• চিত্রা ব্যানার্জি

দুইটি কবিতা


সবুজ বিপ্লব

অরণ্য প্রান্তরে গাছ ছিল রাশিরাশি

তারা দাঁড়িয়ে ছিল আলিঙ্গনে পাশাপাশি ।।

হঠাৎ দস্যুরা হানা দিল হাতে নিয়ে পরশুরাম এর কুঠার ।

করল ধরাশায়ী গাছগুলকে তাদের জীবন হল ছারখার ।।

আমাদের বাঁচতে দাও এই ছিল তাদের করুণ মিনতি ।

দস্যুদের মন পাশান তারা নিল না তাদের কাজের বিরতি ।।

মুহুরতের অবকাশে অরন্য প্রান্তর হল শ্মশান ।

বনভুমি হল জনভুমি মানুষের বাসস্থান ।।

তারা সেখানে পায়না গাছের দেওয়া অক্সিজেন ।

তাদের ঘরে ঘরে চলে এ সী ফ্রিজ ও গ্যাস ওভেন ।।

তারা ধার করা হাওয়ায় জীবন কাটায় ।

নিত্য ভোগে নানান রোগে জীবন কাটে হতাশায় ।।

তবু গাছ কেটে তৈরি হচ্ছে মানুষের বাসস্থান ।

যেখানে শ্বাস কষ্টে হাঁপিয়ে উঠছে মানুষের প্রাণ ।।

তাই সকলের মিলিত প্রয়াসে বন্ধ হোক গাছ কাটা ।

মানুষের জীবন স্পন্দন চলুক নির্বিবাদে ।

শিশুদের শুরু হোক নতুন পথে হাঁটা ।

তাই সাকলে মিলিত কনঠে বলি –

সবুজকে কর রক্ষা সবুজকে করো বরণ

সবুজ ছাড়া জীবন হবে মলিন মানুষের হবে মরণ ।।

ফুলের কথা

ফুল বলে আমি সুন্দর গাছের পরে

লোকে বলে রাখব তোমায় সযত্নে ফুলদানিতে ভরে ।।

ফুল বলে নিও না আমায় গাছ থেকে তুলে

আমার জীবন ক্ষণিকের আমায় থাকতে দাও কষ্ট ভুলে ।।

আমার জন্ম মাটির পরে পড়ব আবার ভুঁয়ে ঝড়ে

তুলনা আমায় নিঠুর হাতে করনা আঘাত বুকের পরে ।।

আমি তোমাদের ভোলাই রঙ রূপে, গন্ধে করি সুবাসিত চারিদিক

আমার উপর নিঠুর হোয় না, আমি যে শান্তির প্রতিক ।।

যদি তবুও আমায় তোল লাগি যেন বিবাহ ও মাঙ্গালিক কাজে

যদি পাই দেবতার পায়ে স্থান তবে আনন্দের সুর কানে বাজে ।।

তাই আমার জীবনে আমি চাই সার্থক পরিণতি ।

যেন শুভ কাজে এবং মানুষের শেষ বিদায়ে লাগতে পারি সেটা ই আমার পরম প্রাপ্তি ।।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮