• রাহুল দেব লাহিড়ী

গল্প - অঘোরী


উপুড় হওয়া সাদা প্যাস্টেল রঙের তুলে নেওয়া ঢাকনার মত চাঁদের অসমাপ্ত পরিধিটুকু দেখা যাচ্ছিল কেবল। রাত নামেনি ভালো করে। যক্ষ্মা রুগীর মত ক্ষয়িষ্ণু চাঁদ চেষ্টা করে যাচ্ছিল প্রাণপণ তার আলোটুকু পৃথিবীতে পৌঁছে দেওয়ার। আলো পৌঁছচ্ছিল না মাটি অবধি। বড় কঠিন সময় আজ। চাঁদের ব্যর্থতার অনুশোচনা গ্রাস করছিল আমাকেও। ঝাঁ ঝাঁ অন্ধকার অল্প চাঁদের আলোয় আরও রহস্যময়ী হয়ে নিজেই এক নিরেট অবয়ব। মোবাইল এর টর্চ এর আলোটুকু পড়ে অন্ধকারকে যেন আরও ভরসা দিচ্ছে। দুপাশ থেকে অদেখা অবয়ব আর প্রাণের অস্তিত্ব টের পাচ্ছিলাম। কোনোমতে পথটুকু পার হওয়া কেবল।

গ্রামটার নাম পারুল। কলকাতা থেকে এসে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এই আধা শহর গোসবা তে পৌঁছেছি আজ দুপুরে বাসে চড়ে। হোটেলে দুটো ভাত মুখে দিয়েই নৌকা করে ছোট্ট গঞ্জ মহম্মদপুর। সেখান থেকে ভ্যান রিক্সা চড়ে যখন পারুলে পৌঁছলাম তখন সন্ধ্যে নামছে চরাচরে। স্ট্যান্ড এ একটা চায়ের দোকানে বসে কয়েকজন আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাঁদের কাছে জিজ্ঞাসা করলাম শ্মশানের রাস্তা। কেমন নির্লিপ্ত হয়ে আঙ্গুল তুলে একজন রাস্তার দিগনির্দেশ করে দিল। কোনও কৌতূহল নেই কারো। আমি কে, কোত্থেকে কেন এই অসময়ে এসেছি, কিচ্ছু জানতে চাওয়া নেই। যেন এটাই স্বাভাবিক। আমার একটু অবাক লাগল। কিন্তু আশ্চর্য হলাম না। পাঁচ বছরের এই ফ্রি ল্যান্স সাংবাদিক জীবনে কম অদ্ভুত ঘটনার সম্মুখীন হইনি। এটা সে তুলনায় নিতান্তই সাদামাটা। বোধ হয় মাঝে মাঝে লোকজন আসে। শ্মশানকালীর মন্দিরে বাৎসরিক পুজোয় খুব ধুমধাম হয় শুনেছি। মুখে মুখে দেবীর এখন নাম হয়েছে মশান কালি।বাৎসরিক মেলা বসে। দেবী নাকি খুব জাগ্রত। আমাকে বোধ হয় লোকগুলো কোনও শহুরে ভক্ত ঠাউরেছে। তাছাড়া ঈষৎ স্থূল,মাঝারি উচ্চতার, বৈশিষ্ট্য হীন চেহারার আমাকে দেখে হয়ত পরিমিত কৌতূহল হয়নি তাদের। কিংবা নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত গুরুতর কোনও আলোচনায় ব্যস্ত ছিল তারা। এসব নানা কথা ভাবতে ভাবতে চলছিলাম। কাঁধে একটা কিট-ব্যাগ। তাতে ক্যামেরা, জলের বোতল আর বিস্কুটের প্যাকেট।

অফিস থেকে আমাকে পাঠানো হয়েছে কোনও 'বিশ্বস্ত' সূত্রে খবর পেয়ে, পারুল গ্রামের শ্মশানে নাকি কোনও এক অঘোরী সাধু আস্তানা গেড়েছে। সাধু-টাধু তে আমার বিশ্বাস নেই কোনোকালেই। কিন্তু পেটের দায়। তাছাড়া কৌতূহল ছিলই। এর আগে এক পীর-বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিঃসন্তান মহিলাদের গর্ভবতী 'বানিয়ে' খুব নাম করেছিলেন। আমার গোপন অপারেশন এ বাবার আসল চরিত্র ফাঁস হয় সেবার। সাথে ছিল তিথি, আমার কলিগ। এবার অফিস আমাকেই দায়িত্ব দিয়েছে এ কাজের।

গ্রামের মানুষের কাছে সঠিক দূরত্বের আন্দাজ পাওয়া কঠিন। প্রায়ই দেখেছি, 'এই সামনে' মার্কা দূরত্ব 2-3 কিলোমিটার এ দাঁড়ায়। এক্ষেত্রেও তাই হল। হাঁটা শুরু করে বুঝলাম, যত তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাব ভেবেছিলাম, ততটা নয়। আধা ঘণ্টা ধরে হেঁটে এখনো মন্দিরের টিকি টুকুও চোখে পড়েনি। অন্ধকার আর গা ছমছমে পরিবেশ, দুপাশের ঘন ঝোপ জঙ্গল ক্রমশ: গ্রাস করছিল আমার সত্তা। মোবাইল এ সিগনাল চলে গেছে অনেকক্ষণ। চার্জও কমে এসেছে যন্ত্রটার। লোকের চলার ফলে তৈরি হওয়া এই রাস্তায় শেষ কবে যাতায়াত হয়েছে কে জানে। নিজের ওপর বিশ্বাস আর পৌঁছনোর তাগিদে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। পাশের ঝোপঝাড়ে দুবার সরসর করে কি চলে যাওয়ার আওয়াজ শুনে চমকে উঠলাম। বোধ হয় সাপ-টাপ হবে।

আর কিছুটা এগোতেই একটা টিমটিমে আলো চোখে পড়লো। আরেকটু এগোতে একটা মন্দিরের অবয়ব। একটা পিলসুজ এর ওপর প্রদীপ জ্বলছে। পেছনে কালীমূর্তি। প্রদীপের কাঁপা কাঁপা আলোয় মা কালীর মূর্তি অলৌকিক। চোখদুটো জ্বলছে যেন ধকধক করে। লেলিহান জিহ্বা চকচক করছে। হঠাৎ সামনে কয়েকটা পশুর সম্মিলিত ক্রুদ্ধ জান্তব ঘর্ঘর আওয়াজ শুনে পিছিয়ে এলাম। বাঁ পাশের ঝোপে মোবাইলের আলো ফেলতে যা চোখে পড়ল, সেটা বীভৎস। কয়েকটা শেয়াল একটা মৃতদেহ তুলে এনেছে নদী থেকে। অনেকেই শ্মশানে মৃতদেহ পোড়ানোর জন্য পরিমিত কাঠ না পেয়ে অর্ধদগ্ধ দেহ নিক্ষেপ করে জলে। শেয়াল গুলো তারই একটা তুলে এনে নৈশ আহার সমাধা করছিল। পাঁচখানা প্রাণী, মুখে রক্ত লেগে আছে। মোবাইলের আলোর দিকে চোখ পড়তেই সবকটা মুখ তুলে তাকিয়েছে। চোখগুলো জ্বলজ্বল করছে প্রাণীগুলোর। আমার পা গেঁথে গেছে মাটির সাথে। শিরদাঁড়া দিয়ে যেন হিম স্রোত নেমে যাচ্ছে। কয়েক লহমা। প্রাণী গুলো আবার মন দিল খাওয়ায়। জীবিত প্রাণীর চেয়ে মৃতদেহ তাদের কাছে প্রিয়তর ও সুলভ।

আমি আবার এগোতে শুরু করি। মন্দিরের পেছন দিয়ে এক-ফালি নদী বয়ে গেছে তিরতির করে। তার বিস্তৃত পাড় জুড়ে শ্মশান যাত্রী দের দ্বারা পরিত্যক্ত কাপড় চোপড়, কয়েকটা ভাঙা হাঁড়ি, বাঁশের টুকরো চোখে পড়ল। একটা নিভে যাওয়া চিতাও। সরু ধোঁয়ার রেখা উঠছে কুণ্ডলী পাকিয়ে। চারদিক শুনশান। বাতাসের অস্তিত্ব নেই। থমথমে ভাব একটা। মন্দিরের ধারে একটা ঝাঁকড়া গাছ। কি গাছ কে জানে। হঠাৎ গাছে কোনও পাখি ডানা ঝটপট করে উঠেছে। চমকে উঠলাম। কেন যে মরতে এসেছি ছাই এখানে। সেই সাধু কোথায় তাই বা কে জানে। মনে হল একটু ঘুরে দেখি চারপাশটা।

মন্দিরের দিকে এগিয়ে গেলাম প্রথমে। কালীমূর্তির সামনে ভক্তদের দান করা কয়েকটা খুচরো পয়সা পড়ে আছে। একটা কুকুর শুয়েছিল মন্দিরের দাওয়ায় কুণ্ডলী পাকিয়ে। আমাকে এক ঝলক দেখে আবার আড়মোড়া ভেঙে শুয়ে পড়ল। একটা গুনগুন করে মন্ত্র ধ্বনি শুনতে পেলাম এবার। ভারী গলা। গলাটা আসছে মন্দিরের পেছন থেকে। মন্দিরের বাঁ পাশ দিয়ে ঘুরে আগাছা সরিয়ে এগোলাম পেছনের দিকে।

নদীর দিকে পাড় বরাবর একটা বাঁধানো সিঁড়ি নেমে গেছে। সিঁড়িটা নেমে শেষ হওয়ার মুখে একটা বাঁধানো বেদী মতন। বোধ হয় আগে কাপড় কাচার কাজে ব্যবহার হত। সেই বেদিতে একজন বসে টানা মন্ত্রোচ্চারণ করে চলেছেন। শুধু অবয়ব টুকু দেখতে পাচ্ছি আবছা চাঁদের আলোয়। মোবাইল এর টর্চ এতক্ষণে জবাব দিয়েছে। ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এগিয়ে গেলাম।

লম্বা দোহারা চেহারা ভদ্রলোকের। খালি গা। পরনে একটা লাল কৌপীন। পাশে একটা লম্বা লাঠি দেখলাম। একমনে টানা মন্ত্রোচ্চারণ করে চলেছেন। চোখ বোজা। এই অদ্ভুত পরিবেশে ভদ্রলোকের উপস্থিতি আরও অলৌকিক করে দিয়েছে পরিবেশ। নির্জন শ্মশানে শুধু শোনা যাচ্ছে ওনার গলা। মাঝে মাঝে শেয়ালের ডাক ভেসে আসছে কেবল। মানুষের অট্টহাসির মত সে ডাক শুনলে গায়ে কাঁটা দেয়। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি কে জানে! শুদ্ধ সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ আমার সম্পূর্ণ সত্তাকে গ্রাস করে নিচ্ছিল। ইনিই তাহলে সেই অঘোরী সাধু! নিতান্ত সাধারণ চেহারা ভদ্রলোকের। আমি ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছিলাম।

দশ মিনিট, কুড়ি মিনিট, নাকি আধ ঘণ্টা কেটে গেছে। মন্ত্রোচ্চারণ চলছেই। চাঁদের আলো উজ্জ্বলতর এখন। আমি যেন একটা ঘোরে আছি। সময় কেটে গেছে অনেকটা। বোধ হয় প্রায় মধ্যরাত। এবার মন্ত্রোচ্চারণ ধীর লয়ে হচ্ছে। চোখ খুললেন অঘোরী সাধু। কি সুন্দর আয়ত চোখ!অন্তর্ভেদী দৃষ্টি বুঝি একেই বলে। যেন আমার ভেতর অবধি দেখে নিচ্ছেন। নির্মল হাসলেন আমায় দেখে। যেন জানতেন আমার আসার কথা। আগাম খবর ছিল, বা নিয়তিই টেনে এনেছে আমায়। চোখের ইশারায় বসতে বললেন।

স্পষ্ট হিন্দি উচ্চারণ। প্রথমে আমার নাম জানতে চাইলেন, বাড়ি কোথায়, বাড়িতে কে কে আছেন, ইত্যাদি। জবাব দিলাম।ততক্ষণে একটু ধাতস্থ হয়েছি। ব্যাগ থেকে বিস্কুট বার করে খেয়ে নিলাম। বোতল থেকে জল। ভদ্রলোক সস্নেহে তাকিয়ে দেখছেন সব স্মিত মুখে। এবার জিজ্ঞাসা করলেন আমার আসার উদ্দেশ্য।

- অফিস থেকে আমাকে পাঠানো হয়েছে আপনার সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে, বললাম আমি। - পুছো, ক্যা পুছনা হ্যায়? -পহলে ইয়ে বাতাইয়ে, নাম ক্যা হ্যায় আপকা? আমি জিজ্ঞাসা করলাম। - রতনলাল গোরখপুরী। - কোথা থেকে এসেছেন? -আমি সারা ভারতে ঘুরে বেড়াই। যেখানে যখন মনে হয়, কিছুদিন থেমে ধ্যান করি। তোমাদের এই জায়গাটা পছন্দ হয়েছে। তাই এখানে আছি কিছুদিন। - আপনাদের, এই অঘোরী সাধুদের সম্পর্কে অনেক অদ্ভুত কথা শোনা যায়। সেগুলো কতটা সত্যি? - কি রকম? মৃদু হেসে জিজ্ঞাসা করলেন রতনলাল জি। - এই যেমন ধরুন, আপনারা নাকি শব দেহ ভক্ষণ করেন, মৃতদেহের সাথে সহবাস করেন- এইসব। -শবদেহ ভক্ষণ একটা রূপক মাত্র। আমাদের তন্ত্র সাধনায় একটা অংশ হল কোনও শবদেহের মাংস ভক্ষণ করা। সে একবারই। মৃতদেহের সাথে সহবাস! না না। একেবারেই নয়। - আচ্ছা, আপনারা কার উপাসক? - আমরা শিব সাধক। অষ্ট-মহাপাশ বোঝো? যে আটটি রিপু আমাদের আষ্টেপিষ্টে বেঁধে রাখে, আমরা তার হাত থেকে মুক্ত হওয়ার সাধনা করি। একটা বাচ্চা যখন জন্মায়, তখন সে অঘোরী হয়েই জন্মায়। পরনে কিছু নেই, অষ্ট মহাপাশ থেকে অনেক দূরে। বড় হওয়া কালীন ধীরে ধীরে তার মধ্যে এই আট মোহ প্রবেশ করে তাকে বেঁধে ফেলে সংসারে। আমরা এই মহাপাশ থেকে বেরোনোর চেষ্টা করি মাত্র। - আপনাদের সাধনায় ভৈরবী নেই? আপনার সাধন সঙ্গিনী? -আছেন বৈকি। দেখবে? দেখে ভয় পাওয়া চলবেনা। দেখব। আমার কৌতূহল হল। উনি ইশারায় আমাকে কাছে ডাকলেন নিজের দিকে। এগিয়ে গেলাম। তারপর পাশে রাখা লম্বা লাঠিটা দিয়ে নদীতে ডান হাত বাড়িয়ে কি যেন একটা টেনে আনলেন। কাছে আসতেই চমকে উঠলাম। একটা মৃতদেহ। সদ্য যুবতী তরুণীর। ফর্সা চেহারা। একটুও বিকৃতি নেই। যেন ঘুমোচ্ছে। লাল টুকটুকে শাড়ি পরনে। বোধ হয় কেউ ভাসিয়ে দিয়েছে নদীতে। এতক্ষণ কোথায় ছিল কে জানে! টাটকা মৃতদেহ। - ইয়ে দেখো ভৈরবী। আমার সাথে কিছুক্ষণ পরেই ধ্যান এ বসবে। মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। লোকটা কি পাগল! মৃতদেহ ধ্যান করবে কি করে? - রতনলাল বোধ হয় বুঝতে পারলেন আমার কথা। মৃদু হাসলেন আবার। এই হাসি তাচ্ছিল্যের। তারপর উঠে নেমে গেলেন নদীতে। চওড়া কাঁধে তুলে নিয়ে এলেন সেই মৃতদেহ অনায়াসে। তারপর এনে সযত্নে শুইয়ে দিলেন বেদির ওপর। -কিছুক্ষণ পর সময় হলেই এই ভৈরবী আমার সাথে সাধনায় বসবে। চাইলে দেখতে পারো। আমার কৌতূহল কমে আসছিল। এ কার পাল্লায় পড়েছি! রীতিমত ভয় লাগতে শুরু করেছে। অফিসের ঠিক করে দেওয়া শেষ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলাম আমি- আপনারা কি খেয়ে বাঁচেন? - কখনো ভেবেছ, সাপ, ব্যাঙ এর মত প্রাণীরা শীত ঘুমে থাকার সময় দীর্ঘদিন না খেয়ে বাঁচে কি করে? কুম্ভক বোঝো, কুম্ভক? জিভটাকে মুখের ভেতর ঢুকিয়ে জিভের ডগাকে ঠেকাতে হবে আলজিভ এ। প্রথমে একবারে হবেনা। সকালে উঠে ধৌতির সময় জিভ ধরে টানতে হবে প্রতিদিন। জিভের আগা চিরে দিতে হবে। শুকোতে দেওয়া চলবেনা। প্রতিদিন টানার ফলে জিভ পরিমিত লম্বা হবে। তারপর সাধনায় বসো। জিভ নিয়ে যাও উল্টে ভিতরদিকে আলজিভের সাথে। এই অবস্থায় শরীরের চাহিদা কমে যায় ধীরে ধীরে। ক্ষয় কমে যায়। নিঃশ্বাস মৃদু হয়ে আসে। ধীরে ধীরে শরীরের খাবারের চাহিদা চলে যায়। সে দীর্ঘ সাধনা। সবার দ্বারা হয়না। সরীসৃপ এই বিদ্যা আয়ত্ত করেছে মানুষের আবির্ভাবের অনেক আগেই। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল পুরো ব্যাপারটাই। উনি হাসছিলেন আমার দিকে তাকিয়ে। পাশের শবদেহ টা একটু নড়ে উঠলো কি? উনি আবার সাধনায় বসার তোড়জোড় করছেন বুঝলাম। নমস্কার জানিয়ে ফিরে আসবো ঠিক করলাম। ফিরে আসার সময় কয়েক পা এগোতেই আবার সেই মন্ত্রোচ্চারণ কানে এলো। এবার দুটো আওয়াজ স্পষ্ট। একটা নারীর। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল আমার। ভৈরবী সাধনায় বসেছেন।







নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮