বড়সড় খবরটা আগে শুনি।

রু-আরে- তোকে বলেছিলাম না, আমি Princeton-এ apply করেছিলাম? তো they have accepted me for their research program starting this fall.

র- ও, তার মানে তুই চলে যাচ্ছিস?

রু- হ্যাঁ রে, I’m so excited ; সময় বেশি নেই, কতো preparation বাকি।

র- কিন্তু রুলি, তুই যে বলেছিলি দেশের উন্নতির কাজে নিজেকে dedicate করবি? Coffee house-এ বসে কতো blue print বানালি, কোন গ্রাম থেকে শুরু করবি-

রু- আরে, সেই স্বপ্নগুলো সত্যি করার জন্যই এই step- first step is to educate and refine yourself- তাই না?

র- হু, তুই intelligent, smart আজকের নারী। You know what works best for you. By the way- congrats!

রু- Thanks রে। এবারে তোর খবর বল, তাড়াতাড়ি। আমাকে আবার উঠতে হবে।

র- দাঁড়া, আগে তোর এই ফাটাফাটি খবরটা হজম করি। একদিন জবরদস্ত পার্টি করতে হবে তো।

রু- চেষ্টা করব রে- এত pending কাজ। Wish me luck!

র- (Thumbs up)

রু- আজ উঠি রে। যাওয়ার আগে আর দেখা হবে কিনা জানিনা, তবে phone করব। Keep in touch. আর E-mail, Skype তো আছেই।

র- Sure! ভাল থাকিস। Bon Voyage!

(রুলির প্রস্থান)

র-আমি যে তোকে বলতে এসেছিলাম যে আমি Bangalore-এ চাকরি পেয়েছি; কিন্তু তুই যদি একবার বলিস, আমি ওই চাকরি নেবো না, তোর rural development project-এর গ্রামে যাব তোর সাথে- তোর পাশে চিরকাল থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

(গান- গেল গো, ফিরিল না, চাহিল না----)

(রকির প্রস্থান)

-দ্বিতীয় দৃশ্য-

কয়েক বছর পরে

রু- (কাশতে কাশতে) উঃ, আর ভাল লাগে না। একা একা এই ঠাণ্ডার দেশে শরীর খারাপ নিয়ে থাকা যে কি কষ্টকর (আবার কাশি)... এক কাপ কফি পেলে ভাল হত। না:, উঠে নিজেই একটু কফি বানিয়ে খাই।

(কফির কাপ নিয়ে ল্যাপটপ খুলে বসে)

রু- উঃফ, inbox ভরে গেছে দেখছি; mail check করতে করতেই tired হয়ে যাব।এটা আবার কার email i/d? খুলব? দেখি খুলে-

Dear Ruling Queen!.... my God! এতো রকি- এত বছর পরে! কি লিখছে দেখি-

“তোর স্বপ্নের project আমি গড়ে তুলছি রে- তোর blue print-এর plan অনুযায়ী। জানিস, প্রথম গ্রাম শ্যামনগরের রূপ বদলে গেছে। তোকে দেখাতে পারলে খুব ভাল লাগত। আরকটা কথা আমার বার বার মনে হয়- ‘কাছে যবে ছিল পাশে হল না যাওয়া/ চলে যবে গেল তারি লাগিল হাওয়া’- তোকে খুব miss করছি রে, বলব বলব করে বলতে পারিনি- please ফিরে আয়।”

(রুলি স্তব্ধ)

(গান- পরবাসী, চলে এস ঘরে)

২।

ভঙ্গুর নীড়

চরিত্র- সোহম, সোনালি

-প্রথম দৃশ্য-

সোনালি বাইরে থেকে আসে, ব্যাগ রেখে বসে পড়ে।

সোনালি- ইশশশ, কতো দেরি হয়ে গেল। আবার তাড়াহুড়ো করে বেরতে হবে।

(সোহমের প্রবেশ)

সোহম-উফ, কি tiring day. আবার 15 minutes এর মধ্যে call-এ ঢুকতে হবে।

সোনালি- Don’t worry সোহম, তুমি চট করে fresh হয়ে নাও। I’ll make tea.

সোহম- Thanks! আজ তোমার call নেই তো?

সোনালি- না:, তা নেই। তবে একটা dinner party আছে- বেরতে হবে।

সোহম- ঠিক আছে, চাবি নিয়ে বেরিয়ো- মাঝরাতে নিজেই দরজা খুলে ঢুকে পড়ো। আর হ্যাঁ, dinner বানানোর দরকার নেই, I’ll order something online।

সোনালি- Ok.

সোনালি- উঃ, আর পারি না। কতো ছোটাছুটি করছি, খাটছি; promotion-টা কিছুতেই হচ্ছে না। যাই- তৈরি হয়ে বেরই।

(প্রস্থান)

(সোহমের প্রবেশ- chair-এ laptop নিয়ে কাজ করতে থাকে, অবশেষে ঘুমিয়ে পড়ে)

(সোনালির প্রবেশ)

সোনালি- এ বাবা- এখানেই ঘুমিয়ে পড়েছে। সোম--- এই সোম, উঠে পড়ো!

সোহম- (চমকে) ওহো, তুমি এসে গেছ? কটা বাজে?

সোনালি- প্রায় দুটো বাজে।

সোহম-আমি তাহলে আর ঘুমাবো না, আড়াইটেতে একটা call আছে।

সোনালি- Let’s have a cup of coffee then.

সোহম- But you must be damn tired.

সোনালি- Yes, but I’m very happy! আমার এত দিনের hard work ultimately ফল দিল। আজ পার্টিতে M.D. দারুণ প্রশংসা করে আমার promotion ঘোষণা করলেন।

সোহম- Oh, congrats. Mrs Sonali Chatterjee-র buttering তাহলে কাজে দিল?

সোনালি- How dare you say such a thing. আমি কতো sincerely কাজ করছি।

সোহম- সে ত দেখতেই পাচ্ছি। বিয়ের পর থেকে তোমার job and তোমার career–ই সবসময় priority পেয়েছে। তাই even after 10 years of marriage; its still not the right time for us to be parents.

সোনালি- আবার সেই এক কথা। Why does every argument end in blaming me for not being ready to be a mother?

সোহম- Not blaming dear. ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলাম আমরা, এক সাথে সংসার করার স্বপ্ন নিয়ে। তা সংসারে খালি career-টাই রইল।

সোনালি- Please stop. সর্বক্ষণ ওই পুরানো sentiment-এ সুড়সুড়ি দেওয়া আর ভাল লাগে না।

সোহম- পুরানো sentiment? বাঃ, আমাদের ভালবাসাটাও বড় পুরনো হয়ে গেছে- তাই না?

সোনালি- উঃ, ভাল খবর দিতে এলাম, কোথায় encourage করবে, appreciate করবে- তা নয়, ভোর রাতে ঝগড়া শুরু করলে। যাক, ভাল করলে তোমার view–টা express করে; আমার dilemma ঘুচিয়ে দিলে। আমার আসলে promotional transfer হয়েছে। হ্যাঁ, আপাততঃ Hyderabad-এ যেতে হবে।

সোহম- (নিঃস্পৃহ ভাবে) Ok– খুব ভাল।

সোনালি- হাতে বেশি সময় নেই, এর মধ্যেই সব ব্যবস্থা করে নিতে হবে।

সোহম নির্বিকার।

সোনালি- I’m very tired. যাই, শুতে যাই।

সোহম- হ্যাঁ, আমিও call-এ ঢুকি। Good Night!

সোনালি- Good Night!

(প্রস্থান)

-দ্বিতীয় দৃশ্য-

(কয়েকদিন পরে)

(সোহমের প্রবেশ- দুটো চায়ের কাপ হাতে, একটা কাপ টেবিলে রাখে)

(সোনালির প্রবেশ)

সোহম- Good morning! স্নান হয়ে গেছে? তোমার চা তৈরি।

সোনালি- Morning! Thank you! চা টা তুমি ভালই বানাও- will miss it.

সোহম- তোমার luggage গাড়িতে তুলে নিয়েছি- দুটো suitcase, একটা handbag আর laptop bag- এই তো?

সোনালি- হ্যাঁ, তুমি অবশ্য drop করতে না গেলেও হতো। আজ তোমারও hectic schedule...

সোহম- ও ঠিক আছে, I’ll manage।

সোনালি- নিজের খেয়াল রেখ কিন্তু। সকালে BP-র ওষুধ খেতে তুমি হামেশাই ভুলে যাও।

সোহম- হুঁ, আর তুমিও অনাবশ্যক stress avoid কর- নয়তো migraine attacks flare up করবে।

সোনালি- Ok চল, বেরনো যাক। নাহলে তুমি আবার speeding করবে- হাতে সময় নিয়ে বেরনো ভালো।

সোনালি দরজার কাছে গিয়ে জুতো পরতে থাকে।

সোহম- (ঢোঁক গিলে) সোনা-

সোনালি চমকে তাকায়।

সোহম- না গেলেই কি নয়?

দুজনেই নির্বাক।

(গান- তুমি তো সেই যাবেই চলে/ কিছুই তো না রবে বাকি)

৩।

বেলাশেষের নীড়

চরিত্র- ষাটোর্ধ কর্তা এবং গিন্নী

-প্রথম দৃশ্য-

ক- (প্রচণ্ড কাশতে কাশতে) বলি ও গিন্নী, গেলে কোথায়? একটু জল দাও তো দেখি।

গি- (গজগজ করতে করতে ঢুকে) আরে, ওই তো পাশেই গ্লাসে জল রেখেছি- নিয়ে খেলেই তো পারো।

ক- তা তোমারই বাঃ কোন রাজ কার্য আছে শুনি যে অসুস্থ স্বামীর পাশে থাকতে পারছ না?

গি- কি জ্বালাতন রে বাবা- ঘরের কাজ কর্ম নেই?

ক- দু-দুটো কাজের লোক তো আছে, তার উপরে তোমার আরো কাজ করার দরকার কি শুনি?

গি- দরকার আছে। তুমি আর সংসারের দিকে তাকালে কবে যে জানবে?

ক- তা ঠিক। আমি তো বাইরের কাজ করেই খ্যান্ত দিতাম, তুমি ই তো সংসারের হাল ধরলে চিরকাল।

গি- থাক, আর সুখ্যাতি করতে হবে না।

ক- ওই দেখ, সত্যি কথা বলছি গো, তুমি ছাড়া আমার জীবনটা কেমন হতো ভাবতেই পারি না।

গি- ওঃ, তা সকাল সকাল এত প্রেম উথলে উঠছে কেন? কিছু বিশেষ করতে হবে বুঝি?

ক- না গো না। আমাদের কালকের দিনটার কথা মনে আছে তো?

গি- আমার তো সবসময় মনে থাকে, তুমি ই তো ভুলে যেতে।

ক- না গো সখী, ভুলে যেতাম না, নানান কাজের চাপে মনের কোণে ঢাকা পড়ে থাকতো আমাদের বিশেষ দিনটার স্মৃতি।

গি- হুঁ- বুঝলাম। তা এবারে কি করতে হবে?

ক- কিচ্ছু না। তুমি খালি সেই চল্লিশ বছর আগের মতন বউ সেজে আমার পাশে এসে বসবে।

গি- তাই করি আর কি। বুড়ো বয়েসে যত ভীমরতি।

ক-মানছি, অল্প বয়েসে তোমাকে রানির হালে রাখতে পারিনি, কিন্তু কোনোদিন অযত্ন ও তো করিনি।

গি- আচ্ছা, তোমার আজ কি হল বল দেখি? পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটতে বসলে?

ক-তোমাকে কিছু বিশেষ উপহার দিতে চাই।

গি-আর উপহার নিয়ে করবটা কি? এই বয়েসে সুস্থ থাকলেই মঙ্গল।

(ফোন বাজে)

ক- তোমাকে উপহার দেবই।

গি- আরে- ফোনটা বাজছে- দেখি, কে করছে।

(গিন্নীর প্রস্থান)

ক- কে আবার ফোন করবে এই বুড়ো বুড়ি কে? মাস গেলে একবার NRI ছেলে বউমা র ফোন।

(গিন্নীর প্রবেশ)

গি- ওগো, বাবুন ফোন করেছিল।

ক- সেকি গো? এই অসময়ে? সব ঠিক আছে তো?

গি- আরে, সুখবর আছে। ঠাকুরের অসীম কৃপা, অবশেষে নাতিনাতনির মুখ দেখতে পাবো।

ক- অ্যাঁ, বল কি গো? এত দারুণ আনন্দের খবর। আরে, ঝনটুকে ডাকো- একটু মিষ্টি আনাই।

গি- মিষ্টি খাবেটা কে শুনি? তোমার আমার দুজনের ই সুগার, আর ওই sugarfree মিষ্টি খেয়ে খেয়ে বিরক্তি ধরে গেছে। ওসব করো না।

ক-বলছ? ঠিক আছে। আজকে তাহলে একটু ভালো মন্দ খাওয়ার ব্যবস্থা করি- কি বল?

গি- (ইতঃস্ততঃ করে) আরেকটা কথা ছিল।

ক- বল না-

গি- মিতালির শরীর টা ভালো যাচ্ছে না। ওই বিদেশে দেখাশোনা করার কেউ নেই। তাই বাবুন বলছিল-

ক-মিতাকে এখানে পাঠিয়ে দিতে বল। এখানে কাছেই Nursing Home, চেনা ডাক্তার, বাড়িতেও দুটো তিনটে কাজের লোক- আরামে থাকবে ও।

গি-আহা- ওর চাকরি আছে না? আর ওখানের ডাক্তারের উপর অদের অশেষ ভরসা।

ক- তাহলে?

গি- বাবুন আমাদের নিয়ে যেতে চাইছে ওদের কাছে।

ক- এই সময় আবার আমাদের নিয়ে টানাটানি কেন? আমার শরীরটাও তো জুত নেই- না, না, বিদেশ বিভূঁই এ গিয়ে ওদের শেষে বিপত্তিতে ফেলব।

গি- তোমার তো আবার পারার সান্যাল ডাক্তার ছাড়া চলে না।

ক- তা চলেই না তো। ওনার ওষুধেই তো চলে ফিরে বেড়াচ্ছি।

গি-তাহলে কি করি বলতো? কটা দিনের জন্য আমি ই ঘুরে আসি?

ক- আচ্ছা তুমি কি বলতো? নিজের দিকটা কি কোনোদিন ই দেখবে না?

গি-মানে?

ক- তোমার শরীর কি দম দেওয়া ইঞ্জিন? তাছাড়া তুমি চলে গেলে আমার খেয়াল কে রাখবে শুনি? আমার হঠাত শরীর খারাপ হলে কে দেখবে?

গি- আহা, ঝনটু তো আছে। ঠাকুর না করুন, কিন্তু দরকার হলে ফোন করে দেবে।

ক- আচ্ছা, তুমি পারবে এই বুড়োটাকে ছেড়ে একা অত দুরে যেতে?

গি- ইশশশশ--- কয়েকটা মাসের তো ব্যাপার।

ক-সে কি গো? বিয়ের পরে তুমি তো এক রাতও বাপের বাড়িতে গিয়ে থাকনি।

গি- সে তো সংসারের চাপে নাজেহাল হয়ে-

ক- আজকে নাহয় একটা অন্য অজুহাত দাও। বল না- তোমাকে ছেড়ে একটা দিনও আমার থাকতে ভালো লাগে না।

গি-বাব্বাঃ- রস যে একেবারে উথলে উঠছে।

ক- হ্যাঁ গো সুধাময়ী, “আমার প্রাণের মাঝে সুধা আছে, চাও কি?/ হায় বুঝি তার খবর পেলে না।”

গি- (লজ্জায়) আজ কি শুরু করলে বলতো?

ক- সেই কোন যৌবনকালে তোমাকে বউ করে নিয়ে এসেছিলাম। সুখে দুঃখে এতগুলো দিন একসাথে কাটালাম। হয়ত কখনো তেমন করে বলা হয়নি- কিন্তু ভালবাসা এতোটুকু কমে নি।

গি- কিন্তু, বাবুন মিতালির এই কষ্টের সময়ে-

ক- আমি তো কথা বলতেই চাইছি। মিতা এখানে আসুক, আদরে যত্নে ওরই মাঝে বেড়ে উঠুক আমাদের নতুন প্রজন্ম। কিন্তু নতুনের টানে এই চল্লিশ বছরের পুরানো সাথীকে বিরহ যন্ত্রণা দিও না।

গি- আমাকে কি দোটানায় ফেললে বলতো?

ক- এবার তোমার উপরেই ছেড়ে দিলাম সুধাময়ী। আমি তো হাত বাড়িয়েই রেখেছি- এই শীর্ণ, রগ ওঠা জরাগ্রস্ত হাতটা তুমি আরেকবার ধরবে কি?

দুজনেই স্তব্ধ।

(গান- ভালবাসি ভালবাসি।)

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮