• দিলীপ চক্রবর্তী

অনুবাদ সাহিত্য - চকোলেট (লেখক - জাখারুলা গাইতানাকি)

ΔΙΗΓΗΜΑ : ΟΙ ΚΑΡΑΜΕΛΕΣ Ζαχαρούλα Γαϊτανάκι Bengali translation by Dilip Chakraborty.


( Zakharoula Gaitanaki was born in Athens on 23rd November 1966. She writes short stories, essays and poems. In the meantime her two short stories have won the prize. She lives at 5 Papanikoli Street, Ano Ilioupolis 16342, Athens, GREECE.)


( পটভূমি : গ্রিসের গ্রাম, সময় : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগ )


গ্রিসের একটি গ্রাম। আলো ঝলমল সোনালি সকাল। ট্রাক-ভর্তি জার্মান সৈন্য এসে থামল গ্রামে ঢোকার ঠিক মুখে, বড় মাঠটাতে। সৈন্যরা একে একে তড়িৎ গতিতে ট্রাক থেকে নেমে ছড়িয়ে পড়ল গ্রামের মধ্যে। তারা প্রতিটা বাড়ি থেকে নারী-পুরুষ, যুবক-বৃদ্ধ সকলকে টেনে বার করতে লাগল। শুধুমাত্র বাচ্চাগুলোকে তারা ছেড়ে দিল খেলার জন্য। গ্রামের রাস্তাগুলো গিজগিজ করছিল সৈন্য আর গ্রামবাসীতে।


কেউ যাতে এড়িয়ে না যায়, তাই সেনাপ্রধান স্বয়ং হাজির হলেন গ্রামে। গাড়ি থেকে তার সঙ্গে নেমে এলো কালো আর নোংরা জুতো পরা একটা লোক। মুখটাও তার কালো কাপড়ে ঢাকা। তবে দেখার জন্য দুটো ছিদ্র আছে চোখের উপরে। যেন মৃত্যুর দূত। অল্প সময়ের মধ্যে তারা গোটা গ্রামকে টেনে আনল মাঠে। একজন অফিসার এগিয়ে গিয়ে তার নীল-ধূসর চোখে সবাইকে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। কালো পোশাকের সেই লোকটা গাড়ির কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। আর নিঃশব্দে মাথা ঘোরাচ্ছিল এদিক-‌ওদিক। বাচ্চারা হঠাৎ খেলা ছেড়ে দল বেঁধে হাজির হলো মাঠে। তারা অবাক বিস্ময়ে দেখতে লাগল তাদের আপন জনদের। একটা বাচ্চা মেয়ে হঠাৎ তার পুরোনো পুতুলটাকে জড়িয়ে ধরে ভেউ-ভেউ করে কাঁদতে শুরু করল। তার চেয়ে একটু বড় একটা মেয়ে চেঁচিয়ে বলল, "চুপ কর।" "আমি মায়ের কাছে যাব", বলেই একছুটে মায়ের কোলে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাচ্চাটা। কয়েকজন সৈন্য বন্দুক উঁচিয়ে তাকে ধরার জন্য তেড়ে গেল। অফিসার ইশারায় তাদের থামতে বলল।


কালো পোশাক পরা লোকটা এবার এগিয়ে গেল গ্রামবাসীদের দিকে। প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মায়ের কোল থেকে বাচ্চা মেয়েটা অনিমেষ দেখছিল বিশ্বাসঘাতকটাকে। যেন সে বুঝতে পারছে না তার চারদিকে কী হতে চলেছে। গ্রামবাসীদের মধ্যে যাদের যাদের ধরতে হবে লোকটা তাদের চিনিয়ে দিচ্ছিল। সৈন্যরা এক, দুই, তিন... করে গোটা দশেক লোককে ট্রাকে তুলল। কালো পোশাকের বিশ্বাসঘাতকটা আবার প্রথম সারিতে চোখ বোলালো। মেয়েটা তখন‌ও তার দিকে‌ই তাকিয়ে ছিল। লোকটা বাচ্চাটার মায়ের দিকে এগিয়ে গেল। মা ভয়ে কেঁপে উঠল। সে ভাবল, তার বাচ্চাকে বুঝি কেড়ে নেবে। সে শক্ত করে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরল।


মেয়েটা একদৃষ্টে লোকটার কালো মুখোশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ হেসে ফেলল। "আমাকে চকলেট দাও" বলে সে নেমে পড়ল মায়ের কোল থেকে। লোকটা মেয়েটাকে দেখছিল, আর গ্রামবাসীরা দেখছিল লোকটাকে। লোকটা তার জ্যাকেটের ডান পকেটে হাত ঢোকাল। আকস্মিক সম্ভাবনায় ভীত সকলেই। কিন্তু লোকটা দু' তিনটে চকোলেট বের করে মেয়েটার হাতে দিল। খানিক পরে বন্দিদের নিয়ে ট্রাকটা চলে গেলে গ্রামবাসীরা মাঠ ছেড়ে পালাল। অফিসারের গাড়িতে বসে লোকটা মুখোশ আর জ্যাকেট খুলে নিজের পাশে রাখল। আর ঠিক তখনই জ্যাকেটের ডান পকেট থেকে গাড়ির মেঝেতে গড়িয়ে পড়ল একটা চকোলেট। ( The story was published in the monthly periodical PURNIMA SAMMELAN <ΠΑΝΣΕΛΗΝΟΣ>, on November 1994)

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮