• বিকাশ দাস

দুটি কবিতা - তুমি ফিরে যাও এবং ঘরকন্না

তুমি ফিরে যাও

তুমি ফিরে যাও... যেখানে মাটি কথা বলে যেখানে বৃষ্টি কথা বলে নিঃশব্দ আনাবিল ছন্দে নারী পুরুষ একাকার হলে ।

তুমি ফিরে যাও.... যেখানে গাছ গাছালির ছাদে পাখিরা ঘুমিয়ে পড়ে সোয়াস্তির শয্যায় । যেখানে আকাশ সন্ধ্যা দুয়ারে খিল দিতে ভুল করে লজ্জায় । কার দোষ বেশি কার কম হিসেবের ভাঙচুর দেখার ফেনায় চুল ভেজে অস্থিরতায় নারী পুরুষ একাকার হলে।

তুমি ফিরে যাও.... যেখানে নিন্দের ছিটেয় জখম আঘাত লাগে যেখানে প্রেম ভালবাসা অনুরাগ সহজে জাগে নারী পুরুষ একাকার হলে ।

তুমি ফিরে যাও.... যেখানে বয়সের ভার হারায়না ভরসার আয়না যেখানে শরীর পোহাই শরীরের আঁচে ষোলো আনা সমেয়ের মাটিতে রাতদুপুর নারী পুরুষ একাকার হলে ।

তুমি ফিরে যাও... যেখানে বৃষ্টির ভেতর সমস্ত আকাশ পৃথিবীর টানে একাকার যেখানে জলের দেয়াল ভেঙ্গে ভালবাসার বাস্তুভিটের সমাহার নুন ভাতে দু’হাতের আদরে নারী পুরুষ একাকার হলে ।

তুমি ফিরে যাও... যেখানে দু’চোখ মুদলে নদীর কিনারায় সাগর মেলে যেখানে ঈশ্বর বহিস্কৃত ধর্মের জাতপাতের রঙ ঢেলে কর্মের দিনমুজুরি রক্ত ঘামে নারী পুরুষ একাকার হলে ।

ঘরকন্না

নিয়ে চলো আমাকে পাথর কুঁচি পথের বাঁকে যেখানে দীন দুখিরা দেওয়াল ছাড়া বিনা ছাদের তলাকে নিজের ঘর বাড়ি বলে থাকে। নিয়ে চলো আমাকে সূর্য ওঠা ঘরের চৌকাঠে যেখানে ঘরের বউরা বাসি কাপড় ছেড়ে ধোয়া কাপড় পড়াকে লক্ষীশ্রী নারী বলে থাকে।

নিয়ে চলো আমাকে কাকভোরের আড়ালের আলে যেখানে ঘরের এয়ো স্ত্রীরা ঝাড়পোছ সেরে চৌকাঠে জল ছড়াকে ঘরের সুখ শান্তি বলে থাকে। নিয়ে চলো আমাকে ঝিম দুপুর রোদের কাছে যেখানে ঘরের নারীরা ক্লান্তির বোঝা ঠোঁটের হাসির চোরাকে স্বামীর কল্যাণ বলে থাকে। নিয়ে চলো আমাকে সূর্য ডোবার পুকুর পারে যেখানে মেয়ে মানুষেরা সারাদিনের এঁটো বাসন মাজা ঘষাকে নিজের সংসার বলে থাকে। নিয়ে চলো আমাকে বিকেল ভাঙ্গা সন্ধ্যার দারে যেখানে ঘরের রমণীরা দীপ জ্বেলে আলগোছে ঘোমটা টানাকে ঘরের মঙ্গল বলে থাকে।

নিয়ে চলো আমাকে রাত জাগা জানালার পাশে যেখানে ঘরের স্ত্রীরা স্বামীর বুকে এলোকেশ এলাহী রাখাকে ঘরের ঘরকন্না বলে থাকে।

নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮