• দীনেশ

কবিতা - সমুদ্র মন্থন

সমুদ্র মন্থন-১

সমুদ্রের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল।

ঢেউগুলো কন্ট্রোল করবে

তখন মারীচদের ব্যবসা রমরম

অষ্টম গর্ভ তখন প্রতীক্ষার কারাগার

নবম দশম নতুন শাড়ীর গন্ধে ম ম

সবুজ গালিচায় কৃষ্ণচূড়ার রোজ নতুন নতুন

ডিগবাজি

রাধা সবে ডান্স ক্লাসে

কন্ট্রোলরুম খোলার বদলে সমুদ্র

খুলে ফেলেছে প্যাণ্ডোরার বাক্স

দৈত্যভরা বোতল বোতলের ছিপি

ছিপের ফাতনা

খুলে ফেলছে জামার বোতাম

খুলে ফেলছে বোতাম হুক সব

তখনও রেলগাড়ি হ্যামলিনের সিটি দিয়ে

সব দুর্গা-অপুদের গ্রামছাড়া করছে

সঞ্চয়িতা থেকে লম্বা লম্বা কবিতারা

গলা শুকিয়ে কাঠ করে দিচ্ছে

চাতকের চিৎকার

পঁচিশে বৈশাখ পঁচিশে বৈশাখ পঁচিশে বৈশাখ

তখনও আলো সাত রঙে ভাঙে

আকাশবাণী আকাশে আকাশে বাজিয়ে

দিচ্ছে শরতের রাইজিং বেল

শিউলির মধ্যে লেগে যাচ্ছে কচি প্রেমের ছোঁয়া

সব চোখ কৃষ্ণকলি সব চোখেই ফেনা

স্বপ্নের

সব ঘোড়াতে রাজপুত্র

সব আয়নায় ডানা

সমুদ্র কন্ট্রোল কন্ট্রোল কন্ট্রোল।

সমুদ্রের সঙ্গে আরও কথা হয়েছিল।

সমুদ্র মন্থন-২

সমুদ্রের সাথে আরও কথা ডুবে যায়

ডুবে যায় ঘোড়ার খুর, অস্ত্রের ঝন ঝন ,মিছিলের হাহাকার

ডুবে যায় কর্ণের সত্যবদ্ধ চাকা

গুলিতে গুলিতে ঝাঁঝরা নিধি প্রতিনিধি

তবু মোজেশ সমুদ্রের বুক চিরে মঝঝিম পন্থা

অহল্যা হল-যোগ্যা হয়ে উঠছে

আষাঢ়ের প্রথম ফোঁটায়

পদ্মের গোপন-জবান বন্দী হচ্ছে ভোমরের কালিতে

যৌনতার থরথর আবেগ মাখামাখি হয়ে যাচ্ছে সূর্যাস্তে

খোলা সমুদ্রের কাঁধে রাত পরী বসে রোদ পোহায়

নক্ষত্রের পাশে শুয়ে থাকছে ভাঁট শিউলি কলমির ঋতুকাল

মাষ্টার মশাই ঘাড় উঁচু আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে

স্বাধীনতা ঝরে পড়ার অপেক্ষায়

বেদগানে গমগম করছে সকালের বুদবুদ

লৌহ-প্রস্তরযুগ অভয়ারণ্য ফুঁড়ে

ঢল দীঘির জলে নেমে পড়ছে

চণ্ডীদাসের অজ্ঞাত-সহ-বাস

তারপরে ফেলে আসতে হয় ডোরাকাটা অন্তর্বাস

দেয়ালের পাশে নিষিদ্ধ সিঁদকাঠি

রয়ে যাচ্ছে পাঞ্চালীর হাতে খসে পড়া আমের গন্ধ

সমুদ্রের গর্জন কন্ট্রোল হয়ে চলে ট্রামের কুয়াশায়

ছিঁড়ে যাচ্ছে শিকড়, দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে বাস্তু সাপের ঘ্রাণ

ঘুড়িরা তুলে নিচ্ছে মন

আকাশ ভরে যাচ্ছে বাষ্পেরবর্ণমালায়

চেনা ঘাসে অচেনা আত্মহত্যা

নদীর মৃত্যুদণ্ড ডেকে আনছে জাদুঘর

গৈরিক অন্তর্বাস নিংড়ে ফেলছে দমন-অবদমনের সুঁড়ি পথ

অনেক গর্জন মিশিয়ে ফেলছে দিনকালের গর্তে ঘামে

আর অনেক নতুন না-বলা কথায়।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮