• অমৃতা চক্রবর্তী

অণু গল্প - অনুভূতি এবং জয়ী

অনুভূতি বাস টা নাসিক এর পথে চলেছে । মনটা বড়ো খারাপ সুমিতার । জুজু হবার পর এই প্রথম সুমিতা কোথাও যাচ্ছে জুজু কে ছাড়া । সকলের খাবার বানিয়ে মেয়েটাকে উঠিয়ে দিয়েছে স্কুল এর গাড়িতে আর শাশুড়িকে সব বুঝিয়ে এসেছে কখন কোন খাবার টা দিতে হবে । মাত্র দুদিনের জন্য যাচ্ছে পুজো দিতে নাসিকের মন্দিরে । তাও মনে হচ্ছে কতো কি ফেলে যাচ্ছে আর মনটা বড়ো খচখচ করছে । জুজুর দাদুকে বলে এসেছে জুজুর নাচের ক্লাসের কথা । মেয়েটা সাথে আসতে চেয়েছিল কিন্তু সামনে পরীক্ষার কথা ভেবে আনতে পারেনি । নাসিকের দিকে বাসটা যতো এগোচ্ছে সুমিতার মন ততো হাল্কা হচ্ছে। পথের ছবি বদলে যাচ্ছে। চারিদিকে পাহাড় ঘেরা রাস্তা আর পুরনো স্মৃতি মনে ভিড় করছে । বিয়ের পর সুদীপের কাজের চাপের জন্য ওদের হানিমুনই হয়নি আর কিছুদিনের পরেই জুজু কোলে চলে এলো। সুদীপকেও আজ অন্য চেহারায়, হাল্কা মুডে পাচ্ছে। মনে হচ্ছে বিয়ের পরের সেই রোম্যান্টিক সুদীপ ।


নাসিকের হোটেলে পৌঁছে মনটা বড়ো ভালো হয়ে গেলো নাসিকের মন্দিরে জুজুর জন্য কিছু মানত করা ছিল । জুজু হওয়ার পর আর আসা হয়ে ওঠেনি । এখন সামনে জুজুর পরীক্ষা বলে ওকে আনতে পারলনা বলে খারাপ লাগছিল।


তবুও মনটা আসতে আসতে ভালো হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এটা জেনো দ্বিতীয় হানিমুন ।

কাল সকালে মন্দিরে পুজো দেবে। মনে আর কোনো দুঃখ নেই জুজুকে রেখে আসার । আজ বিয়ের বারো বছর পর মনে হচ্ছে সংসারের দায়িত্ব, মা হবার দায়িত্ব সব করে হাজবেন্ড আর ওয়াইফ বড়ো দুরে সরে গেছিল। জীবনে সবটাই দরকার । আজও কিছু অনুভূতি বাকি একে ওপরের জন্য।


জয়ী

আজ অহনার বড়ই আনন্দের দিন । আজকের এই অনুষ্ঠান সভায় অদ্রীজা তার একমাত্র মেয়ে পুরস্কৃত হবে । আজকের এই দিনটার জন্য অহনার আটাশ বছরের লড়াই । অবশেষে সেই মুহূর্ত এলো যখন অহনার ডাক্তার হাজবেন্ড বিহনের কাছ থেকে, কন্যা অদ্রীজা পুরস্কৃত হলো হাসপাতালের সেরা ডাক্তার হিসাবে ; সেই অদ্রীজা যাকে কোনদিনও বিহান এই পৃথিবীতেই আনতে চায়নি ; যার নামটাও নিজের নামে রাখতে দেয়নি এবং যাদের সংগে এত বছর কোনো যোগাযোগও রাখেনি কন্যা সন্তান হওয়ার অপরাধে । আজ আটাশ বছরের লড়াইতে অহনা জিতে গেলো ।


নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮