• পার্থ সেন

সম্পাদকের কলমে

প্রিয় বন্ধুরা,


আপনাদের সকলকে জানাই স্বাধীনতা দিবসের আন্তরিক অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা। আপনাদের ভালোবাসা, শুভকামনা আর আশীর্বাদকে পাথেয় করে আরো কিছুটা পথ আমরা একসাথে পেরিয়ে এলাম। আপনাদের সবার জন্য আমরা নিয়ে এলাম আমাদের অষ্টম সংখ্যা । আমাদের সমস্ত লেখক, লেখিকা, পাঠক, পাঠিকা, সহযোগী এবং শুভানুধ্যায়ী সকল বন্ধুকে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনারা সবাই ভালো থাকুন, আমাদের সঙ্গে থাকুন আর আপনাদের সাহিত্য-চেতনা আমাদের সাথে ভাগ করে আমাদের আরো সমৃদ্ধ করে তুলুন।


স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে, ভরা শ্রাবণে প্রকাশিত এই সংখ্যায়, থিম হিসেবে আমরা বেছে নিয়েছি ‘সাহিত্যে প্রেম’। বর্ষার সঙ্গে প্রেম যেন এক আশ্চর্য যোগসূত্রে গাথা। মেঘ-পিয়নের হাতে পাঠানো মহাকবি কালিদাসের প্রেমপত্র মেঘদূতম থেকে শুরু করে বিদ্যাপতি-চণ্ডীদাসের বৈষ্ণব সাহিত্যের রাধা-কৃষ্ণের প্রেম সর্বত্রই রয়েছে বর্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তেমনি কবিগুরুর কৃষ্ণকলি থেকে কবি জয় গোস্বামীর মেঘ-বালিকা সর্বত্রই বর্ষা যেন মানুষের অনন্ত ভালোবাসার প্রতীক। মানুষের হৃদয়ের চিরন্তন আকুলতাই হল প্রেমের প্রকাশ, আর বর্ষার রূপসজ্জায় সে যেন পাখা মেলে ধরে ময়ূরের মত। আজ মানুষের যান্ত্রিক জীবন যাপনে, প্রেমের বড়ই অভাব। হিংসার কালো ছায়া আমাদের গ্রাস করতে ছাইছে অনবরত। প্রার্থনা করি, ‘শ্রাবণের ধারার মতো’ অনন্ত প্রেম, আসুক আমাদের সকলের জীবনে। আজকের পৃথিবীর এই মনুষ্যত্ব-হীনতা আর প্রতি মুহূর্তে মানবিকতার যে অবমাননা চলছে, তার থেকে বেরিয়ে আসার হয়তো একটাই উপায় - তা হোল মানবতা-বোধ এবং প্রেম , যা হয়তো আর একবার এই পৃথিবীকে যথাযথভাবে ‘বাসযোগ্য’ করে তুলতে পারবে, এই আশাই রইল।


এবারের সংখ্যায় থাকছে নতুন আঙ্গিকের বেশ কিছু লেখা। আশা করি, আপনাদের ভালো লাগবে। নীড়বাসনার পাঠকদের জন্য এবারে নিয়ে এসেছি এক নতুন বিভাগ 'এ-মন-জানলা'। পৃথিবীর নানান বই, পৃথিবীর নানান সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমাদের এই নতুন বিভাগ, যার উদ্দেশ্য আমাদের মনের জানলা খুলে দিয়ে, আমাদের চেতনাকে উন্মুক্ত করে, সমস্ত বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া। আপনারা, যারা বই পড়তে ভালোবাসেন, বা বই নিয়ে আলোচনা করতে ভালোবাসেন, অথবা শুধুমাত্র কৌতূহলী জানতে কি নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে এখন পৃথিবীতে, অথবা কোন বইগুলো এখন আলোড়ন জাগাচ্ছে এখন গোটা দুনিয়ায়, নির্ভয়ে আপনাদের মতামত জানানোর জন্য, আর প্রাণ খুলে আলোচনার জন্য আমাদের এই বিভাগ ‘এ -মন-জানলা’।


গত ২৯শে জুলাই আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গেছেন বাংলার স্বর্ণযুগের এক বিখ্যাত সাহিত্যিক রমাপদ চৌধুরী। ১৯৭১-এ ‘এখনি’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছিলেন রবীন্দ্র পুরস্কার, ১৯৮৮ সালে তাঁর বিখ্যাত ‘বাড়ি বদলে যায়’ এর জন্য পেয়েছিলেন সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার। প্রায় ষাট বছর ধরে তাঁর সৃষ্ট সাহিত্য ভাণ্ডার রেখে গেলেন আমাদের সাথে। ওনার মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্যে একটি যুগের অবসান হলো। সেই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু তাঁর সাহিত্য চেতনা আমাদের আগামী দিনের কাজ করার প্রেরণা যোগাবে। নীড়বাসনার তরফ থেকে ওনাকে আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা এবং প্রণাম জানাই।


লেখক লেখিকাদের আর একটা কথা জানানোর প্রয়োজন ছিল। আমরা নীড় বাসনার তরফ থেকে ISSN র জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি আর কিছু দিনের মধ্যে আমরা সেই শংসাপত্র পেয়ে যাবো। আপনাদের সবাইকে শারদীয়ার আগাম শুভেচ্ছা জানাই। আগামী দিন গুলো আপনাদের খুব ভালো কাটুক। আপনারা সবাই ভালো থাকবেন, আপনাদের মূল্যবান মতামতের অপেক্ষায় রইলাম।


নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮