• আশুতোষ ভট্টাচার্য

দুইটি কবিতা


শিশু দিবস

লক্ষ্মীর মা ঠিকে কাজ করে, লক্ষ্মীও মাঝে মাঝে ঘর ঝাড় দেয়,মা যদি না আসে বাসন টাসন মাজে; সাধারন সাজ দুই বিনুনিতে, সস্তা কানের দুলে লক্ষ্মী এখন অষ্টম শ্রেণী,মাঝে মাঝে যায় স্কুলে;... চম্পার মা, দু বাড়ি রান্না, ক্যানিং লোকাল ধ’রে ভাই ছোট তাই, স্কুলছুট আজ, চম্পারা থাকে ঘরে; চায়ের দোকানে সাহেব কি ছোটু ফাইফরমাশ খাটে- বন্ধের দিনে ছুটি মিলে যায়, ছোটাছুটি করে মাঠে; হাসিহাসি মুখে গ্যারেজে সিরাজ, ঝুল, তেলকালি মাখে মেকানিক হবে বাবার মতন, রাত্রে স্বপ্ন দেখে; ভিক্ষুক সেজে মুন্নি, সালমা মন্দিরে মসজিদে পয়সা যা পায়, মনিবকে দেয়,নিত্য সঙ্গী খিদে; চালাক, চতুর, চৌখস তাই ট্রেনিং পকেটমারে ডেনড্রাইটেই নেশা হয় বেশ, রাতের অন্ধকারে; অনুদান আসে তরকারি ভাত নিত্য মিডডে মিলে পড়াশুনো সেটা হয়কি হয়না সঠিক তথ্য দিলে; রিপোর্ট, থিসিস, সেমিনার হয় কত গবেষণা করে- খাতায় কলমে দেশ ভরে ওঠে গর্বিত স্বাক্ষরে; এমনি এভাবে শৈশব শেষে, কৈশোর আসে রাতে সরকারিভাবে সব সন্তান থাকে যেন দুধেভাতে।।

সুকুমার রায় সেলাম তোমায়

বম্বাগড়ের রাজার যখন ফুচকা খেতে ইচ্ছে করে চাঁদনীরাতে পেত্নীরা সব দোলনা ঝোলে তেপান্তরে, স্লেট পেন্সিল, কাকেশ্বরে সাতের ঘরের নামতা গোনে- কুমড়োপটাস ডিগবাজি খায়,মনের সুখে আপন মনে, ওইদিকে দেখ দিনদুপুরে গাজর ঝোলে খুড়োর কলে,... হাসজারু আর বকচ্ছপে ঘুরতে যাবে সদলবলে; এসব প্রশ্ন, চন্দ্রবিন্দু, ত্রৈরাশিকের জটিল ভারি পাগলা দাশুর কাছে এসব প্রশ্ন মানেই কেলেঙ্কারি; রামগরুড়ের ছানার মত গোমড়ামুখের বিজ্ঞ যত- একুশ পাতার পদ্য লেখেন,হাততালি দেন নিজের মত; সিংহাসনে বসেন রাজা করতে বসেন গন্ধ বিচার হুলুস্থুলু মন্ত্রী সেপাই আসল নিয়ে কাঁচের বিকার; নৌকো ফানুস,পিঁপড়ে মানুষ দ্রিঘাংচু খায় ডিগবাজি ট্যাসগরু আর হাসজারুতে কুল্ফি খেতে নিমরাজি; মিলছে না তো অনেক কিছুই,ছন্দ নদী ছলাতছল আকাশ, বাতাস,চাঁদে বুড়ি,কান্না,হাসি চোখের জল; এসব হল কথার কথা,চাদিম রাতে আদিম হিম, রায় সুকুমার সেলাম তোমায়,তোড়ায় বাধা ঘোড়ার ডিম।।

(সুকুমার রায় অক্টোবর ৩০,১৮৮৭- সেপ্টেম্বর ১০,১৯২৩)

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮