• শুভাশিস ভট্টাচার্য

শব্দের (শব-দের) মিছিল - কিছু ভাবনা

"শরীর! শরীর! তোমার মন নাই কুসুম?"

জীবন ধারণের জন্য খাদ্য জরুরি। কিন্তু মানুষ তো শুধু শরীর নয়। তার একটা মন আছে। আর তাই শারীরিক চাহিদার পাশাপাশি, তার অনুসন্ধিৎসু মন আবিষ্কার করতে চায় তার বাইরের পারিপার্শ্বিক পৃথিবীকে, বুঝতে চায় তার অন্তরের অবচেতন জগতটাকে । এই মানসিক চাহিদার প্রয়োজনে জন্ম নেয় বিজ্ঞান, দর্শন, শিল্প, সাহিত্য। আর মানুষের অস্তিত্বের শিকড় শুধু তার শারীরিক চেতনার জগতে সীমিত না থেকে ছড়িয়ে পড়ে তার অবচেতন জগতেও।


'জল পড়ে / পাতা নড়ে’

খিদে পেলে মানুষ কি খেতে পছন্দ করবে সেটা শুধু মাত্র তার খিদের উপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে তার খাদ্যাভ্যাসের উপরেও। খাদ্যের ব্যাপারে মানুষের রুচি তার অভ্যাস দ্বারা পরিচালিত হয়। যার যেমন অভ্যাস তার সে রকম খাবারই ভালো লাগে। যে ছোটবেলা থেকে নিরামিষাশী খেয়ে বড় হয়েছে, তার আমিষে রুচি নেই।তাকে আরসালান বা নিজাম বা আমিনিয়ার মাটন বিরিয়ানি দাও সে খাবে না। আবার আমাকে বিরিয়ানি দাও আমি নিরামিষ খাবো না।

মানুষের মনের খিদের ব্যাপারেও একই কথা বলা যায়। মানুষের মনের খাদ্য হল সাহিত্য। কিন্তু মনের খিদে মেটাতে কে কি রকম সাহিত্য পছন্দ করবে, সেটা তার অভ্যাসের উপর নির্ভর করে। যার যেমন অভ্যাস তার সে রকম সাহিত্যই পছন্দ।

আবার এও দেখা যায় যে মানুষের অভ্যাস নিয়ন্ত্রিত হয় যোগানের দ্বারা। এবং যোগান নিয়ন্ত্রিত হয় চাহিদার দ্বারা। যোগান-অভ্যাস-চাহিদা বৃত্তাকারে একে অপরকে নিয়ন্ত্রিত করে চলে।

যে দেশে যে ধরণের খাবারের যোগান বেশী, সেখানে মানুষ সেরকম খাবারে অভ্যস্ত। আবার যেহেতু সে দেশের বেশির ভাগ মানুষ, অভ্যাসের বসে, সেই ধরণের খাবার খান, তাই সে খাবারের চাহিদা বেশী এবং তাই সেই খাবারের যোগান বেশী।

বিগত কয়েক দশক ধরে, পশ্চিম বাংলার মূল ধারার সাহিত্য পত্রিকা গুলি দেখলে এক বিশেষ ধরণের সহজ পাচ্য সাহিত্যের যোগান চোখে পড়ে। এবং এর প্রতিফলন দেখা যায় বেশির ভাগ বাঙালীর সাহিত্যাভ্যাসে । যোগান-অভ্যাস-চাহিদার পবিত্র ত্রয়ী একে অপরকে নিয়ন্ত্রিত করে চলে। আর বাঙালী পাঠক আটকে থাকে ‘জল পড়ে / পাতা নড়ে’র আবর্তে। এটা পাঠকের দোষ নয়। এখনো মূল ধারার লেখক লেখিকারা শুধুমাত্র ‘জল পড়ে / পাতা নড়ে’র যোগানই বজায় রেখেছেন, কারণ ওটাই বাজারে চলে। আর যা বাজারে চলে, তাই মূলধারার বাংলা সাহিত্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

‘জল পড়ে / পাতা নড়ে’ কিন্তু মূলধারার বাঙালী লেখক লেখিকারা নড়েন না। এখনো বাংলা মূলধারার কবিতার ভাষা রবীন্দ্রনাথে আর চিত্রকল্প জীবনানন্দে আটকে আছে। বড়জোর সুনীল, শক্তি, শঙ্খ, জয় । ব্যাস ঐ পর্যন্ত, তার পর আর দম নেই। বিশ্ব সাহিত্যে কত রকম পরীক্ষা চলছে প্রতিনিয়ত, কিন্তু আমরা বাঙালী পাঠকরা আটকে আছি ‘ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়’এর সুরক্ষায়। বিশ্ব সাহিত্য বলতে আমি শুধু ইউরোপ আমেরিকার সাহিত্যর কথা বলছি না। বাংলাদেশ, ইরান, আফগান, মেক্সিকান, আফ্রিকান এবং অন্যান্য সবার কথাই বলছি। শুধু ভারতের বাইরে কেন ভারতের অন্যান্য ভাষাতেও সাহিত্য এগিয়ে চলেছে , কিন্তু মূলধারার বাঙালী লেখক, লেখিকা, পাঠক, পাঠিকারা আটকে আছেন বিশ শতকে। আমি রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, শক্তি, সুনীল, শঙ্খ, জয়ের নাম উদাহরণ হিসেবে এনেছি। আরো কুড়ি, তিরিশ বা চল্লিশ জনের নাম করাই যেত যাদের অবদান মূলধারার বাংলা সাহিত্যের বিবর্তনে অনস্বীকার্য। তবে তাতে লিস্ট লম্বা হত, বক্তব্য পরিবর্তিত হত না। কারণ সব কটি নামই বিশ শতকের।

তবে সব সময় শুধুমাত্র এক বিশেষ ধরণের খাবার খেলে চলে না, শরীরের বিকাশের জন্য দরকার সুষম খাদ্য এবং যথোচিত পরিচালনা। তাই আমরা বিভিন্ন ধরণের খাবার থেকে আমাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করি এবং প্রয়োজনীয় শরীর চর্চার মাধ্যমে শরীরকে সক্ষম রাখার চেষ্টা করি। তেমনি মানুষের মানসিক বিকাশের জন্য-ও চাই সুষম এবং পুষ্টিকর সাহিত্যাভ্যাস । তার জন্য আমাদের ভাঙ্গতে হবে যোগান-অভ্যাস-চাহিদার পবিত্র ত্রয়ীকে এবং বেড়িয়ে আসতে হবে ‘জল পড়ে / পাতা নড়ে’র আবর্ত থেকে।

শব্দের (শব-দের) মিছিল

সব শিল্পেরই এক প্রকাশ মাধ্যম থাকে, যেমন সঙ্গীতের মাধ্যম হল শ্রুতি। গায়কের কণ্ঠস্বর ও বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ শব্দ তরঙ্গের মাধ্যমে আমাদের কানে প্রবেশ করলে আমরা সঙ্গীত ও বাদ্য উপভোগ করি। তেমনি সাহিত্যের মাধ্যম হল লিখিত শব্দ। তাই সাহিত্যের বিবর্তনের আলোচনায় শব্দের বিবর্তনের এবং সাহিত্যে শব্দের প্রয়োগের বিষয়টি প্রাসঙ্গিক।

সাধারণ মানুষের সাথে কমুনিকেট করতে হলে তাদের ভাষায় কথা বলতে হবে। সময়ের সাথে মানুষের ভাষা বদলে যায়। একই ভাষা অঞ্চলভেদে ভিন্ন উচ্চারণ হয়ে থাকে। রাস্তাঘাটে, স্কুল-কলেজের ক্যানটিনে, পানের দোকানে কান রাখলে সেটা বেশ পরিষ্কার বোঝা যায়। বাংলাতেও বিভিন্ন উপভাষা আছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় গেলে সেটা সহজে বোঝা যায়। বাঁকুড়া, মেদিনীপুরের মানুষ যে বাংলায় কথা বলে সেটা কলকাতার মানুষের কথ্য ভাষার থেকে আলাদা। আবার কলকাতার মানুষের কথ্য ভাষা বরিশাল, নোয়াখালী, রংপুর, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, চট্টগ্রাম, নাটোর এসবের থেকে আলাদা। সোশাল মিডিয়ায় কান পাতলে আজ অনেক নতুন ভাষা শোনা যায়। প্রবাসী বাঙালীর ভাষায় সেখানকার স্থানীয় ভাষার ছাপ পড়ে। ভাষা একটা নদীর মতো যতক্ষণ স্রোত ততক্ষণই নাব্য। ভাষা কোনো বদ্ধ জলাশয় নয়। আসলে গোটা ব্রহ্মাণ্ড এবং তার কোনো অংশই বদ্ধ জলাশয় নয়। সব কিছুই বিবর্তিত হচ্ছে। বদ্ধ জলাশয়ে শুধু নোংরাই জমে। মানুষের ইতিহাস বিবর্তনের ইতিহাস, সেখানে স্থায়ী চরিত্র বলে কিছু হয়না। সাহিত্যের ইতিহাসে এর অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে। আগে যে শব্দ গুলো সাহিত্যে অচ্ছুত ছিল সেগুলি এখন সাহিত্যে দেখতে পাওয়া যায়। এবং সাধারণ মানুষের রুচিতে তা আটকায় না। কারণ মানুষ তাদের প্রতিদিনের জীবনে ওই শব্দ গুলো ব্যবহার করে। উল্টোটাও হয়। আগে চলত এমন কিছু শব্দ এখন আর সাধারণ মানুষের কথায় সহজে মেলে না( যেমন - রাঁড় , ভাতার ইত্যাদি)।

আশা করব মূল ধারার বাংলা সাহিত্য বিশ শতকের ভাষায় আটকে না থেকে আজকের ভাষায় কথা বলবে। আশা করব মূল ধারার বাংলা সাহিত্য শুধু কলকাতার ভাষায় আটকে না থেকে সমস্ত বাঙালীর ভাষায় কথা বলবে। যে বাঙালী শুধু শহরের বহুতলে থাকে না, থাকে শহরতলিতে, থাকে গ্রামে, থাকে বস্তিতে। যে বাঙালী শুধু কলকাতার বাঙালী নয়, সে থাকে বাঁকুড়ায়, মেদিনীপুরে বা সুন্দরবনে। সে থাকে দিল্লি, মুম্বাই, পুণে, ব্যাঙ্গালুরু বা হায়দ্রাবাদে। সে থাকে বরিশালে, নোয়াখালীতে, রংপুরে, খুলনায়, ময়মনসিংহে, সিলেটে, চট্টগ্রামে বা নাটোরে। সে থাকে আমেরিকায়, ইউরোপে বা আফ্রিকায়।

জীবন শুধুই ‘জীবন’ হয় সে শ্লীল বা অশ্লীল হয় না। সেরকমই ভাষা এবং শব্দ ভালো বা মন্দ হয় না, ভাষা এবং শব্দ শ্লীল বা অশ্লীল হয় না, ভাষা এবং শব্দ উচ্চমার্গ বা অন্ত্যজ হয় না। কারণ সেই শব্দ গুলো কোনো না কোনো মানুষ তার জীবনে ব্যবহার করে। তাই কোনো শব্দকে দাগিয়ে দেওয়া মানে সেই মানুষ গুলোকেও দাগিয়ে দেওয়া।

বিশ শতকের হাংরি কবিদের প্রয়াস বিষয়ে কবি মলয় রায়চৌধুরী বলেছেন - “সেই সময়কার প্রধান সাহিত্যিক সন্দর্ভের তুলনায় হাংরি আন্দোলন যে প্রতি-সন্দর্ভ গড়ে তুলতে চাইছিল, সে রদবদল ছিল দার্শনিক এলাকার, বৈসাদৃশ্যটা ডিসকোর্সের, পালা বদলটা ডিসকার্সিভ প্র্যাকটিসের, বৈভিন্ন্যটা কথন-ভাঁড়ারের, পার্থক্যটা উপলব্ধির স্তরায়নের , তফাতটা প্রস্বরের, তারতম্যটা কৃতি-উৎসের । তখনকার প্রধান মার্কেট-ফ্রেন্ডলি ডিসকোর্সটি ব্যবহৃত হতো কবি-লেখকের ব্যক্তিগত তহবিল সমৃদ্ধির উদ্দেশ্যে । হাংরি আন্দোলনকারীরা সমৃদ্ধ করতে চাইলেন ভাষার তহবিল, অন্ত্যজ শব্দের তহবিল, শব্দার্থের তহবিল, নিম্নবর্গীয় বুলির তহবিল, সীমালঙ্ঘনের তহবিল, অধঃস্তরীয় বাক-বৈশিষ্ট্যের তহবিল, স্পৃষ্টধ্বনির তহবিল, শব্দোদ্ভটতার তহবিল, প্রভাষার তহবিল, ভাষিক ভারসাম্যহীনতার তহবিল, রূপধ্বনির প্রকরণের তহবিল, বিপর্যাস সংবর্তনের তহবিল, স্বরন্যাসের তহবিল, পংক্তির গতিচাঞ্চল্যের তহবিল, সন্নিধির তহবিল, পরোক্ষ উক্তির তহবিল, পাঠবস্তুর অন্তঃস্ফোটক্রিয়ার তহবিল, বাক্যের অধোগঠনের তহবিল, খণ্ডবাক্যের তহবিল, তড়িত ব্যঞ্জনার তহবিল, অপস্বর-উপস্বরের তহবিল, সাংস্কৃতিক সন্নিহিতির তহবিল, বাক্য-নোঙরের তহবিল, শীৎকৃত ধ্বনির তহবিল, সংহিতাবদলের তহবিল, যুক্তিচ্ছেদের তহবিল, আপতিক ছবির তহবিল, সামঞ্জস্যবদলের তহবিল, কাইনেটিক রূপকল্পের তহবিল ইত্যাদি।‘

এভাবে বিশ শতকের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যকে ‘জল পড়ে / পাতা নড়ে’র আবর্ত থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছেন । যদিও বেশির ভাগ চেষ্টাই থেকে গেছে প্রান্তিক তবুও তার প্রভাব মূল ধারার সাহিত্যে অল্প হলেও পড়েছে। তবে গত কয়েক দশক ধরে মূল ধারার বাংলা সাহিত্যে বিশেষ কোনো নূতন প্রচেষ্টা চোখে পড়ে না।

কবিতার সমুদ্র অথবা সমুদ্রের কবিতা

একটা লাইন উঠছে নামছে সাইন কার্ভের প্রত্যাশায় টেবিলে রাখা ছুরি কাঁচি ছোট বড় নানা রঙের ওষুধের বোতল বোতল উল্টো করে ঝোলানো সমুদ্র একটু একটু করে মিশে যাচ্ছে রক্তে মিশে যাচ্ছে রক্তে কবিতা কবিতার রক্তে মিশে যাচ্ছে সমুদ্র

কবিতার রক্ত মিশে যাচ্ছে সমুদ্রে ওই সমুদ্রে স্নান করছে ডোম চামার নমশূদ্র শব্দরা স্নান করতে করতে থুতু ফেলছে কখনো কখনো হিসু করছে নির্দ্বিধায় অশ্লীল শব্দগুলোর এঁটো জল লেগে যাচ্ছে শ্লীল শব্দগুলোর গায়ে উচ্চমার্গের অভিজাত শব্দগুলোর পাশেই পাত পেড়েছে অন্ত্যজ শব্দগুলো

পিরালির পিরান থেকে ছড়িয়ে পড়ল অনন্ত শান্তি কবিতা মুচকি হেসে চৌকাঠে রেখে গেল চুমু।

(কবিতার সমুদ্র অথবা সমুদ্রের কবিতা - শুভাশিস ভট্টাচার্য)

অ্যামিবার অভিযোজন

বাংলা সাহিত্যের এই ‘জল পড়ে / পাতা নড়ে’ তে আটকে যাওয়ার পেছনে অনেকে কারণ হিসেবে সংস্কৃতির দোহাই দেন। মানুষের ভাষা যেমন কোনো বদ্ধ জলাশয় নয় তেমনি মানুষের সংস্কৃতিও কোনো বদ্ধ জলাশয় নয়। । সময়ের সাথে সংস্কৃতি এগিয়ে চলে, বদলায়। যেখানে পৃথিবীর প্রীতিটি জীব ক্রমাগত বিবর্তিত হচ্ছে সেখানে মানুষের সংস্কৃতি কি করে স্থায়ী হবে?

ডারউইন সাহেবের থিওরি অফ ইভোলিউশন বা 'ক্রমবিকাশ'তত্ত্ব অনুসারে অভিযোজন এবং বিবর্তনের মাধ্যমে পৃথিবীতে জীবনের বিকাশ হয়েছে। এককোষী সরল জীবন থেকে ধারাবাহিক বিবর্তনের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত জটিল বহুকোষী জীবের সৃষ্টি হয়েছে । তার পর বহু যুগ ধরে ক্রমাগত বিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক কালের সমস্ত প্রাণীর উৎপত্তি। কোনো অদৃশ্য ঈশ্বরের পূর্ব নির্ধারিত নকশা অনুসারে, মানুষ তার আনুষঙ্গিক সংস্কৃতি , ভাষা ইত্যাদি নিয়ে একদিন আকাশ থেকে টুপ করে পড়ে নাই। মানুষের উৎপত্তির মূলেও এই বিবর্তন। আর বিবর্তন হয় ধাপে ধাপে। চর্যাপদ না থাকলে, লালন হতেন না। লালন না থাকলে রবীন্দ্রনাথ হতেন না। রবীন্দ্রনাথ না থাকলে বুদ্ধদেব হতেন না। বুদ্ধদেব না থাকলে জীবনানন্দ হতেন না, সুনীল হতেন না, শক্তি হতেন না । শঙ্খ না থাকলে জয় হতেন না। জীবনানন্দ না থাকলে বিনয় হতেন না। বিনয় না থাকলে বারীন হতেন না। তাই সবই দরকার বিবর্তনের জন্য। আটকে গেলে চলবে না। বিবর্তনের পথে আটকে যাওয়া মানে অবলুপ্তির পথে এগিয়ে যাওয়া। রবীন্দ্রনাথ একটি সাগর, কিন্তু সেই সাগরের ডুব দিতে আমি রবীন্দ্রনাথের কাছেই যাব। অন্য কেউ রবীন্দ্রনাথের ভাষায় কবিতা লিখছে বলে, সেই খানে ডুব দিয়ে আমার মন ভরবে না। তাতে না তৈরি হবে নূতন পাঠ , না তৈরি হবে নূতন পাঠাভ্যাস।


সৎ সাহিত্য হল জীবনের আয়না। জীবনের বিবর্তনের সাথে তাই সাহিত্যকে বিবর্তিত হতে হবে আর তার জন্য শব্দ ও সংস্কৃতির ছুঁৎমার্গ এড়িয়ে আঁকড়ে ধরতে হবে আদি এবং অকৃত্রিম জীবনকে। আশা করব বাংলা সাহিত্য এই ‘জল পড়ে / পাতা নড়ে’র আবর্ত থেকে মুক্ত হয়ে ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে এগিয়ে চলবে।



কবিতার জীবন অথবা জীবনের কবিতা

সারা জীবন ধরে আমি একটাই কবিতা লিখে চলেছি অকিঞ্চিৎকর সামান্য কবিতা সারা জীবন ধরে আমি একটাই জীবন লিখে চলেছি অকিঞ্চিৎকর সামান্য জীবন... ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে একটাই কবিতা ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে একটাই জীবন ব্রহ্মা -আ-আ- অণ্ড লণ্ডভণ্ড পাষণ্ড জীবন একটা কবিতা থেকে আর একটি কবিতা একটা জীবন থেকে আর একটা জীবন আসলে আমরা সবাই আ্যমিবার অভিযোজন

(কবিতার জীবন অথবা জীবনের কবিতা - শুভাশিস ভট্টাচার্য))

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮