• সূর্য সেনগুপ্ত

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় - সাহিত্যে এবং স্মৃতিতে

জন্ম ৩০শে মার্চ ১৮৯৯

মৃত্যু ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭০


একাধারে ইতিহাস, রোমান্স, রহস্য ও আধিদৈবিক বিষয়কে উপজীব্য করে বাংলা ভাষায় অসাধারণ সাহিত্যে সৃষ্টি করে গেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিল তাঁর চকিত রসবোধ এবং লেখার প্রসাদগুণ। একাধারে ইতিহাস, রোমান্স, রহস্য ও আধিদৈবিক বিষয়কে উপজীব্য করে বাংলা ভাষায় অসাধারণ সাহিত্যে সৃষ্টি করে গেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।


শরদিন্দুবাবু উত্তম সংস্কৃত জানতেন। চলতি ও তৎসম দুটি ধরণের বাংলা ভাষায় তাঁর অসামান্য দখল ছিল, অথচ তিন অল্প সময়ই বঙ্গভূমির সীমারেখার মধ্যে বাস করেছেন। সেই ভাষায় ভর করে তাঁর গল্প, উপন্যাস এগিয়ে যেত – সাহেবদের ভাষায় যাকে বলে ইট ফ্লোজ লাইক অয়েল। প্রাতঃস্মরণীয় সুকুমার সেন লিখেছেন, “শরদিন্দুবাবুর গল্পের গুণ বহুগুণিত করেছে তাঁর ভাষা। কাহিনীকে ভাসিয়ে তাঁর ভাষা যেন তরতর করে বয়ে গেছে সমাপ্তির সাগরসঙ্গমে। সে ভাষা সাধু না চলতি বলা মুস্কিল। বলতে পারি সাধু-চলিত কিংবা চলিত-সাধু। শরদিন্দুবাবুর স্টাইল তাঁর নিজেরই – স্বচ্ছ, পরিমিত, অনায়াসসুন্দর।”


তাঁর জন্ম হয় মামার বাড়ি উত্তর প্রদেশের (তৎকালীন যুক্ত প্রদেশ) জৌনপুরে (পরবর্তী কালে তাঁর পুণের বাসভবনের নামকরণ ‘মিথিলা’ দেবার এটাই কারণ) । বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার বাস করতেন বিহারের পূর্ণিয়া শহরে, কিন্তু আদি নিবাস ছিল কলকাতার উত্তর উপকণ্ঠে বরাহনগরে। সেখান থেকে তাঁর পিতা তারাভূষণ পূর্ণিয়ায় ওকালতি করতে চলে যান। তারাভূষণ ছিলেন ডাকসাইটে উকিল। তাঁর “ব্যোমকেশ ও বরদা” গল্পের পটভূমিকা ছিল মুঙ্গের শহর এবং সেখানকার একজন উকিলের চরিত্র ছিল যে চরিত্রটি, কথিত আছে যে শরদিন্দুবাবু তাঁর বাবার আদলে গড়েছিলেন। চরিত্রটির নামেও বাবার নামের ছোঁয়া ছিল – চরিত্রটির নাম ছিল তারাশঙ্কর। তারাভূষণ বাল্যকালে রবীন্দ্রনাথের সংস্পর্শে আসেন। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে তিনি ও সরলা দেবী একসাথে গান শিখতেন।


শরদিন্দু পূর্ণিয়া থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করে কলকাতায় এসে বিদ্যাসাগর কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি শিশির কুমার ভাদুড়ীকে শিক্ষক হিসাবে পান। ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম পুস্তক, একটি কবিতা সংগ্রহ প্রকাশিত হয়। তখন তার বয়ঃক্রম বিংশতি বৎসর। কিন্তু সেই কাব্য ক্রমশঃ কাল গহ্বরে মিলিয়ে গেছে। এখানে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমের সাথে শরদিন্দুবাবুর একটা সাদৃশ্য পাওয়া যায়। বঙ্কিমবাবুও তাঁর সাহিত্যজীবন শুরু করেছিলেন কবিতা দিয়ে, যা তৎকালীন পাঠক মহলে আদৃত হয় নি।


শরদিন্দু রচিত ‘তড়াগ’ কবিতার একটি স্তবক শুনুন –

ক্রমে সন্ধ্যাকালে –

সূর্য যবে রক্তমুখে নেমে যায় ধরণীর নীচে

লুক্কাইত অন্ধকার সুভ্রুকুটি ছুটে আসে পিছে,

অস্ফুট ভীতির স্বরে দিয়ে উঠে সাড়া,

গোধূলি মলিন মুখে অশ্রুজলে হাস সন্ধ্যা তারা।


কলকাতা থেকে স্নাতক হবার পর তিনি পাটনা যান আইন পড়বার জন্য। স্বভাবতই তাঁর পিতার মনোবাসনা পূর্ণ করবার নিমিত্ত তাঁকে পাটনাতে যেতে হয়েছিল এবং পরে আইন পাশও করেছিলেন তিনি (১৯২৬), কিন্তু কখনোই পাকাপাকি ভাবে গায়ে শামলা এঁটে ওকালতি করেন নি, যা কিনা বাংলা সাহিত্যের পক্ষে অসীম সৌভাগ্যের ব্যাপার। ১৯২৯ সাল থেকে তিনি সম্পূর্ণভাবে লেখার কাজে মনোনিবেশ করেন।


*****


শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য কীর্তির প্রধান স্তম্ভ হল তাঁর গোয়েন্দা গল্প ও উপন্যাস। তাঁর আগে বাংলা গোয়েন্দা কাহিনীর মূল ধাঁচাটা আর পাঁচটা বিলাস ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মত আমদানি করা হয়েছিল বিলেত থেকে। সেই আমদানির দুই জনপ্রিয় হোতা ছিলেন প্রথমে পাঁচকড়ি দে ও পরে দীনেন্দ্র কুমার রায়, যাঁদের লেখায় তৎকালীন ইংরাজ ও ফরাসী লেখকদের অনুকরণ ছিল। এঁদের গোয়েন্দাগণ কেউই প্রাইভেট ডিটেকটিভ ছিলেন না। ছিলেন হয় পুলিশ নয় প্রাক্তন পুলিশ কর্মচারী। শরদিন্দুবাবু তাঁর অনন্য প্রতিভা বলে বাংলা ডিটেকটিভ কাহিনীকে মৌলিক, মানবিক ও সাহিত্যিক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন। শরদিন্দুবাবু একদা এক সাক্ষাতকারে (আনন্দবাজার পত্রিকা ১৩৭৫ [১৯৬৯] এর ৪ঠা কার্ত্তিক) বলেছিলেন, “ওগুলি (ব্যোমকেশের কাহিনীগুলি) নিছক গোয়েন্দা কাহিনী নয়। প্রতিটি কাহিনী আপনি শুধু সামাজিক কাহিনী হিসেবেও পড়তে পারেন। ...... একটি কথা, জীবনকে এড়িয়ে কোনদিন গোয়েন্দা গল্প লিখবার চেষ্টা করিনি।” তাঁর এই বক্তব্যকে বিশেষ ভাবে সমর্থন করে তাঁর বেশ কিছু গোয়েন্দা গল্প। একটা গল্পের নমুনা দিই।


‘রক্তের দাগ’ একটি অভিনব গল্প, গড়ে উঠেছে এক সামাজিক সমস্যা জনিত রহস্যের ওপর ভিত্তি করে । গল্পটি শুরু হচ্ছে এক একবিংশ বৎসর বয়স্ক যুবকের ব্যোমকেশ সকাশে আগমন দিয়ে। ছোকরা ব্যোমকেশকে দেখে বলল, আপনাকে দিয়ে আমার কাজ চলবে। মজা পেয়ে ব্যোমকেশ শুধল, তাই নাকি! কাজটা কি? যুবক একতাড়া নোট ব্যোমকেশের সামনে ফেলে দিয়ে বললে, আমার যদি হঠাৎ মৃত্যু হয় আপনি আমার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করবেন। এই কাজ। পরে আপনার পারিশ্রমিক দেওয়া সম্ভব হবে না, তাই আগাম দিয়ে যাচ্ছি। সেই তাড়ায় ছিল এক হাজার টাকা। কাহিনীর অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতে সেই ছোকরার রিভলভারের গুলিতে মৃত্যু হল। ছোকরা ছিল মধ্যবয়স্ক ঊষাপতিবাবুর স্ত্রীর জারজ পুত্র। এর অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে ঊষাপতিবাবু এক অভিনব উপায়ে তাকে খুন করেন। ব্যোমকেশ শেষ পর্যন্ত খুনের মোডাস অপারান্ডি-টা ধরে ফেলে এবং খুনির সাথে একান্তে বসে পুরো ঘটনাটি শোনে, যার অধিকাংশই সে ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছিল। গল্পের শেষ পরিচ্ছেদটা শুনুন –


হঠাৎ ব্যোমকেশ বলিল, “আজ ঊষাপতিবাবু যাবার সময় আমার হাত ধরে বললেন, ‘ব্যোমকেশবাবু, আমি আর আমার স্ত্রী জীবনে বড় দুঃখ পেয়েছি একুশ বছর ধরে শ্মশানে বাস করেছি। আজ আমরা অতীতকে ভুলে গিয়ে নতুন করে জীবন আরম্ভ করতে চাই, একটু সুখী হতে চাই। আপনি আর জল ঘোলা করবেন না।’ আমি ঊষাপতিবাবুকে কথা দিয়েছি, জল ঘোলা করব না। কাজটা হয়তো আইনসংগত হচ্ছে না। কিন্তু আইনের চেয়েও বড় জিনিষ আছে – ন্যায়ধর্ম। তোমাদের কি মনে হয়? আমি অন্যায় করেছি?


সত্যবতী ও আমি সমস্বরে বলিলাম, “না।”


১৯৩২ সালে প্রথম ব্যোমকেশ বক্সী কাহিনীর আবির্ভাব ঘটে “পথের কাঁটা” গল্পের মধ্যমে। তারপর গোটা দশেক ব্যোমকেশে-কাহিনী লিখে ১৯৩৮ সালে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) চলে যান ও হিমাংশু রায়ের বম্বে টকিজে যোগ দিয়ে কাহিনী-চিত্রনাট্য রচনার কাজে লিপ্ত হন (দুর্গা, কঙ্গন, নবজীবন ইত্যাদি)।


চোদ্দ বছর বোম্বেতে অতিবাহিত করবার পর শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সিনেমা জগতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ১৯৫২ সালে পুণেতে থিতু হয়ে সম্পূর্ণভাবে লেখার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।


বর্তমান প্রতিবেদকের মতে তাঁর শ্রেষ্ঠ তিনটি ব্যোমকেশ কাহিনী হল ‘দুর্গ রহস্য’, ‘মাকড়সার রস’ ও ‘সীমন্ত-হীরা’। নট নেসেসারিলি ইন দ্যাট অর্ডার! এই কাহিনীগুলি পটভূমির চমৎকারিত্বে, রহস্যের বৈচিত্র্যে ও তদন্তের বুদ্ধিদীপ্ততায় সবার ওপরে স্থান নিয়েছে।


দুর্গ রহস্যের পটভূমি ছিল বিহারের কোন এক গ্রাম্য পাহাড়ি অঞ্চলের পাশাপাশি দুটি টিলা। একটি টিলার শৃঙ্গে একটি বসতবাটি, অন্যটির শৃঙ্গে একটি প্রাচীন দুর্গ। সেই দুর্গে একটি খুন হল। খুনের কারণের পশ্চাতে ছিল এক উত্তেজক ঐতিহাসিক ঘটনা। যা নিহত ভদ্রলোক আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন, যার জন্য তাঁকে প্রাণ দিতে হল। যা আবিষ্কৃত হয়েছিল, তা হল সিপাহি বিদ্রোহের সময় লুক্কাইত সোনা। অনেক সোনা। ব্যোমকেশ সেই সোনা আবিষ্কার করল, খুনী ধরতেও সময় লাগল না।


মাকড়সার রসের কাহিনীতে কোন হত্যা ঘটেনি, এমন কি কোন ক্রাইমও ঘটেনি, কিন্তু কলকাতা শহরের এক সাধারণ গৃহস্থ সংসারে যা ঘটেছে তা অতি বিচিত্র। একজন বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সার জারিত রসের নেশা করত, যা তার স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। সে বাড়ি থেকে নির্গত হত না কিন্তু সেই নেশার বস্তু তার কাছে এক অজ্ঞাত উপায়ে পৌঁছে যেত। ব্যোমকেশ নিজে সেখানে না গিয়ে অজিতকে পাঠাল। অজিত সব দেখেশুনে ফিরে এসে রিপোর্ট করল, বলল যে সে এমন কিছু দেখে নি যাতে কিনা রহস্যের কোন কিনারা হতে পারে এবং আরও বলল যে সে দেওয়ালে কিছু মাকড়সা দেখতে পেয়েছে। ব্যোমকেশের হাসি আর থামে না। সীমন্ত-হীরাতেও কোন আপাত-ক্রাইম ঘটে নি। কাহিনীর ইউ.পি.এস হল ব্যোমকেশের সাথে তার ক্ষুরধার বুদ্ধি সম্পন্ন প্রতিদ্বন্দ্বীর ধীশক্তির লড়াই।


যদিও শরদিন্দুবাবুর মতে ব্যোমকেশ কাহিনীর সেরার শিরোপা পেয়েছে ‘চিড়িয়াখানা’। প্রতিবেদকের পছন্দের পরবর্তী তালিকায় আসবে ‘পথের কাঁটা’ ‘চিড়িয়াখানা’ ও ‘চোরাবালি’। শরদিন্দুর যে কোন রহস্য-কাহিনী উচ্চমানের দাবী রাখে এবং তাই শ্রেষ্ঠত্বের বিচার করা এক কঠিন কাজ। তথাপি উপরোক্ত কাহিনীগুলি উচ্চতম মানের অধিকারী বলে আমি মনে করি। সেখানে সাইকেলের বেল থেকে গ্রামাফোনের পিন বেরিয়ে এসে মানুষকে হত্যা করে, হত্যাকারী নিরীহ শিকারকে চোরাবালির ওপর পাঠিয়ে তার জীবনাবসান ঘটায়, প্রেত গভীর রাত্রে এসে ব্যোমকেশকে রহস্যের সঠিক নির্দেশ দেয়, রাত্রে শেয়াল দেখে ব্যোমকেশ কালো ঘোড়া রহস্যের সমাধান করে, এক বিরল ফিসিওলজিক্যাল দুর্ঘটনায় নায়কের হৃদয় বুকের ডানদিকে অবস্থিত থাকায় সে আক্রান্ত হয়েও বেঁচে যায়। জি.কে.চেস্টারটনের থিওরি অনুযায়ী ‘দ্য ইনভিজিবিল ম্যান’ এর কথা ভেবে ব্যোমকেশ হত্যাকারীকে চিনতে পারে, দরজার নীচে রাংতা সাঁটিয়ে দিয়ে হত্যাকারী আক্রান্তের কৌতূহল জাগিয়ে তাকে নিচু হতে বাধ্য করে ওপর থেকে গুলি চালায়। মনে হয় যেন শরীরের তলা থেকে গুলি চলেছে, কারণ বুলেটটি কোমর দিয়ে ঢুকে ওপর দিকে গিয়ে হার্টে বিদ্ধ হয় – এমনি আরও অনেক বিচিত্র ঘটনাবলী পাওয়া যাবে তাঁর রহস্য কাহিনীতে।


শরদিন্দুবাবু তাঁর শেষ ব্যোমকেশ উপন্যাস ‘বিশু পাল বধ’ শেষ করে যেতে পারেন নি।


*****



তাঁর প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘কালের মন্দিরা’। পটভূমি উত্তর-পশ্চিম ভারতের গুপ্ত সাম্রাজ্য। ঐতিহাসিক চরিত্র গুপ্ত সম্রাট স্কন্দগুপ্ত। সময় ষষ্ঠ শতাব্দীতে হূন আক্রমণ। ১৯৩৮ সালে রচনা শুরু করে ১৯৫০ সালে উপন্যাসটি শেষ করেন। উপন্যাসের ভূমিকায় একটি মর্মস্পর্শী স্বীকারোক্তি দিয়ে এই বিলম্বের ব্যাখ্যা করেন। দ্বিতীয় উপন্যাস গৌড়মল্লার। পটভূমি বাংলার গৌড়ভূমি। শরদিন্দুবাবু ভূমিকায় বলেছেন, “আমার কাহিনী শশাঙ্কর মৃত্যুর (শশাঙ্কর রাজত্বকাল হল ৫৯০ থেকে ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ) অব্যবহিত পরে আরম্ভ হইয়া বিংশ বৎসর পরে শেষ হইয়াছে।” ঐতিহাসিক চরিত্র শশাঙ্কর পুত্র মানবদেব ও জয়নাগ (মানবদেবকে সিংহাসনচ্যুত করে যিনি গৌড়ের রাজা হন)। রচনা কাল ১৯৫৩। তৃতীয় উপন্যাস ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘ’। পটভূমি মধ্য ও উত্তরপূর্ব ভারত (কলচুরি, পাটলিপুত্র, বিক্রমশীল বিহার)। কিন্তু শরদিন্দুবাবু তাঁর ভূমিকায় লিখেছেন, “যে লঘুচিত্ততা, অপরিণামদর্শিতা, স্বজাতিবিদ্রোহিতা, ও অন্তঃকলহের ফলে ভারতের সংস্কৃতি নয় শত বৎসরের জন্য অস্তমিত হইয়াছিল তাহারই চিত্র আমার কাহিনীর পটভূমি।” ঐতিহাসিক চরিত্রাবলী দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান, রত্নাকর শান্তি, নয়পাল, বিগ্রহপাল, লক্ষ্মীকর্ণদেব, তিব্বতীয় আচার্য বিনয়ধর ইত্যাদি। সময় একাদশ শতাব্দীতে পাল বংশের নয়পালের রাজত্ব (১০৩৮ থেকে ১০৫৪ খ্রিষ্টাব্দ)। রচনাকাল ১৯৫৮। চতুর্থ উপন্যাস ‘কুমারসম্ভবের কবি’। পটভূমি পশ্চিম ভারতের উজ্জয়িনী নগর, গুপ্ত সাম্রাজ্যের অঙ্গ। সময় চতুর্থ থেকে পঞ্চম শতাব্দী। ঐতিহাসিক চরিত্র মহাকবি কালিদাস ও সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য। রচনাকাল ১৯৬৩। শেষ উপন্যাস ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’। পটভূমি দক্ষিণ ভারতের বিজয়নগর রাজ্য। ঐতিহাসিক চরিত্র রাজা দেবরায়। সময় পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমভাগ। রচনাকাল ১৯৬৫।


এই তালিকাটি তাঁর বিস্তৃত ঐতিহাসিক জ্ঞান ও ইতিহাসের রোম্যান্টিসিসমের প্রতি তাঁর আকর্ষণ প্রতিপন্ন করে। ভারতের উত্তর মধ্য পূর্ব পশ্চিমাঞ্চল ব্যাপী নানা রাজ্য, সাম্রাজ্যকে পটভূমি করে, খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত দীর্ঘ নয় শত বছরের বিভিন্ন সময়ের ইতিহাস নিয়ে ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৬৫ সালের পনের বছরের মধ্যে তিনি পাঁচটি অতি উত্তম ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখেন। তাঁর পূর্বে বঙ্কিমবাবু, রমেশচন্দ্র দত্ত প্রভৃতিরা বাংলা ভাষায় ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখেছেন, কিন্তু তাঁর এই পাঁচটি উপন্যাস পাঠক মনে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অবিচল আছে। নিজে লিখেছিলেন, “ইতিহাসের গল্প লিখেই বেশী তৃপ্তি পেয়েছি। মনে কেমন একটা সেন্স অফ ফুলফিলমেন্ট হয়। গৌড়মল্লার ও তুঙ্গভদ্রার তীরে লিখে খুব তৃপ্তি পেয়েছিলাম।”


বর্তমান লেখক বারম্বার এই পাঁচটি উপন্যাস পড়েছেন এবং নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেন যে লেখাগুলি আদপেই পুনরাবৃত্তির দোষে দুষ্ট নয়। ইতিহাসও কোথাও বিকৃত হয় নি। শরদিন্দুবাবু নিজেই ‘তুঙ্গভদ্রার তীরে’র ভূমিকায় বলেছেন “...... আমার কাহিনী Fictionized history নয়, Historical fiction।” উপন্যাসগুলিতে তৎসম শব্দ ভিত্তিক ক্লাসিকাল ভাষা ও সেই ভাষা দিয়েই এক বিশ্বাসযোগ্য বাতাবরণ সৃষ্টি করে তিনি এগুলিকে এক মধুর পাঠযোগ্যতা দিয়েছিলেন, যেখানে নায়িকার নাম রট্টা যশোধরা, অজানা এক অস্ত্রের নাম অগ্নি কন্দুক, পথের ধারের সরাইখানায় মানুষ ভর্জিত মৎস্যান্ড দিয়ে মাধ্বী পান করেন, ঘোড়ার নাম দিব্যজ্যোতি, রাজা যখন চৌষট্টি কোঠার ছক আঁকা পীঠিকার সামনে বসে নববল খেলেন তখন তাঁর পাশে তাম্বুলের করঙ্ক ও ফলাম্লরসের ভৃঙ্গার নিয়ে কিঙ্করী নতজানু হয়ে বসে থাকে। গ্রামের লোক কর্ণসুবর্ণ নগরে এসে কড়ি কার্ষাপণ দ্রহ্মের বিনিময়ে পণ্য বিক্রয় করে গ্রামে ফিরে যায়। মার্তন্ডদেব অস্তগমন কালে পশ্চিম দিগন্তে স্বর্ণকুঙ্কুমের প্রলেপ লাগিয়ে দিয়ে যান। ঐতিহাসিক বাতাবরণ ও রোম্যান্টিসিসমের সমন্বয়ে এক অভূতপূর্ব চিত্রকল্প।


বাকি রইল ছোটগল্প, যার তিনটি ভাগ – সামাজিক, ঐতিহাসিক ও ভৌতিক এবং ছোটদের জন্য কাহিনী।


*****


বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প অতি সমৃদ্ধ অঞ্চল। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রধান ছোটগল্পকারদের তালিকায় শরদিন্দুবাবু নাম বড় একটা আসে না। সুকুমার সেন তাঁর বিখ্যাত ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস’ পুস্তকে (চতুর্থ খণ্ড, ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ) লিখেছেন, “ইতিহাস হইতে কাহিনী ও সাধারণ জীবন লইয়া শরদিন্দুবাবু কয়েকটি ভালো ছোটগল্প লিখিয়াছেন। ভূতের গল্প, ডিটেকটিভ গল্প, নাট্য চিত্র লেখাও ইনি বিশেষ স্বাছন্দ্য ও দক্ষতা দেখাইয়াছেন।” ব্যাস, এইটুকুই। আমার মনে হয় না যে শরদিন্দুবাবুর সাহিত্য প্রতিভা ও গল্পগুলির ঔৎকর্ষর প্রতি এই ধরণের ‘Also ran’ উক্তি সুবিচার করেছে। আমার সব সময় মনে হয়েছে শরদিন্দুবাবু কখনোই মামুলি কিছু লিখতেন না। সেই সুবাদে তাঁর গল্পের কাহিনী গঠন, লিখন এবং পরিণতি সব সময়েই বিশেষত্বের দাবী করতে পারে।


তাঁর সামাজিক ছোটগল্পগুলির মধ্যে কর্তার কীর্তি, ভল্লু সর্দার, হেমনলিনী, কানু কহে রাই, কিষ্টোলাল প্রভৃতি উত্তম, বারম্বার পাঠযোগ্য গল্প। ভল্লু সর্দার বাংলা পাঠক মহলে একটি জনপ্রিয় চরিত্র ছিল, হয়তো আজও আছে। ভল্লু শরদিন্দুবাবুরও প্রিয় চরিত্র ছিল। লিখেছেন, “ভল্লু সর্দারের প্রতি আমার দুর্বলতা ছিল। ভল্লুর প্রেম বলে একটা গল্প লিখতে ইচ্ছেও হয়েছিল। প্ল্যানও করছিলাম। তবে লেখার মুড আর আসেনি।”


শরদিন্দু সৃষ্ট বরদা একটি অভিনব চরিত্র। সে ভূত বিশেষজ্ঞ। বরদাকে নিয়ে বা তাঁর বয়ানে অসাধারণ কিছু ভূতের গল্প শরদিন্দু উপহার দিয়েছেন, যেগুলি অমনিবাসের পঞ্চম খণ্ডে সংকলিত হয়েছে। শরদিন্দুবাবুর ভূত মানুষকে অহেতুক ভয় দেখায় না। ঘাড় মটকে দেয় না। রক্ত চুষে খায় না। তারা জানে যে তারা এক সময় মানুষ ছিল এবং মানুষ ছাড়া তাদের অস্তিত্ব নেই। শরদিন্দুবাবুর ভূতদের মধ্যে আবার একটা মানবিকতাও আছে। তাঁর “ভূত–ভবিষ্যৎ” গল্পের ধরতাইটা শুনুন,


“গভীর রাত্রে টেবিলের উপর ঝুঁকিয়া বসিয়া উপন্যাসখানা লিখিতেছিলাম। টেবিলের এক কোনে মোমবাতিটা গলদশ্রু হইয়া জ্বলিতেছিল। হঠাত চোখ তুলিয়া দেখি প্রেত সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে।

কলম রাখিয়া দৃঢ়স্বরে বলিলাম, ‘আমি পারব না।’

প্রেত কাতর চক্ষে আমার পানে চাহিয়া রহিল, মিনতি ভরা স্বরে বলিল, “আপনি দয়া না করলে আমার আর উপায় নেই। মেয়েটা নষ্ট হয়ে যাবে। পাড়ার ছোঁড়াগুলো তার পেছনে লেগেছে।”

প্রেতের কণ্ঠস্বর ঘষা ঘষা; গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুরু হইবার আগে যেরূপ শব্দ হয় অনেকটা সেই রকম। আমি বিরক্ত হইয়া বলিলাম, “তা আমি কি করব? আপনি অন্য কারুর কাছে যান না।”

প্রেতের অনুরোধ ছিল সে জীবিতকালে নিমগাছের নীচে একশ আকবরী মোহর পুঁতে রেখেছিল। সেটাকেই খুঁড়ে বার করে প্রেতের উত্তরপুরুষের হাতে দিতে হবে যাতে সে তার মেয়ের বিয়ে দিতে পারে। উপভোগ্য কাহিনী।


পুনরপি প্রত্যাবর্তন করি শরদিন্দুবাবুকৃত ঐতিহাসিক কাহিনীর বাতাবরণের নীচে। বড়দের জন্য যত ছোটগল্প লিখেছেন, তার মধ্যে সতেরটি ঐতিহাসিক। এছাড়া ছোটদের অন্য লেখা গল্পগুলির মধ্যে আটটির পটভূমি ইতিহাস, অবশ্য সে কাহিনীগুলিতে অ্যাডভেঞ্চারই প্রধান, যেমন সদাশিবের পাঁচটি গল্প যার পটভূমি ছত্রপতি শিবাজীর কালের যুদ্ধ সংকুল সময়। ‘ঝিলম নদীর তীরে’ নামক শিশু কাহিনীর মধ্যে আমরা দেখতে পাই আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের পটভূমিতে বৃষল নামে এক যুবককে যে পরবর্তীকালে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত হয়ে ওঠেন। ‘ময়ুরকূট’ গল্পে আছে বাংলার পূর্বপ্রান্তের এক কাল্পনিক রাজ্যের বীর কি অদ্ভুত উপায়ে মগ আক্রমণ প্রতিহত করল। সর্বোপরি আছে শ্রীকৃষ্ণ যে মণিটিকে বক্ষে ধারণ করতেন সেই স্যমন্তক মণিকে নিয়ে গল্প ‘স্যমন্তক’। যদিও আমরা জানি যে শ্রীকৃষ্ণ হলে পৌরাণিক চরিত্র, কিন্তু শরদিন্দুবাবু স্যমন্তক গল্পের ভূমিকায় কি লিখেছিলেন শুনুন – “

“আজ থেকে আন্দাজ সাড়ে তিন হাজার বছর আগেকার ঐতিহাসিক কাহিনী লিখছি। শ্রীকৃষ্ণ ঐ সময়ে ছিলেন। যে শ্রীকৃষ্ণকে আমরা অবতার বলে জানি, সেই শ্রীকৃষ্ণ। তখন তিনি কিন্তু অবতার বলে পরিচিত হননি। মানুষ কৃষ্ণ কে নিয়ে আমাদের গল্প।”


‘রক্তসন্ধ্যা’ তাঁর শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক গল্প। শুধু শরদিন্দুর বলে নয়, আমি মনে করি বাংলাভাষায় লিখিত ঐতিহাসিক গল্পগুলির মধ্যে এটি শ্রেষ্ঠতম। এর প্রসারিত জনপ্রিয়তা প্রমাণিত হয় যে এটি বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করে, ইংরাজি সহ নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে কোনান ডয়েল ও জ্যাক লন্ডনের লেখা পড়ে তিনি জাতিস্মর বিষয়টি নিয়ে উৎসাহিত হয়েছিলেন। সুকুমার সেন মহোদয় লিখেছেন, “দূরকালের ইতিহাসকে বর্তমান কালের গোচরে আনবার যে অভিনব কৌশলটি শরদিন্দুবাবু অবলম্বন করেছে তা হল জাতিস্মর কল্পনা।” ভাস্কো ডা গামার (১৪৬০ – ১৫২৪) ভারতবর্ষে পদার্পণ ও ফিরে গিয়ে আবার প্রত্যাবর্তনের পটভূমিতে রচিত গল্পটি আমারা শুনি এক জাতিস্মরের মুখ থেকে। যিনি সেই জন্মে ডা গামার হাতে নিহত হয়েছিলেন, কাহিনীর আধুনিক সময়ের পুনর্জন্মে তিনি ডা গামাকে খুঁজে পান এবং তার এই জন্মে সেই হত্যার প্রতিশোধ নেন। রোমাঞ্চকর এই কাহিনী।


বাঙালির প্রিয় কাহিনী ‘চুয়া চন্দন’। কাহিনীর পটভূমি পঞ্চদশ শতাব্দীর নবদ্বীপ। নিমাই পণ্ডিত (১৪৮৬ – ১৫৩৪) অন্যতম প্রধান চরিত্র। নায়িকার নাম চুয়া, নায়ক হলেন তরুণ শ্রেষ্ঠী চন্দনদাস। ঐতিহাসিক পরিবেষ্টনীর মাঝে অ্যাডভেঞ্চার ভরা এক অসাধারণ প্রেমের গল্প। শরদিন্দুবাবু লিখেছিলেন, “চুয়াচন্দন’ ছয়বার লিখেছিলাম। যতক্ষণ না লিখে তৃপ্তি হচ্ছে, শান্তি নেই।” আখ্যায়িকার শুরুতে শরদিন্দুবাবু যেখানে নিমাই পণ্ডিতকে পাঠকদিগের সমীপে আনয়ন করলেন, সেই স্থানটি উদ্ধৃত করি –

“...... এমন সময় নবদ্বীপের স্নানঘাটে এক কৌতুকপ্রদ অভিনয় চলিতেছিল ......... একজন অতি গৌরকান্তি যুবা – বয়স বিশ বছরের বেশী নয় – তর্ক বাঁধাইয়া দিয়া, পাশে দাঁড়াইয়া তাহাদের বিতন্ডা শুনিতেছিল ও মৃদু মৃদু হাস্য করিতেছিল। তাহার ঈষদরুণ আয়ত চক্ষু হইতে যেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, পাণ্ডিত্যের অভিমান ও কৌতুক এক সঙ্গে ক্ষরিয়া পড়িতেছিল।”

শরদিন্দুবাবু অনায়াসে এক বিষ্ণুর অবতার ও এক বাংলার ঘরে ঘরে পুজ্যদেবকে মনুষ্য পদবাচ্যে এনে ইতিহাসের প্রতি ন্যায় বিধান করেছিলেন।


তৃতীয় যে কাহিনীটির কথা উল্লেখ করতে চাই তা হল, মহাকবি কালিদাসের কুমারসম্ভব রচনাকে উপজীব্য করে লিখিত “অষ্টম সর্গ” গল্পটি। বহু জ্ঞানী কাব্যালোচকদের মতে কালিদাস কুমারসম্ভবের সপ্তম স্বর্গে শিব-পার্বতীর বিয়ে দিয়ে কাব্যটি শেষ করেছিলেন। অষ্টম সর্গটি তাঁর লেখা নয়। অন্য একদলের মতে অষ্টম সর্গটিও কালিদাস রচিত, কারণ কালিদাসের স্টাইল এই সর্গে স্পষ্টই প্রতীয়মান। গল্পের একদম শেষভাগে শরদিন্দুবাবু কি লিখেছেন শুনুন –

“ক্রমে তাঁর মুখের ভাব স্বপ্নাচ্ছন্ন হইল। লেখনী মুষ্টিতে লইয়া তালপত্রের উপর পরীক্ষা করিলেন, তারপর ধীরে ধীরে লিখিলেন – ‘অষ্টম সর্গ’।”


একদম ছোটদের জন্য লেখা “পুষি-ভুলোর বনবাস” গল্পে Anthropomorphism-এর (পশুপাখিরা যখন মানুষের মত ব্যবহার করে) সুন্দর ব্যবহার আছে, যেটা ছোটরা পছন্দ করবে। কিশোরদের জন্য অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চার সদাশিবের পাঁচটি কাহিনী। শরদিন্দু দীর্ঘদিনের মহারাষ্ট্রে বাসের ফলে সেই অঞ্চলের ইতিহাস, আচার বিচার অধিগত করেছিলেন যার প্রতিফলন এই কাহিনীগুলিতে স্পষ্ট হয়েছে।


*****


সাহিত্য ব্যতীত আর তাঁর প্রিয় বিষয় ছিল জ্যোতিষ-চর্চা। তিনি নিজেই বলেছিলেন, “it has become a part of my life.” ব্যোমকেশ নিজেকে ‘লগন চাঁদা’ ছেলে বলে উল্লেখ করেছে। সন্দেহ নেই যে ব্যোমকেশের স্রষ্টা তার ছক বানিয়েছিলেন।


১৯৬৬ সালে নাগপুরে আমাদের অর্থাৎ নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের ৪২তম অধিবেশনের কার্যাবলীর বিবরণ থেকে উদ্ধৃতি দিই –“এই অধিবেশনে শ্রীতুষারকান্তি ঘোষের তরফ থেকে মহারাষ্ট্রে বসবাসকারী বাঙালি সাহিত্যিক শ্রীশরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুগান্তর পুরষ্কার ১,০০০ টাকা প্রদান করা হয়।”


১৯৫২ সালে পুনেতে এসে সেখানেই পাকাপাকি ভাবে বসবাস করবেন স্থির করে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়ির নাম দেন ‘মিথিলা’। ১৯৫৩ সালের ১৫ই অগাস্ট নতুন বাড়িতে গৃহপ্রবেশ হয়। ১৯ বছরে সেখানে বাস করবার পর ১৯৭০ সালে জুলাই মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে মুম্বাইয়ে পুত্রের বাসভবনে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই ১৯৭০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দেহত্যাগ করেন।


পরিতাপের বিষয় যে সিংহগড় রোডস্থ তাঁর বাসস্থানটিকে সংরক্ষিত করবার কোন প্রয়াস তাঁর বংশধর বা আত্মীয়স্বজনবৃন্দ কিম্বা তৎকালীন পুণের বঙ্গ-প্রবাসীগণ নেননি। শরদিন্দুবাবুর সাহিত্য বেঁচে থাকলেও, তিনি পুণে থেকে মুছে গেছেন।






নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮