• অরুণাভ দত্ত

কবিতাগুচ্ছ - অরুণাভ দত্ত

ইনসোমনিয়া

মাঝ রাতের পর আমি একা হয়ে যাই,

নেকড়ের মত একা ।

ঘন সবুজ জঙ্গুলে ঝিঁঝিঁ পোকারা,

দেয়াল ঘড়ি র সাথে ষড়যন্ত্র করে হায়না হাসি হাসে।

মাকড়শা ব্যর্থতাগুলো গলা আঁকড়ে ধরে,

বড় বড় গাছের গুঁড়ির সশব্দ,নিশ্চিন্ত ঘুম - আমাকে জাগিয়ে রাখে সারাটা রাত,

শুঁয়োপোকা , কেঁচো আমার গরম লেপে ঢুকে যায় ।

শরীর জুড়ে, মাথার ভেতর, গরম হাওয়ার ঝড় বই এর অক্ষর চোখে ছুঁড়ছে পাথর,

একঘেয়ে পচা গলা গান এর শবের মাঝে উঠে,

আমি আলো জ্বালাই, নেভাই... জ্বালাই, নেভাই।

প্রাণায়ামের নির্বিবাদী অক্ষমতা গিলে নিল রাতের অজগর,

ক্লান্তিহীন উৎসাহহীন অসহ্য সাম্য, তারপর...

ভোর এর কুকুরের ডাকে অশান্ত মৃত্যু আসে।

মেটামরফসিস

এত তাড়াতাড়ি বিবর্তিত হচ্ছে

মন কেন আমার –

শিশুর মস্তিষ্ক যেন আর প্রতিমার মাটি,

গানের পাশে কালো দেয়ালে র সামনে

বসেছিলাম কিছুক্ষণ তাই,

কিছুক্ষণ,মানে পাল্টে যাবার আগে-

প্রতি মুহূর্তের ছোবলে ক্রুশবিদ্ধ যিশু,

নাকি শুদ্ধ কুমারীর ছুঁয়ে দেওয়া নিতম্বের কম্পন।

চারপাশে স্ফটিকের সিঁড়ি আর বাতাসে ভেসে আসা জ্ঞানের পরাগ।

আমি পাল্টে যাই , মন পাল্টে যায় –

পাল্টায় না শুধু মুখটি তোমার।

চির অন্ধকার।

উপলব্ধি

পড়ে যাওয়া কালির দোয়াত রং আকাশ

বৃষ্টির ঝাপসা কান্না

পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে দুঃস্বপ্নের বুকভাঙ্গা কলম

যেন দুঃখে কুঁকড়ে যাওয়া লিঙ্গ,

মরিয়া হতে চায় গর্বিতা সমকামে।

সিরাপের ঢাকনায় কতটুকুই বা সুখ ধরে ব’ল –

চিন্তার সমুদ্রে ভেসে রাতের কবিতারা

ক্লিশে কাদা ব্রণ বাঁচিয়ে আস্তে পেরেছে কি ?

অশ্লীল ছোপ লাগা বেড কভার –

কথা না বলা রুমমেট,

গিলে চলে টিভি র লাল অন্ধকার।

জীবন শুধু কিছু হারানো জেরক্স আর স্বপ্নের দিস্তে।।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮