• সুস্মিতা

এক গুচ্ছ কবিতা


বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে

আর এযুগে বাঙ্গালীরা প্রবাসে সুন্দর, ভারতীয়রা বিদেশে।

তবু কোন এক নিঝুম বিষণ্ণ দুপুরে প্রবাসী একলা মন কবিতা লেখে।

উদ্বাস্তু

যদি ফিরে আসি

গাছ হয়ে জন্মাবো

যেখানে জন্ম সেখানেই মৃত্যু

ঠাই নাড়া নেই

স্মৃতি থেকে মুক্তি ফেলে আসা জায়গায়

পিছনে ফিরে দেখা নেই

লক্ষ্য শুধু আকাশ ছোঁয়ার।

বৈপরীত্যের খেলা

আজ শুধু একা নিজের সাথে থাকতে ইচ্ছে করছে

আজ বড় একা লাগছে

আজ সব সম্পর্কের দায় বদ্ধতা থেকে মুক্তি চাই

আজ আমাকে ভালবাসার বন্ধনে বেঁধে রাখছে না কেন কেউ?

আজ মানুষের ভিড়ে দমবন্ধ হয়ে আসছে

আজ নির্জনতা আমার গলার ফাঁস হয়ে উঠছে

আজ সারাদিন কথা বলতে বলতে আমি ক্লান্ত

আজ সারাদিন একজনও আমার খোঁজ নেয়নি

আজ রৌদ্রজ্জ্বল দিন চাই

আজ বৃষ্টি

আজ পাহাড় আমাকে টানছে

আজ সমুদ্রের ডাক শুনতে পাচ্ছি

আমার আর কাউকে কিছু দেওয়ার নেই, নেই কিছু পাওয়ার আশাও

আজ আমার অনেক কিছু দেওয়ার আছে, ইচ্ছে করে অনেক কিছু পেতেও

তালিকা অনেক দীর্ঘ

কবিতার জন্মলগ্ল

কবিতা কারুর হুকুম মানেনা

অনেক ডাকাডাকি সাধাসাধি করলেও

তাকে কাছে পাওয়া যায় না

নিজের খেয়াল খুশীতে সে আসে

যেমন পূর্ণিমার মোমজ্যোৎস্নায় আসে নদীতে জোয়ার

তেমনই মস্তিস্কের মধ্যে আসে শব্দ আর শব্দের প্লাবন

স্মৃতি আর শব্দরা তখন কোলাকুলি করে

ভালোবাসা-বেদনা, সাফল্য- ব্যর্থতা সব

মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় –

বুকের রক্ত আর কলমের কালি

রঙ বদলা-বদলি করে –

অধরা ধরা দিতে চায়

কলম কার হাতে? জানার প্রয়োজন নেই

খাতার পাতায় পুস্পবৃষ্টির মত

ঝড়ে পড়ে শব্দের মালা

সেই অলীক অপার্থিব মুহূর্তটিই

কবিতার জন্মলগ্ন ।।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮