• মিঠু নিয়োগী

দুইটি কবিতা - পলকপাত এবং ফাঁদ

পলকপাত

সেই জলে নুন ছিল।

জলের আড়ালে ছিল উন্মুখ প্রার্থনা।

আজ গঙ্গা-পদ্মা সব একাকার........

সে জলের সন্ধান কোথাও পাইনা।

এখন সুলভ জল------

কল খুললেই ঝর্না।

সরোবর লীন হয়েছিল যে চোখে......

সেই চোখ কোথাও খুঁজে পাইনা।

কাল সব খায়,

কবর খুঁড়ে নুন তুলে নিজের খাদ্যসম্ভার সাজায়।

যে জল মোছেনি কোন হাত,

কদাপি শুদ্ধ হয়নি অবগাহনে-----

প্রপাত জানে না সেকথা......

একটি পলকপাত শুধু জানে।।

ফাঁদ

আজ পেতেছি ফাঁদ এফোঁড় ওফোঁড়।

ধরা তাকে পড়তেই হবে।

রোজ রোজ ফাঁকি দেবে ,

তা ও কি হয়?

আন্তরিকতায় ত্রুটি নেই কোনো।

সমস্ত সকাল নিমগ্ন ছিলাম এই নিচ্ছিদ্র আয়োজনে। কপালে বিন্দু কেন?

ফাঁদ দেখে বুকে বুঝি মেঘ জমে যায়?

সুরগুলি কথাকে হারায়?

নির্ভয়ে এসো।

ফাঁদকে আসন ভেবে নিশ্চিন্তে বোসো।

মনুষ্যত্ব জ্যোৎস্নার মত রেণু-রেণুমেখে ছিলে গায়......

আমার শহরে তো সবি বিকোয়।

ভাঙ্গা বোতল,পুরোনো আসবাব,ব্যবহৃত শাড়ি জামা....

এমন কি মানুষ ও বিক্রি হয়ে যায়।

মনুষ্যত্ব পড়ে থাকবে থিতোন চিনির মত,

হাতের নাগালে..... একেবারে প্রস্তুত!

একথা স্বপ্নে ও ভাবি না।

এক পুকুর ফাঁদ পেতেছি যত্ন করে।

চাঁদ ধরা পড়বে আজ।

আমি তো জানি,চাঁদের জ্যোৎস্না বহুদিন নিরুদ্দিষ্ট।

বুকের মধ্যে তাই অকারণ রক্তক্ষরণ।

শুনেছি প্রেম আছে এক বটের আঠার মত, বালিতে কান পাতলে ,সে নিঃশব্দে জলের শব্দ শোনায়।

জানো চন্দ্রমুখী, আমি চাঁদ পেলেই সুখী।

একটি আস্ত চাঁদ, একটি লোভাতুর ফাঁদ, একটি শিকারিজীবন, ব্যস, আর কি চাই???

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮