• শুভাশিস ভট্টাচার্য

আয়নার কবিতা অথবা কবিতার আয়না

(বিধিসম্মত সতর্কীকরণ – কবিতাটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রাপ্তমনস্ক পাঠকের জন্য। কবিতাটি পাঠ করা, বা না করা, পাঠকের স্বাধীনতা এবং পাঠ প্রতিক্রিয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণই পাঠকের।)

আয়নার কবিতা

-------

আমার একটা

বিশ্বস্ত আয়না আছে

সে আমাকে আমার

কুশ্রী মুখটা দেখায়

তোমার পছন্দ না হলে

তুমি বরং একটা মুখোশ কিনো

আমার একটা

বিশ্বস্ত কবি আছে

সে আমাকে আমার

চিৎকার শোনায়

তোমার পছন্দ না হলে

তুমি বরং একটা তোতা পোষো

কবিতার আয়না

----------------

মোমদানিতে সাজিয়ে রাখছি অন্ধকার

শরীর থেকে প্রায় বেরিয়ে আসা

রক্তাক্ত যোনিটার বয়স সাড়ে তিন বছর

আজ আমি

হাতে হাত

মোমবাতি

রাস্তায়

চোখ খোলা

মিছিল চিৎকারে

ধর্ষিতা ও ধর্ষকের দলে

কাকে দেখছে

ওই মোমবাতি

কাকে দেখছে

ওই অন্ধকার

বিষ্ণু হয়ে ওঠে মোহিনী

অর্জুন হয় বৃহন্নলা

আয়নায় বদলে যায় মুখগুলো

গল্পগুলো বদলায় না

সেদিন দরজার ফাঁকে

আধ ঘুমে

বাবার চকচকে জুতো

মায়ের সেফটিপিন

লাগানো ব্লাউজ

মায়ের কান্না

বাবার চিৎকার

-আমার টাকা

আমার সংসার

মানিয়ে নাও

নয়তো রাস্তায় -

রামও এই কথাই বলেছিল

হয়ত একটু ঘুরিয়ে

-চোখ খোলা তবু

মোমবাতি জ্বলে নাই হাতে

সেদিন মেঘলা বিকেলে

শিমুলতলা স্কুলের

পাঠাগারে বইয়ের

নীচে ন্যাংটো ছবি

কল্পনায় ক্লাসের

মিনতির স্কার্টের নিচে হাত

মৈথুনে মগ্ন আমি

দুই পায়ের ফাঁকে বীর্য

উর্বশী যখন নেচেছিল ইন্দ্রের সভায়

কে বলতে পারে ইন্দ্র তখন কি করছিল ?

-চোখ খোলা তবু

মোমবাতি জ্বলে নাই হাতে

স্কুলের শাড়িতে আমি

সিগারেটের ধোঁয়ায়

পাক খেতে খেতে

রাস্তার ঠেকে

ছুটে আসে

তীব্র অ্যাসিড

-এই এদিকে আয়

-তোকে ১০৮ বার

ঋতুমতী আমি ছিলাম শাড়িতে

ঊরুতে বসতে বলেছিল দুর্যোধন

-চোখ খোলা তবু

মোমবাতি জ্বলে নাই হাতে

রাজধানীর রাজপথে

কামদুনির চোলাই ঠেকে

মুম্বাইয়ের পরিত্যক্ত কারখানায়

পুনের দিনমজুরের অস্থায়ী আবাসনে

আমার বন্ধুরা ওর পা চেপে ধরে

আমি স্যাঁতস্যাঁতে ভেজা

যোনিপথে হাত ঢুকিয়ে

ছিঁড়ে আনি জন্মের গোপন রহস্য

পতাকা তোলা সমাপ্ত হলে

ধ্বংস হয়ে যায় এক একটি দেশ

তার সমুদ্র নদী পাহাড় সমেত

-চোখ খোলা তবু

মোমবাতি জ্বলে নাই হাতে

রেপড হওয়ার অপরাধে

দোষী সাব্যস্ত আমি

অনবরত

-ছিনালি করছিলি?

-দুই আঙুল পরীক্ষা

-সতীচ্ছদের শিথিলতা

-তুই কি দেহ ব্যবসায়ী ?

-ওরা কি তোর খদ্দের ?

সিংহাসনে আমার দেবতা

সহস্র যোনি চিহ্ন গায়ে

আর পাথর হয়ে

অপেক্ষা করে অহল্যা

-চোখ খোলা তবু

মোমবাতি জ্বলে নাই হাতে

আজ হাতে হাত

মোমবাতি

ধর্ষিতা ও ধর্ষকের দল

মিছিল শেষে

বাড়ি ফেরে

অনেক রাতে

ধর্ষিতার কান্না

ধর্ষকের চিৎকার

-আমার টাকা

আমার সংসার

মানিয়ে নাও

নয়তো রাস্তায় –

কিছু লাশ ছাই হয়ে বেঁচে যায়

বাকিরা শিউরে উঠে কবরে

-চোখ খোলা তবু

মোমবাতি জ্বলে নাই হাতে

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮