• রাহুল দেব লাহিড়ী

তাজুদার স্কুটারক্রয়



তেজেন্দ্র নারায়ণ রায়চৌধুরী। জমিদার বংশের সন্তান। নামটা ভারিক্কি হলেও ভদ্রলোক সেরকম নন একেবারেই। ছোটখাটো চেহারা। নাদুস নুদুস। একখানা নোয়াপাতি ভুঁড়ি। লোকের মুখে মুখে ডাকনাম হয়ে গেছে তাজু। বড় আর সমবয়সীরা ডাকে তাজু বলে। ছোটরা তাজুদা। যত ছোটই হোক। সবার কাছে উনি সকলের প্রিয় তাজুদা। জমিদারি গেছে সেই কবেই। কিন্তু জমিদারি মেজাজ- সেতো চট করে ছেড়ে যাওয়ার নয়। তাজুদার আচার আচরণে মাঝে মাঝেই তার প্রকাশ ঘটে। জেলাশহরে বিশাল তিনমহলা বাড়ি। বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ আর ট্যাক্সের খরচ কম নয়। তবুও তাজুদা বাড়িতে ভাড়াটে বসাননি। তাতে তাঁর পূর্বপুরুষ অসন্তুষ্ট হতেন। যা জমি-জায়গা আর বাগান আছে, তাতে তাঁর অনায়াসে চলে যায়। লেখাপড়ায় তাজুদা খুব ভালো ছিলেন। কিন্তু খামখেয়ালি মানুষ, পড়াশোনা বেশিদূর করেননি। তাজুদারা তিন ভাই, দুই বোন। মা-বাবা গত হয়েছেন সেই কবেই। তাজুদা ভাই বোনদের মধ্যে সবার ছোট। দিদিদের বড় ঘরে বিয়ে হয়েছে বাবা-মা বেঁচে থাকতেই। দাদারাও সুপ্রতিষ্ঠিত। বিয়ে করে নিজেরা নিজেদের কর্মস্থলে থাকেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে। তাজুদা কে স্নেহ করেন প্রত্যেকে। অবরে সবরে দেখেও যান। তাজুদা পড়ে আছেন ভিটেমাটি কামড়ে নিজের মেজাজে। স্কুলে নিজের নাম ইংরেজিতে লেখার সময় পুরো এক লাইন লেগে যেত। খুব গর্ব বোধ করতেন। যে স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, সেই কৃষ্ণভামিনী হাই স্কুল তাঁর বাবা তৈরি করিয়েছিলেন নিজের উদ্যোগে, নিজের জমিতে। এলাকায় তখন স্কুল বলতে একটাই। বাপ-ঠাকুরদার দাপট ছিল দেখার মত। তাজুদা সেরকম নন। একেবারে মাইডিয়ার লোক। বিয়ে থা করেননি। মস্ত বাড়িতে তাঁর এক দূরI সম্পর্কের পিসিমা আর সর্বক্ষণের সঙ্গী বাবুলি। এই বাবুলির বয়েস একুশ। গত দশ বছর ধরে তাজুদার নিত্যসঙ্গী। তাকে তাজুদা নিয়ে এসেছিলেন পুরী ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে। ব্যাটা ট্রেনে ভিক্ষে করছিল। সেই বাবুলি এখন সা-জোয়ান মরদ। মাঝে মাঝেই সে তার নিজস্ব ভাষায় গান করে ও কথা বলে। উঠতে বসতে তাজুদার তাকে ছাড়া চলেনা। সক্কালবেলা ঘুম থেকে উঠেই হাঁক দেন- 'বাবুলি'। সে সাথে সাথে তামার পাত্রে সারারাত ভেজানো বাসী জল পেতলের গ্লাসে নিয়ে তাজুদার সামনে হাজির হয় 'জাউছি আইগ্গা' বলে। দীর্ঘদিন সাথে থাকার ফলে বাবুলি তাজুদার মেজাজ মর্জির সাথে ওয়াকিবহাল।


এরপর তাজুদা মুখ হাত ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে বেরোন বাজার করতে। একটা লঝঝরে ঠাকুরদার আমলের সাইকেল নিয়ে। তাজুদা বেঁটেখাটো হলে কি হয়, তার পিতৃপুরুষরা সবাই ছিলেন লম্বা চওড়া। তাই পুরাতন দিনের কালো লম্বা একটা সাইকেল আছে পূর্বপুরুষের। সেটা বেশ উঁচু। বাজারের ব্যাগ হ্যান্ডেলে ঝুলিয়ে প্রত্যেক দিন বাজারে যাওয়া তাজুদার নেশা। সাথে বাবুলি। তাজুদাকে কেউ কোনোদিন সাইকেলে চড়তে দেখেনি। প্রতিদিন সাইকেলটা বাবুলি হাঁটিয়ে নিয়ে যায় তাঁর সাথে।


বাজার করতে বেরিয়ে তাজুদা প্রথমে পাড়ার মোড়ের পক দার চায়ের দোকানে বসে দুকাপ চা খান পরপর। সাথে নোনতা বিস্কুট। মাসকাবারি বন্দোবস্ত। পাড়ার লোকেদের খোঁজখবর নেন। বেশ একটা ঠেক জমে সে সময় পক দার দোকানে। তারপর বাবুলিকে নিয়ে তাজুদা বাজারের দিকে রওনা দেন।


তাজুদার বাজার করার বর্ণনাটা এই ফাঁকে দিয়ে রাখি। বাজারে ঢুকে তাজুদা প্রথমে সমস্ত তরকারি ওয়ালা, যাদের প্রত্যেককে তাজুদা নামে চেনেন, তাদের খবরাখবর নিতে নিতে সামনে এগিয়ে যান। পিছনে পিছনে ব্যাগ হাতে সাইকেল নিয়ে বাবুলি অগ্রসর হয়। সেই প্রয়োজনীয় বাজার নেয় ও টাকাপয়সা দেয় তাদের। বাজার করা শেষ হলে ব্যাগ ঝুলিয়ে সে তাজুদার পেছন পেছন সাইকেল হাঁটিয়ে রওনা দেয়। তাজুদা মাঝে মাঝে বেগুনের পেট টিপে দেখে নেন সেটা শক্ত কিনা, তাহলে তাতে বিচি থাকার সমূহ সম্ভাবনা। অন্যদিকে ফুস করে হাওয়া বেরিয়ে গেলে তাতে পোকায় কাটা ফুটো থাকতে পারে। কাঁচা লংকা চেনার একমাত্র উপায় হল, সেটা দাঁতে কেটে জিভে লাগিয়ে দেখা। কচু গলা ধরবে কিনা জানার জন্য নখ দিয়ে খুঁটে সেটা কানের লতিতে লাগানোর নিয়ম। চুলকালে জানতে হবে গলা ধরবে। অন্যদিকে ঢেঁড়শ এর ডগা যদি পুট করে ভেঙে যায়, সেটা টাটকা। কিম্বা বড় মাছ নাকের কাছে নিয়ে কানকো তুলে হালকা করে শুঁকে দেখতে হয় সেটা টাটকা না বাসী। মাছের চোখ দেখেও নাকি টের পাওয়া যায়। যাই হোক, মোদ্দা কথা হল এই বাজার করা হল তাজুদার একমাত্র প্যাশন বা হবি। পক দার চায়ের দোকানে বাজারের জিনিসপত্রের দাম নিয়ে বা সতেজতা নিয়ে প্রায়ই সতেজে তর্ক করেন তিনি।


আজ চায়ের দোকানে দেখা হয়ে গেল বাল্যবন্ধু অধীরের সাথে। একথা সেকথার পর তাজুদা জানলেন অধীর এখন একটা স্কুটার কোম্পানির দোকানে সেলসম্যান এর কাজ করে। বুদ্ধিটা দিল অধীরই। বলল, 'তাজু, কতদিন আর এই লঝঝরে সাইকেল চালাবি? এবার একটা ঝাঁ চকচকে স্কুটার কিনে ফ্যাল'। আজকালকার এই নতুন দ্বিচক্রযান গুলোয় গিয়ার থাকে না। অল্প তেলে যায়ও অনেকদূর। তাছাড়া রাত বিরেতে কোথাও যাওয়া। আজকাল একটা স্কুটার ছাড়া নাকি চলেই না। মোটকথা স্কুটার একটা কেনা যে অপরিহার্য ও অনিবার্য, সেটা তাজুদার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে অধীর বাবু রওনা দিলেন। তাজুদাও নিমরাজি হয়ে বাড়ি ফিরলেন।


দুপুরে খাওয়ার পর মিটিং বসল। পিসিমা কানে খুব ভালো শোনেন না। তবু যেটুকু বুঝলেন, তাতে স্কুটার কেনার পক্ষে মত দিলেন না। সে নাকি শয়তানের বাহন। তাছাড়া রায়চৌধুরী বংশের ছেলে স্কুটারে চেপে ফটফট করে রাস্তা দিয়ে যাবে, সেটাও যথেষ্ট নাকি দৃষ্টিকটু। হত, চারচাকা জুড়ি গাড়ি, তাতে তাঁর আপত্তি ছিলনা। তাজুদা পিসিমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, জুড়ি গাড়ি এখন অচল। মোটর গাড়ির দাম যেমন বেশি, তার ড্রাইভার পোষার খরচও কম নয়। পিসিমা তাঁর মতে অনড় রইলেন। বাবুলি যথারীতি প্রবল উৎসাহিত। সেই একার উদ্যোগে তাজুদাকে প্রায় রাজি করিয়ে ফেলল। তাজুদা মনে মনে যথেষ্ট কৌতূহলী হয়ে উঠলেন এ ব্যাপারে। ঠিক হল কাল সকালে গিয়ে দোকানে একবার স্কুটার দেখে আসবেন।


পরদিন সকালে বাবুলিকে নিয়ে তাজুদা স্কুটার দেখতে গেলেন অধীর যে দোকানে কাজ করে সেখানে। ঝাঁ চকচকে শো রুম। যাওয়া মাত্র রিসেপশনে বসা মিষ্টি মেয়েটা 'গুড মর্নিং' বলে বসতে বলল। একজন ট্রে তে করে ঝকঝকে কাঁচের গ্লাসে শরবত নিয়ে হাজির হল। তাজুদা, যাকে বলে মুগ্ধ হলেন এদের আতিথেয়তায়। মেয়েটি জেনে নিলো তাজুদা তাঁর বন্ধু অধীরের সাথে দেখা করতে এসেছেন। তাঁর একটা স্কুটার কেনার ইচ্ছে।


খবর দেওয়া মাত্র অধীর এসে হাজির হল। তাকে দেখে তাজুদা আরেক প্রস্থ অবাক হলেন। সাদা জামা, নেভি ব্লু প্যান্ট আর টাই পরা অধীরকে চেনাই যাচ্ছিল না। বুকে আবার স্কুটার কোম্পানির ছাপ। যাইহোক সে এবার ঘুরে ঘুরে তাজুদাকে বিভিন্ন মডেলের গুণাগুণ বোঝাতে লাগলো। সাথে অন্য কোম্পানির তুলনায় তাদেরটা কি কারণে বেশি ভালো সেটাও। তাজুদা দেখলেন কাউন্টারের মেয়েটা আড়চোখে তাঁকেই যেন দেখছে। টিয়াপাখির মত রাঙানো ঠোঁট, চুড়ো করে বাঁধা চুল। তাজুদা আরেক প্রস্থ মুগ্ধ হলেন। অবশেষে একটা মডেল তাঁর পছন্দ হল। অধীর জানালো, তাজুদা এটা কিছুক্ষণ চালিয়ে দেখে আসতে পারেন। একে বলে 'টেস্ট ড্রাইভ'। স্কুটারের লাল টুকটুকে রং ততক্ষণ তাজুদাকে টানছে। অনেকদিন আগে তাঁরা দুজন স্কুটার চালানো শিখেছিলেন নিখিলের স্কুটারে সেটা মনে করিয়ে অধীর বাবু তাজুদাকে কনফিডেন্স দিলেন। এও জানালেন, শুধু মনে রাখতে, এর ব্রেক হাতে, পায়ে নয় স্কুটারের মত আর এতে গিয়ার নেই। তাজুদা দেখলেন কাউন্টারের মেয়েটা হাসি হাসি মুখে তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছে। অধীর তাঁকে মেয়েটার ঠোঁটের মত অবিকল একই রঙের সেই লাল টুকটুকে স্কুটার স্ট্যান্ড থেকে নামিয়ে শো রুমের কাঁচের দরজার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে কি করে ডান হাতে সুইচ টিপে স্টার্ট দিয়ে চালাতে হয় বুঝিয়ে দিল। তাজুদা বেশ কনফিডেন্স পেলেন। চড়ে বসলেন সেই দ্বিচক্রযানে। বাবুলিকে ইশারা করা মাত্র সে পেছনে এসে বসল। স্মিত মুখে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে তাজুদা দেখলেন সেই বিধুমুখী তাঁর দিকেই তাকিয়ে হাসছে। আর চিন্তা নাই। তিনি স্কুটারে চাবি ঘুরিয়ে সুইচ টিপে স্টার্ট দিতেই স্কুটারটা আদুরে বেড়ালের মত ঘরঘর করে উঠল। মনে মনে ইষ্টদেবতাকে স্মরণ করে তাজুদা সজোরে সদ্য লব্ধ স্কুটারের ডান কানে মোচড় দিলেন।


ঘরাক করে একটা শব্দ হল। তাজুদা স্কুটার নিয়ে উড়ে গিয়ে কাঁচের দরজায় আঘাত করলেন। কাঁচ ভেঙে পড়ল সশব্দে ঝনঝন করে। তাজুদা বীর দর্পে বাবুলিকে পেছনে নিয়ে রাস্তায় অবতরণ করলেন। অধীর কেমন কাবা হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বাবুলির শরীরটা এই আকস্মিক অভিঘাত সহ্য করতে না পেরে পেছন দিকে কাত হয়ে রইল। ভাগ্যিস সে পেছনের ধরার হাতলটা সজোরে ধরে ছিল।


তাজুদা যেখানে ল্যান্ড করলেন সেখানে একটা তাগড়াই কুকুর শুয়ে ছিল। সে কিছু বুঝে উঠে পালিয়ে যাওয়ার আগেই তাজুদার স্কুটার তার লেজ ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। কুকুরটা ঘ্যাক করে একটা শব্দ করে ধাতস্থ হয়ে নিয়ে তাজুদাকে তাড়া করল।


তাজুদা যুগপৎ হতভম্ব, বিচলিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে একেবারে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ভুলে গেলেন অধীরের মনে করিয়ে দেওয়া সেই অমোঘ উক্তি- ' এর ব্রেক পায়ে নয়, হাতে'। তিনি প্রাণপণে পায়ের নিচে ব্রেক খোঁজা শুরু করলেন। স্পিড কমানোর কথা তাঁর আদপেই মনে রইল না। কুকুরটা তখন পেছনে ধেয়ে আসছে। ততক্ষণ তার সাথে আরও সঙ্গী সাথী জুটেছে। সাত আটটা কুকুরের একটা দল তাজুদার স্কুটারের পেছনে ধেয়ে আসছে। তাজুদার পেছনে বসা বাবুলি তখনো সোজা হতে পারেনি। সেই পেছন দিকে হেলে থাকা অবস্থায় সে কুকুরের কামড় থেকে বাঁচার জন্য নিজের পা দুটো তাজুদার কোলে তুলে দিয়ে নিজের মাতৃভাষায় পরিত্রাহি চিৎকার করছে - ' বাপ্পা লো, বউ লো, খাই দেলা, মারি দেলা। হে তারিণী মা, মরি গলি মা'- ইত্যাদি। তাজুদা আপ্রাণ চেষ্টা করলেন স্কুটার থামানোর। কাঁচ ভেঙে বেরোনোর অভিঘাতে সম্ভবত স্কুটারটার হর্ন সেই যে বাজা শুরু হয়েছিল, সেটা তখনও বন্ধ হয়নি। কেমন একটা ফ্যাসফেসে আওয়াজে সেটা পথচারীদের ভয়ের ও কৌতূহলের কারণ হয়ে দাঁড়ালো। সভয়ে সবাই রাস্তা করে দিল তাজুদাকে এগিয়ে যাওয়ার। শেষ মুহূর্তে একটা গাড়িকে ধাক্কা মারার আগে তাজুদা স্কুটারের হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে পাশের ফাঁকা মাঠে নামিয়ে দিতে সমর্থ হলেন। কুকুরগুলো ততক্ষণে অত্যন্ত উৎসাহিত হয়ে পড়েছে। তারা তাজুদার পেছনে মাঠের ভেতর গোল হয়ে ঘুরতে লাগল। তাজুদা কিছুতেই স্কুটার থামাতে পারলেন না। তৃতীয় পাক ঘোরার সময় এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক কেমন করে যেন তাঁর স্কুটারের সামনে চলে এলেন। অদ্ভুত দক্ষতায় তাজুদা তাঁকে এক ঝটকায় স্কুটারের হ্যান্ডেলে বসিয়ে নিলেন। এরপর তাঁর সামনে কিছু নজরে আসছিল না। ফলে যা হওয়ার তাই হল। তিনজন নিয়ে লাল রঙা সেই স্কুটার মাঠের দেয়ালে সজোরে ধাক্কা মেরে থেমে গেল। কুকুরগুলো অদ্ভুত নিঃস্পৃহ মুখে, যেন কিছুই হয়নি ভাব দেখিয়ে ফিরে গেল।

তাজুদা আর তাঁর দুই সহযাত্রী উঠে দাঁড়ালেন। ভাগ্যক্রমে কারো চোটই গুরুতর নয়। সবারই অল্পবিস্তর ছড়ে কেটে গেছে দেখা গেল। কিছুক্ষণ পর অধীর এসে হা হুতাশ করতে লাগলো। তাজুদা তাকে আশ্বস্ত করলেন, তিনি সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবেন। বাবুলিকে দিয়ে বৃদ্ধ ভদ্রলোককে বাড়ি ফেরত পাঠিয়ে বিধ্বস্ত তাজুদা বাড়ি ফিরে এলেন।


এরপর অধীর সহ অনেকে তাজুদাকে স্কুটার কেনার কথা বলেছে। তাজুদা রাজি হননি। তাঁর পূর্ব পুরুষের কাছে পাওয়া পুরনো সাইকেলই ভালো। বাবুলি অবধি আর বিশেষ উৎসাহ দেখায়নি। দিব্যি আছেন এখন তাজুদা। প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে বাজারে যান। শুধু রাস্তায় যাতায়াতের সময় ধার ঘেঁষে চলা শুরু করেছেন। নতুন কেনা স্কুটারের ধাক্কা খাওয়ার ফলে, নাকি কুকুরের হাত থেকে বাঁচতে কে জানে।



নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮