• শোভন কাপুরিয়া

অণু গল্প -মিকি মাউস এবং ৩১ শে মার্চ

মিকি মাউস

দিনের শেষে রমেশ বাগুইআটির ১ তলা ভাড়ার বাড়িতে ফিরল। ঢুকতেই তার ৮ বছরের মেয়ে রুশা খোলা চুলে এসে দাঁড়াল আর মিষ্টি গলাতে বলল "এনেছ বাবা?" রমেশ মাথা নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে বলল "এনেছি, তুই বস।" বলে একটা ছোট Pizza র বাক্স বের করে ৪ টুকরোই মেয়েকে থালায় সাজিয়ে দিল।


রুশা এক টুকরো বাবার দিকে এগিয়ে দিল, রমেশ মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল "আমি অনেক খেয়েছি আজ, পেট খুব ভরে গেছে। তুই ভালো করে খা।" মা মরা মেয়েটা তো কোনোদিন কিছুই চায়না, কিন্তু আজ ওকে নিয়ে স্কুলে বেরোনোর সময় রুশা প্রথম কিছু চাইলো। রুশার চোখে খুশী আজ রমেশের চোখে জল এনে দিচ্ছে।এই খুশী যেন সারাদিন শুকনো মুড়ি খেয়ে থাকার দু:খ র চেয়ে অনেক বেশী।


পরেরদিন সকালে রুশাকে স্কুলে দিয়ে বেরোনোর সময় ফোন বাজল, তুলতেই তার দুচোখ জলে ভরে উঠল... এটা খুশীতে বেরোনো চোখের জল। যাক, তাকে আর মিকি মাউস কস্টিউম পরে অন্যের পার্টি তে বাচ্চাদের মন ভোলাতে হবেনা... ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের চাকরিটা হয়ে গেল। নিজে না খেয়ে টাকা জমিয়ে পড়াশোনা করার ফল সে পেয়েছে। রুশাকে আর নিজের ইচ্ছে লুকিয়ে রাখতে হবেনা। সে এখন থেকে শুধু তার মেয়ের মিকি মাউস।

৩১ শে মার্চ

"বাবু কখন ফিরছিস বাড়িতে?" ৭০ বছরের অসীম বাবু জিজ্ঞাসা করলেন ছেলেকে ফোন করে। ফোনটা হঠাৎ কেটে গেল। তার পরে যতবার ফোন করছেন ফোন লাগছেনা।

অমীতের অফিস গণেশ টকিজের কাছে। বিকেল ৫ টায় কাজ গুছিয়ে উড়ালপুলের নিচে দিয়ে আসার সময় বাবার ফোন এসেছিল। ফোনটা তুলে কিছু বলতে গিয়ে পেছনে লোকের কলরব"দাদা সরে যান!!" উপরে তাকাতে দেখল ইট পাথরের উড়ালপুল ভেঙে পড়ছে।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮