• শঙ্খ করভৌমিক

স্মরণে - অন্তরে আজ দেখব, যখন আলোক নাহি রে



আমার মেয়ে তখন ছোট। একদিন মেয়ের নবলব্ধ অক্ষরজ্ঞানের পরীক্ষা নিতে গিয়ে, 'ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে'র প্রচ্ছদটা দেখিয়ে বললাম "বলো তো কি লেখা আছে?" মেয়ে বলল "নবনত দবসন"। আসলে অ আ ক খ শিখলেও আ-কার ই-কার তখনও শেখা হয়নি। তাই 'নবনীতা দেবসেন' পড়তে পারেনি। পরবর্তীকালে স্বয়ং নবনীতা দেবসেন এই গল্প শুনে খুব হেসেছিলেন, আর 'ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে'র প্রথম পাতায় নিজের হাতে লিখে দিয়েছিলেন 'শঙ্খকে নবনীতাদি'।


ছোটবেলায় যখন বসনমামার কীর্তিকাহিনী পড়ছিলাম, কিংবা আরেকটু বড় হয়ে 'হে পূর্ণ তব চরণের কাছে', তখন স্বপ্নেও ভাবিনি একদিন নিজের লেখা বই তাঁকে পড়তে দেব আর "কেমন লাগল?" জিজ্ঞাসা করার ধৃষ্টতা দেখাব। বলেছিলেন "খুব ভাল লেখা"। তাঁর মত ব্যস্ত সাহিত্যিক ওই নগণ্য বই সবটা পড়ার সময় পেয়েছিলেন বলে মনে হয় না। সম্ভবত অর্বাচীন ভক্তকে "পড়ার সময় পাইনি" বলে দুঃখ দিতে চাননি।


ফেসবুকে তাঁর একটা লাইক বা কমেন্ট পেয়ে সেই উত্তেজনার অনুভূতি, 'ভালো বাসা'র দরজায় ভয়ে ভয়ে কড়া নাড়া, ভুল করে চলে আসা তাঁর ফোন, চিবুকে হাত দিয়ে আদর করা, কুচোনিমকি আর নাড়ুর আপ্যায়ন- এই তুচ্ছ জীবনে অমূল্য অর্জন হয়ে রইল।


তাঁর চলে যাবার পরদিন সকালে এক বন্ধু ফোন করে জানতে চাইল শেষ দেখা দেখতে গিয়েছিলাম কিনা। যাইনি। যাঁর শেষ নেই তাঁকে কি শেষ দেখা যায়? না তাঁকে দেখা কখনও শেষ হয়?


(ছবি ঋণ - ইন্টারনেট)

নীড়বাসনা  বৈশাখ ১৪২৯