• দীনেশ, রূপম, শুভাশিস, দীপ, দেবী

(জোড় কবিতা) জীবন - সম্পাদনায় দীনেশ

মুখবন্ধ (দীনেশ)

আঁতুড়ঘর কান্নায় ভরে গেলে সমুদ্রের সঙ্গে সঙ্গে আকাশ ও দুলে ওঠে। জীবনের সোঁদা গন্ধে ম-ম করে পৃথিবীর পুরনো ডালপালা। প্রতিবেশী রোদ, বাতাস, নদী পাহাড় সবাই মিলে জীবনের আঙিনায় অভ্যর্থনা জানায় উলু দিয়ে। নিজস্ব ঢঙ্গে শুরু হয় দিনলিপির গোপন ওঠাপড়া, আমরা একেক জন একেকটা চরিত্র হয়ে উঠি। চোখের সামনে থেকে পৃথিবীকে কত সহজে পায়ের নিচে মাড়াতে শিখে নিই। আমরা আমাদের মেকি দম্ভে দিনরাত টগবগ করে ফুটতে থাকি। “ অন ইয়োর মার্ক.........।” আমাদের শেকড় ছিঁড়ে, বন্দর ছেড়ে, ভেসে পড়ি জীবনের মানে বুঝতে । জীবনের রোদ, ঝড়, জল - সুখ ,দুঃখ , ঘৃণা , ভালোবাসা - রক্ত , ঘাম , চোখের জল - চড়াই, উতরাই , জোয়ার ভাঁটা - এসবের ছোঁয়া পেতে পেতে এগোতে থাকি।

এই জীবনের সঙ্গে চলতে চলতে , আমরা নিজের নিজের “এভারেস্ট” তৈরি করি বা তৈরি করতে বাধ্য হই । চলতে থাকে পতাকা ওড়ানোর অভিযান । কেউ পায় হাতের মুঠোয়, কেউ সে এভারেস্টকে পায় পায়ের নীচে, কেউ পাদদেশে গড়ে তোলে নিজস্ব বেসক্যাম্প । কেউ এভারেস্ট গলিয়ে নেমে আসে সমুদ্রের বালিতে। জীবন তার হাওয়ায় আমাদের পালে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা যোগায় ।

জীবন ভালোবাসার কাজল এঁকে দেয় অবচেতন ঘুমে। ভালোবাসা সবাইকে প্রশ্ন করে – “ এতদিন কোথায় ছিলেন?” ঘুরন্ত চরকি, দূরপাল্লার ট্রেনের তীব্র আওয়াজ, ঝড়ের অন্ধকার ,রুমালের একাকীত্ব, কলরব কোলাহল আমাদের কানে সে প্রশ্ন পৌঁছতে দেয় না । আবার হৃদয়ের জানলায় ওলোট পালোট ঢেউ আছড়ে পড়লে ভালোবাসার সব নাবিক সমাধির নোনা আবর্তে জীবনের রং খুঁজে পায়।

তবু ও জীবনের ভিড় থেকে একেকটা হাত আমাদের ছুঁয়ে দেয় আর আমরা জীবনকে বন্ধু নামে ডেকে উঠি ।প্রত্যেক স্রোতের আলাদা মানে তৈরি হয় যার অভিধান লুকিয়ে থাকে তার হাসিতে ,তার আয়নায় নিজেকে আবিষ্কার করি।একদিন অ্যালেকজান্ডার অনেক অনেক পথ পেরিয়ে বুক পেতে পুরু কে আলিঙ্গন করে বন্ধুর উষ্ণতায়। অসহায় পঞ্চ কর্তা খেলনা হয়ে যায়, যখন 'সখা' আমার লজ্জা , আমার গোপনীয়তা বন্ধুত্বে ঢেকে দেয় । তারপরেও “কালিদা”র কাছে আমরা জীবনের মানে খুঁজে বেড়াই । আমরা আজ না হয় একেকটা “কালিদা” হয়েই দেখি ?

বুকে কি তোর জায়গা আছে, মিত্রা, আগুন ভরা। একটা বড় সমুদ্দুর আন- নোনতা জলে ভরা। -দীনেশ

আমার বুকে সাগর আছে, সবার তরে ঠাঁই, তেঁতুল পাতায় নজন থাকে বন্ধু হলে ভাই ! -রূপম

নজন কোথায় নজন কোথায় এতো নবগ্রহ, ছুঁতেই শুধু জলে নামার হারাই আগ্রহ -দীনেশ

ভয় পেলে তো চলবে না রে নামতে জলে হবেই, নোনা জলের সাগর খালি, মিত্রা গেছে কবেই ! তোরাই এখন আমার মনে মরূদ্যান এর মত, তোদের স্পর্শে উঠছে সেরে বুকের আঁচড় যতো ! -রূপম

নামিনি তো, ভাসিয়েছি, পেল্লাই এক জাহাজ বুকের ভেতর লুটোপুটির বাতাস ভরি চল আজ। -দীনেশ

তোদের মতো বন্ধু আছে বুকটা তাই ভরা, তোদের জন্যে ভালোবাসা হাজার হাজার ঘড়া ! অনুভবের জাহাজটা আজ ভাসলো হৃদয় মাঝে, তোরা সবাই থাকিস তো তাই মনের খাঁজে খাঁজে ! -রূপম

একখানা মোর সাগর পারে, জাহাজ রাখার ছোট্ট খাঁড়ি, দেওয়াল ছাড়া খেয়াল পাড়া নোনতা সাদা বালির বাড়ি - বন্ধু... তুই আসবি বলে। - দীপ

একটা সাগর পোষ মানানো একটা সাগর উথাল পাতাল বন্ধু তুমি আসব বলে হাল ধরেছে মহাকাল -শুভাশিস

সাগর বলে - হারিয়ে যাবি একলা একা.. ঐ পারে তে অচিন দেশ, আমি বলি - ঐ... যে দেখ বন্ধু আমার আকাশ কেবল ছদ্মবেশ। - দীপ

মহাকালের মহামায়ায় জীবনখাতা দুলছে আজ, ভাসিয়ে তরী চোখের পাতায় বন্ধু তুমি সকাল-সাঁঝ ! - রূপম

ছোট্ট জীবন আমার জানি ছোট্ট একটা তরী সাগর মাঝে ভয় পাই তাই — ছোট্ট ঘাটে ফেরী। পসরা আছে অনেক কিছু অনেক চাওয়া পাওয়া বুকের মাঝেই জমিয়ে রেখে আকাশে হারিয়ে যাওয়া।। - দেবী

তরী সে যতই ছোট হোক, হোকনা জাহাজ আকাশ থেকে বড়, সাগর মাঝে বিন্দু সবাই আজ, কেনা-বেচা বুকের থেকে করো !! - রূপম

বুকের মাঝে সাগর আছে ভালোবাসায় ভরা তোমার আমার জীবন শুধু খুঁজে খুঁজে ফেরা। মনের মানুষ মনেই আছে ঠিকানা তার মন তরী মাঝে জীবন হাটে সারাদিন , প্রতিক্ষণ।। -দেবী

সাগরগুলো শুকোতে দিই মরানদীর পাশে, চুপিচুপি বন্ধুরা সব বুকের ভেতর ভাসে। সকালটা যায় দ্বীপ ভাসাতে, সন্ধেবেলা দীপ, নতুন নতুন নাম পেয়েছে বুকের ঢিপঢিপ। -দীনেশ

সবার সাথে বৃষ্টি মেখে, বর্ণে-গন্ধে-ছন্দে ভেসে, তোদের মনে আকাশ ছোঁব, তারা হবো হেসে হেসে !! -রূপম

বৃষ্টি তো সে নদী হল, জীবনগন্ধে মাতাল হল সাগরে সে নাইতে গিয়ে একলা, দমহারা। চেনা দুচোখ বন্ধুরা হোক আকাশও আজ সমুদ্র হোক মনের কোণে আলো ভরে ছিঁড়ল বাঁধাধরা। -দীনেশ

বন্ধুর ভালোবাসা, তাই নিয়ে কাঁদা হাসা, সেই টানে বাঁধা আছে তার; তোমাদেরই মন কোণে, হৃদয়েতে আনমনে, বাজে মোর সুখী সংসার ! -রূপম

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮