• জয়ন্ত ব্যানার্জী

কবিতা - দ্রৌপদী এবং চক্রব্যূহ

দ্রৌপদী

ভেবেছিলাম সন্ধি বিচ্ছেদ করেই, জয় করবো রাজনীতির দ্রৌপদীকে। মাছের চোখের বদলে, মুড়োটাই কেটে নিয়েছিলাম, হার এড়াতে। দ্রৌপদী তার চাল বদলে ফেলবে, এমনধারা চিন্তা মাথায় রেখেই এগিয়েছিলাম। জানা ছিলনা, কিছু নিয়ম ধ্রুব থেকেই যায়, দ্রৌপদীও তেমনই, পঞ্চ ম’য়ের রয়েই থাকল। অক্ষমতার দাসী নয় দ্রৌপদী, সে আজ আর দুঃশাসনের রক্ত চায় না। সে যে জেনে গেছে, বস্ত্র হরণে, আজ আর মহাভারত লেখা হয় না। বরং বস্ত্র উন্মোচনেই রচিত হয়, নতুন যুদ্ধের জয়গাথা। চক্রব্যূহ

চক্রব্যূহরা বুনেই চলেছে, মাকড়সার জালের মত, নিরলস, দাবা-বোড়ের চাল। থেকে থেকেই অভিমন্যু হই, অকুতভয়ের চেতনায়, জেনেশুনেই সবেগে ধাবিত হই জালে। ধরা পড়া তো কুরুক্ষেত্রের অঙ্গ, জাল কেটে বেরোনোটাই, দেখি গীতা-সার। ক্লান্ত পদেরা পার হতে থাকে, পথপাশের ধ্যানমগ্ন কিছু মূর্তিদের, যাঁদের মুখগুলি অবিকল আমি!

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮