• দেবযানী গাঙ্গুলী

দুইটি কবিতা - ঠিকানা এবং সুজাতার নিবেদন

ঠিকানা

তোদের ঠিকানা আলোকবর্ষ দূরে

অশ্রু কুড়িয়ে আমার যাপনদিন,

এখানের মাটি বয়সের ভারে ধোঁকে

অশনি চমকে দৃষ্টি হয়েছে ক্ষীণ ।

আমার আঁচলে এখনো রয়েছে বাঁধা

তোদের দু'হাতে জড়িয়ে নেবার সুখ,

ভোরের শিশির মেঘের ঠিকানা খোঁজে

অনুভব জুড়ে প্রিয় স্বজনের মুখ ।

এখানের ফুল কুসুম আলোয় ফোটে

এখানের রাত নিঃশব্দতা জানে,

এখানের আলো আবছায়া নীলে ঢাকা

জোনাকিও জানে বৃদ্ধাশ্রম মানে ।

জীবনের পুঁজি কঠিন শিকড় খোঁজে

আগাছায় ভরা নিকষ রাতের মান --

রিংটোন জুড়ে অপেক্ষাদের ধ্বনি

রিক্ত এ বুকে মাথা খোঁড়ে অভিমান ।

তোদের শহর অট্টালিকায় ঘেরা

বুড়ো নিঃশ্বাস সেখানেতে বেমানান,

ইচ্ছেরা খোঁজে আলিঙ্গনের সুখ

খামে ভরে আসে অর্থের অপমান ।

অভাব ছিল না অর্থের কোনোদিন,

কেনা বাকি শুধু শরীর সমান জমি -

খামে ভরা ক্ষোভ প্রবাসেই ফিরে যাক

মরা নদী ছুঁয়ে বৃদ্ধাশ্রম ভূমি ।

প্রতীক্ষা কাঁদে এখানের নিঃশ্বাসে

হাতে হাত রেখে পায়ে পায়ে চলি রোজ,

তোদের ঠিকানা আলোকবর্ষ দূরে

নতুন বন্ধু আনে জীবনের খোঁজ ।

ঠিকানাতে তাই লিখেছি তাদের নাম

একলা আকাশে নতুন তারার আলো,

স্বজনবিহীন জীবনের ঘোলা স্রোতে

'বৃদ্ধাশ্রম' আলোর নিশানা জ্বালো ।

সুজাতার নিবেদন

কবিতা ক্লান্ত হলে, সব কথা ঝরা হলে শেষ,

মনের প্রদীপ জ্বেলো, হাতের নাগালে রেখো হাত ...

আঙুলের আল্পনা চুলের গভীরে এঁকে দিও,

হৃদয়ের অভিসারে সাথে রেখো ঘুম ছেঁড়া রাত ।

সুজাতাই হব আমি, তুমি বুদ্ধ তরুণ তাপস,

আশিসের হাত রেখো সিদ্ধ হলে সাধনা তোমার ...

বোধিবৃক্ষ তলে জ্বালি, সকরুণ তৃষিত এ মন, অঞ্জলি ভরে ঢালি অমৃত পয়োধি আমার ।

তোমার জ্ঞানের দীপ আমার হিয়ার তটে জ্বেলো, অনুরাগ সিঞ্চিত শাশ্বত নিকষিত হেম ...

দক্ষিণা সমীরণে অকুলে ভাসিয়ে দিও সুখ ,

পাদদীপে জ্বেলে দেব আলোকিত সুরভিত প্রেম ।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮