• দীনেশ

এক গুচ্ছ কবিতা

সবক

হরকচ ফুলের বনে অসভ্য পায়ের দাপাদাপি আমার ঘুম ঝনঝন ঝনঝন ---- ভেঙ্গে দেয়

অন্ধ আলোয় পা টিপে হাত টিপে ভাঙ্গা ঘুম কুড়োই

দরজার কি হোল দিয়ে তোমার সন্দেহ ঢুকে আমাকে ধাপ্পা দেয়

সারাদিন জেসাসের ক্রস থেকে একটা একটা করে পেরেক তুলি আর প্রতি লোমকূপ পেরেকদানিতে সাজিয়ে রাখি

সিঁদুরের কৌটো রোজ আমাকে “সবক” শেখায় খিড়কি দোরের লাল স্নানের ঘাট আমার পাশে এক বিছানায় রাতভর প্রাগৈতিহাসিক লিবিডোর ক্লান্ত হুইসল আমাকে ঘুম পাড়ায় ।

কইমাছের ধারাপাত ও ভেজা এস এম এস

ওত পেতে ফাঁদ আর ঘুঘু পেতে রাখি ছেঁড়া খোঁড়া আলুনি শব্দে ঘুলঘুলি থেকে পুরনো চাঁদের শিকড় ঝুলে আসে কাঁচা মাছ, পাকা মাছ,সোজা মাছ, ভাজা মাছ উলটে উলটে রাখি ম্যাও লাফে উলটে পালটে মাছ খেতে জেনে গেছি

তুমি কবে আগাপাস তলায় মেখেছ সাগরের নোনতা বাতাস ? বাটি ভরা কলিং বেল চাপা থাক, নখ দাঁত অণ্ড ধুয়ে নাও হলুদ বাতাসে। পাতলা সম্পর্কের ওপর ভেসে থাকে ঘুম, হড়হড়ে চাঁদ পিছলে সরে সরে যায় সাগরের নোনা মেখে চনমনে শব্দরা কানামাছি খেলে গান্ধারী ? গান্ধারী কই? এক শত ছোঁয়া ছুঁই খেলা নোনা সম্পর্কে ছলাত ছল বেহুলার ভেলা ,নীলনদে হাবু ডুবুরি

একসাথে একলার সাথে উলটাই কইমাছের ধারাপাত আর স্যাঁতস্যাঁতে জানলায় মেলে রাখি কিছু ভেজা এস এম এস ।

বাগানে সন্ত্রাসের মুখ ফুটে ওঠে

ঝকঝকে ছিপ নিয়ে ট্রাফিক ক্রসিঙে ক্ষণ ক্ষণ ক্ষণ--- অনেকক্ষণ একটাও বাস ধরতে পারছি না

উবু হয়ে বসে ছটফটে লেজ নামিয়ে দিই ঘোগের বাসায় লেজে লেজে গনগনে রায়ট ,ত্রিশূলের তরোয়ালের তাপ

তবু একবার ঝাঁপ দিতে যাই অবশ্যই যমুনায় লেজ মুড়ো ধড় লেজের আগুন আর আগুনে ব্যালট

জল থেকে উঠে হাতে তুলে ফেলি আস্ত তাজমহল গন্ধমাদন শেকড় চালায় যমুনার পাশে

তবু প্রতিদিন বাগানে বাগানে সন্ত্রাসের মুখ ফুটে ওঠে

আমি কবরের কবরে সব কবরের ধারে ট্রাফিক সিগনাল জ্বালিয়ে বসে থাকি।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮