• neerbasona

সাক্ষাৎকার - সুস্মিতার সঙ্গে

নীড়বাসনায় শুরু হল নতুন বিভাগ- সাক্ষাৎকার। এই পত্রিকার জন্মক্ষণ থেকে আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন ও আশীর্বাদ করেছেন আমাদের প্রিয় সাহিত্যিক ও সমাজসেবী- শ্রীমতী সুস্মিতা, আমাদের সুস্মিতাদি। তাঁকে নিয়েই শুরু হল আমাদের এই বিভাগ।


প্রবাসে আমাদের ভাষাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন, নানাবিধ সামাজিক সচেতনা জাগরণে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন উনি। সাহিত্যিক হিসাবেও ওনার পরিচিতি দেওয়া নিষ্প্রয়োজন। দেশে বিদেশে অসংখ্য পত্রিকায় নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হয় ওনার। অসংখ্য পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি। ওনার অমূল্য সময়ের কিছুটা পেয়ে আমরা গর্বিত ও ধন্য।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দূরভাষে নেওয়া সাক্ষাৎকার কিন্তু মনের কাছাকাছি নিয়ে গেল আমাদের প্রিয় দিদির। তারই কিছু নির্বাচিত অংশ ভাগ করে নিলাম আমাদের পাঠকদের সঙ্গে। নীড়বাসনার তরফ থেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রানু রায়।




রাণু - প্রথমে আপনার ছোটবেলার কথা বলুন। কোথায় কেটেছে?


সুস্মিতা - ছোটবেলার কথা বলতে গেলেই কথা জুড়ে থাকবে আমার বাবার কথা। আমি আজকে যা কিছু তাঁর সবকিছুর পিছনে বাবা। এই পরিণত বয়েসে পৌঁছে আজ আমি ভীষণভাবে বাবার কথা ভাবি। ১৯৪৭- ৪৮ সালে পূর্ববঙ্গ থেকে এসেছিলেন এই দেশে- একেবারে নিঃস্ব অবস্থায়। ভীষণ লড়াই করে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু বাবার ভিতরের সংস্কৃতি বোধ, নান্দনিক চেতনা কোন লড়াই-ই সেটা কেড়ে নিতে পারেনি। আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছিলেন, হাতের লেখা মানে শুধু হাতের লেখা নয়, তাকে মুক্তাক্ষর হতে হয়। আমরা Lake Town- এ থাকতাম, সেখানে সবে জনবসতি গড়ে উঠছে। আমার বাবা সবার আগে সেখানে একটা লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করলেন। সেই লাইব্রেরি থেকে বাবা আমাকে প্রতি সপ্তাহে বই এনে দিতেন। পড়াশুনার সঙ্গে সঙ্গে গল্পের বই এর নেশাটা ধরালেন বাবা। আমাদের বাড়িতে বই পড়ার উপর কোন নিষেধ ছিল না। ভাল খারাপ সবই পড়, তাতে মনটা ছাঁকনির মতন হয়ে যাবে, একদিন নিজেই ভালোটা বেছে নিতে পারবে।

আরেকটা দিনের ঘটনা বলি। তখন ‘আলোর ফুলকি’ বলে একটা বই বেরিয়েছিল। সেদিন আমার বাবা অনেক রাতে বাড়ি ফেরেন। সবাই খুব চিন্তা করছিল। দেখি বাবা লাইন দিয়ে ‘আলোর ফুলকি’ বইটা কিনে এনেছেন। এই ঘটনাটা আমি এখনো ভুলতেই পারি না। এখন পিছন ফিরে দেখে ভাবি, কি অসাধারণমানুষ ছিলেন তিনি।

উত্তর কলকাতায় বড় হয়েছি আমি। বই পড়াই ছিল একমাত্র বিনোদন। তখন তো টেলিভিশনও ছিল না, সিনেমা থিয়েটারও বড় একটা দেখতে যাওয়া হতো না। এমনি ছিল আমার ছোটবেলা।


রাণু - আপনি প্রথম লেখা শুরু করলেন কবে?


সুস্মিতা - আমার যতদূর মনে পড়ছে – ক্লাস ফাইভে প্রথম ছড়া লিখেছিলাম। বাড়িতে সবাইকে পড়িয়েছিলাম, অনেকে হাসাহাসিও করেছিলেন। কিন্তু এটা ছাড়াও আমার মনে আছে, ক্লাস ফোর ফাইভ থেকে লেখার খিদে প্রকাশ পেয়েছিল ডায়েরি লেখায়। প্রতিদিন ঘুমোতে যাওয়ার আগে আমাদের যেন ডায়েরি লিখতেই হবে। কোনোদিন মা বকেছেন, কোন ভালোলাগা, কখনো কোন বন্ধুর সাথে মনোমালিন্য হয়েছে- ডায়েরিতে সব লিখতেই হবে।

আরেকটা হোল চিঠি লেখা। লম্বা লম্বা চিঠি লিখতাম আমি। বিজয়ার পরে বড়দের চিঠি লিখতাম।


রাণু - দিদি, এখনও চিঠি লেখেন?


সুস্মিতা - আমি খুব চিঠি লিখি। সব চিঠি পোস্ট করি তা নয়। আমার একটা অসুখ আছে- তার নাম অভিমান। আমি মূলতঃ অভিমানে চিঠি লিখি। সে চিঠি অবশ্য তার কাছে পৌছয় না। এখন আমাদের সকলেরই সময় কম। অভিমান দেখানোর মানুষও কমে এসেছে। তো সেইজন্য নিজের মনের সাথে নিজের এই খেলা। আমিই চিঠি লিখি, আমিই পড়ি, আমিই উত্তর দিই, আমিই কাঁদি, তারপরে নিজেই নিজের হাত ধরে উঠে দাঁড়াই।


রাণু - খুব ভাল লাগলো আপনার এই অনুভব। প্রথিতযশা সাহিত্যিক কে নতুন ভাবে চিনলাম। আচ্ছা, আপনার প্রথম লেখা কবে কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল? আপনার নিজের লেখা দেখে কিরকম লেগেছিল?


সুস্মিতা - স্কুলে হাতে লেখা ম্যাগাজিন বেরত। ক্লাস টিচার দেখে নিতেন। চল্লিশ জন মত ছাত্রী। তার মধ্যে যখন আমার লেখাটা বেছে নেওয়া হতো, খুব আনন্দ হতো।

তার পরে স্কুলের সব ক্লাস থেকে একটা দুটো লেখা বেছে স্কুলের ওয়াল ম্যাগাজিন হতো। সেখানেও আমি সুযোগ পেয়ে আনন্দ পেয়েছি।

ছাপার অক্ষরে প্রথম লেখা কলেজ এ পেলাম। আমি বেথুন কলেজে পড়তাম। আমার অনেক বন্ধুরা বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাই ছাপার অক্ষরে প্রথম লেখা প্রকাশ পায় লিটল ম্যাগাজিনে।

আর মানুষ তো লেখে নিজেকে প্রকাশ করতে। যত বেশি লোকের কাছে নিজের ভাবনা তুলে ধরা যায়, তত ভালো লাগে, আনন্দ হয়। সবাইকার মনে এই বাসনা থাকে, আমাকে আমার মতন করে কেউ বুঝুক। আর সেই ছোট বয়েসে খুব ই আনন্দ হতো।


রাণু - এবারে আপনার চরিত্রদের নিয়ে কিছু জানতে চাইব। আপনার লেখা চরিত্ররা কতটা কাল্পনিক আর কতটা জীবন থেকে তুলে আনা? নকশাল বউ এর সুনয়নার মধ্যে আপনার ছায়া আছে কি?


সুস্মিতা - যেকোনো লেখার মধ্যেই, লেখক নিজে কিন্তু কিছুটা থাকেন। এটা যেকোনো সৃষ্টির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। স্রষ্টার সত্ত্বা সৃষ্টির মধ্যে থেকেই যায়।

একদম প্রথম দিকের লেখায়, লেখক সাধারণত নিজে বেশি ভাবে থাকেন। লেখক ধীরে ধীরে পরিণত হন- লেখার ভাষা, জীবনের অভিজ্ঞতা, সবকিছু পরিণত হয়। স্বামী বিবেকানন্দের একটা কথা মনে পড়ে যাচ্ছে – “Learn to feel yourself in other bodies, to know that we are all one.” আসলে আমি বা অপর বলে কিছু হয়না। আমিও যা, অন্যেও তা। আমরা সবাই এক। এটা হচ্ছে আমার জীবনের সবথেকে বড় দর্শন। প্রথম দিকের লেখাগুলো অনেকটা ডায়েরি লেখার মতো হয়। লেখকের সত্ত্বাটা বেশি থাকে। ক্রমশঃ অপরের কথা লেখার সময় সম্পূর্ণ অনুভব করে লেখা হয়। কারন আমি আর অপরের মধ্যে আসলে কোনও পার্থক্য নেই। ওই বোধটা মানুষ হিসাবে পরিণত হওয়ার একটা পদক্ষেপ।

আর সুনয়না হচ্ছে পৃথিবীর, আমাদের দেশের সব সুনয়নাদের প্রতিচ্ছবি। চারিদিকে অনেক সুনয়না, যারা তাদের নিজেদের কথাটা বলে উঠতে পারে না। আমার সুনয়না তাদের হয়ে কথা বলে।


রাণু - ধন্যবাদ দিদি। সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন। আপনার কবিতার বই “কবিতা নয়, কিছু দীর্ঘশ্বাস” বহু আলোচিত, উচ্চ প্রশংসিত। এটির ইংরেজি অনুবাদও হয়েছে। আপনার কি মনে হয়েছে? যারা বাংলা পড়েন না- তাদের থেকে কেমন প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন?


সুস্মিতা - এই কবিতাগুলো যখন ফেস বুক-এ পোস্ট করছিলাম, বহু পাঠক কবিতাগুলো পড়ে একাত্ম বোধ করতেন। আমি সেই সময়ে সবথেকে বেশি খুশি হয়েছিলাম যে আমার কবিতা শুধু আমার কথা নয়, আরও অনেক মানুষের কথা বলছে। সেই সময় এক ভদ্রমহিলা নিজে থেকে বললেন যে উনি অনুবাদ না করে থাকতে পারছেন না। ওনার কথা শুনে ভিতরটা নড়ে গিয়েছিল। আমি তাঁকে চিনতাম না, কোনদিন দেখিও নি, কোন ব্যাক্তিগত কথা ভাগ করিনি। শুধুমাত্র কবিতার মধ্যে দিয়ে আমার অন্য একজনের সাথে এমন একটা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সম্পর্কটা এখন এমন, এই মেয়েটিকে মনে হয় যেন ও আমার “alter ego.”

ওর অনুবাদও কিন্তু অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে, যা সাধারণত হয় না। নিরানব্বই শতাংশ পাঠক বলেছেন যে মূল কবিতার সাথে অনুবাদের কোন পার্থক্য নেই। এটা আমার একটা বিরাট বড় আনন্দের জায়গা।

আরেকটা উপলব্ধি হয় বইমেলাতে। বই কিনে পড়ার লোক তো কমে আসছে। বইমেলাটা এখন আনন্দমেলা। সেইখানে কবিতার বই এতটা বিক্রি হওয়ায় পাবলিশার ও খুব খুশি হয়েছেন। আমার বইটা শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারপরেও পাঠকেরা এক ঘণ্টা লাইন দিয়ে অপেক্ষা করেছেন বইটি আসার জন্য। এই দৃশ্যটা আমার জীবনের খুব বড় একটা পাওয়া।

তারপরেও একটা চমক অপেক্ষা করছিল- আমি জানতাম না। সাহিত্য অ্যাকাডেমির দ্বিভাষিক বইএর সমালোচকদের কাছে আমার এই বইটি পৌঁছে গিয়েছিল। অত্যন্ত ভালো রিভিউ দিয়েছেন তাঁরা। পরবর্তী কাজ করার জন্য এগুলো একটা অনুপ্রেরণা।


রাণু - আপনার চৈতালি সেনগুপ্তের সাথে দেখা হয়নি? International Women’s Day- তে আপনি নেদারল্যান্ডস এ আমন্ত্রিত ছিলেন তো……


সুস্মিতা - আমি আমন্ত্রিত ছিলাম, কিন্তু যেতে পারিনি গো। বিদেশি মানুষ ও একাত্ম বোধ করেছেন কবিতাগুলোর সাথে। ভাষা সংস্কৃতিকে ছাপিয়ে গেছে কবিতার অনুভবগুলো। ওনারা বিভিন্ন কবিতা আলোচনা করেছেন, বিদেশী মহিলারাও একাত্ম বোধ করেছেন।


রাণু - এবারে আপনার একদম অন্যরকমের একটা চরিত্রের সম্পর্কে কিছু জানতে চাইব। পটলার জন্ম হল কিভাবে?


সুস্মিতা - পটলার কথা বলতে গেলে শুরুতেই বলতে হয়- অসাধারণ হওয়া খুব সহজ, সাধারণ হওয়া ভীষণ কঠিন। আমরা সবাই অসাধারণই হতে চাই। আরেকটা দিকও আছে। কোন মানুষই অসাধারণ হয়ে জন্মায় না। কখনো কোন মুহূর্তে সাধারণত্ব ছাড়িয়ে সে অসাধারণ হয়ে ওঠে। পটলা একদম সাধারণ একটা মানুষের প্রতিভূ। সে বিশাল কিছু চায় না, কোনও অভিযোগ নেই তার। পটলা অনাথ, কিন্তু অনাথ হওয়ার দুঃখের তীব্রতাটা সে পেরিয়ে গেছে। পটলার মধ্যে এক অনন্য রসবোধ আছে, তার মধ্যে এক গভীর দার্শনিক বসে আছে। জীবন দর্শনটা পটলা এক সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে যেভাবে দেখে, সেটা অনেকের পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। পটলা সব সত্যি কথা বলে, কিছুটা satire-এর মাধ্যমে। তাই পটলার কথা লিখতে গেলে নিজেকে পটলা হয়ে উঠতে হয়। সাধারণের মাঝে যে কোনও এক মুহূর্তে অসাধারণের স্ফুলিঙ্গ ঝলসে ওঠে- সেই দার্শনিক পটলা হতে আমারও খুব ইচ্ছে করে। আমি পটলার গল্প লিখি কারণ আমি পটলা হতে চাই।


রাণু - আরও পটলার গল্পের আশায় রইলাম। আচ্ছা দিদি, আপনাকে অনুগল্পের জাদুকরী বলা হয়। আপনি কি কখনো উপন্যাস লেখার কথা ভেবেছেন?


সুস্মিতা - কিছুটা মুডের উপরে আসে লেখাগুলো। এখনকার গল্পগুলো তো বেশ বড় হচ্ছে। এখনও প্ল্যান করিনি সেরকমভাবে উপন্যাস লেখার। তবে একটা জিনিস আমি বিশ্বাস করি। আমরা অর্থাৎ চিন্তাশীল মানুষেরা নিরন্তর মনের মধ্যে উপন্যাস লিখে চলেছি। এটা কাগজে কলমে হয়ত অনেকেরই লেখা হয়ে ওঠে না। দেখা যাক- কবে আমি কাগজে কলমে সেটা সাজিয়ে তুলি।


রাণু - অপেক্ষায় রইলাম। আচ্ছা, আপনাকে যদি কেউ নারীবাদী বলেন, আপনার কি প্রতিক্রিয়া হয়?


সুস্মিতা - খুব cliché উত্তর- আমি নারীবাদী নই, আমি মানবতাবাদী। আমার লেখা পড়লেই সেটা বোঝা যায়। আমি মানি, নারীর কিছু বিশেষ অসুবিধা আছে, পুরুষদেরও আছে। প্রত্যেকের আলাদা আলাদা যন্ত্রণা- দুঃখ- কষ্ট আছে। সবমিলিয়ে মানুষ হিসেবে দেখাটাই শ্রেয়।


রাণু - ধন্যবাদ। এরপরে একটা অন্য প্রসঙ্গে যাই। সম্প্রতি, সুশান্ত সিংহ রাজপুতের আকস্মিক মৃত্যু আমাদের সকলকে বিচলিত করেছে। মানসিক সুস্থতা নিয়ে সচেতনতা এখনও আমাদের মধ্যে প্রায় নেই। ডিপ্রেশন নিয়ে আপনার লেখা সুমেধার ইচ্ছামৃত্যু পড়লাম- খুব কষ্টদায়ক। দায়িত্বশীল নাগরিকদের কাছে আপনার কি আবেদন এই বিষয়ে?


সুস্মিতা - এটা খুব প্রাসঙ্গিক আজকের দিনে। আমি কিন্তু খুব নাম করব, খুব জনপ্রিয় হব এই ভেবে লিখি না। বিভিন্ন অসুখ নিয়ে আমি সচেতনতা গড়ার প্রয়াস চালিয়েছি। Alzheimer’s disease নিয়ে এখনও কাজ করে চলেছি। ডিপ্রেশন নিয়েও আমি অনেকদিন ধরে কাজ করছি। ডিপ্রেশন ও আত্মহত্যা কিন্তু আগামি দিনে একটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

আমার একটা মেসেজ আছে এই বিষয়ে- “We need more kind people than intelligent people.” আজকাল আমরা মানুষকে বড্ড বেশি বিচার করি। আমরা কেউ কাউকে বিচার করতে পারি না, সে অধিকার আমাদের নেই। আমাদের শুধু প্রয়োজন সহমর্মিতা আর দয়া। যে যেরকম তাকে সেভাবেই গ্রহণ করতে শেখা খুব দরকার। আমরা কেউ যেন কাউকে একা করে না দিই।

বিশেষ করে আজকের যে crisis period এর মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি, young generation এর জন্য পৃথিবীটা টলমল হয়ে গেছে- কাজের অভাব, জীবিকার অভাব, অর্থাভাব- এইসময় বেশি করে দয়ালু হতে হবে। আমি আমার ছোটদের সবসময়ে বলি- “বেশি সাজগোজ করলে নয়, you look most attractive when you are kind!” সব্বাইকার কাছে আমার একটাই অনুরোধ- “be kind!”


রাণু - ঘুরে ফিরে বৃহন্নলারা আপনার গল্পে এসেছে। আজকের সমাজে এদের অবস্থান কোথায়?


সুস্মিতা - এখন বৃহন্নলাদের বেশ কিছু অধিকার দেওয়া হয়েছে আমাদের সংবিধানে। কিন্তু বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছে ওরা? একটা মল দেখাও তো যেখানে ওদের জন্য আলাদা বাথরুম আছে? তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কি জীবনের প্রয়োজনগুলো থাকে না? তোমরাও কিছু করো নীড়বাসনার তরফ থেকে।


রাণু – আপনার অনেকটা সময় নিলাম খুব ভাল লাগলো।


সুস্মিতা - আমার ও খুব ভাল লাগলো কথা বলতে। আমিও তো চাই আমার কথা সবার কাছে পৌঁছে যাক। তোমরা সবাই ভাল থেকো।





নীড়বাসনা আষাঢ় ১৪২৮