• অরণ্য আপন

কবিতা - অভিমানী নদী

আমাদের চুমুর শব্দগুলো বৃষ্টির শব্দের চেয়ে কম সুন্দর না জুহিতা!

আমাদের চুমুর বাড়ি এখনো বেঁচে আছে, মরে নাই

এই চোখ পোড়া, এই হৃদপিণ্ড পোড়া

সবকিছু পুড়ে হয়েছে ছাই

জুহিতা, এখনো আমি তোমার ডাক শুনতে পাই।

আমি আধকাটা গাছ

জীবন ঝুলে আছে মুখ হাঁ করে

শ্বাস নেয় বাতাসের কাঁধে ভর করে।

সজনে গাছের নিচে এই চোখ তোমাকে দেখেছিল

আমাদের হাত মুখোমুখি হয়েছিল

আমাদের ঠোঁট মুখোমুখি হয়েছিল

হাতে ভরে উঠেছিল স্তন

সম্পর্ক হয়েছিল আপন

ঠোঁট তুলেছিল গুঞ্জন

হৃদয়ের পরিচয় নিয়ে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম

ছেলেমেয়েদের নাম রেখে আমরা ঠিক চলে এসেছিলাম

আমাদের হৃদয় থেকে গেছিল সজনে পাতার বনে

মেঘের দরজা ঠেলে তোমাকে দেখেছিলাম

তুমি চাঁদ হয়ে উঠেছিলে একাকিত্বের অন্ধকারে ডোবা মনে।

এখন আমি তোমাকে ছাড়া একা হতে পারি না

আমার মানুষ লাগে না

আমার রাষ্ট্র লাগে না

আমার ভোট লাগে না

আমি কবিতার রাস্তা ধরে পথ হাঁটি

আমার জীবন কবরের মতোই পরিপাটি

আমি শুয়ে থাকি অভিমানী নদীর জরায়ুর ভেতরে

আমি চোখের জলে মরা গাছ বাঁচিয়ে রাখি সাতাশ বছর ধরে।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮