• শুভায়ু বন্দ্যোপাধ্যায়

প্রচ্ছদ কাহিনী - ভুতের গল্প - একটি উপস্থাপনা



The 3 types of terror: The Gross out: the sight of a severed head tumbling down a flight of stairs, it’s when the lights go out and something green and slimy splatters against your arm. The Horror: the unnatural, spiders the size of bears, the dead waking up and walking around, it’s when the lights go out and something with claws grabs you by the arm. And the last and worse one: Terror, when you come home and notice everything you own had been taken away and replaced by an exact substitute. It’s when the lights go out and you feel something behind you, you hear it, you feel its breath against your ear, but when you turn around, there is nothing there...” - Stephen King “

ভুতের গল্পের কি কোন বয়েস হয়? মানে ভুতের গল্প ভালো লাগার কি সত্যি কোন বয়েস আছে? সাধারণত দেখা যায় ছোটবেলাতেই ভুতের গল্পের আকর্ষণ অমোঘ বলে মনে হয়। যত বড়ো হই, ধীরে ধীরে জ্ঞান আর বুদ্ধি আমাদের মস্তিষ্কের সেই সব না দেখা জায়গাগুলো দখল করে আমাদের অবিশ্বাসী করে তোলে। ভয় তখনো থাকে- অন্ধকারকে ভয়, চোরের ভয়, অজানা দুষ্কৃতির ভয়, আরশোলা মাকড়সার ভয় এমন কি ভগবানের পাপ দেওয়ার ভয়, কিন্তু ভুতের ভয় কমে আসে বিলক্ষণ। সত্যি কথা বলতে কি প্রাপ্তবয়স্কদের ( এই রে, পাঠক দয়া করে অন্যভাবে নেবেন না) জন্যে ভুতের গল্প সার্থক সাহিত্য হিসেবে পরিগণিত হয়েছে খুবই কম ক্ষেত্রে।

ভুতের গল্প নিয়ে বাংলা সাহিত্যে তথা বিশ্বসাহিত্যে খুব কম বইই অমরত্ব লাভ করেছে। আজ সেরকমই কয়েকটা বইয়ের উল্লেখ করবো। যেমন ধরুন আইরিশ লেখক ব্রাম স্টকারের সৃষ্টি ড্রাকুলা- ভয়ের গল্পের নতুন সংজ্ঞা- যেখানে খলনায়কই নায়ক- ভয়ই মুখ্য আকর্ষণ। এর সাহিত্যগুণ বা ফ্রাঙ্কেন্সটাইনের সাহিত্যগুণ নিয়ে সমালোচকদের কোন সন্দেহই নেই। মেরি শেলি একটি মাত্র বই ফ্রাঙ্কেন্সটাইন লিখে অমর হয়ে গেলেন।

কথায় বলে ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে- ডাক্তারি পেশা হবার দরুন প্রথম আমার আলোচ্য বিষয় হবে ভয়। ভয় পাই কেন? আর ভয় আমাদের টানে কেন। গার্ডিয়ান পত্রিকায় লু মর্গ্যান লিখছেন “In reading books that frighten us, we have the choice of whether to explore our fears… or not. But if we do, we come away knowing that the monsters can be defeated…”

ভুতের আবার জন্ম! এ বড়ো আশ্চর্য কথা! ভুতের উদ্ভবের ইতিহাস পাওয়া যায় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো সাহিত্য সুমেরীয় বা মিশরীয় লেখায়। ইউভাল নোয়া হারারের বিখ্যাত বই স্যাপিয়েন্স এ পাই এই ইভল্যুশন এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা- কৃষি বিপ্লব থেকে আরম্ভ হয়েছে ভুত, দৈত্য বা অশুভ শক্তির উদ্ভব, শুভ শক্তির অনেক আগে থেকেই মানুষের দরকার হয়েছে বন্যা খরা বা মহামারির এক অশুভ শক্তির নষ্টামির ব্যাখ্যার। এরপর যখন রাজা বা জমিদারির অধিকার ঘটে কৃষিজমিতে তখন স্বাভাবিক কারণেই দেবতাদের সৃষ্টি হয়। এই শুভ-শক্তি অবশ্যই রাজা বা জমিদারদের পক্ষে দাঁড়িয়ে লড়াই করতেন ভুত প্রেত দত্যিদানোর সঙ্গে। এর পরিচয় আমরা অনেক মিথলজিতেই পাই- রাম রাবণ, ইলিয়াড অডিসি বা ঘটোৎকচ- সবেতেই।


ভয় পাই কেন? ভারি কঠিন প্রশ্ন? কোনদিন ভেবে দেখেছেন কেন অঙ্ককে ভয় পান? কেন নদীর গভীর জলকে ভয় পান বা কেনই বা কোথাও আগুন লাগলে আগে ‘চাচা, আপন প্রাণ বাঁচা?’ আসলে ভয় হল আমাদের জীবনের এক আদিম প্রবৃত্তি। ভয় কিন্তু আমাদের বেঁচে থাকার জন্য, আমাদের মানুষ বা প্রাণিজগতের অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য। ভয় না থাকলে জলে ডুবে, আগুনে পুড়ে বা ভূমিকম্পে মাটি ধ্বসে কবে ডাইনোসরদের মতো আমরাও বিলুপ্ত হয়ে যেতাম। আর অঙ্ককে কেন ভয় পান? কঠিন অঙ্ক বোধ হয় সুনামি, আগুন বা গভীর জলের চেয়ে কিছুমাত্র কম বিপজ্জনক নয়, তাই। আমরা সবসময় চাই যে আমরা নিরাপদে থাকবো, আমাদের সন্তানরা নিরাপদে থাকবে আর সেই নিরাপত্তা দিতে আমরাই তৈরি করি ভয়। ছোটবেলা থেকেই সেই অজানা ভয় আমাদের রক্ষা করে নানা ভয় থেকে। এই ভয়টা ছোটদের মনে গেঁথে দেওয়ার সবচেয়ে সোজা মাধ্যম হল গল্প। ছোটবেলায় মানুষের কল্পনা শক্তি থাকে প্রখর। এ তো হল বিবর্তনের কথা, যদি বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখি। অ্যারিস্টটলের সময় থেকে ভয়ের কারণ হিসেবে দর্শান হয়েছে ক্যাথার্সিসকে - অর্থাৎ এই গল্পের মাধ্যমে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্ত নেতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকে মুক্ত হয় মানুষ। সেই সময় থেকে নিয়ে আজ অবধি এই থিয়োরির বহু বিবর্তন হয়েছে। ২০০৪ সালে

গ্লেন ওয়াল্টার্স তাঁর গবেষণায় ( জার্নাল অফ মিডিয়া সাইকোলজি) ভয়ের সিনেমা (বা সাহিত্য) নিয়ে তিনটি সূচকের কথা বলেন- টেনসন ( রহস্য, রোমাঞ্চ, বুক দুরদুর বা একেবারে আচমকা শক), প্রাসঙ্গিকতা বা রেলিভেন্স ( ব্যক্তিগত, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় বা সরাসরি মৃত্যুভয়) আর অবাস্তবতা বা আনরিয়েলিজম। ওয়াল্টারস এর এই গবেষণা মনোবিদদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ তিনি একরাশ রুগীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখিয়েছিলেন। মনোবিদদের কথা তুলব আর কার্ল ইয়ুঙ্গের কথা বলবো না তা কি করে সম্ভব? ইয়ুং ভয়ের সিনেমা বা গল্প সম্বন্ধে বলেন “tapped into primordial archetypes buried deep in our collective subconscious – images like shadow and mother play important role in the horror genre”.

অবশ্যই আর সব থিয়োরির মতো এই থিয়োরিও প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। ইনসাইড সায়েন্স পত্রিকায় আস্টারা মার্চ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে ভুতের গল্পের এই ভয় পাওয়ার মধ্যে থাকে এক তীব্র অ্যাড্রেনালিন ক্ষরণ। এই ভয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। এ যেন এক দুঃস্বপ্নের মতো যেখানে আমরা অবচেতনেও জানি বা বুঝতে পারি যে এটা নিছক স্বপ্ন- তা আমাদের আশ্বস্ত করে এবং কিছু ক্ষেত্রে দুঃস্বপ্নটা আমরা উপভোগ করি। কারণ অ্যাড্রেনালিনের সঙ্গে যা বেরোয় তা হল এন্ডরফিন- এই এন্ডরফিনই সব ভালো লাগার মূল কথা। কিন্তু এন্ডরফিন বেরোয় কেন ভুতের গল্প পড়ে? কারণ সেই নিয়ন্ত্রণ বা কন্ট্রোল। গা ছমছমে গল্প বা সিনেমা- যেমন ধরুন এক্সরসিস্ট- মনে আছে তো সেই বিখ্যাত সিনেমা? সিনেমা হলের বাইরে নাকি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতো! কেন? না কিছু লোক এই কন্ট্রোলটা হারিয়ে ফেলতেন- তাঁরা এই অবাস্তব জগতটাকেই বাস্তব বলে মেনে নিতেন- সেখানেই গোলযোগ। ব্যাপারটা একটু অন্যভাবে বলি- যেমন আমার আরশোলাকে বেদম ভয়। কিন্তু আরশোলা ব্যাপারটা তো অবাস্তব নয়- কিন্তু ভয়টা অমূলক। আরশোলা আমার কিছু আন্ত্রিক সঙ্ক্রমণ ছাড়া কোন ক্ষতি করতে পারবে না আমি নিশ্চিত। কিন্তু এই ফোবিয়া আমার আছে। ধরুন এবার আপনি একটা রবারের আরশোলা নিয়ে আমার গায়ে ছুঁড়ে দিলেন। আমার প্রতিবর্ত ক্রিয়ার জন্য সেই যে আমি বাপরে বলে চিৎকার করে ভূপতিত হয়ে মূর্ছা যাব (মানে যেতে পারি) আর খাড়া নাও হতে পারি। আরশোলাটা নকল, কিন্তুআমার ভয়টা নয়। ভুতের গল্পের এই ভয়টাই কাজে লাগিয়েছেন লেখক, কবি আর সিনেমার পরিচালকরা।

বাংলায় ভুতের গল্প লেখেন নি কে? রবীন্দ্রনাথ, শরদিন্দু, সত্যজিৎ থেকে আরম্ভ করে ভিন্ন ধরনের ভুতের গল্প লিখেছেন শীর্ষেন্দু। ওনার কথায় পরে আসছি। যেমন ছুঁয়ে যাব ব্রাজিলের বিখ্যাত লেখক হর্হে আমাদু র কথা- বাকিরা সবাই লাভক্রফট, অ্যালান পো আর নয় তো স্টিফেন কিং এর ঘরানার।

তাহলে শীর্ষেন্দু বা আমাদু কেন আলাদা? কারণ শুধু মজা। ভুতের গল্পর ভয়টা বাদ দিয়ে তাঁরা নিয়ে এসেছেন নিছক মজা। শীর্ষেন্দুবাবু তাঁর স্বর্ণযুগে লেখেন গোঁসাই বাগানের ভুত। সেখানে ভুত বুরুনকে ভেঙ্গায় “বুরুন তুমি অঙ্কে তেরো”- সেখানে ভুত মানে ওই নিধিদার কথা বলছিলাম- বলে “সে কি হে, তোমার সাহসের থলিটা যে একেবারে চুপসে গেছে, একটু ফুলিয়ে দিতে হবে।” নিজেকে ভয়ঙ্কর করে তোলার হাস্যকর প্রয়াসে সে ঘটিয়ে চলে একের পর এক বিচিত্র কাণ্ড- কিশোরদের দমফাটা হাসির উপকরণ রয়েছে তাতে। বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ- এখন পড়বেন না, কৈশোরের যে ভালো লাগা শেষ পাতে পোস্তর বড়ার জিভে লেগে থাকার মতো লেপটে আছে অতি আদরে, তা বয়সকালের মাংসের গতানুগতিক স্বাদের পাল্লায় পড়ে নষ্ট হয়ে যেতে বাধ্য। এবার বলি হর্হে আমাদুর গল্প- ডনা ফ্লোর অ্যান্ড হার টু হাজব্যান্ডের কথা। এই বিশাল বইয়ের আরম্ভেই বেচারা ডনার স্বামী মারা যান - ডনার তখন ভরন্ত যৌবন - আর অনন্ত চাহিদা। স্বামী ছিল মাস্তান, লোফার কিন্তু প্রেমে চোস্ত। বিছানায় তার পারফরমেন্স গ্রাফ একেবারে ঊর্ধ্বমুখী। পরে ডনা বিয়ে করে এক ফার্মাসিস্টকে- নিপাট ভদ্রলোক। এবং বিছানাতেও সমান বোরিং। এইবার ডনার প্রথম স্বামী জ্বালাতন শুরু করে ডনাকে- কখনো হাত ঢুকিয়ে দেয় জামার মধ্যে কখনো বা স্কার্টের তলায় - আর সবই কিন্তু জনসমক্ষে। কেউ তো তাকে দেখতে পাচ্ছে না! ডনার এই অপ্রস্তুতা, প্রথম স্বামীর এইরকম যৌন উৎপীড়ন, যাকে দুষ্টুমি বলাই শ্রেয়, আর ডনার সেটা ভালো লাগা এই নিয়ে এক জমজমাট গল্প - পরে সিনেমাও হয় এই গল্প নিয়ে। এ নিছক ভুতের গল্পই নয়, এ ব্রাজিলের ইতিহাস, তাঁদের কৃষ্টি, কালচার এবং সমাজ ব্যবস্থার প্রতিফলন। শুধু মাধ্যমটা বিচিত্র।

পরশুরাম যেমন ভুতের গল্পকে সিরিয়াসলি নেন নি, ব্যবহার করেছেন তাঁর স্যাটায়ার প্রকাশ করার জন্য, রবীন্দ্রনাথ বা সত্যজিৎ আবার ভুত বা অতিপ্রাকৃতকে অত্যন্ত সিরিয়াস করে পেশ করেছেন পাঠকের কাছে। কিন্তু বাংলাতে প্রচণ্ড বিবমিষা জাগানো ভয় বা খুনোখুনি কিন্তু এখনো বিরল। ছোটদের জন্যে ছিল দক্ষিণারঞ্জনের ঠাকুরমার ঝুলি- যেখান থেকে আমাদের মতো গড়পড়তা বাঙালীর জীবন আরম্ভ। বিদেশে যখন শিশুরা হ্যান্সেল গ্রেটেলের গল্প পড়ছে। এখন ফিরে দেখলে মনে হয় যে এই তথাকথিত শিশুদের গল্পগুলোতে ভায়োলেন্স কতোটা প্রকট! কাউকে গরম তেল এ ভাজা হচ্ছে, কারুর গলা কেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত পড়ছে- মুণ্ডুটা মাটিতে পড়ে। সত্যি, একবার ভেবে দেখলে বোঝা যায় যে কতোটা বর্ণনা দিয়ে ছোট ছেলেমেয়েদের ভয় দেখানো হয়েছে। ফলস্বরূপ যেন এই ক্রূরতা আমাদের ডি এন এ তে মিশে গেছে।

তারপর পেলাম সেই অমর কাহিনীর অমর সিনেমা- গুপী গাইন বাঘা বাইন। সে কি ভুতের সিনেমা? বা গল্পটা কি ভুতের গল্প? এতো শোষিত নিপীড়িত মানুষের জীবন যন্ত্রণার গল্প, এ তো সর্বহারার স্বপ্ন পূরণের গল্প - অথবা এ ছোটদের দারুণ মজার রূপকথার গল্প। সেখানে ভুতদের ঠিক সেই ভূমিকা যা অন্যান্য গল্পে ভগবানের বা অলৌকিকের থাকে।

বাঙালীর কাছে ভুত আর ভুতের ভবিষ্যৎ বা ভবিষ্যতের ভুত কিন্তু একই সুতোয় গাঁথা। সবই মজা। ছোটবেলায় শুনতাম সেই বৌটির (নামও জানি না- দেখতে কেমন জানিনা, শারীরিক গঠন আবেদনমূলক কিনা তাও জানা নেই) হাত লম্বা হয়ে গিয়ে লেবু পেড়ে নিয়ে এলো বা কাঠ অথবা কয়লা শেষ হয়ে যেতে নিজের পা টাকে উনুনে ঢুকিয়ে রান্না করতেই থাকল- এ নির্ভেজাল মজা ছাড়া কি? খুব ছোটবেলাতেও এ কি ভয় পাইয়েছে? ভালোই তো- টিভি রিমোটটা টেবিলে আছে- হাত বাড়িয়ে এনে ফেললাম! আর কষ্ট করে বিছানা থেকে উঠতে হল না। আর ভুতের ভবিষ্যৎ তো কালজয়ী সিনেমা। সেই কতদিন আগেই সে সিনেমায় ‘ভবিষ্যতের ভুত’ এর অস্তিত্বের সঙ্কটের কথা ভবিষ্যৎবাণী করেছিল ভুতেরা - অবশ্যই ভুতেরা ত্রিকালদর্শী! অন্তত এখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচা গেলো যে ভবিষ্যতের ভুতেরা এখন নির্ঝঞ্ঝাটেই মানুষকে আমোদিত অথবা বিরক্ত করতে পারবে। তবে এখানে র‍্যামসে ব্রাদার্স এর ভুতের সিনেমাগুলোর কথা না বললে অপরাধ হবে। সেখানে ভয় চাপা পড়ে গেছে মোটাদাগের ভাঁড়ামো, জোর করে আনা যৌনতা আর সেন্সরের বিক্ষিপ্ত কাঁচির আত্মরতি আর দর্শকদের হতাশ আর্তনাদে। কলেজ জীবনে রিগ্যালে ভুতের সঙ্গে মানুষের সেই বিচিত্র ক্রীড়া দেখে সেই যে র‍্যামসে ব্রাদার্স এ অরুচি ধরল, আর কোনদিন দেখি নি।

ভুত বরাবরই অত্যন্ত ইন্টারেস্টিং মরশুমি বিষয়। বর্ষাকালে খিচুড়ি আর ভুত তো সবচেয়ে ভালো কম্বিনেশন। বাঙালী সাহিত্য বা সিনেমা জগতে ভুতের উপদ্রব আজকের নয়, বহুদিনের। এতো অট্টালিকার মাঝখানে, কংক্রিটের জঙ্গলে ভুতের বাসা দেখিয়ে কিছু উপার্জনও করছেন কিছু ব্যবসায়ীরা- তা করুন, তাঁদের এই অসামান্য উদ্যোগ মানুষের স্বার্থেই ‘বাঁচিয়ে’ রাখবে ভূতকে। সে যতই বড়দারা ভুল শুধরে দিন লেখককে যে “ভ্যাঙ্কুভার একটি অতি আধুনিক শহর, এখানে ভ্যাম্পায়ার থাকতেই পারে না।” আমরা জানি, ভুত যে কোন জায়গাতেই থাকতে পারে- তার জন্য বাসা নয়, প্রয়োজন শুধু কল্পনাশক্তি।

(ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা: শুভাশিস ভট্টাচার্য)




নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮