• দ্বীপান্বিতা রায় চৌধুরী

গল্প - অস্ত্রাগার

- এই যে এটা হলো তলোয়ার, এটা বন্দুক, এটা ধনু, এটা তীর সব থালার উপর সাজানো হলো

গল্প না হলে এক গ্রাস ভাতও মুখে তোলে না পুনু আর অসুখ করলে তো এমন গল্প চায়, যে গল্পের জ্বরের জীবাণু, অসুখের জীবাণুকে মেরে তাড়াতে হবে, গায়ে জোর আনতে হবে, তবেই না! তাই মাছের বড় কাঁটা গুলো, তাদের নানান ধরণ আর গঠন, তাদের দিয়ে ভাতের থালায় রীতিমত পুনুর অস্ত্রাগার বানিয়ে দিলো পুনুর মা। পুনুও খুব খুশি


- মা, এই তলোয়ার দিয়ে কোন জীবাণু কে মারতে হবে? - এটা দিয়ে? এটা দিয়ে তুমি জ্বরের জীবাণুকে তাড়া কর - তাড়া করলে কোথায় যাবে ? (মুখে ভাত নিলো) - তোমার কাছে থেকে পালানোর রাস্তা খুঁজে বের করে তারপরে জানালা দিয়ে দৌড়.. - দৌড়ে কোথায়? (মুখে ভাত নিলো) - দৌড়ে দৌড়ে, দৌড়ে দৌড়ে গেল গঙ্গার ধারে - তারপর (মুখে ভাত নিলো) - তারপর সেখানে যারা ছিল তারা তো জ্বর এর জীবাণু কে তাদের সাথে থাকতে দেবেনা. তারা ও তাড়া করলো - তাহলে? - সেজন্য এই লাঠি দিয়ে (মাছের বড় কাঁটা নিয়ে) তাড়া করল - তখন? (মুখে ভাত নিলো) - তখন ওই জীবাণু আর জায়গা না পেয়ে এইবারে হাওড়া ব্রিজের মাথায় উঠে গেল - তারপর ? (মুখে ভাত নিয়ে) - এবার সে জীবাণু কোনো মানুষ পাচ্ছে না, যার শরীরে ঢুকতে পারে - কি মজা, কি মজা! (মুখে ভাত), তারপর? - তখন সে জীবাণু ভাবছে কী করে করো শরীরে যাওয়া যায়, কারো শরীরে না ঢুকলে তো ওদের আনন্দ নেই, সেজন্য ওই উঁচু থেকে খুঁজতে লাগল কোন ছেলেটা খাচ্ছে না, কোন মেয়েটা খাচ্ছে না, সে দুর্বল, তাহলে তার শরীরে ঢুকে যাবে - তাহলে আমার শরীরে আর আসতে পারবে? (মুখে ভাত নিলো) - না, তুমি ভাত খেয়েছ, তোমার গায়ে জোর আছে, আবার তোমার কাছে এতো অস্ত্র রয়েছে, তোমাকে জ্বর ভয় পাচ্ছে - হাঁ, আমার তো আর জ্বর নেই, আমি ভালো আছি (মুখে ভাত নিলো) - হাঁ, তুমি তো আমার সাহসী সোনা মেয়ে, তোমার হাতের অস্ত্র এই তীর দেখে জ্বরের জীবাণু ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে পালাল, ও ভেবেছিল আরো জীবাণুদের ডেকে আনবে... - অনেক জীবাণু আছে? - হাঁ, কিন্তু সাহসী, শক্তিশালীকে সব জীবাণু ভয় পায়, তোমার কাছে থেকে অনেক দূরে.. চলে গেছে, আর তুমিও ভালো হয়ে গেছ।


খাওয়া শেষ l

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮