• অমৃতা চট্টোপাধ্যায়

কবিতা গুচ্ছ

শালিক

জিজ্ঞেস কোরো না কোথায় কবে কেন ভাঙনের চোরাবালিতে তলিয়ে যেতে যেতে বোবা প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে ভাষারা একাই চলে আপন মনে কিন্তু ফেরা হল না তাগিদের কাছে তবুও শালিকটা আজও আসে জানলায় বাসার কাছে তাগিদের ঠিকানায়।

লাল সুতোর বোনা ফুল

লাল সুতোর বোনা ফুলে মাঝে মাঝে কালো সুতোও ছিল! যা দেখার নয় তাও কেমন ফুটে উঠল অতীতের পাশাপাশি বর্তমান ঈশ্বর! দিঘিও তোমার মতোই নন্দিত বিমূর্ত গন্ধে আলাপে ঠিক আমার প্রিয়ার মতোই লাল সুতোর বোনা ফুলে মাঝে মাঝে কালো সুতোও ছিল...

পরস্পর

আমার জন্মের কোনো শেষ নেই, আলপথ দিয়ে হাঁটলে ধানের শিষের কথা মনে হয় মলে হয় বৃষ্টির জলে কি ট্রাম লাইনটা ডুবুডুবু সন্ধেগুলোর অনেক নাম আজ! আমরা পরস্পর মুখোমুখি নই তখন ঘর সাজে, দূরে ঢাকও বাজে। খাল ক্রমশ ছোট হয় পরস্পর কেউ তখনো মুখোমুখি নই, কিন্তু আমার জন্মের কোনো শেষ নেই তথাগত...

টেবিল

টেবিলটা অনেক যত্নে বানিয়েছি কুমুদ জানিস, সেগুন কাঠের তৈরি। ইচ্ছে করেই একেবারে অনিয়ম করলাম না চৌকো, না গোল ঠিক শেপটা কেমন তাতেও বেশ মাথা ঘামাতে হয় অনেকেই এমন উদ্ভট টেবিল দেখে মজা করছে, কেউ কেউ তো দোয়েলের মতো শিস দিচ্ছে রে! কিন্তু এত দিন পর আমিও ভাবছি এমন উদ্ভট টেবিল আমিই বা কেন বানালাম!

গ্রিন লেনের গল্প

এক পা দু'পা যেতে যেতেই কিনু গোয়ালার গলি গ্রিন লেন নীলচে ফ্ল্যাট বেশ কিছু বছর ভাড়া বাড়িটায় আছি মাঝে মাঝে অবশ্য বাড়িওয়ালা উঠে যাবার কথা বলছে এই তো কিছু বছর এলাম এখনই এই ঘর, গ্রিন লেন ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে বল! তোর কথা মনে পড়ে ও ভাল কথা, এখানে আরশোলা মশা প্রকৃতির আরো সব প্রাণীর বেশ যাতায়াত ওই নীলচে বাড়িটার অনর্থক শাড়ি জামা খসে পড়া কিছু দিন বন্ধ, এমন হাবভাব যেন আমিই এ সব পছন্দ করি না! কুমুদ তোর কথা মনে পড়ে ফিরব তোকে ছাড়া কেমন করে ফিরি!

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮