• দীপাঞ্জন মাইতি

কবিতা - সহজ পাঠ আর আমি

এক

প্রণিমে প্রথমে মার্জনা প্রার্থনা করি তব,

জ্যেষ্ঠ মতে বে-আদপ এবং

স্ববিচারে অদ্য এ রজনী পুনঃ শিশু হবো।

প্রথম মনিষী বিদ্যাসাগর শৈশব শুরু বর্ণমালা,

নেচে বেড়াতাম গেয়ে বেড়াতাম,

ঝাঁপাতাম রোজ খালে বিলে,

গুরুদেব কবি তুমি আজ হয়েছো..

সে বয়সে কেবল দাড়িওয়ালা দাদু ছিলে।।

দুই

ছোটো ছোটো পা হাত ধরে বাবা মা,

প্রতি পদে তখন নতুন নতুন অবাক হয়ে যাওয়া,

বাঙালী আমি ভাগ্যবান -

তোমার সাথে পরিচয় সুনিশ্চিত ভবিতব্যে পাওয়া;

ছন্দের ধন্ধে তখন ‘সহজ পাঠ’ এ সহজ জীবন..

প্রতিযোগিতার সাথে একান্ত অপরিচিত,

সেদিন থেকে শুরু তোমার আমার আত্মীয়তা অলিখিত।।

তিন

আমাদের ছোটো নদী আজো এঁকে বেঁকে চলে,

বৈশাখে বৈশাখী ভরসা..

হাঁটু জল জমে আজি বর্ষা বাদলে,

আমার সমসময়ে শৈশব শেষ

গোরুর গাড়ি দেখেছে গো গুরুকবি,

বাকি বৈশাখে হাঁটু জল আর কুমোর পাড়ার বাহন

কেবল স্মৃতি.. কেবল তোমার শব্দ গড়া ছবি।

চার

ছোটোবেলায় খুব কঠিন ছিলো আমকে সামলে রাখা,

সেই যে সেদিন, “স্বপ্নে গেলাম উড়ে মেলে দিয়ে পাখা”-

আজো উড়ি কোনো সমান্তরাল বাস্তবে - নিজে বুঝি,

শরীর পড়ে আছে মানুষের ভিড়ে

আমি তবু ফিরবো বলে “বাতাস বেয়ে রামধনু খুঁজি”;

কে আছে আমার এ শহরে??-

আমার শিকড়, আমার আটকে রাখা পিছুটান,

কলকাতা পাল্টেছে আর তোমার সে সময় নেই..

আমার আকাশ অজস্র জ্যোতিচিহ্ন কবি তবু

তুমিময় এখনো একটা কোনো “কলিকাতা আছে কলিকাতাতেই”।।

পাঁচ

তোমার আমার প্রথম মিল কোথায় ছিলো কবি জানো!!

ঐ যে তুমি লিখেছিলে –

"কত রাতের পর নৌকো যে যায় ভেসে

বাবা কেন আপিসে যায়, যায় না নতুন দেশে"

আমারো ঠিক এটাই মনে হত.. বাবা তৈরি হতেন

আর আমিও নিজে নিজে খেলার ছলে তৈরি হতাম

খবরের কাগজ ব্রীফকেসে,

রোজ বলতাম “আমিও যাবো”

বাবা এগিয়ে যেতেন হালকা মুচকি হেসে;

আজো মনে হয় তবে বাবাকে নিয়ে নয় –

আমিও রোজ শুধু আপিসে যাই,

কত চেষ্টা করি তবু সব অলি গলি চেনা..

বলো না কবি কি করে নিজেকে হারাই!!

ছয়

এক টুকরো খেয়াল শহর

তোমার থেকে নিয়েছি ধার,

দিন রাতের হিসেব নিকেশ

পাল্টাতে থাকে রোজ বারবার,

এর দায় কিন্তু, কবি তোমার,

কেবল তোমার...

লিখেছিলে তুমি -

“দিনে হই এক মতো, রাতে হই আর।

রাতে যে স্বপ্ন দেখি মানে কি যে তার।”

আজো স্বপ্নের মানে বুঝি না –

যদি বাস্তবের মাটিতে পড়ে গুঁড়িয়ে যায়

সে ভয়ে তাদের মানেও খুঁজি না;

শুধু থেকে থেকে মেঘ হয়ে যাই প্রতি রাতে,

বৃষ্টি হয়ে দিনের বেলা বয়ে যাই চেনা খাতে।।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮