• মলয় রায়চৌধুরী

কবিতা – খোলা সম্পর্ক

[মুখবন্ধ] অধুনান্তিক বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং সর্বোপরি হাংরি আন্দোলনের পথিকৃৎ মলয় রায়চৌধুরীর ‘খোলা সম্পর্ক’ কবিতাটি আমাদের পত্রিকায় প্রকাশ করতে পেরে আমরা সম্মানিত।

বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকের হাংরি আন্দোলন থেকে শুরু করে আজকের অধুনান্তিক সাহিত্য যাপনের দীর্ঘ পথে কবি মলয় রায়চৌধুরী সর্বদাই, বাংলা সাহিত্যের ভাষা, বিষয়, উপস্থাপনা, বিন্যাসকে প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক সাহিত্য ভাবনার জঞ্জাল থেকে মুক্ত করে, আমাদের সমৃদ্ধ করেছেন। হাংরি আন্দোলনকারীদের যুদ্ধ ছিল আধিপত্য-প্রণালীর বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক, নৈতিক, নান্দনিক, ধার্মিক, সাহিত্যিক, শৈল্পিক ইত্যাদি সমস্ত রকম আধিপত্যের প্রণালীবদ্ধতাকে ভেঙে ফেলে পরিসরটিকে মুক্ত করা ছিল আন্দোলনের উদ্দেশ্য, অভিমুখ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং গন্তব্য।

কবি মলয় রায়চৌধুরীর ভাষায় - “হাংরি আন্দোলনকারীরা সমৃদ্ধ করতে চাইলেন ভাষার তহবিল, অন্ত্যজ শব্দের তহবিল, শব্দার্থের তহবিল, নিম্নবর্গীয় বুলির তহবিল, সীমালঙ্ঘনের তহবিল, অধঃস্তরীয় বাক-বৈশিষ্ট্যের তহবিল, স্পৃষ্টধ্বনির তহবিল, শব্দোদ্ভটতার তহবিল, প্রভাষার তহবিল, ভাষিক ভারসাম্যহীনতার তহবিল, রূপধ্বনির প্রকরণের তহবিল, বিপর্যাস সংবর্তনের তহবিল, স্বরন্যাসের তহবিল, পংক্তির গতিচাঞ্চল্যের তহবিল, সন্নিধির তহবিল, পরোক্ষ উক্তির তহবিল, পাঠ-বস্তুর অন্তঃস্ফোটক্রিয়ার তহবিল, বাক্যের অধোগঠনের তহবিল, খণ্ডবাক্যের তহবিল, তড়িত ব্যঞ্জনার তহবিল, অপস্বর-উপস্বরের তহবিল, সাংস্কৃতিক সন্নিহিতির তহবিল, বাক্য-নোঙরের তহবিল, শীৎকৃত ধ্বনির তহবিল, সংহিতা-বদলের তহবিল, যুক্তিচ্ছেদের তহবিল, আপতিক ছবির তহবিল, সামঞ্জস্য বদলের তহবিল, কাইনেটিক রূপকল্পের তহবিল ইত্যাদি।“

কবি মলয় রায়চৌধুরীর ‘খোলা সম্পর্ক’ কবিতাটিতে অধুনান্তিক কালখণ্ডের প্রতিফলন দেখা যায়। অধুনান্তিক সাহিত্যের একটি বিশেষ তাত্ত্বিক লক্ষণ হল ‘মুক্ত সূচনা এবং মুক্ত সমাপ্তি’। মলয় রায়চৌধুরীর কবিতাটি মনে করিয়ে দেয়, অধুনান্তিক সাহিত্যের সেই বিশেষ তাত্ত্বিক লক্ষণকে যেখানে সাহিত্য ‘বন্ধ এবং নিশ্চিত সমাপ্তি’ পরিত্যাগ করে এক ‘খোলা এবং অনিশ্চিত সমাপ্তি’ উপহার দেয় পাঠককে এবং পাঠক তার নিজের পছন্দ মত পাঠ এবং সমাপ্তির বিনির্মাণের মাধ্যমে তৈরি করে নেয় তার ব্যক্তিগত সাহিত্য।

(বিধিসম্মত সতর্কীকরণ – মলয় রায়চৌধুরীর কবিতাটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রাপ্তমনস্ক পাঠকের জন্য। কবিতাটি পাঠ করা, বা না করা, পাঠকের স্বাধীনতা এবং পাঠ প্রতিক্রিয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণই পাঠকের)

খোলা সম্পর্ক

যে আসবে তাকে মুগ্ধ করার জন্য তৈরি হয়ে নিচ্ছে ও

ব্রেসিয়ার পরেনি, লনজারি পরেছে, ফিনফিনে

কালোর ওপর শাদা সিল্কের কাজ, তলায় লেস-বসানো

শুধু লাল টকটকে টপ, ট্রাউজার পরেনি,

হট প্যান্ট জিপ-দেয়া । লিপ্সটিক লাগিয়েছে । মেরুন ।

হাতে পায়ে নেল-পালিশও মেরুন । সারা দেহে ময়েশ্চারাইজার ।

শ্যাম্পু করা কাঁধ পর্যন্ত চুল । চোখে স্মাজ ফ্রি কাজল ।

দরোজায় রিং । তার মানে ও এসে গেছে ।

গিয়ে দরোজা খোলে । একে আরেকজনকে আলিঙ্গন করে ।

বন্ধুনির সঙ্গে বন্ধুনির প্রেম আজ কয়েক বছর হলো ।

বন্ধুনি আজ পাকাপাকি বন্ধুনির বাড়ি চলে এসেছে ।

সঙ্গে স্যুটকেস । সাজ একই রকম । ম্যাচিং ।

দুজনে আজ থেকে একসঙ্গে থাকবে ।

ওদের পুরুষ বন্ধুও আছে । ইচ্ছে করলে তারা এসে

যার সঙ্গে ইচ্ছে রাত কাটাতে পারে । কিংবা এরা কেউ

যেতে পারে পছন্দের পুরুষ বন্ধুর আস্তানায় ।

কবিতার মতন, যার যা পছন্দ ।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮