• নীলাশা

গদ্যকবিতা - ভোওওও কাট্টা

আমার আকাশ জুড়ে ঘুরে বেড়ায় শুধুই তোমার নামের লাল, নীল, হলুদ, সবুজ স্বপ্নগুলো...

আমি তাদের নাম দিয়েছি শতরঞ্চি,পেটকাটি, চাঁদিয়াল, বগ্গার ঝাঁক।

শ্রাবণী পূর্ণিমার রাতে ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে তেতলার ছাদে তোমার চোখে চোখ রেখে যে সবুজ স্বপ্ন এঁকেছিলাম তার নাম দিয়েছি চাঁদিয়াল...

সবার চোখ আড়াল করে তোমার আবীর যখন আমায় রাঙিয়েছিল, সেই আরক্ত লজ্জার নাম রেখেছি পেটকাটি...

জীবনানন্দকে সাক্ষী করে নতজানু হয়ে যেদিন বনলতা উঠে এসেছিল তোমার কণ্ঠে, ওই স্বপ্নটা বুনে রেখেছিলাম শতরঞ্চির নামে...

এরকম হাজারো মুহূর্ত, হাজারো স্পর্শরা স্পর্ধা হয়ে রোজ ঘুরে বেড়িয়েছিল আমার তোমার নীলাকাশ জুড়ে;

তারপর...একদিন হঠাৎ

সহসা আকাশ কালো হলো,

একটা মনখারাপি গুমোটে অস্থির হলো মনের প্রকৃতি, জোর করে স্বপ্নগুলো গুছিয়ে রাখতে গিয়ে শক্ত মাঞ্জা সুতো কামড়ে ধরল আমার আঙুল...

আর আমি তখন

প্রাণপণে লাটাই নিয়ে স্বপ্ন গোছাতে ব্যস্ত!!

পারলাম না জানো...

পারলাম না আমার পেটকাটি, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, বগ্গাদের এক জায়গায় জড়ো করতে, একটা বেপরোয়া হাওয়া সব কেমন এলোমেলো করে দিলো।

অমাবস্যার রাতে যেমন তারা খসে পড়ে ওই অন্ধকার আকাশের বুক চিরে, ঠিক সেইভাবে একটা একটা করে নক্ষত্রপতন হলো আমার স্বপ্নের।

দূরে কেউ সহসা চিৎকার করে বলে উঠলো "ভো ওওওও...কাট্টা"

একফালি অস্তগামী যাওয়া পশ্চিমের রোদ আরক্ত করলো আমায়, আকাশের দিকে চেয়ে দেখলাম আমারই মত আবারো কারোর ইচ্ছেঘুড়িরা ডানা মেলেছে, রঙ ভরেছে, আবারো কেউ স্বপ্ন বুনছে ওই আকাশের ক্যানভাসে মুক্তি পাবে বলে....

অগোছালো চুলে, এক বুক ঝড় তুলে ছুট্টে গেলাম চিলেকোঠার ঘরে, আমার গাল বেয়ে চিবুক ছুঁলো তোমার দেওয়া ঘুড়ি গুলো...

আমিও আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে উঠলাম "ভো ওওও...কাট্টা"!!!

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮