• অমৃতা চক্রবর্তী

গল্প - হ্যাপি বার্থডে

এলার্ম এর শব্দে ঘুম ভাঙল মোহনার। আজকের দিন টা একটু আলাদা, একটু অন্যরকম মোহনার কাছে। আজ তার জন্মদিন। বিয়ের আগে ছোটবেলায় মা'র কাছে এই দিনটা খুব অন্যরকম লাগত মোহনার। সকাল থেকে নিজেকে বেশ রানির মত মনে হতো। মা বোধ হয় সেই দিনটা দাদার থেকে একটু বেশি আদর করতো। তারপর রাত্রিবেলা বাবা তাড়াতাড়ি অফিসের থেকে চলে আসতো মোহনার প্রিয় 'পুতুল' নিয়ে। আর রাত্রিবেলা মা সেই মার প্রাইজ পাওয়া সেই খোপকাটা স্পেশাল থালাটা বার করত। ফুলকো ফুলকো লুচি, আলুর দম আর মায়ের হাতের স্পেশাল পায়েস থাকতো। এই বাপারে একটা খুব মজার ঘটনা ছিল, মোহনার জন্মদিনই হোক বা দাদার জন্মদিন, মোহনা সবসময়ই বায়না করে সেই স্পেশাল থালাটা নিতো।


দিল্লিতে বিয়ে হবার সুবাদে 'জন্মদিনের' এই বিশেষ দিনটাতে মায়ের কাছে কখনই যেতে পারেনি মোহনা। বিতান প্রতিবারেই ডিনারে নিয়ে যায়। কিন্তু এখন আর আগের মতো করে দিনটাকে ফেরত পাওয়া যায়না।

সকালে ঘুম থেকে উঠে সেই একই রুটিন। বুবুকে স্কুলে পাঠানো,রান্না করা, ঘরের কাজ, নিজের গানের ক্লাস নেওয়া। এবারে মোহনার খুব ইচ্ছা হয়েছিল এই দিনটাকে একটু আলাদাভাবে অনুভব করবে। ও ওর খুব কাছের তিন চারজন বন্ধুকে জন্মদিনের কথা না জানিয়ে ওদেরকে ঘরে ডেকেছিল। বিকেলবেলা ঠিক সময়েই বেল বেজে উঠলো মোহনার দিল্লির রোহিনির ফ্লাটে। কিন্তু দরজা খুলতেই এ কি? সব বন্ধুরা হাসিমুখে দাড়িয়ে আছে হাতে ফুলের তোরা নিয়ে। সবাইকে ভেতরে বসালো মোহনা। হঠাৎ করে লাইট চলে গেলো আর সঙ্গে-সঙ্গেই মিউজিক বেজে উঠলো 'হ্যাপ্পি বার্থডে টু ইউ ডিয়ার মোহনা 'মোহনা তো অবাক; সবাই জানলো কেমন করে? বন্ধুদের মধ্যে কবিতাই জানালো যে তার মেয়ে বুবু ই সব প্লান করে আন্টিদের জানায় আর নিজে লাইটের সুইচ অফ করে অন্য ডিস্কোলাইট জ্বালানোর ব্যবস্থা করে।


মোহনার আজ ৩৬ বছরের জন্মদিনটা সত্যি সার্থক। জীবনে প্রথম সে বন্ধুদের আর মেয়ের সাথে কেক কাটলো,সবার জন্মদিনের শুভেচ্ছার গানের সঙ্গে আর অনেক উপহারের সাথে।

সত্যি আজকের দিনটা তার খুব সুন্দর কাটলো। মোহনার মেয়ে বুবু সেই ছোটো, নরম,আদরের পুতুলটা কবে এতটা বড়ো হয়ে গেছে মোহনা তা বুঝতেই পারেনি। মোহনা আজ নতুন করে বুঝলো প্রত্যেক মানুষের জীবনে সুন্দর বন্ধুর প্রয়োজন,জীবনটাকে অনুভব করা দরকার।আর মেয়ে বড়ো হয়ে গেলে সেই ছোটো 'মা' হয়ে যায়।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮