• অরুপ রায় চৌধুরী

নাটক - দাশু

মুখ্য চরিত্র

দাশরথি (দাশু)

সুবিনয় বোস

প্রশান্ত দাশগুপ্ত

পিওন রামলাল

বিষ্ণু ও আরও চারজন পিওন, আর্দালি

বিমল বাবু অফিস administrator

বিমানবাবু accountant

রিসেপসনিস্ট D’mello

রুপালী দত্ত quality control staff

এছাড়া আরও দুচার জন অফিস স্টাফ থাকতে পারে

সময়কাল – সেপ্টেম্বর – ১৯৪৯

স্থান – কলকাতা, জে থমাস টি কোং

স্টেজ – এমডি কেবিন, রিসেপশান, ৩ টি অফিস টেবিল ও চেয়ার, দেওয়াল বা ব্যাক ড্রপ মানানসই, রিসেপশান এর সামনে ভিজিটর কোচ।

প্রথম দৃশ্য

রামলাল – আর বোলবাইন না, শাম্ভু টা হইছচে মস্ত বোকা... যে কে ও উকে বোকা বানিয়ে দেয়। হামকো বানানো মুমকিন নেহি। সাহেব এই জন্য আমাকে সাবাশি দ্যায়।

বিষ্ণু – আহারে আমার সাহেবের ইয়ার, শিবের নন্দী ... (ফিস ফিস করে) সাহেব আসছে চুপ।

দাশু ছাড়া সব্বাই যে যার জায়গায় উঠে দাঁড়াল।

দাশু - ওনি ই কী?

সুবিনয় বোস নিজের চেম্বারে পৌঁছলে, রামলাল ছেলেটাকে নিয়ে উপস্থিত হল।

রামলাল – “সাহেব – কল্যানবাবু পাঠাইয়াছে”।

ইশারা করলো ছেলেটাকে – এগিয়ে যেত।

সুবিনয় – বসুন, নাম কী?

দাশু – দাশরথি রায়, আমাকে দাশুই ডাকবেন।

সুবিনয় – তা বেশ! তোমাকে কল্যানবাবু সুপারিশ করেছিলেন [একটু থেমে] চাকরির জন্য।

দাশু – কল্যানবাবু? [খুব ক্ষীণ গলায় স্বগক্তি – “পাড়ায় তো উনাকে, আমার সুপারিশের প্রয়োজন হয়।]

সুবিনয় [গলা খাঁকারি দিয়ে] – আপনি কল্যানবাবুকে চেনেন তো?

দাশু – আলবাত চিনি! ঊনি তো আমাদের পারাতেই থাকেন...গায়ত্রী প্রেসর মালিক।

সুবিনয় – ওঃ । তো আপনার সম্বন্ধে কিছু বলুন!

দাশু – আমি , মেট্রিক পাশ করে দু বছর বাড়িতেই বসে। ছোট খাটো কাজ – যা পাই তাই করি। তাতেই ঘর চলে।

সুবিনয় – ওসব নয়! আপনি কি কি কাজ করতে পারেন, মানে কাজের পারদর্শিতা জানতে চাইছি।

দাশু – এই – কিছু টাইপ শাইপ।[একটু ভেবে] ইলেকট্রিকের কাজ। দিননা কিছু একটা কাজ। প্রমান করে দেব।

সুবিনয় – টাইপ জানলে – কিছু একটা করতে পারি। ঠিক আছে, তুমি একটু রিসেপশান-এ গিয়ে অপেক্ষা কর।

সুবিনয় সাহেব, বিমলবাবু কে ডেকে পাঠালেন। বিমল বাবু অফিস administrator, রুমে ধুঁকতেই সাহেব বললেন

সুবিনয় – কল্যানবাবু যে ছেলেটার কথা বলেছিল, সে এসেছে। এখন reception – এ অপেক্ষা করছে। আমি কথা বলেছি – ভালই মনে হল। তবে – আপনাকে একটু শিখিয়ে পরিয়ে নিতে হবে”।

বিমল বাবু - আচ্ছা আমি দেখে নিচ্ছি ।

বলে reception এর দিকে পা বাড়ালেন।

দ্বিতীয় দৃশ্য

বিমানদার প্রবেশ। চেয়ারে বসে রোজকার অভ্যাস মতো – টেবিলের কাঁচের নীচে রাখা তারাপীঠের মা তাঁরা পায়ে মস্তক ঠাকিয়ে – দিনের সুচনা করলেন। চোখ খুলে গদো গদো হয়ে – প্রনাম করার সময় যেটা দেখলেন , তাতে তিনি নিজেকে সামলাতে পারলেন না। বিকট চীৎকারে অফিস মাথায় উঠালেন।

বিমান – কে হাতছাড়া আমার তাঁরা মার ছবিটা, সরিয়ে এই নোংরা ছবিটা লাগিয়েছে। এই হতভাগা বিষ্ণু, রামলাল – এদিকে আয় শিগগির। কচু কাটা করে ছাড়ব। কার এতো সাহস আমি দেখতে চাই।

বিমল – আরে আরে বিমানদা এতো উত্তেজিত হচ্ছেন কেন ? কি আবার হোল সক্কাল সক্কাল ?

বিমান – কি হয়েছে ? দেখুন আপনার আসকারা পেয়ে অফিসটা লাটে উঠতে বসেছে ... আজকে আমার তাঁরা মা কে নোংরা মহিলার ছবি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। কালকে জে থমাস এর নাম কালো আলকাতরা দিয়া...।

ইতিমধ্যে বিমাল বাবু টেবিলটা পর্যবেক্ষণ করে বিমানদার চেঁচামেচির কারন বুঝতে পারলেন।

বিমল – ছিঃ ছিঃ । কি অশ্লীল, কে করেছে? আপনার কি কাউকে সন্দেহ হয়? দাঁড়ান আমি সাহেব কে ডাকছি।

সুবিনয় সাহেব – চিৎকার শুনে থাকেতে না পেরে , ইতিমধ্যে চেম্বার ছেড়ে বাড়িয়ে এলেন। হতভাগা বিষ্ণু , রামলাল ও অফিস শুদ্ধ সবাই জমা হলেও , কেউ আগ বারিয়ে হাজিরা দেয়নি।

সুবিনয় - কী হয়েছে বিমানবাবু?

বিমানবাবু সাহেবকে দেখামাত্র – প্রায় বলপূর্বক টেনে ওনার টেবিলের সামনে নিয়ে গেলেন।

বিমান - দেখুন , নিজের চোখে দেখুন! আমার তারা মার ছবিটা কে পালটিয়ে দিয়েছে?

তারপর চারপাশটা তাকিয়ে

ওরে শ্যালা ! যে এ কাজটা করেছো – ভাল করনি। তারা মা ছেড়ে দেবে না। এই বাবলু , রামলাল – বল কে কোরেছে? তোরা সব জানিস।

বাবলু , রামলালদের যা চোখ-মুখ হয়েছিল , তা একটা দ্যাখার মতো দৃশ্য। রামলাল – মিউ মিউ করে কিছু বলার চেষ্টা করছিল।

বিমানবাবু – “চোপ রও – তুম শ্যালা, সব জান্তা হ্যায়। কুছ বোলেগা নেহি। তুম হ্যাম কো জানতা নেহি”। আচ্ছা তোদেরে একটুও ভয় হলনা মা তাঁরা উপর এই ছবিটা লাগাতে।

ভয়ঙ্কর রাগে বিমান বাবু থর থর করে কাপছেন। সুবিনয় হতভম্ব হয়ে বিমানবাবুর সামনে দাঁড়িয়ে। কোথায়ও পালিয়ে যাবার জো নেই, ডান হাতের কনুইটা – বিমানবাবু চেপে ধরে রেখেছে। বিমানবাবু – এক একটা গালাগালি করছেন – আর থুতু মিশানো পান সুপুরির বর্ষণ সুবিনয়কে সহ্য কোরতে হচ্ছে। শেষমেষ

বিমানবাবু – “সাহেব এর একটা বিহিত আপনাকে করেতেই হবে”।

যার জন্য বিমানবাবু অ্যাতোটা তেলেবেগুনে হয়েছিলেন, সেটা হোল – ওনার তারা মার ছবিটার ওপর কে যেন একটা স্বল্প বস্ত্রা বিদেশী নারীর cut-out, লাগিয়ে রেখে ছিল। তেনার পায়ে বিমানবাবু – স্বভাবসিদ্ধ রেওয়াজে ভক্তিপূর্ণ মাথা ঠুকেছেন। এবার উনি ছবিটা টেবিলের কাঁচের নীচ থেকে বার করে সব্বাইকে ঘুরিয়ে দেখালেন । {স্টেজের সামনে গিয়ে দর্শকদের ও দেখাতে পারেন। } ছবিটা (Joi Lansing) এতোটা নোংরা না হোলেও , কাজটা একেবারে খারাপ হয়েছে। অফিসের সব্বাই মুখচেপে উপভোগ করছিল, মহিলার ছবি দেখে অনেকে ফিচ ফিচ করে হেসেও ফেললো।

কি দিনকাল পড়েছে বলুন ? আমি সক্কাল সক্কাল মাকে প্রনাম ঠুকে দিন শুরু করে মাথা উঠিয়ে দেখি এই ম্লেচ্ছ মহিলা। বলুন তার পর কারোর মাথা ঠিক থাকে। ব্রিটিশ রাজ থাকলে এখুনি শালাগুলোর ফাঁসির সাঁজা হয়ে যেত।

সুবিনয় – বিমান বাবু আমি কি বলে আপনাকে সান্তনা দেব তার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা । জানিনা কেও দোষ স্বীকার করার সাহস দেখাবে কিনা । তবে আপনাকে বলি , এর পর যাতে এরকম না হয় তার ব্যবস্থা আমি করবো।

বিমল বাবুর দিকে ঘুরে…

বিমল বাবু একবার আমার চেম্বারে একটু আসবেন তো।

বিমল – আজ্ঞে স্যার , এখুনি ?

সুবিনয় – হ্যাঁ , attendance রেজিস্টার টা নিয়ে আসবেন । আর সব্বাইকে কাজে যেতে বলুন। দাশু কে দেখছিনা… এখনো আসেনি?

বিমানবাবুর কাঁধে হাত রেখে… আমি খুবই দুঃখিত বিমানবাবু।

তৃতীয় দৃশ্য

তখন পূর্বপাকিস্তান থেকে কাতারে কাতারে শরণার্থী , কলকাতায় আসতে শুরু করেছে । শরণার্থী শিবির ছাপিয়ে , লোকেরা কোথাও এসে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে বেড়িয়ে পড়েছে। রেল স্টেশন, পার্ক , ফুটপাত , পরিত্যক্ত বাড়ির দালান, কোথাও খালি নেই।

দাশু টাইপ পেপার ফুরিয়ে যাবার আগেই , বিমলদার থেকে টাকা নিয়ে দু রীম কাগজ আনতে গিয়ে ছিল। অফিসে দাশুর প্রবেশ , হাতে – দু রীম কাগজ।

দাশু – (D’mello এর উদ্দেশ্যে ) দিদি আজ রাস্তা ঘাট , ফুটপাথ পাকিস্তানের লোকে লোকারণ্য। এতো লোক পিল পিল কোরে কোলকাতায় ঢুকছে। জানিনা কি হবে?

D’mello – (আঙ্গুল তুলে ঈশারা কোরে) এই তো আমাদের আফিসেও এক পরিবার এসেছে সাহায্যের জন্য।

দাশুকে দেখা মাত্র, লোক টি হাউ হাউ কোরে কেঁদে ফেললো। দাশু পা দুটো জড়িয়ে ...।

শরণার্থী ভদ্রলোক – বাবুগো, আপনার দয়ার শরীর। আমরা ভিখারি নই। কিন্তু আইজ আমাগো ভিখারির থেইক্যাও খারাপ অবস্থা।

দাশু – আরে কি করছেন!! পা ছাড়ুন।আপনি আমার গুরুজন, দয়া করে পা ছাড়ুন। ছিঃছিঃ কি অন্যায় ।

ভদ্রলোক পা ছেড়ে দিলেও, প্যান্টের কাপড় টা ছাড়ে নি। ভদ্রমহিলা, একটা ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে সোফার ধার ঘেঁষে মাটিতে বসেছিলেন। দাশু উনার দিকে একবার তাকিয়ে দেখল ... মহিলা ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদছিলেন। দাশুর খুব অস্বস্তির মধ্যে পড়ে গেলো। ওনাদের দেখে মায়া হোল, কিন্তু কি করবে বুঝে উঠতে পারছেনা।

শরণার্থী ভদ্রলোক – বাবুগো, আমরা বাড়ি ঘর দোর ছাইড়া, পালাইয়া প্রানে ব্যাইচ্ছি। কোলিকাতা অ্যাইয়া তো প্রান বাঁচেনা। অ্যাই ছোট পুলাটারে আর বউটারে লইয়া পাঁচ দিন ধইরা দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতাসি একটু খাদ্য বস্ত্রের লাইগ্যা। বাবুগো ফিরাইয়া দিওনা ।

দাশু – বুঝলাম, কিন্তু প্যান্ট টা না ছাড়লে , আমি আপনাকে সাহায্য কিভাবে করবো।

কথায় কাজ হল, ভদ্রলোক পা ছেড়ে দিলেন।

শরণার্থী ভদ্রলোক – বাবু উপরে ভগবান আছেন। আপনারে ভালো করবেন।

দাশু – (D’mello এর উদ্দেশ্যে ) সাহেব নেই ?

D’mello – না উনি শিল্পমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেছেন। আমি তো বিমলবাবুকে বললাম, কিছু সাহায্য করার জন্য । উনি তো কানেও তুললেন না। বললেন ওরকম সাহায্য করতে গেলে – জে থমাসের গেটে লাইন লেগে যাবে।

দাশু – ওঃ তাই বললেন । এটা তোমার বোতলের জলে একটু ভিজিয়ে দাও দিকি।

বুক পকেট থেকে রশিদ টা D’mello কে বার করে দিল।

D’mello – কি হবে ? এতো দেখছি পেপারের রশিদ।

দাশু – যা বলছি তাই করুন ।

শরণার্থী ভদ্রলোক দিকে ঝুঁকে, ওনার পকেটে বিশ টাকা গুঁজে দিলেন।

দাশু – এই টাকাটা তে আপনাদের দশ বারো দিন হয়তো চলে যাবে। দরকার পরলে আবার আসবেন। কিন্তু একটা শর্ত আছে, এটা তো একটা অফিস, তাই দয়া করে ভিতরে ঢুকবেন না। আপনি গেটে গার্ড কে বলবেন , দাশুর সাথে দেখা করতে এসেছেন।

ছোট ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে “ভগবান আপনাদের সহায় হন, এই প্রার্থনা করি”

শরণার্থী ভদ্রলোক – (ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাঁদতে কাঁদতে) আপনি স্বয়ং ভগবান । আপনার মঙ্গল হউক । ভদ্রলোকের সপরিবারে প্রস্থান।

D’mello – কি করবে এবার ?

দাশু – (অতি সন্তর্পণে দুআঙুল দিয়ে - ভেজা পেপারের রশিদটা; D’mello এর হাত থেকে নিলো) কি করবো । অতো কৌতূহল থাকলে , আমাকে অনুসরন কর ।

দাশু বিমলবাবুর টেবিলের ওপর পেপার রীম দুটো শব্দ কোরে নামালও।

দাশু – এই নিন আপনার পেপার ।

বিমলবাবু – ব্যালেন্স আর রশিদ কই?

দাশু – ব্যালেন্স নাই, দাম বেড়ে গাছে।

বিমলবাবু – ই! দাম বেড়ে গাছে? ক্যানও? রশিদ দেখি?

দাশু – (দু আঙুলে ভেজা রশিদ টা বিমল বাবুর দিকে এগিয়ে দিলেন) ধরুন ধরুন , তাড়াতাড়ি ধরুন। আনেক্ষন আগলে রেখেছিলাম। আর পারছি না।

বিমলবাবু – ভেজা ক্যানও?

দাশু – (নির্বিকার ভাবে) – পাবলিক টয়লেটে গিয়ে ছিলাম , প্রস্রাব করতে । অ্যাঁতো দুর্গন্ধ !! রুমাল বাড় করতে গিয়ে , রশিদটা নালাতে পড়ে গেলো । আপনিতো ছাড়বেনা – তাই অগত্যা ওখান থেকে উঠিয়েই আনতে হোল।

বিমল বাবু কিছু প্রতিক্রিয়া দেবার আগেই , বিমান বাবু চীৎকার কোরে ফেটে পরলেন।

বিমানবাবু – ওরে চণ্ডাল পিশাচ , বেরো এখান থেকে। বিমলবাবু এই হতছাড়াকে গঙ্গা স্নান কোরে আসতে বলুন। আমার তাঁরা মা অপবিত্র হয়ে গেলো রে। মা তাঁরা মা তাঁরা !! কি কলিকাল পড়ল রে। তোর কি একটু ও আক্কেল হবে না রে ? ঐ নোংরা কাগজটা তোকে আনতে হোল। ঘোড় কলি! মা তারা মা তারা।

ড্রয়ার থেকে গঙ্গা জলের বোতল বাড় কোরে সব্বাইকে , প্রায় স্নান করিয়ে দিলেন। মিতভাষী বিমলবাবু এবার মুখ খুললেন

বিমলবাবু – দাশু , এটা সত্যি ভালো করনি। মাথার বুদ্ধিটা তো বাবহার করবে।

বিমানবাবু – আপনি তো হিতোপদেশ দিতে বসলেন মশাই । শ্রীমানকে এখুনি গঙ্গার ঘাটে গিয়ে স্নান কোরে বাড়ি যেতে বলুন। তা না হোলে , আজকে একটা কুরুক্ষেত্র লেগে যাবে বোলে দিচ্ছি।

বিমলবাবু (বেগতিক দেখে) – দাশু বিমানবাবু , যা যা বললেন সেই মত কর। তুমি বরং গঙ্গা স্নান কোরে , আজকের মতো বাড়ি চলে যাও।

দাশু – জো আজ্ঞা হুজুর । আমি বাড়ি চল্লুম ।

দাশুর প্রস্থান

বিমানবাবু – আপনাদের প্রশ্রয় পেয়ে আপিসের সব ছেলে ছোকরারা বাঁদর হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশরা যেতে না যেতে দেশ এক্কেবারে উছন্নে গেছে । পড়তো ব্রিটিশ সাহেবের পাল্লায় ... চাবকে সিধা কোরে দিত। মা তারা মা তারা ... ঘোড় কলি ।

চতুর্থ দৃশ্য

দুপুরবেলা, reception-এ ফোনটা বেজে যাচ্ছে। রিসেপসনিস্ট D’mello সিটে নেই। দাশু ছুটে এসে ফোনটা ধরলো।

দাশু - “হ্যালো ! J Thomas”

অন্যদিকে মহিলা কণ্ঠে

আনিমা - “কে বলছো?”

দাশু - “দাশু, আপনি?”

আনিমা - “ও দাশু! তোমার সাহেবকে একটু দওনা, তিনি আছেন?”।

দাশু – “আপনি কে বোলছেন?” টেলিফোনের ওপ্রান্ত থেকে “ আমি মিসেস বোস বলছি। একটু সাহেব কে দাও”।

দাশু – “ও! মিসেস বোস! ভালো আছেন ?”

আনিমা – “ হ্যাঁ ভাই খুব ভালো। তুমি ?”

দাশু – “আমি ভালোই । সাহেবতো এখন অফিসে নেই। - পারিজাতদিকে নিয়ে লাঞ্চ কোরতে বেড়িয়েছেন। উঃ চিমটি কাটছিস ক্যানও?”

ততোক্ষণে D’mello ফিরে এসেছে রিসেপশান সামলাতে। পারিজাতের নাম নিতেই D’mello দাশুকে একটা রাম চিমটি কাটলো।

ওপ্রান্তে অনিমা – পুরো ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করছিল। প্রশ্ন ভেসে এল

অনিমা - “কে পারিজাত?”।

D’mello-ওর আপ্রান চেষ্টাকে নস্যাত করে , দাশু খুব ভালো করেই বুঝিয়ে দিয়েছিল যে – পারিজাতের সাথে সুবিনয় সাহেবের ফষ্টি-নস্টির কথা।

দাশু – পারিজাতদি কে চেনেন না? উনি আমাদের নর্থ ইন্ডিয়ার ডিস্টিবুটর … মাঝে মাঝে কলকাতা আসেন। তখন সাহেব আর উনি বাইরে লাঞ্চ করেন।

অনিমা – হুঃ বুঝলাম , সাহেব এলে বোলো একবার বাড়িতে ফোন করতে । রাখি এখন ।

দাশু ও ফোন নামিয়ে রাখল।

D’mello ওতপেতে ছিল , ফোন রাখতেই ঝাপিয়ে পড়লো দাশুর উপর।

D’mello – তোকে কে এতো কথা বলতে বলেছে । ও মাই গড কি করতে যে রিসেপশান ডেস্ক ছেড়ে গেলাম? আর অনিমা বৌদি এই সময়ই ফোন করতে হোল। কি পাগল তুই বোল তো।

দাশু - (নির্বিকার ভাবে) বাদুর বলে , ওরে ও ভাই সজারু, আজকে রাতে দেখবে একটা মজারু… দ্যাখনা এবার কি মজাটাই না হয়।

খানিক বাদে সুবিনয় লাঞ্চ করে ফিরলে।

দাশু - “আপনাকে, ম্যাডাম একবার বাড়িতে ফোন কোরতে বলেছেন”।

সুবিনয় প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করেছিলেন। সুবিনয় কেবিনে ঢুকে ফোন উঠিয়ে নিলো।

সুবিনয় – হ্যালো অনিমা , ফোন করতে বলেছিলে । কোন জরুরি কিছু?

কোন আপ্রাসঙ্গিক কথা না বোলে …

অনিমা – ঐ বজ্জাত টা কে ?

সুবিনয় – বজ্জাত? সে আবার কে ? ক্যানও কি হয়েছে ?

অনিমা – – ও মা তাকে ; এতো তারাতারি ভুলে গেলে? এই তো লাঞ্চ করতে এক সাথে গিয়ে ছিলে ।

সুবিনয় – ওঃ তাই বলো ! ও আমাদের বিস্বপতি বাবুর মেয়ে পারিজাত। ও বজ্জাত হতে যাবে ক্যানও ? বাবার অবর্তমানে ঐতো সব business টা চালাচ্ছে… এতো দিনের সম্পর্ক , তাই কলকাতা এলে একটু লাঞ্চ করাতে নিয়ে যাই…।

অনিমা – হু বুঝলুম। তা ওকে বাড়িতে নিয়ে আসার জায়গায় রেস্তোরাঁয় নিয়ে যাবার কী প্রয়োজন বুঝতে পারলুম না। ওর বাবাকে আমিও তো কাকু বলতুম। ঠিক না?

সুবিনয় – আমাদের কোম্পানি এথিক্স । we cannot bring business in home। একটা জিনিস খুব জানতে ইচ্ছে করছে … তুমি এই খবর টা কোথা থেকে পেলে…?

অনিমা – ভুলে যেওনা , তুমি যেই চেয়ার টা তে বিরাজ করছো সেটা কোন এক সময় বাবার ছিল। তুমি খুব ভালই জানো ,আমি মা হারা মেয়ে , স্কুলের পর বাবার অফিসই আমার ঘর । সুতরাং, অফিসের সব্বাই আমার কতো কাছের ! সব খবর আমার কানে আসে। আর Business ethics আমাকে শিখিও না।

আচ্ছা এখন ফোনটা রাখি , ক্লাবে সব্বাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

অশনি সঙ্কেত … সেই উইক এন্ডটা একটা বিভীষিকা হতে যাচ্ছে সুবিনয়ের জীবনে।

প্রশান্তবাবু – আজ সক্কালে ফোন করেছিল রাশিয়া থেকে। রিসেপশানিস্ট আশেপাশে না থাকায় দাশু ফোন টা তুলল…

পঞ্চম দৃশ্য

দাশু - “হ্যালো, জে থমাস”।

প্রশান্ত – “দাশু ? সুবিনয়দাকে ফোন টা দে”।

দাশু – “স্যার – আপনার কি খবর? কবে ফিরছেন?”

প্রশান্ত – “আগামি বুধবার”

দাশু - “আরেব্বাস!” – দাশু প্রায় লাফিয়ে উঠল।

প্রশান্ত – “ভালই হয়েছে , তুই ফোন টা উঠিয়েছিস, শোন বুধবার অফিসে লাঞ্চ-এ এক্কেবারে বাঙালি খাবার বানাতে বলবি। বটঠাকুর – যেন আমার সব পছন্দের খাবার বানায়”।

দাশু – “আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আমার উপর ছেড়ে দিন। কিন্তু – একটা কথা – আপনার চোখে কিছু আস্বাভাবিক লাগলে – আপনি প্রকাশ করবেননা। ঠিকতো?”

প্রশান্তবাবু, বুঝতে পারলো – দাশু কিছু একটা মতলব আঁটছে।

প্রশান্ত - “তথাস্তু! দে দাদাকে ফোন টা দে”।

D’mello পেছনে অপেক্ষা করছিলো ...

D’mello – “কে ছিল”?

দাশু – “কে আবার ? আমার দোস্ত। প্যাঁচা কয় পাঁচানি ... খাসা তোর চ্যাঁচানি । শুনে শুনে আনমন ... নাচে মোর প্রানমন।”

একটা হেঁয়ালি চাহুনী দিয়ে সোজা কিউ সি রুমএ চলে গালো।

দাশু – “রুপালিদি – একটা ভালো খবর আছে”।

রুপালী – “কি খবর”?

দাশু – “প্রশান্তদা আসছেন – আগামী বুধবার, 6th Jul, আপনাকে গোপনে জানাতে বলেছে যে ….”

রুপালীর আর তরসয়না

“বল না – কি বলেছে?”

অনেক সহিষ্ণুতার পরীক্ষা দেবার পর

দাশু - “উনি বললেন যে, ঐ দিন উনার জন্মদিন। আর – এ কথা তোমাকে ছাড়া পাঁচ কান করতে না করেছেন”।

রুপালী – “তাই ! উরিব্বাশ ! আমাকেই শুধু জানাতে বলেছে?”

দাশু – “তা আর বলছি কি”।

রুপালী - একটা দুষ্টু মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল “excellent ! চল কিছু একটা করি”

দাশু – “আপনাকে – আমি যা যা বলবো , ঠিক তেমন টি হওয়া চাই। আমি যথা সময়ে সব কিছু বুঝিয়ে দেব। এখন আমি আসি”।

6th Jul – সকাল সাড়ে আটটা। সুবিনয় সাহেব অফিস ধুঁকতে গিয়ে একটু থমকে দাঁড়ালেন। রিসেপশান-এ অন্য দিনের তুলনায় আনেক বেশী ফুল। চারিদিকে পারফুইউম-এর গন্ধে ম ম করছে। অন্য দিনের থেকে – আনেক বেশী স্টাফ রিসেপশান-এ couch এ বসে গল্প করছে। সব কিছু ছাপিয়ে, যেটা চোখে পড়লও, সেটা হোল রুপালীর সাজসজ্যা। রুপালী – একটা বিদেশী ম্যাগাজিনের পাতা উল্টাছিল। সুবিনয় চারপাশটা একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন। কথাও দাশু চোখে পরলোনা। সুবিনয় – সব্বায়কে সুপ্রভাত বিনিময় করে, পিছন ফিরে ড্রাইভার-এর হাত থেকে অ্যাটাচিঁটা নিলেন।

সুবিনয় - ড্রাইভার এর উদ্দেশে – “শম্ভু , তুমি গাড়িটা নিয়ে, এয়ারপোর্ট চলে যাও। প্রশান্তর ফ্লাইট এগারটা তে পৌঁছবে । ওকে সোজা অফিস নিয়ে আসবে”।

শম্ভু – “জী স্যার”

সুবিনয় - শম্ভু বেরিয়ে গেলে রুপালীর দিকে তাকিয়ে। “কী রুপালী , দাশু বলল তুমি নাকি আজ লাঞ্চ এর মেনু আর শেফ এর ভার তুমি নিয়েছো”।

রুপালী – “অ্যাঁয় ! মানে হ্যাঁ স্যার”।

সুবিনয় – “তা খুব ভালো। ভেরী গুড”।

সুবিনয় সাহেব একটা মুচকি হাসি হেসে – নিজের কেবিনে ঢুকল। ধীরে ধীরে অফিসের সব্বাই এক এক কোরে ঢুকতে শুরু করলেন। সবাই অফিসে ঢুকেই একটু আশ্চর্য হল।

প্রশান্ত আর দাশুর প্রবেশ। দাশুর হাতে প্রশান্তর ব্রিফকেস ।

প্রশান্ত – দাশু !! আরিব্বাস অফিসের তো ভোল পালটে গাছে। কিরে D’mello এতো ফ্লাওয়ার বোকে । আট এল্লা পারিসেয়াধিক্কুকা।

D’mello – তুমি আসবে বোলে।

প্রশান্ত – তা বেশ । তা বেশ। (রুপালীর দিকে ফিরে) মা রুপালী তোমাকে কে এভাবে সাজালও?

রুপালী – কেন কেন ভালো লাগছেনা ?

প্রশান্ত – না তা কেন ? বেশ লাগছে ।

রুপালী – তা যাক। জন্মদিনের শুভেচ্ছা । many many happy returns of the day.

প্রশান্ত – (একবার দাশুর দিকে ফিরে – মেপে নিলো) থ্যাঙ্ক ইয়ু ভেরি মাচ।

প্রশান্তর জন্মদিনের কথা শুনে আশেপাশের সব্বাই – চলে এলো উইশ করতে।

রিসেপশান ছাড়িয়ে অফিসের মধ্যে প্রবেশ করলেন …

প্রশান্ত – বিমানদা জয় তারা !! আপনার চুরুট এনেছি। বিমলদা ভালো তো ।

সব্বাই চেয়ার থেকে উঠে প্রশান্তর কাছে এলেন।

বিমানবাবু – জয় তারা । আহা কতো দিন বাদে তোমার দেখা পেলুম।

বিমলবাবু – প্রশান্ত একটু বাড়ি গিয়ে জিরিয়ে আসতে পারতে ।

বিমানবাবু – ধুর মশাই! রাখুনতো , প্রশান্ত কি আপনার মতো বুড়িয়ে গেছে নাকি?

বিমলবাবু – না... তা নয় । এতো ঘণ্টার জার্নি … আনেকটা ধকল কিনা?

ততক্ষণে সুবিনয়বাবু হইচই শুনে চেম্বার থেকে বারিয়ে এলেন।।

প্রশান্ত এগিয়ে গিয়ে সাহেবের সাথে করমর্দন করলেন। অন্যদের থেকে একটু দুরে।

সুবিনয়বাবু - আরে প্রশান্ত ফ্লাইট ঠিক সময় মতো ছিল? কোন আসুবিধে হয় নি তো? ও ভুলে যাবার আগে বোলে রাখি , আজকে তোমার ডিনার আমাদের বাড়িতে ।

রুপালী , দাশু , আরও কিছু অফিস স্টাফ – টেবিলের উপর মিষ্টি , স্ন্যাক্স আর চা এনে রাখেতে শুরু করেছে।

সুবিনয়বাবু – (ইঙ্গিত কোরে) তোমার ওয়েলকাম এর প্রস্তুতি হচ্ছে।

প্রশান্ত – ঘোর ষড়যন্ত্র । দাশুটা , আজকে আমার জন্মদিন বানিয়ে, রটিয়ে ছে। দাঁড়ান বেটাকে পরে দেখে নেব। নেহাত আমি কথা দিয়েছিলাম ।

সুবিনয় – সে তো ভালো খবর । কিন্তু তুমি আবার কি কথা দিয়েছিলে।

প্রশান্ত – লাস্ট ফোন কোরে ছিলাম... তখন বলল “আপনার চোখে কিছু আস্বাভাবিক লাগলে – আপনি প্রকাশ করবেননা।” তাই এখন পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটে থাকতে হচ্ছে।

সুবিনয় – (অট্টহাসি) হোঃ হোঃ

প্রশান্ত – হাসছেন ? হাসুন হাসুন ... ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে।

রুপালী – সবাই শুনুন । সবাই শুনুন । আজকে প্রশান্তদার জন্মদিন, আর সেই সুবাদে আমরা একটা ছোট্ট সেলিব্রেশনের আয়োজন করেছি।

সুবিনয় – মেনি মেনি হ্যাপি রিটার্ন ... হোঃ হোঃ

সব্বাই প্রশান্তকে উইশ করতে এলো।

বিমানবাবু – প্রশান্ত ব্রিটিশদের কথা বলো । একটু শুনি।

প্রশান্ত – ব্রিটিশরা কিন্তু আপনাকে খুব মিস করছে।

বিমানবাবু – যাঃ কি যে বলো !

প্রশান্ত – তা নয় তো কি! জেসফ সাহেব তো কতো বার যে আপনার খোঁজ নিয়েছ, তার ইয়ত্তা নেই।

বিমানবাবু – সত্যি ? জেসফ সাহেব কেরকম আছেন?

প্রশান্ত – দিব্যি আছেন । তবে বিশ্বযুদ্ধর শোক ভুলতে পারেনি। ব্যাটার ম্যানচেস্টারের কারখানা , জার্মানরা বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছিল। আমাকে বলে ... জানো ব্রিটিশ মহিলারা এখন ছোট পোশাক পরে কেন? ঐ নচ্ছার গুলো ম্যানচেস্টার ধ্বংস কোরে দিয়েছিল বোলে । আমি একটু হালকা করতে, ব্যাটা বলে ... এই তো দেখনা , গত মাসের আমার ওয়াইফের স্কার্টটা কেটে আমি টাই বানিয়ে ছি। একটু চুপ কোরে বলে... আর আমার টাইটা কেটে ও স্কার্ট বানিয়ে ছে... হোঃ হোঃ হোঃ হোঃ।

সব্বাই - হোঃ হোঃ

সুবিনয় – বুড়ো রসিক আছে।

প্রশান্ত – তা বলতে!

শেষ দৃশ্য

সুইং দরজা ঠেলে , বিহারী পিওন রামলাল চা – ব্রে্কফাস্ট নিয়ে ঢুকল। ট্রে থেকে নামাতে নামাতে বললও

রামলাল - “সাহেব , দাশু বাবুর কিছছু খবর মিলল? বলেন তো আমি না হোয় – তেনার বাড়ি ঘুরে আসতে পারি”।

বোস সাহেব মাথা নাড়িয়ে আপাতত ঠেকিয়ে রাখলো।

রামলাল বেরোবার সাথে সাথে প্রশান্ত হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ।

সুবিনয় – কি ভায়া এতো সক্কাল সক্কাল? রাতে ঘুম হয়নি নাকি?

প্রশান্ত – (প্রসঙ্গ আমল না দিয়ে) আপনি জানেন আপনার মানিক কোথায় গেছিলো গত চারদিন?

সুবিনয় – দাশুর কথা বলছ? কোথায় পাজিটা?

প্রশান্ত – আমার শিলিগুড়ির বাড়িতে গিয়েছিল।

সুবিনয় – তা ভালো , বলে যেতে পারত ?

প্রশান্ত – এক্কেবারে ভালো নয়। কে যেতে বলেছিল? পাজির পাঝাড়া ।

সুবিনয় –তা তুমি কখন জানলে?

প্রশান্ত – আমাকে রুপালী , রাতে ফোন করে বলল ... (গলা নকল করে) “প্রশান্তদা মাসিমা আজ সন্ধ্যের ট্রেনে আমাদের বাড়িতে এসেছেন। উনি আমাদের কাছেই থাকবেন। তুমি অফিস ফেরার পথে আমাদের বাড়ি হয়ে যেয়ো ...কেমন? “ কখন , কীভাবে এসেছে? – জিজ্ঞাসা করাতে জানতে পারলাম ... দাশু মহারাজ নিয়ে এসেছে।

আজকে আসুক, ব্যাটাকে এমন ধোলাই দেবো না...।

সুবিনয় – এতে এতো চটে যাবার মত আমি কিছু দেখছি না।

প্রশান্ত – আমি যে স্পষ্ট দেখতে পারছি, যে আমার ঘোর দুর্দিন ঘনিয়ে এসেছে!!! আপনি কেনো দেখতে পারছেন না দাদা।

সুবিনয় – আমি দিব্যদৃষ্টিতে যা দেখতে পারছি , সেটা হোল পাঁঠার কষা মাংস , পাকা রুই মাছের কালিয়া, ভীমনাগের সন্দেশ , গাঙ্গুরামের দই ... ওফ আর ভাবতে পারছিনা। জিভে জল চলে এলো।

প্রশান্ত – আপনিও । ঘাট হয়েছে আপনার কাছে এসে। কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা।

সুবিনয় – ওঃ হঃ অতো চটছ কেনো ? আমি তো এতো দিন যা করতে পারিনি , তা এই কালকের ছোঁড়া কোরে দেখিয়ে দিল। কি বুদ্ধি বল , তোমার মত দুঁদে বেচুকেও ঘোল খাইয়ে দিলো। হঃ হঃ হঃ হঃ...

(হাঁকিয়ে) রামলাল প্রশান্তর চা ব্রেক ফাস্ট টা তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো । একটু মিষ্টিও নিয়ে এসো সাথে। হঃ হঃ হঃ হঃ...

নেপথ্যে রামলাল – জী সাব, এখুনি আনছি।

প্রশান্ত – আপনি আমার সাথে মস্করা করছেন, কথা বলাই বৃথা । আমি যাই (যাবার প্রস্তুতি) ...

সুবিনয় – দাড়াও ভায়া, চা জলখাবার টা আসছে তো ... (স্বগতোক্তি) ঐ রুপালী আর দাশু এলো !

প্রশান্ত – কই পাজিটা ।। পাজির পাঝাড়া ... (দৌড়ে গিয়ে দাশুর কান টেনে ধরলও) বল বদমাশ তুই কি কি অকম্ম করেছিস ?

রুপালী, ও আরও কয়েকজন ছাড়া সব্বাই দাশুর উপর কৃত্রিম আক্রমণ করলো ।।

দাশু – বাঁচাও কে আছো , মরেছি গো...

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮