• শঙ্খ কর ভৌমিক

বিশেষ রচনা - বাবার সঙ্গে গল্প গুজব

তুষ্টু, তুমি কি করছ? কাজ করছি, বাবা। ও, কাজ করছ? কি কাজ? আন্টি হয়ে বুঁচু, কিম্ভু, এলমো, বার্বি এদের পড়াচ্ছি। বাঃ পড়ানো খুব ভালো কাজ। কিন্তু এলমো আর আওয়াজ করছে না, বাবা। তাহলে ওর ব্যাটারী ফুরিয়ে গেছে। আমি নতুন ব্যাটারী কিনে আনব। তাহলে কি সেদিন লক্ষ্মনদাদার ব্যাটারী ফুরিয়ে গিয়েছিল? তাই কথা বলছিল না? না না, আমরা মানুষ, আমাদের ব্যাটারী লাগে না। ওটা শুধু পুতুলদের দরকার হয়। জানো বাবা, আমি বংশীকাকাকে বললাম "লক্ষ্মণদাদা কথা বলছে না কেন?' বংশীকাকা বলল, "লক্ষ্মণদাদার মন খারাপ।' মন খারাপ কাকে বলে বাবা? মন খারাপ? মন খারাপ ... উম্ম্ ... মন খারাপ ... আচ্ছা বলো তো, তুমি সেদিন কাঁদছিলে কেন? মা কেন আমাকে বাইরে খেলতে যেতে দিচ্ছিল না? তখন তো বৃষ্টি হচ্ছিল। মনে নেই কেমন অন্ধকার হয়েছিল বাইরে? তখন বাইরে খেললে তোমার ঠান্ডা লেগে জ্বর হত, তখন তেতো ওষুধ খেতে হত। সেই জন্য মা খেলতে দেয় নি। ও, বৃষ্টি মানে মন খারাপ? না না, তা বলি নি। ও, বুঝেছি। অন্ধকার মানে মন খারাপ। উম্ম্ ... অনেকটা সেইরকম। তাহলে আলো মানে মন ভালো? বলা যেতে পারে। জানো বাবা, বৃষ্টির পর আবার ধনুরাম উঠেছিল। ধনুরাম নয়। রামধনু। হ্যাঁ হ্যাঁ রামধনু। ঝর্ণামাসি জালানা বন্ধ করে দিল বলে আর দেখতে পেলাম না। বাবা, অন্ধকার আর মন খারাপ কেন হয়? তুমি বারন করে দিও। অন্ধকার আর মনখারাপকে বারন করা যায় না। অন্ধকারকে এত ভয় পাও কেন? সেদিন যখন বৃষ্টি হয়েছিল তখন কি সারাদিন অন্ধকার ছিল? বিকেলে একটুখানি অন্ধকার ছিল শুধু। তারপর তো রামধনু উঠে গেল। কি মজা জল রামধনু দেখে, বলো? ও, বুঝেছি। কি বুঝলে? সবসময় মন ভালো থাকে, কখনো কখনো একটু একটু মন খারাপ হয়। একটু পরে আবার ভালো হয়ে যায়। জানালা সব সময় খুলে রাখতে হয়, না হলে রামধনু দেখা যায় না।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮